সোনেলার মিলনমেলা -২০২০

সুপর্ণা ফাল্গুনী ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, রবিবার, ১২:২৫:৪১অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৪ মন্তব্য

স্কুল জীবনেই লেখালেখির শুরু। বাবার বইপড়ার নেশা থেকেই আমার মধ্যেও সেই নেশাটা জন্মগতভাবে চলে আসে। বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে সেবা প্রকাশনীর সব বই, নিউজিপেপার সবকিছুই বাবা আনতো । আমিও পড়ার জন্য ব্যাকুল থাকতাম। ছোটবেলায় সবার মাঝেই কমবেশী যেটা হয় , আমার মধ্যেও সেটা হতো। যখন যে চরিত্র ভালো লাগতো সেটাই হবার ইচ্ছা হতো। সেই সুবাদে লেখালেখিতে আসা।কোনকিছু লিখতে না পেরে মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে কবিতার আশ্রয় নিলাম। এভাবে অনার্স পর্যন্ত লিখেছি। ততোদিনে কবিতা নয় আরো অনেক কিছু লিখে ফেললাম। সেটা শুধু জানতো আমার কিছু বন্ধু-বান্ধব।কারন আমার পরিবার জানলে বা অন্যরা জানবে এটা ভাবতেই কেমন যেনো লাগতো। কাউকে জানাতে চাইনি।

এরমধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে গোপনে কবিতা ছাপানোর জন্য ২/১ জায়গায় কবিতা পাঠালাম। যখন জানলাম তারা আমার কবিতা ছাপানোর জন্য সিলেক্ট করেছে সেদিন মনে হলো আমিও লিখতে পারি। আরো অনেকের মধ্যে আমার একটি কবিতা ছাপাকারে বইটি যখন আমার হাতে এলো আনন্দে আপ্লুত হলাম।তখনও বাসার কাউকে কিছু জানাতে পারিনি লজ্জায়, সঙ্কোচে। অনার্স পর্যন্তই লেখালেখি করেছি আর বইয়ের পোকা ছিলাম। তারপর বিভিন্ন কারনে লেখালেখি, পড়া থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলেছি। আজ প্রায় ১৫/১৬ বছর পর লেখালেখিতে আবার ঢুকে পড়লাম সোনেলার ইকরাম দাদা ভাই আর আরেক শুভাকাঙ্খী বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায়। স্কুল-বান্ধবী যূথীর অনলাইনে গ্রাফিক্স শিখতে গিয়ে ইকরাম দাদা ভাইয়ের সাথে পরিচয়। এর আগে ব্লগ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিলোনা , শুধুই বিভিন্ন ব্লগারের মৃত্যুর কারনে যেটুকু জেনেছি। এখানে লিখতে গিয়ে যাদের অনুপ্রেরণা আর আন্তরিকতা পেয়েছি তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। কারণ তাদের সবার লেখায় আমি বিমোহিত হয়েছি। তারা যখন আমার লেখার প্রশংসা করেছে, লিখতে উৎসাহ দিয়েছে নতুন করে আমার আমিকে আবিষ্কার করলাম ।

নতুন করে পড়ার নেশা , লেখার নেশা তৈরী হলো। সোনেলার সবার লেখা পড়তে শুরু করলাম, মন্তব্য দিলাম। এর মাঝে ‘পৌষ সংক্রান্তি উৎসব‘ নিয়ে লেখা আহ্বান করা হলো। কি লিখবো বুঝতে পারছিলাম না । হঠাৎ বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। লিখতে পারলাম না বেধেঁ দেয়া সময়ের মধ্যে, পরে যখন জানলাম সময় বাড়ানো হবে তখন আমিও বললাম সময় বাড়ানোর জন্য ।সোনেলা কর্তৃপক্ষ সময় বাড়ালো আর আমিও ভাবলাম কিছু একটা লিখবোই।এতো বড় বড় লেখকদের মাঝে পুরষ্কার পাবো সেটা ভাবতেই পারিনি। যখন জানলাম আমি প্রথম হয়েছি ‘আমি হতবাক‘, বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। সোনেলার মিলনমেলা হবে, সেখানেই পুরষ্কার দেয়া হবে।সবার ভালোবাসায় এতটাই মুগ্ধ যে খুব ভালোলাগছিল সবার সাথে দেখা হবে।

অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, ‘সোনেলার মিলনমেলা‘।রিক্সা পেতে দেরী, রাস্তার জ্যাম, রিক্সা ধীরগতিতে চালানোর কারণে আমরা দু্ই বান্ধবী সময়মত পৌঁছাতে পারিনি। যখন পৌঁছালাম, দেখলাম সবাই আমাদের আগেই চলে এসেছে। এক এক করে চেনা মুখগুলো দেখে আবেগ আপ্লুত হলাম। এরমাঝে কিছু চেনা মুখের অনুপস্থিতি খুব কষ্ট দিলো। সাবিনা আপু, তৌহিদ ভাই, এস.জেড.বাবু ভাই, কামাল ভাই, শবনম আপু , আরজু আপু সবাইকে মিস করেছি। এই প্রথম সেই বিখ্যাত কবি , যার কবিতার অর্থ বুঝলেও সারমর্ম বুঝতে পারিনা তাকে দেখতে পেয়ে ধন্য হলাম। তার মন্তব্যগুলো সত্যিই মজাদার, অনুপ্রেরণার। ওনার লেখার ভাষাগুলো কঠিন হলেও মন্তব্যগুলো সহজ, সরল, আন্তরিক। সামনাসামনি সবাইকে দেখা, তাদের পরিচয় পাওয়ায় অন্যরকম ভালো লাগলো।

এবার এলো সেই অনন্য স্বীকৃতির সম্মাননার পুরষ্কার হাতে নেবার পালা। সেই মূহুর্তের অনুভূতির কোনো ভাষা খুজেঁ পাচ্ছি না। পুরষ্কার বিতরনী শেষে খাবারের আয়োজন। খাবারের মাঝেই টুকটাক কথাবার্তা চললো, খাবার শেষে আরো কিছুক্ষণ ব্লগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা চললো। এভাবেই সোনেলার মিলনমেলা -২০২০ প্রাণাঞ্জল, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাপ্তি হলো। সোনেলার কর্তৃপক্ষকে অশেষ ধন্যবাদ আমাকে এমন একটি প্লাটফর্ম উপহার দেবার জন্য, অনুপ্রাণিত করার জন্য। পুরষ্কার প্রাপ্তদের অভিনন্দন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিবছর এমন মিলনমেলার আহবান জানাচ্ছি।

২৬৯জন ৩৬জন
16 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য