11156148_1580447642241246_6442189026813204114_nকেমন কাটলো আমাদের সোনেলার ব্লগারদের বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। কৌতুহল ছিল আমার খুব।প্রিয় ব্লগারগন প্রায় সবাই জানিয়েছেন তাঁদের বর্ষবরনের দিনটি কেমন ছিল।

ফাতেমা জোহরা আপুঃ
আপু আজকে সারাদিন ঘরের কাজ করেছেন। ঘর পালটে নিচতলা থেকে দোতালায় আসায় অনেক কাজ আজ। একটু গুছিয়ে নিয়ে আম্মুকে রান্নায় হেল্প করেছেন। আহারে কত কষ্ট 🙁
ইয়ে, সকাল ৬ টা ৬ মিনিটেই আপু বিশেষ একজনের ফোন পেয়েছেন।দিন শুরু হয়েছিল এই ফোন দিয়েই। গোপন কথা আর রহিল না গোপন :p

খসড়া আপুঃ
আপু একটি ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও কোষাধক্ষ্য।টাকা পয়সা জমা থাকে আপুর কাছে।আমাদের আর টাকার চিন্তা করতে হবেনা।ধার নিতে পারবো আপুর কাছ হতে,আজীবনের জন্য  :D)
ভোর ৬টায় গিয়েছিলেন রমনা বটমুলে। আপুর ক্লাবে বর্ষবরণ ছিল সকাল আটটা থেকে। ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন, পান্তা/গরমভাত দিয়ে মুরগী, ইলিশ,আলুভর্তা খেয়ে বর্ষবরন করলেন। বিকাল ৫টা থেকে আবার ক্লাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিনার দিয়ে বছরের প্রথম দিন শেষ করলেন। এত ব্যস্ত আপু রাত ১২ টায় ফ্রি হয়েছেন।

নুসরাত মৌরিন আপুঃ
গত তিন বছর ধরে আপুটার ঘরে বসে পেইন বৈশাখ কাটতেছে।এর আগের দুই বছর গেছে পড়ালেখা করে,এবার গেল মাথা ব্যথা আর আর নাক মুখ বন্ধ হওয়া অস্বস্তি নিয়ে।।২০১৩তে এপ্রিলে চলছিল ফোর্থ ইয়ার ফাইনাল, ২০১৪ তে চলছিল এমবিএ ফাইনাল। আর ২০১৫তে আক্রান্ত সর্দি জ্বরে।কিছুই করেননি আপু।ঘরের মধ্যে শুয়ে বসে কাটিয়েছেন গোটা দিন 🙁
বিকেলে বের হবেন ভেবেছিলেন।তাও আর হয়নি স্বর্দি আর জ্বর এর জন্য 🙁
আমি এই স্বর্দি আর জ্বরের ফাঁসি চাই :p

সিনথিয়া খোন্দকার আপুঃ
আপু মনে হয় আমরা 'এমনি এমনি ঝগড়া করি ' গ্রুপের সদস্য :p সকালে উঠে হাজব্যান্ড এর সাথে শুধু শুধুই ঝগড়া দিয়ে দিন শুরু। বেচারা দুলাভাই যখন ঘুমে তখন তাকে ফেলে দুপুরে চলে গেলেন উত্তরা, আপুর নানা স্ট্রোক করেছিল। নাক এ টিউব দিয়ে খাওয়াতে হয়। সেই টিউব লাগাতে গিয়েছিলেন। রোগি দেখে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গিয়েছিল। বাসায় ফিরে  মাথায় পানি ঢেলে ঠান্ডা হয়েছেন।ভাগ্যিস ওয়াসায় পানি ছিল পানির ট্যাংকিতে। নইলে কি যে হতো আমাদের দুলা ভাইয়ের :p
তবে আপুর শাশুড়ীর দেয়া একগাদা উপহার  ম্যাড়ম্যাড়া পয়লা বৈশাখ কে চাঙ্গা করে দিয়েছে। আপুর শাশুড়ী এত্তগুলান ভালো 🙂

শাহানা আফরিন স্বর্ণা আপুঃ
সকালে ভার্সিটির রেলিতে গিয়েছিলেন। তারপর অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন।এরপরে ক্যাম্পাসে ঘুরেছেন।
আপু যে গান গাইতে পারেন,তা আমরা কেউ জানিনা।কিছু গান আমাদেরকেও শুনান আপু 🙂

স্বপ্ন নীলা আপুঃ
সকালে বাড়িওয়ালীর বাসায় দাওয়াও ছিল আপুর, খাবার আইটেমের ভিতর ছিল - চিরা, মুড়ি, দই খই, মিষ্টি আর পান্তার সাথে দুই টুকরা বড় সাইজের ইলিশ ভা্জা --!!! আরও ছিল বিভিন্ন ভর্তা ও ভাজি ---। আপু সব খেলেও ঐ পান্তার সাথে ইলিশ মাছটা খেলেন না, তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো আপুর গ্রামের দরিদ্র মানুষের কথা --যারা কোনদিনও পান্তার সাথে ইলিশ খায় না, তাদের বাসি তরকারী বা ভর্তা দিয়ে কোনমতে পান্তা ভাত খেয়ে ওঠে---
দুপুরে আরেক বাসায় দাওয়াত ছিল -- সেই বাসায় গরম ভাতের সাথে বিভিন্ন ভর্তা, ভাজি, সজনে ডাল, শ্বাক, ইলিশ মাছ, মাংসের ঝোল ---তিনি সজনে ডাল, শাক, ভর্তা দিয়ে পুরো পেট খেয়েছেন ---কেন যেন ঐ ইলিশ মাছ আর মাংস খেতে একেবারেই ইচ্ছে করেনি আপুর।
শরীর তেমন একটা ভাল ছিল না বলে এবার বাইরে কোথাও যাননি --- সন্ধায় আপুদের সবগুলো ফ্ল্যাটের ভাই, ভাবী তাদের সন্তানেরা মিলে নীচ তলার খোলা জায়গায় গানের আসর বসানো হয়েছিল -- সেখানে মুড়ি, নারিকেল কোড়া, পাটালী গুড় আর সাথে পায়েস খাইয়েছিল বাড়ী ওয়ালী ভাবী ----
বর্ষবরনে শুধুই খাওয়া দাওয়া 🙂

মারজানা ফেরদৌস রুবা আপুঃ
আপ্র বাসায় আজ ফ্যামিলি গেট টুগেদার ছিলো। সারাদিনই প্রিয়জনদের প্রিয় খাবারগুলো রান্না করে খাইয়েছেন। চাকুরী করেন বলে এইসব দিনগুলোতে সাধারনত পরিবারের লোকজনের আড্ডা বসে আপুর বাসায়। গত কয়েক বছর যাবত প্রায় প্রতি নববর্ষই আপুর এভাবে কাটে।
প্রতি বছর ভোর সাড়ে পাচঁটায় বের হয়ে দশটার মধ্যে বাসায় ফিরে এসেই প্রিয়জনদের খাবার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন আপু। কিন্তু গতকাল ভোরে ইচ্ছে থাকলেও আর বের হতে পারেননি। আপুর ইচ্ছে ছিলো বিকালে বের হওয়ার কিন্তু অনেক ক্লান্ত থাকায় সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
11027467_1580447678907909_7503482944796422045_n
এই যে দেখুন আপুর নিজের করা রান্না। নববর্ষে কেউ এত্ত কিছু রান্না করেন,তা আমি প্রথম দেখলাম।আপু কত্ত গুনি।আমার তো খাবারের ছবি দেখেই মুখে পানি এসে গিয়েছে।সোনেলার সবাইকে আপুর পক্ষ হতে আমি দাওয়াত দিলাম 🙂 দাওয়াতের দিন আপু বলবেন :p

রিমি রুম্মান আপুঃ
তিনি জানিয়েছেন ''প্রতি পহেলা বৈশাখে পুরো নিউইয়র্ক শহর যেন টুকরো টুকরো বাংলাদেশ হয়ে উঠে। বাঙালিরা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বৈশাখী আয়োজন করে থাকে। সারাদিন চলে অনুষ্ঠান। শেষ হয় মধ্যরাতে।
আমি ব্যবসায়ী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যাই বিকেলে বন্ধু=বান্ধব সহ। জ্যাকসন হাইট্‌সে রাস্তায় বিশাল ষ্টেজ সাজানো হয়। বাংলাদেশী সহ ভিনদেশি মানুষজন উপভোগ করে মনোরম অনুষ্ঠানটি। দেশ থেকে আসা জনপ্রিয় শিল্পীদের গান অনুষ্ঠানটিকে জমিয়ে তোলে।

সন্ধ্যায় যাই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এখানকার নতুন প্রজন্মের পরিবেশিত অনুষ্ঠান দেখতে। এটি আয়োজন করে প্রবাসী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। বিশাল পরিসর। ফ্রি পান্তা-ইলিশ সহ রকমারি ভর্তার আয়োজন ছিল। প্রতি বছর এদের অনুষ্ঠান নজর কাড়ে বেশি। গান, নাচ, ফ্যাশন সো সহ অনুষ্ঠান চলে মধ্যরাত অবধি। আমরা যখন বৈশাখী আনন্দ শেষে বাড়ি ফিরে আসি, ঘড়িতে তখন ভোর চারটা বেজে পনর... ''
অনুষ্টানের ছবি দেখতে ইচ্ছে করছে আপু।বিদেশে বাংলা বর্ষবরন কিভাবে হয়, জানিনা।

শুন্য শুন্যালয় আপুঃ
কোন আয়োজনই নেই আপুর।বাসায় ভাইয়া খুব অসুস্থ্য 🙁 সারাক্ষনই ভাইয়ার সেবা করতে করতে দিন রাত পার।
ভাইয়ার দ্রুত আরোগ্যর জন্য প্রার্থনা করি আমরা সবাই।

আপুদের মধ্যে খেয়ালী মেয়ে, মেহেরী তাজ, নিলাঞ্জনা নীলা আপু কি করেছেন জানতে পারিনি।তাদেরকে খুঁজে পাইনি। পোষ্ট দেখে মন্তব্য জানাবেন আশাকরি।মন্তব্য এই পোষ্টে নিয়ে আসবো 🙂

ভাইয়া গ্রুপ----

ইমন ভাইয়াঃ
'' ৫ মিনিট হলো গ্রামের বাড়ি এসেছি। এখন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মা'র বুকে থাকবো।
অাপনি হয়তো জানেননা।
অামি শুধু মা'র কাছে থাকবো বলো, এইচএসসির পরে ভালো রেজাল্ট করেও কোথাও ভর্তি হয়নি।
মফস্বলে কলেজে ভর্তি হই।
১২ সালে ঢাকায় অাসি এমবিএ করার জন্য। তারপর জীবনের তাগিদে এখন মা'কে ছাড়া থাকতে হয়।
মাও ঢাকা যাবেনা, স্বামীর ভিটা ছেড়ে।
প্রতি বৃঃহষ্পতি বার বাড়ি অাসি, শনিবার সকালে গিয়ে অফিস করি।
অামার জীবনে এই একজনই নারী।
মা'র সাথেই কাঁটাবো অাজ কাল পরশু অনন্তকাল।
অামার মা, অামার জীবন, অামার দুনিয়া।
অামার মা'র জন্য দোয়া করবেন, লীলা।
অার মা'কে নিয়ে অাজকে খালাদের বাড়ি যাবো। অাজকে অাবার অামার অাব্বার মৃত্যুবার্ষিকী। তাই বিকালে মা'কে নিয়ে অাব্বার কবর জিয়ারতে যাবো।
অামার অাব্বার জন্যও দোয়া করবেন।'' ইমন ভাইয়া এভাবেই লিখেছেন। আল্লাহ যেন ওনার বাবার আত্মাকে শান্তিতে রাখেন আর বেহেস্ত নসীব করেন।

বায়রনিক শুভ্র ভাইয়াঃ
ভাইয়ার ঘুম থেকে উঠতে কিভাবে কিভাবে যেন ৯ টা বেজে গেছে । এরপর পহেলা বৈশাখের স্পেসাল খানা খেয়ে বের হয়েছেন । ছোট ভাই-বন্ধু-বড় ভাইদের সাথে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় । তারপর আড্ডা । দুপুরে পিসির বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা । বিকালে স্কুলের স্যার দের সাথে একটু হাঁটাহাঁটি । এরপর বন্ধুদের সাথে মাঝারি আকারের একটা বাইক জার্নি সেই সাথে খাওয়া দাওয়া । ১০ টার দিকে মামার বাসায় নিমন্ত্রণ রক্ষা । তারপর বাসায় এসে ফেসবুক।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভাইয়া ফেইসবুকেই ছিলেন 🙂 এবং সেখানে ব্যস্ততার কারনে উনি সোনেলাকে ভুলে গিয়েছেন :p

সঞ্জয় কুমার ভাইয়াঃ
সকাল ৯টায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিলো । দুইটা টিম ছিল একটা হল ফ্যাক্টরি শ্রমিক অন্যটা ভাইয়ার কনস্ট্রাকশন শ্রমিক । দুই দলই প্রচন্ড ভাল খেলেছে । ফলাফল :ড্র । ভাইয়া দর্শক হিসেবেই ছিলেন।ভাইয়া ফুটবল তেমন পা্রেন না তবে এরপর ক্রিকেট খেলা হলে তিনি অবশ্যই খেলবেন।
ক্রিকেট খেলা হয়েছিল কিনা জানিনা 🙂

শিপু ভাইয়াঃ
ঘুম থেথে উঠে ফ্রেশ হয়ে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছেন নয়াবাজার।
তারপর একটু শাহবাগ মুখি হতে নিচ্ছিলেন। কিন্তু মানবজট থেকে আর সাহস করেননি। এরপর  ভাই বেরাদার নিয়া তাঁর অফিসেই আড্ডা দিইয়েছেন।
আড্ডা শেষে সবাই মিলে খানাপিনা করেছেন।ঙ্খানাপিনার পরে নাচানাচিও করেছেন \|/
ভাইয়া নাচের যে ইমো দিয়েছিলেন,তা এখানে আর দিতে পারলাম না :D)

শিমুল ভাইয়াঃ
ঘুম থেকে উঠে  ফ্রিজের ঠান্ডা ভাতে পানি ঢেলে কৈ মাছ ভেজে খেয়েছেন। ইলিশ মাছ আনি আনি করেও আনেননি আলসেমি করে। একারনে আফসোস করেছেন সারাদিন।
ভাইয়া মনে হয় ছোট বেলা পড়েননি 'আলস্য দোষের আকর' :p নববর্ষের দিনে আলসেমি করে ইলিশ আনেননি এইডা কিছু হইল ?

ছাইরাছ হেলাল ভাইয়াঃ
বাসায় পরিবারের সাথে থেকে বর্ষবরন করেছেন।

জিসান শা ইকরাম ভাইয়াঃ
ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে প্রথমে খেয়েছেন ' নরেন কুরির মিষ্টির দোকান ' হতে আনা বাতাসা। এরপর আসল পান্তা , ইলিশ, ডালের টিক্কা, শুকনা আগুনে পোড়া মরিচ দিয়ে ভাত খেয়েছেন ।
এরপরে বাসার সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা দিলেন। মোবাইলে মেসেজ দিয়েছেন সোনেলার যত জনের মোবাইল নাম্বার ছিল সবাইকে।
বিকেলে সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন।
প্রশ্নঃ
আসল পান্তা কি জিনিস?
নরেন কুড়ির মিষ্টির দোকান কি বিশেষ কোন মিষ্টির দোকান?

আরো কয়েকজন ভাইয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলাম।এনারা কেউ জানান নি বলে ইচ্ছে থাকা সত্বেও এখানে লিখতে পারলাম না। সজীবকে খুঁজে পাই কিভাবে?

সবশেষে আমিঃ
বন্ধের দিন বলে ঘুম থেকে জেগেছি জেগেছি ৯ঃ১৫ তে।আম্মু রাতে ভাতে পানি দিয়ে রেখেছিলেন ডালভর্তা,ইলিশ, শুকনা মরিচ ভর্তা দিয়ে খেলাম মজা করে। বিকেলে ছোট ভাইকে নিয়ে রিক্সায় ঘুরেছি।
প্রথম ছবিটি নেট থেকে নেয়া।কেউ যেন আবার ঐ ছবির মাঝে লীলাবতীকে খুঁজে পাবার ব্যার্থ চেষ্টা না করেন :p

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা -{@

0 Shares

৬৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ