সোনেলা ব্লগের জন্ম মাসে সকল সম্মানিত ব্লগার/লেখকবৃন্দকে জানাই শুভেচছা অভিনন্দন। সাথে ভক্তিপূর্ণ নমস্কার/আদাব। আশা করি এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগের সকল সম্মানিত ব্লগার/লেখকবৃন্দ আমার ভক্তিপূর্ণ নমস্কার ও আদাব স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করেছেন।

সম্মানিত সোনেলার ব্লগার ও লেখকবৃন্দ, সোনেলা ব্লগের জন্ম মাস উপলক্ষে ইদানীং ব্লগ মডারেটর-সহ ব্লগের সবাই সোনেলায় সোনালি বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছে। পোস্ট দিচ্ছে। সোনেলায় পথচলা নিয়ে যাঁর যাঁর অনুভূতি প্রকাশ করছে। তা দেখে আমারও ইচ্ছে হয়েছে সোনেলায় আমার শুরু থেকে অদ্যাবধি পথচলা নিয়ে কিছু শেয়ার করার। এই ইচ্ছে থেকেই সোনেলা ব্লগের জন্ম মাস উপলক্ষে আমার একান্ত অনুভূতি সবার মাঝে শেয়ার করলাম।     

এই সেপ্টেম্বর মাস সোনেলা ব্লগের জন্ম মাস হলোও সবার মাঝে শেয়ার করলাম। আশা করি সাথে থাকবেন।

প্রিয় সহযাত্রী, সোনেলা ব্লগের জন্ম মাস সেপ্টেম্বর ২০১২ইং।  তবে সোনেলায় প্রথম পোস্ট ১ অক্টোবর ২০১২ইং হতে। প্রথম পোস্ট করেন সম্মানিত জিসান শা ইকরাম। পোস্টের শিরোনাম ছিল, “বলিষ্ঠ ভাবে বলতে পারিনা……।  যা ব্লগের প্রথম পোস্ট দেখেই বোঝা যায়। সেই ১ অক্টোবর থেকে অদ্যাবধি সর্বমোট পোষ্ট হয়েছে ৮৩৯১টি। এই ৭ বছরের ব্যবধানে এতো পোস্ট যা বাংলাদেশের অন্যান্য বাংলা ব্লগের চেয়েও সোনেলা ব্লগ অনেক এগিয়ে। আমার দৃষ্টিতে এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তবে এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগে আমার  পথচলা শুরু হয় ২০১৭ইং হতে। তাও এই ব্লগেরই দুইজন সম্মানিত ব্লগার/লেখকের পরিচয়ে। তাঁরা হলেন, একজন সম্মানিত মজিবর রহমান। আরেকজন সম্মানিত মনির হোসেন মমি। এই দুইজন সম্মানিত লেখকের ভালোবাসায় স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগে আমার আত্মপ্রকাশ। উল্লেখ করা যেতে পারে সোনেলা ব্লগে আমার প্রথম পোস্ট ০৩-০৩-২০১৭ইং। পোস্টের শিরোনাম ছিল, “সোনেলা ব্লগ ডটকম এর সকল ব্লগার/লেখকবৃন্দকে নমস্কার!” এর পর থেকে এপর্যন্ত পোস্ট করেছি পোস্ট ৫১টি। আজকের এই শুভেচ্ছা পোস্ট নিয়ে মাত্র ৫২টি পোস্ট। যা এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগের জন্য একেবারেই নগন্য। যাক, তারপরও সোনেলা ব্লগের সবার সাথে থাকতে পেরে আমি একরকম ধন্য।

এরমধ্যেই মনে পড়ে গেল ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের কথা। তখনো সোনেলা ব্লগে লেখালেখি শুরু করিনি। সেসময় কোনও এক তারিখে একুশে গ্রন্থমেলায় পরিচয় হয়, ব্লগ মডারেটর ও ব্লগ প্রতিষ্ঠাতা সম্মানিত গুরুতুল্য জিসান শা ইকরাম দাদার সাথে। তখন আমি এই সোনেলায় কেবলমাত্র নাম রেজিষ্ট্রেশন করে ছিলাম। কিন্তু লগইন করতে পারছিলাম না। তা নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম। পেরেশানও ছিলাম। তখন ছিল ফেব্রুয়ারি মাস। ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় বইমেলার আয়োজন হয়। যার নাম একুশে গ্রন্থমেলা।

একদিন একুশে গ্রন্থমেলায় সোনেলা ব্লগের কিছু লেখক/লেখিকাদের আড্ডার কথা ছিল। আমি সেই আড্ডায় শরিক হয়েছিলাম সম্মানিত ব্লগার মনির দাদা ও মজিবুর রহমান দাদার আমন্ত্রণে। সেই আড্ডার এক ফাঁকে ব্লগে লগইন করতে না পারার ঝামেলাটা মিটিয়ে ফেললাম, সম্মানিত জিসান শা ইকরাম দাদার সহায়তায়। এরপরই আমি ব্লগে প্রথম পোস্ট করেছিলাম,“সোনেলা ব্লগ ডটকম এর সকল ব্লগার/লেখকবৃন্দকে নমস্কার!” যা উপরোল্লিখিত।

ছবিতে সম্মানিত জিসান শা ইকরাম, মনির হোসেন মমি ও মজিবর রহমান। 

একুশে  গ্রন্থমেলার সেই আড্ডায় আরও অনেকেই ছিল। কিন্তু আমি তো কেবল নতুন!  তাই আর কারোর নাম পুরোপুরিভাবে জানা হয়েছিলো না। তাই আর লেখার মাঝেও প্রকাশ করতে পারলাম না। সোনেলা ব্লগের অনেক লেখক/লেখিকার নাম আমার জানা না থাকলেও, সেই ক্ষণিকের আড্ডায়, ক্ষণিকের দেখায় অনেকেই আমাকে সাদরে তাঁদের কোমল হৃদয়ে স্থান দিয়েছিলেন।

কিন্তু আমি অধম আজ অবধি এই স্বনামধন্য সোনেলা ব্লগে নিয়মিত হতে পারিনি। এটা একপ্রকার ব্যর্থতাও বলা চলে। দুঃখও বলা চলে। কারণ যেই ব্লগ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য বাংলা ব্লগের সাথে পাল্লা দিয়ে কয়েকশো সম্মানিত লেখক/লেখিকা, কবি, সাহিত্যিক সাথে নিয়ে দ্রুতগতিতে বীরদর্পে এগিয়ে চলছে, সেই ব্লগে আমি কেন নিয়মিত হতে পারলাম না, এই প্রশ্ন শুধু নিজেকেই নিজে করি। প্রশ্নের উত্তর আসে এটা ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার কারণেই সোনেলা ব্লগে  আজও আমি অপরিচিত একজন অতিথি হিসেবেই রয়ে গেলাম। দুঃখ শুধু এখানেই। তবুও বেশি একটা দুঃখ করি না। কারণ সময় সময় ব্লগে আসি। অন্যন্যদের পোস্ট পড়ি। মন্তব্য করি। মানে হাজিরা দিতে পেরে অনিয়মিত থাকার দুঃখটা কিছু হ্রাস করি।

সোনেলা ব্লগে অনিয়মিত থাকার জন্য দায়ী হলো আমার সময়। সময়ের অভাবে আমি এখানে নিয়মিত হতে পারছি না। তবে ব্লগে বেশি সময় দিতে আর লেখা দিতে না পারলেও কিন্তু সোনেলার দিকে আমার দৃষ্টি ঠিকই থাকে। মাঝে মাঝে সোনেলার ফেসবুক পেইজে সোনেলা ব্লগের পোস্টগুলো দেখলে ভালো লাগে। খারাপ লাগে নিয়মিত নিজে লেখা বা পোস্ট না দিতে পেরে। এই খারাপ লাগার মাঝেও ভালো লাগে যখন সোনেলা ব্লগের ব্লগার তুখোড় লেখক সম্মানিত মনির দাদার আর মজিবর রহমান দাদার ফোনকল পাই। আমার খোঁজ নেই। কথা বলে। সুখদুঃখ নিয়ে জানতে চায়। সুখদুঃখ শেয়ার করি। সাহস দেয়। উৎসাহ দেয়। এইযে একজনের প্রতি আরেকজনের আন্তরিকতা, এই আন্তরিকতা অন্যসব বাংলা ব্লগে নেই।

আমি আরও অনলাইনভিত্তিক বাংলা ব্লগে লেখালেখি করেছি। কিন্তু এখানকার মতো এতো আন্তরিকতা কোনও ব্লগে বা কোনও সাইটে দেখিনি। এখানে অন্যান্য ব্লগের তুলনায় আন্তরিকতা অনেক বেশি। সোনেলা প্লাটফর্মের সোনালি মানুষগুলোর আন্তরিকতার কমতি নেই। কমতি নেই ভালোবাসারও। একে অপরের জন্য সবসময় কাছে থাকে। তা বোঝা যায় ব্লগপোস্টের মন্তব্য দেখে। প্রতিটি পোস্টেই পোস্টদাতাকে মন্তব্যের মাঝে উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। লেখায় ভুলত্রুটি হলেও, সংশোধনের জন্য আহবান জানানো হয়। বানান বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়তি কোনো সমালোচনা করা হয় না। এটাও একরকম একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতাও বলা চলে।

সোনেলা প্লাটফর্মের সুপ্রিয় সহযাত্রী, পরিশেষে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, আমি আপনাদের ব্লগে এখনো অতিথি। মাঝে মাঝে আসি। আবার সময়ের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়ি। মাঝেমধ্যে দু’একটা পোস্ট করলেও, নিজের পোস্টের মন্তব্যের প্রত্যুত্তরও ঠিকমতো দিতে পারি না। যা একরকম লজ্জার ব্যাপার। তারজন্য আপনারা আমার উপর কোনপ্রকার রাগ গোস্বা করবেন না বলেই আশা রাখি। আর একটা কথা না বললে আর হয় না। কথা হলো, আমি সবসময়ই সময়ের সাথে যুদ্ধ করে চলছি। তাই ব্লগে অনিয়মিত। আপনারা কিন্তু অনিয়মিত হবেন না। আপনারা ব্লগে নিয়মিত থেকে সোনেলা ব্লগটাকে প্রাণচাঞ্চল্য করে রাখবেন বলে আশা করি। এই সোনেলা ব্লগে আপনার নিয়মিত লেখা বা পোস্ট দিবেন। আপনাদের সেই লেখা, সেই পোস্ট সারা বাংলায় প্রচার হয়ে বাংলার কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টিগোচর হবে। মানুষ আপনাদের লেখা পড়বে, বুঝবে, কিছু-না-কিছি শিখবে। এভাবেই একদিন এই সোনেলা ব্লগ এদেশে থাকা সকল বাংলা ব্লগকে ছাড়িয়ে যাবে। সাথে আপনাদের নামও ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে আশা করি।

সবশেষে সোনেলা ব্লগের জন্ম মাসে ব্লগের সবাইকে সোনালী শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানিয়ে সোনেলা ব্লগের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। জয় হোক মনবতার। জয় হোক সোনেলা ব্লগের। জয় হোক ব্লগের সকল ব্লগার/লেখক/লেখিকার। জয়তু সোনেলা।

২৪২জন ৪০জন
17 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য