যদিও আমি অনলাইনের বিভিন্ন ব্লগ ও পেইজে সে সময় চব্বিশ ঘন্টাই লেগে থাকতাম কিন্তু সোনেলা ব্লগটি ছিলো আমার কাছে চোখের মণি। সে সময়ে সামু সহ বিভিন্ন ব্লগ থেকে দলে দলে ছুটে এসেছিলো সোনেলা ব্লগ এ সোনেলা দিগন্তে জলসিড়িঁ ধারে সাহিত্যাঙ্গণে একটু শান্তির আশায় যেখানে নেই কোন ব্লগারদের একে অন্যের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ গালাগাল আর অসন্মান।প্রতিটি বাংলাদেশী মানুষের হৃদয়ে তার গ্রামটি যেমন নিশ্চিন্ত বসবাসের প্রকৃতির নির্মল বাতাসে অক্সিজেনে ভরপুর তেমনি ছিলো সোনেলা ব্লগার মডারেটর শুভাকাঙ্খিদের মাঝে নীতিমালা মেনে ব্লগারদের মতামত প্রকাশে  এক স্বাধীন সাহিত্য বিষয়ক প্লাটফর্ম। তাদের মধ্যে অন্যতম শিপু ভাই, কবি মূর্তুজা হাসান সৈকত, দাদু ভাই, নীতেষ বড়ূয়া, তীর্থক আহসান রুবেল, ভূমিহীন জমিদার, যাযাবর, পাগলা জাহিদ, বনলতা সেন, তামান্না রুবায়াইত, শিশির কনা, স্বর্ণলতা, অন্তরা মিতু, স্বপ্ন, নীল সাধু, নীলকণ্ঠ জয়, রুদ্র আমিন, মজিবর রহমান, রূম্পা রুমানা, এই মেঘ এই রোদ্দুর, মারজানা ফেরদৌসী রুবা, রিমি রুম্মান সহ…..আরো অনেকে।
আমি আমার যে স্মৃতিটি এখানে এই সোনেলায় তুলে ধরার চেষ্টা করছি তা হল মনে কেবলি এক কৌতূহল ছিলো  এই সব অচেনা অজানা জ্ঞান ভান্ডারে পরিপূর্ণ মানুষ গুলো না জানি দেখতে কেমন! তারা কি আমার মতই মানুষ নাকি অন্য কিছু।এ সম্পর্কে আমার এক প্রয়াত স্কুল বন্ধুটিকে জিজ্ঞাসা করাতে সে বলেছিলো-তুইতো আমাদের থানার প্রথম ব্লগার।তুই কি জানিস তুই কি করছিস ? সে তখন ঢাকা সিটি কলেজের ছাত্র সে হিসাবে এ সব অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ আমার চেয়ে বেশী। তাই প্রথমে একটু  চিন্তিত  হলেও পথ ছাড়িনি। সে বলেছিল এ সব ব্লগাররা তোর চেয়ে অনেক জুনিয়র তোর সাথে তাদের মতের অনেক পার্থক্য থাকবে। তাছাড়া এ সব ব্লগাররা এখন দৌড়ের উপরে আছে,আছে কোপের উপর। আমি বলে ছিলাম,তবে কথা কি জানিস,আজকে যে রাজাকার বিরোধী মঞ্চ! এই মঞ্চটির জনপ্রিয়তার পিছনে কিন্তু এই সব ব্লগারদের অবদান অস্বীকার করার মত। ব্লগ দিয়েই এ দেশে গড়ে উঠেছে সচেতন এক তরুন প্রজন্ম।

কি যে এক উদ্দীপনা ছিলো হৃদয়ের মাঝে। সে দিনই প্রথম কোন ব্লগারদের সাথে আমার প্রথম দেখা হবে। অনেকটা ভয়!অনেকটা জানা বা দেখার কৌতুহল।সত্যিকারে যারা ব্লগার তারা কেমন স্বভাবের, এতো দিনতো অনলাইন এ ছবি বা ভিডিওতে দেখেছি। আজ সরাসরি দেখবো, কথা বলব।কথা ছিলো দেখা হবে পাবলিক লাইব্রেরীতে।

দূপুরে আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের পোষাকের শেষ সাজটা দেখে নিচ্ছিলাম।
এই শার্টের কলারটা ঠিক আছে কি না,মাথার চুলগুলো চিরুনি দিয়ে আরেক বার হালকা ঠিক করে নিলাম।এবার টানছি কোমড়ের বেল্ট ধরে,শার্টের ইনটা ঠিক করার জন্য।জীবনেও ইন করে পেন্ট পড়িনি আজ পড়লাম। এই দৃশ্য দেখে গি্ন্নীর রাগত কন্ঠ।
-কই গো, কোথাও যাইবানি?
-না, কই আর যামু!!
-তয় এতো হাজ কি জন্যে?
-আছে,কারন আছে।
-আরে হেইডাইতো জিগাইতাছি।
আশ্চর্য হয়ে নিজের মাঝে ফিরে এলাম এর পর বললাম,,
-আমি সোনেলা ব্লগের ব্লগারদের সাথে দেখা করতে যাবো। আজ তার সেই মাসের ২৩ তারিখ যে দিন তার জন্ম হয়েছিলো ২০১২ সালে, বুঝলে?
-ওতাই!! এইডাতো হুনি নাই! দেশে কত দল টল আছে, এইডা আবার কোন দল!?
তুমি বুঝবা না!!
তুমিতো আবার গেয়োঁ ঠিক মত মোবাইলই চালাতে পারো না।
আমার শেষ অংশের কথাগুলো বলেছিলাম মনে মনে তাইতো বাঘিনীর থাবা হতে বেচে ছিলাম সেই যাত্রায়।পকেটে হাত দিয়ে দেখি পকেটে টাকার পরিমান যৎসামান্য যা দিয়ে যাওয়া আসা যাবে তবে এনাফ নয়।তাই গিন্নীকে বললাম,,
-কৈ গো.. কয়ডা টাকা দেওনা ?
-পাগল নাকি,আমি নিজেইতো টাকার জন্য কোথাও যাইনা।
-জানি,মোবাইলে যে টাকা কথা কইয়া খরচ কর তাতেতো তোমার কোন সমস্যা নাই।
-এই তুমি যাওতো,কই যাইবা যাও৴৴
বলে দিল এক ধাক্কায়- ঘরের চৌকাঠ পার করে,,,
আমিও জানি এই হারকিপটে বউকে যতই বলি  কোন কাম অইবো না।
-তাই খোদা হাফেজ কইয়া বাহির হলাম,,,

দূপুরে নিদিষ্ট সময়ের একটু আগেই পাবলিক লাইব্রেরীর সিড়িঁর নিকট গিয়ে দাড়ালাম। তখন আমি একা। একা যদিও কিন্তু মনে আমার ভয় বা সংকোচের কোন চিহ্ন ছিলো না কারন ১৯৯৩ সালে চারুকলায় যখন আসতাম তখন এ পথে কিংবা এখানেই আড্ডা দিয়েছিলাম তাই কতগুলো বছর তাই এ পথ ঘাট আমার চেনা- এ পথ এ জায়গা আমার বড় আপণ। আশ পাশ আড্ডা দেয়া আড্ডা স্থানগুলোর দিকে তাকাচ্ছিলাম সোনেলার কাউকে দেখা যায় কি না। দূর হতেই ভাবছি আড্ডার ঐ গুচ্ছ দলটিতেই মনে হয় আমাদের সোনেলার আড্ডা চলছে। একটু এগিয়ে গিয়ে আড়ঁ চোখেঁ তাকাচ্ছিলাম ওদের দিকে। ওরাও তাকায় আমার দিকে। মৌনতা নিয়ে দাড়িয়ে রইলাম। পরিচিত কাউকে না দেখতে পেয়ে মনের ভিতর এক আফসোস কাজ করতে লাগল।
অতঃপর চোখে পড়ল লাইব্রেরীর মেইন গেইট পেরিয়ে আসা দু’জন লোককে দূর থেকেই মনে হল “হয়তো তাদের চিনি আমি”। একটু কাছে আসতেই আমি সিউর হলাম জিসান ভাইজানের ফেইস দেখে।পাশে হেলাল ভাইজানকেও ভাল করে দেখে অবশেষে সিউর হলাম হ্যা এরাই আমার স্বপ্নের মানুষ।নিজেই একটু এগিয়ে গেলাম-একটুও দেরী হয়নি তাদের’ আমাকে চিনতে-আরে মা মাটি দেশ নিক নামের ব্লগার মনির ভাই না? জিসান ভাইজানের এমন সহজ সরল উক্তি লুফে নিয়ে ভালবাসায় হ্যান্ডসেক এবং কোলাকোলি করে ভাল মন্দ সম্মোধন করলাম।অমায়িক সহজ সরল হেলাল ভাইজানকে দেখে অবাক হলাম। এতো সহজ সরল মানুষটি কেমনে এতো কঠিন কঠিন শব্দে কবিতা লেখেন। তার সাথেও করমর্দন করলাম। এর পর তাদের সাথেই এসেছিলেন আরেক জন আধা চান্দি ক্যাপ পড়া এক ভদ্রলোক। জানতে পারলাম তিনি আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ভুমিহীন জমিদার নিক আইডির এস এম ওলিওল্লাহ। চা পানের আড্ডায় কথা হল- ব্লগ এর আজকের আড্ডা নিয়ে আরো অনেকের আসার কথা ছিলো তেমন ভাবে ঘটা করে ডাকা হয়নি বলে অনেকে আসেনি। সেই দিনই প্লান হয় ২০১৪ সালে বই মেলায় বড় পরিসরে আড্ডার আয়োজনের সকল দিক।

এরপর ২০১৪ সালের বই মেলায় আড্ডা চলে প্রায় ত্রিশ পয়ত্রিশ জন সোনেলার সোনালী ব্লগারদের নিয়ে।সে সময়ে অনুভুতির মাত্রা ছিলো আমার কাছে অন্য রকম।কাউকে চিনি না জানি না কখনো দেখিনি অথচ আড্ডায় কতটা গভীর বন্ধুত্ব,মমতাবোধ,পারস্পরিক আন্তরিকতা এ এক অন্য রকম মন দুলানো পরিবেশ।সেই দিনই আমার মনে ব্লগার সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা এসেছে যে ব্লগারাও অন্য আটদশ মানুষের মতই রক্তে মাংসে গড়া সাধারণ মানুষ।তাদের লেখায় উঠে আসে সমাজ অবক্ষয়ের বাস্তব চিত্র,উঠে আসে দেশের বর্তমান ভবিষৎ নিয়ে ভাবনার তাৎপূর্ণময় লেখা,সুন্দরের পূজারী কবি’র কবিতায় উঠে আসে প্রেম বিরহ,প্রকৃতির সৌন্দর্য,দেশ প্রেমের ইতি কথা আবার কখনো কখনো ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ঝড়।জীবনকে জানতে,পৃথিবীকে মানতে মানব জনম ক্ষণস্থায়ী বুঝতে ব্লগের চেয়ে বড় কোন প্লাটফর্ম অন্য আর কোন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই।এরপর ২০১৬ সাল এর আড্ডা সহ ব্লগারদের ব্যাক্তিগত বিভিন্ন আড্ডা সোনেলাকে জনপ্রিয় করে তুলে।

ব্লগ বানানো মিনিটের ব্যাপার কিন্তু ব্লকটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখে ব্লগটিকে চালিয়ে রাখা বড় কষ্ট সাধ্য।শুধু কষ্টকরই নয় জীবনের জন্য হুমকিও বটে।বিশেষ করে অ-লাভ জনক যে ব্লগের বাড়তি কোন ইনকাম থাকে না সেই ব্লগটিকে উম্মুক্ত করে চালু রাখা কম মহত্বের কথা নয়।দুই বন্ধু জিসান-হেলাল ভাইয়ের ব্যাক্তিগত এ ব্লগটি যখন সবার জন্য উম্মুক্ত করলেন ২০১২ সাল ২৩ সেপ্টেম্বর।সে দিন হতে আজ পর্যন্ত তারা কখনো বলেননি- ব্লগের ব্যায় ভার বহন করতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে,,দু’একটি বিজ্ঞাপণ যুগিয়ে দিন বা আর্থিক ভাবে সাহায্য করুন।নেভার,কখনোই বলেননি ব্লগ কর্তৃপক্ষ,যা অন্যান্য ব্লগগুলোর বেলায় নজির আছে-বরং উল্টো বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে তারা তাদের গাইটের পয়সা ভেঙ্গে ব্লগারদের মনোরঞ্জণ বা তাদের প্রতিভা প্রকাশে সুযোগ দিয়েছেন।আর একটি কথা যে কথা না বললেই নয়,যার প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে সোনেলার ব্লগার হিসাবে আমার বড় ভুল হয়ে যাবে আর তা হল আইটি সেক্টরে নাজমুল আহসান এ ব্লগটিতে আজও ফ্রিতে ব্লগ উন্নয়ণ বা কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে ব্লগটিকে সচল করে রাখছেন অনবরত।তার এবং ব্লগ কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা বোধ থাকবে এটাই কাম্য।

কিন্তু দুঃখজন হলে সত্যি যে এ বছরের প্রথম দিকে ২০১৯ সালে বই মেলার আড্ডার বেশ কিছুদিন পর- কিছু বিশ্বাস ঘাতক সোনেলার পুরাতন ব্লগার সোনেলা ব্লগকে অনলাইন জগৎ হতে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে। ব্লগ জীবনে আমার কাছে এমন দুঃখজনক স্মৃতিগুলো কখনো ভুলবার নয়। এ সব বিশ্বাস ঘাতক ব্লগারদের সাথে যোগ দিয়েছিলো আরো দু’একজন ব্লগার যাদের সাথে আমাদের ফেবুক-ব্লগে গড়ে উঠেছিলো পারিবারিক ভাবেও গভীর সম্পর্ক।তাদের বিপদে আপদে সদা প্রস্তুত ছিলো সোনেলা ব্লগ।তাদের লেখার হাতে খড়ি ছিলো সোনেলা ব্লগ দিয়ে।তাদের লিখিত লেখাগুলোতে ছিলো মানবতা,ছিলো সম্পর্কের মর্যাদা যা তাদের বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণ বিপরীত মুখী।তারা স্বার্থের মোহে(অন্য একটি ব্লগ বানানো) অন্ধ হয়ে ভুলে গেলেন নিজেদের সাহিত্য জগতে জন্মের পরিচয়ের নিজ ভুমি,ভুলে গেলেন সোনেলা ব্লগ তাদের পারিবারিক ভাবেও কতটা আপণ ছিলো।

আজকে এ সোনেলা জন্মদিন সেপ্টেম্বর মাসে এ সব কথা বলা আমার যদিও ইচ্ছে ছিলো না তবুও বললাম এই জন্য যে  এ ব্লগে চলে যাওয়া বিশ্বাস ঘাতক ব্লগার সংখ্যার চেয়ে ইতিমধ্যে বেশী সংখ্যক নতুন ব্লগার সোনেলায় যোগ দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে আমার এবং সোনেলা ব্লগ এর পক্ষ হতে অফুরন্ত শুভেচ্ছা ভালবাসা জানাই।আপনারাই সোনেলার ভবিষৎ।আপনাদের লেখার মাধ্যমে সোনেলাকে আরো বহু দূর নিয়ে যাবেন এটাই সোনেলার জন্ম মাসে আমাদের চাওয়া।

সোনেলা ব্লগ এর উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।
সোনেলার জন্ম মাসে আমার প্রিয় সহ ব্লগারদের বলবঃ
৴জীবনের শেষ পর্যন্ত মা বাবাকে ভালবাসুন অকৃত্রিম ভাবে।
৴উপকারীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করুন
৴বিশ্বাস ঘাতক চালবাজ মানুষ হতে দূরে থাকুন
৴আর ভরসা রাখুন সৃষ্টি কর্তার উপর যিনি আপনাকে আমাকে সৃষ্টি করেছেন।

আর আরেকটি কথা তা হল-ব্লগের প্রতিষ্ঠাদের মধ্যে একজন জিসান ভাইজান।ডেঙ্গু পরবর্তী অসুস্থতায় সে এখন ব্লগে নিয়মিত হতে পারছেন না।আমরা তারঁ জন্য দোয়া করব মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তাকে দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ্যতা দান করে আবারো নিয়মিত ব্লগার হিসাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।আমীন।

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ وَاشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي”
لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا”متفق عليه
উচ্চারণ: ‘‘আল্লাহুম্মা রাব্বান্নাসি আযহিবিল বা’সা, ওয়াশফি ওয়াআন্তাশ-শাফী, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফা’আল-লা য়্যুগাদিরু সাক্বামা’’
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমিই রোগ নিরাময় কারীতুমি ছাড়া আর কোনো নিরাময় দানকারী নেই।

———————————–(আরবী লেখাটি কালেক্টটেড)——

সবাইকে ধন্যবাদ
সোনেলা ব্লগ এর জন্ম বার্ষীকির অগ্রীম শুভেচ্ছা

২৯৪জন ৪৫জন
44 Shares

৩৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য