আমরা একই রাস্তায়, একই এলাকায়, একই বাসে অথচ মুখোশ পরে আছি৷ কেউ কারো কাছে যেতে পারছি না। হাত ধরতে পারছি না। ঘুরে বেড়াতে পারছি না। আমরা আমাদের ঘরে আবদ্ধ। আমরা প্রকৃতিকে বদ্ধ করেছি, নষ্ট করেছি, বিরুদ্ধাচরণ করেছি। প্রকৃতি সব ফিরিয়ে দিচ্ছে এখন। আমরা প্রকৃতি শেষ করতেছি, প্রকৃতি আমাদের শেষ করবে আজ না হয় কাল।                                                                                                                                          আমরাতো থুতু দিয়ে টাকা গণনা করি, করোনা কিভাবে মোকাবিলা করবো? ———————————————————
হ্যাঁ এ কথা ঠিক যে,আমাদের মত দূর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতা সবার নাই,কিন্তু আমাদের মত দূর্যোগ সৃষ্টিকারী,দুর্নীতিবাজও নাই। আমাদের বিমান বন্দরের মত পৃথিবীতে এ রকম বিমান বন্দর খুব কমই আছে।কারণ,এয়ারপোর্টের অভ্যন্তরে প্রায় প্রতিটা স্তরই দূর্নীতি গ্রস্থ।কর্মকর্তা কর্মচারীদের যাত্রীদের সাথে ইতর শ্রেনীতুল্য আচরণ,বিনা কারণে যাত্রীদের হয়রানি,ঘুষের আদান প্রদান ইত্যাদি আমাদের দেশের এয়ারপোর্ট গুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট।তারপরও আমি আশাবাদী, সবক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা সৃষ্টি হবে,আমরা দুর্নীতিমুক্ত হবো,আমাদের আচরণগুলো মানবিক হবে। স্বভাবে দুর্নীতি থাকবে না । একজন ওয়াশিংটন, আর ইস্তানবুল ঘুরে ঢাকা এসেছেন। তার মতে ঢাকা বিমানবন্দরের মত করোনা রোধে প্রস্তুতি অন্য বিমানবন্দরগুলোতে দেখে নাই। এমনকি ঢাকা বিমানবন্দরে যেভাবে জীবানুনাশক দিয়ে প্রতিনিয়ত পরিস্কার করা হচ্ছে তাও ঐসব বিমানবন্দরগুলোতে করা হচ্ছেনা। এই তথ্যটা তাদের জন্য যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে হতাশায় ভুগতেছেন। বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীতে ‘উন্নত’ দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গর তা চোখে আঙ্গল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। আমি অবশ্যই মানি যে আমাদের অনেক কিছুতেই সক্ষমতা এখনো তৈরী হয়নি কিন্তু একই সাথে আমি মনে করি আমরা অনেক কিছুই পারি যা অন্য অনেকেই পারেনা। আমাদের মত দূর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতা খুব কম দেশেরই আছে। এইসময়গুলোতে কোন ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপদ নয় তাই সকলের সম্মিলিত সতর্কতা ছাড়া এটা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ কেন l                                                                                    করোনা ভাইরাস হতে নিরাপদ?
————————————————————
১.চীনের উহানের তামপাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রির নিচে ও কাছাকাছি।
২. ইরানে ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি।
৩. দক্ষিণ কোরিয়ায়ও ১০ ডিগ্রির অনেক নিচে।
৪. ইতালিতে ১৫ ডিগ্রির নিচে।
অর্থাৎ মোটামুটি ১৫ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা আছে এমন ক্ষেত্রে করোনা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

কত তাপমাত্রা নিরাপদ? ——————————————————–
এ পর্যন্ত প্রায় সব গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি একমত যে, তাপমাত্র ২১-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে করোনা ভাইরাস টিকতে পারে না। যেমন;

১. হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. প্রফেসর জন নিকোলস বলেছেন, সূর্যের আলো, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতায় করোনা টিকতে পারে না। সূর্যের আলো ভাইরাস অর্ধেক ক্ষমতা শেষ করে দেয়। বাকি অর্ধেক ২ থেকে ২০ মিনিট টিকে থাকে।
২. জার্মান সেন্টার ফর এক্সপেরিমেন্টাল এন্ড ক্লিনিক্যাল ইনফেকশন রিসার্স সেন্টারের গবেষক থমাস পিচম্যান বলেছেন, সূর্যের তাপে ভাইরাসটি টিকতে পারে না।
৩. জার্মানির জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনের প্রকাশিত রিসার্সে বলা হয়েছে, ভাইরাসটি ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৫ দিন বাঁচতে পারে। সর্বোচ্চ ২৫ ডি.সে. এ কয়েক দিনের বেশি বাঁচে না।

বাংলাদেশ কেন মুক্ত?    ————————————
আসুন দেখে নেই চলতি মাসের তাপমাত্র; ১ মার্চ থেকে আজ ১২ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩২, ৩১, ৩০, ৩০, ৩০, ৩১, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আক্রান্ত দেশগুলোর তুলনায় শুরু থেকেই বাংলাদেশের তাপমাত্রা অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা করোনা ধ্বংসে তাপমাত্রার যে সীমা বলছেন তার থেকে বাংলাদেশের তাপমাত্রা অনেক উপরে। সুতরাং বাংলাদেশে করোনা ছড়ানোর সুযোগ আপাতত নেই। প্রাকৃতিক এই প্রতিষেধকে ঢেকে আছে আমাদের সোনার বাংলা। সৃষ্টি কর্তার এটি অশেষ কৃপা।

সুতরাং প্যানিক ছড়ানো বা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন। যদি এখানে করোনার রোগী বাইরে থেকে ভাইরাস নিয়ে আসেও আর তাপমাত্রা এমনই থাকে তাহলে ভাইরাস প্রাকৃতিকভাবে নির্মূল হয়ে যাবে। তবে নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। পরিবার-পরিজন সবাই সুস্থ্য থাকুন। সচেতন হোন, ভালো থাকুন , আল্লাহ আমাদের সহায় হোন ।
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ” (আল কোরান)।                                                 বিঃদ্রঃ প্রবাসীরা অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া এই মুহূর্তে দেশে না আসাই উত্তম। যারা এসেছেন তারা সরকারি এবং ডাক্তারী নির্দশনা মেনে চলা উচিত।               (সূত্রঃ LinkedIn )।

১২৮জন ১৪জন
3 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য