সে আজ দেশে যাচ্ছে

রিমি রুম্মান ২২ জানুয়ারী ২০১৫, বৃহস্পতিবার, ১০:১৯:০০পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩২ মন্তব্য

আমার বন্ধুটি সাত বছর আগে এদেশে এসেছে। নানান ব্যস্ততায় দেশে যাওয়া হয়নি। আসার দু’বছর পর তাঁর বাবা মারা যায়। মা’য়ের সাথে যোগাযোগ প্রায় প্রতিদিনই ভাইবার, স্কাইপির এই যুগে। মনখারাপ করা হাহাকার নেই। মায়ের শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা অনেকদিন থেকেই। বুঝতে দেয়নি মেয়েকে। মা’য়েরা চিরকাল কষ্ট আড়ালে রাখে। আর যে পারে না ! অবশেষে মেয়েকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে। মেয়ে তার জমিয়ে রাখা বাৎসরিক ছুটির সাথে অনেক অনুরোধে আরও এক সপ্তাহ বেশি ছুটি পায় জব থেকে। টিকেট কাটে। তিন সপ্তাহের ছুটিতে দেশে যাচ্ছে ! পৃথিবীর তীব্রতম উচ্ছ্বাস তাঁর চোখে মুখে। পৃথিবীর সবচাইতে শান্তির জায়গা মায়ের বুকে ফিরবার আয়োজন তাঁর। আমার মা নেই, তাই তাঁর আনন্দে আনন্দিত হই। উচ্ছ্বসিত হই। ভেতরে প্রলয় বইতে থাকে। সেই প্রলয়ে ঘুরপাক খেতে খেতে আমার কষ্ট লুকানো মা’য়ের হাসিমাখা মুখখানা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে দেখি…

এদিকে আমার বন্ধুটির বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে দেশে যাবার প্রস্তুতি। অন্যদিকে দেশে তাঁর মায়ের বিরামহীন প্রস্তুতি। মেয়ের পছন্দের আচার, নারকেলের চিড়া আরও কতো কি বানিয়েছে। মেয়ের রুমটি ক’দিন ধরে ঝাড়-মোছ করে ঝকঝকে করেছে। অসুস্থ শরীরে খাটা-খাটুনি একটু বেশিই হয়েছে বোধ হয় !

 গত সপ্তাহে তাঁর মায়ের মৃত্যু সংবাদ আসে ! শতাব্দীর বেদনা বুকে চেপে আজ আমার বন্ধুটি দেশে যাচ্ছে। শতাব্দীর দীর্ঘতম পথ পাড়ি দিয়ে এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে। থরে থরে সাজানো আচার, নারকেলের চিড়া, পছন্দের খাবার, সাজানো গোছানো প্রিয় রুম… হুম সাত বছর আগে ফেলে আসা শূন্য সেই রুম__ সবই কালের সাক্ষী হয়ে অপেক্ষায়। জানি, আমার বন্ধুটি অনেক ক্ষুদার্থ থাকবে, কিন্তু গলা দিয়ে খাবার নামবে না। অনেক ক্লান্তি থাকবে, কিন্তু সেই রুমটিতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারবে না। নির্ঘুম রাত পেরিয়ে ভোর হবে। আযান হবে। তবুও না… তবুও না…। যেমনটি আমার হয়েছিলো।

মা’য়েরা জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত কষ্ট লুকায়। বুঝতে দেয় না__ তাঁর যে সময় ঘনিয়ে এলো …

৩৫৯জন ৩৫৯জন
0 Shares

৩২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ