সেমিরামিস (একজন সফল নারী শাসক)

সুপর্ণা ফাল্গুনী ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ১২:০২:১০পূর্বাহ্ন ইতিহাস ২০ মন্তব্য

পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসে নারী শাসক বিরল। তাদের সবাই সফল শাসক হিসেবে।  যোগ্যতার  স্বাক্ষর রেখে গেছেন ইতিহাসের পাতায় – তাদের মধ্যে সেমিরামিস অন্যতম। সিরীয় দেবী দারসেটো ও সিরীয় যুবার সম্পর্কের পরিণতি হলো সেমিরামিস। কন্যা শিশুকে লজ্জিত হয়ে পরিত্যক্ত করে আত্নাহুতি দেন দেবী। ঘুঘু পাখিরা দেখাশোনা করতেন সেমিরামিসের। অ্যাসিরিয়ার রাজার প্রধান মেষপালক কন্যা শিশুকে পেয়ে বড় করতে থাকেন। অপরূপ সুন্দরীর সৌন্দর্যে রাজকীয় গভর্ণর ওনেস অভিভূত হয়ে বিয়ে করেন। সুখ সহ্য হয়নি রাজা নিনাসের রোষানলে পড়ে। ওনেসের জীবন অতিষ্ঠ করে বাধ্য করে আত্নহত্যা করতে। অ্যাসিরিয়ার রাণী বনে যান সেমিরামিস ভাগ্যের উপহাসে।

 

নব্য অ্যাসিরিয়ার শাসনামলে খ্রিস্টের জন্মের প্রায় হাজার বছর আগে সেমিরামিস একাই শাসন করেছিলেন বিশাল সাম্রাজ্য। পাঁচ বছরের শাসনকালে আজো ইতিহাসে তাকে প্রভাবশালী করে রেখেছে। সফল নারী শাসক , দেবতার পরিত্যক্ত, ঘুঘু পাখির পালিত আর ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের নির্মাতা – সেই রহস্য এখনো টানে মানুষকে। ধারণা করা হয় তার আসল নাম সামু-রমত। গ্রিসের লেখক, ঐতিহাসিকগণ নাম বদলে সেমিরামিস রাখেন। প্রাচীন শহর নিমরুদে ( বর্তমান ইরাক) পাওয়া জ্ঞান ও লেখার দেবতা ‘নাবু’কে উৎসর্গ করা দুটি মূর্তিতে সামু-রমতের উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া দুইটি স্টালির (বিশেষ ধরণের পাথরের স্তম্ভ, যাতে কারোর জীবন সম্পর্কিত বর্ণনা লেখা বা খোদাই করা থাকে) একটি পাওয়া যায় বর্তমানে তুর্কির একটি শহর কিজকাপানলি থেকে। অন্যটি পাওয়া যায় ইরাকের আশুর শহরে।

 

কবির বিয়োগান্তক প্রেমের কবিতায় কুহকিনী সুন্দরী, গল্পে তিনিই অফুরন্ত সামরিক শক্তির অধিকারী। রক্ত-মাংসের সেমিরামিসের ইতিহাস ধোঁয়াশায় ভরা; দান্তের ‘ইনোফার্নো’ তে যৌন অপরাধী, ভলতেঁয়ার লিখেছেন বিয়োগান্তক নাটক।  খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম ও নবম শতকের মাঝামাঝি অ্যাসিরিয় সাম্রাজ্যে বাস করতেন-স্বামী রাজা পঞ্চম সামসি আদাদ শাসনকাল ৮২৩ থেকে ৮১১ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ। সেমিরামিসের সন্তান রাজা তৃতীয় আদাদ নিরারি। দ্বিতীয় অশুর্নাশিরপালের পৌত্র সামসি প্রকাশ্যেই ছিলেন নিষ্ঠুর সম্রাট। বিদ্রোহী নেতাদের চামড়া দিয়ে স্তম্ভ ঢাকেন, শূলে চড়ান অনেককেই। 

 

সাহিত্যিক ডিওডোরাস বলেন রাজকীয় প্রাসাদ , মারদূকের মন্দির, নগরের প্রাচীর তার আদেশেই নির্মিত। অনেক লেখকের ধারনা নেবুচাঁদনেজারের নামে ঝুলন্ত উদ্যান তারই তৈরি। কিজকাপানলি থেকে পাওয়া স্টালিতে বর্ণিত আছে যখন তার সন্তান নিরারি  ইউফ্রেতিস নদী পার হয়ে আরপদ নগরের বিদ্রোহী রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলেন, সেমিরামিস উপস্থিত ছিলেন সেখানে। মিশরে রানী ভবিষ্যদ্বাণী শুনেছিলেন, তার পুত্র নিনিয়াস তাকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করবে। ভারত আক্রমণের পর সেমিরামিস এই কথার সত্যতা টের পেয়েছিলেন। ডিওডোরাসের বর্ণনায় যদিও তার ছেলে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, সেমিরামিস কৌশলেই বিদ্রোহের পূর্বে ছেলেকে সাম্রাজ্য সঁপে দেন। আগুনে ঝাঁপ নয়তো নিজপুত্রের হাতে খুন হয়ে সেরিমাসিসের জীবনাবসান ঘটে।

 

এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একজন সফল নারী শাসকের শাসনব্যবস্থার।

 

তথ্য ও ছবি-গুগল

১৫৭জন ২৫জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য