220px-Sculpture_at_Mujibnagar_Biranganaবাংলাদেশ স্বাধীনের আজ তেতাল্লিশ চৌয়াল্লিশটি বছর পাড়ি দিয়েও খুজছিঁ স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস।স্বাধীনতার বিপক্ষের শত্রু স্বদেশীয় কিছু মীরজাফরদের সহযোগিতায় যুগের পর যুগ ইতিহাসকে মন গড়া ভাবে বিকৃত করে চলছেন তবে ২৫শে মার্চ ১৯৭১ এ দিবাগত মধ্য রাতে পাকিদের নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের উপর বর্বরচিত হামলার ঘটনার বিবরণে তেমন কোন পার্থক্য দেখি না।সর্বত্রই ২৫ শে মার্চ সর্বোকালের লোমহর্ষকর ঘটনাকে অপারেসনস সার্চলাইট গণ হত্যাযজ্ঞ নামে সজ্ঞা দিয়েছেন।
মুক্তি যুদ্ধ চলা কালে আমেরিকার ‘সেন্ট লুইস পোস্ট’-এ যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ স্থানীয় সরকারী কর্ম কর্তার বরাত দিয়ে লেখা হয়েছিল,

(y) দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে পোলান্ডে নাৎসীদের গণহত্যার পর এই হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সবচেয়ে নৃশংস। সরকারী হিসেব অনুযায়ী ''প্রথম চার মাসে ২ লক্ষ থেকে ৭ লক্ষ বাঙালি নিহত হয়েছে এবং ৬৫ লক্ষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।
এশিয়া টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী,
পাক সামরিক বাহিনীর বড় বড় অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করে "তিরিশ লক্ষ বাঙ্গালিকে হত্যা কর, তখন দেখবে তারা আমাদের হাত চেটে খাবে।"

সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানী আর্মি অপারেশন সার্চলাইট আরম্ভ করে যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালি প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এরই অংশ হিসাবে সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজ নিধন করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়।

535774_563125847051736_721995612_nহত্যাকাণ্ডের খবর যাতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে না পৌঁছায় সে লক্ষ্যে ২৫ মার্চের আগেই বিদেশী সাংবাদিককে ঢাকা পরিত্যাগে বাধ্য করা হয়। তারপরও সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করে ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে এই গণহত্যার খবর জানিয়েছিলেন। (y) দেখুন সায়মন ড্রিংস এর প্রতিবেদনটি।
স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্বাবস্থা:
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয় এবং ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান এবং হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় ভারত। নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রায় দুই হাজার মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত দুটি প্রদেশের সমন্বয়ে গঠিত হয় - পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তান। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে অবস্থিত এ দুটি অংশের মধ্যে মিল ছিল কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মে। পাকিস্তানের জন্ম লগ্ন থেকেই এর পূর্ব অংশ পশ্চিম অংশের তুলনায় নানা ভাবে বঞ্চিত হতে থাকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর ছিল পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস।
স্বাধীনতার সূত্রপাত: -{@
KHKJK১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের পর হতে মূলত স্বাধীকার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে যেখানে নেতৃত্ত্ব দেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামিলীগ দল।২৫ মার্চ সন্ধ্যায় শেখ মুজিবের ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে,,,
 (y) আগামী ২৭ মার্চ সমগ্র দেশব্যাপী সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদে হরতাল পালন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে যখন এই হরতালের ঘোষণা করা হচ্ছিল ঠিক তখনই সন্ধ্যা প্রায় সোয়া সাতটায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার বিমান প্রেসিডেন্টকে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করে। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ট্যাঙ্ক এবং সৈন্যভর্তি ট্রাকগুলো ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরুর উদ্দেশ্যে। জিরো আওয়ার বা আঘাত হানার সময় ছিল রাত প্রায় ১টা।
129px-Dhakaop2অপারেশন সার্চ লাইট মনিটর করার জন্য ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসকের হেড কোয়ার্টার্স লনে জেনারেল আবদুল হামিদসহ সব উচ্চ পদস্থ অফিসার সোফা এবং আরাম কেদারা ফেলে প্রস্তুত হন সারা রাত জেগে কাটানোর উদ্দেশ্যে।কিন্তু হানাদার বাহিনী ফার্মগেটের সামনে এলেই পিকেটারদের দ্বারা বাধা প্রাপ্ত হয় এবং পিকেটারদের হটানোর জন্য জিরো আওয়ারের অপেক্ষা না করেই গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শুরু হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’। অপারেশন শুরুর দেড় ঘণ্টার মধ্যেই কর্নেল জেড এ খান এবং মেজর বিল্লাল স্বাধীনতার স্থপতি,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার বাসা থেকে তুলে ক্যান্টনমেন্ট নিয়ে আসে এবং ৩ দিন পর তাকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারের আগ মূহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গোপন ওয়ারলেস বার্তায় তিনি বলেন,,,,,,,,,,,,,,,,

muj_signed declare of independence‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। ছাত্র-জনতা-পুলিশ-ইপিআর শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়েছে। আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সর্বস্তরের নাগরিকদের আমি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা যে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন, যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সম্মিলিতভাবে শত্রুর মোকাবিলা করুন। এই হয়তো আপনাদের প্রতি আমার শেষ বাণী হতে পারে। আপনারা শেষ শত্রুটি দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যান।বামে তার লিখিত কপি।

মুক্তি যুদ্ধের সূচনায় প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে রাজার বাগ পুলিশ বাহিনী ২৫ শে মার্চের কালো রাতে রাজার বাগ পুলিশ লাইনে এই বাহিনীর সদস্যরা .৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্থানী হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাড়ায় এবং লড়াই করে প্রান দান করেন।হানাদারদের ভারী অস্ত্রের গোলায় ঝাঝরা হয়ে গিয়েছিল সব কটি পুলিশ ব্যারাক, অসংখ্য পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেন, তবুও কেউ মাথা নত করেনি, এই রাজারবাগ থেকেই শুরু হয় প্রথম প্রতিরোধ

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ২৫শে মার্চ ,১৯৭১সাল:
Dead_bodies_of_Bengali_intellectuals_1971দুপুর ২টায় (y) বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে রাজার বাগ পুলিশ লাইনে নানা রকম সংবাদ আসতে থাকে ।পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে সারা শহরে পেট্রল পার্টি পাঠানো হয় ।পেট্রল পার্টি বেতার মারফত সংবাদ পাঠাতে থাকে শহরের অবস্থা থম থমে ও আতংক গ্রস্থ ।
বিকাল ৪টায় (y) মিরপুর ,তেজগাও শ্রমিক অধ্যষিত অঞ্চল থেকে সংবাদ আসতে থাকে অবাঙ্গালী শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে আক্রমনাত্বক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সন্ধ্যা ৭টায়  (y) বিভিন্ন সুত্র থেকে খবর আসে যে রাজার বাগ পুলিশ লাইন আক্রমন হতে পারে, এ সংবাদে বাঙ্গালী পুলিশ বাহিনীরা বিক্ষিপ্ত ভাবে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে এবং তাদের করণীয় কি সে সম্পর্কে আলোচনা করেন।
রাত ১০টায় (y) তেজগাও শিল্পাঞ্চলে টহল রত একটি পুলিশ পেট্রল পার্টি (চার্লি -৭)বেতার মারফত জানায় যে , সেনাবাহিনীর একটি বড় কনভয় যুদ্ধ সাজে শহরের দিকে এগুচ্ছে।
রাত ১০.৩০টায় (y) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে পুলিশ পেট্রল পার্টি জানায় যে, রমনা পার্ক (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান)
উত্তর ও দক্ষিন দিকে সেনা বাহিনীর অন্তত ৭০/৮০ টি সাঁজ়োয়া যান পুর্ন প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে।
রাত ১১টা (y) হোটেল ইন্টার কনটিনেন্টালের সামনে অবস্থান রত পেট্রল পার্টির সদস্য গন সেনা বাহিনীর সাজোয়া যানের বহর কে ঐ এলাকা অতিক্রম করতে দেখে ভিন্ন ভিন্ন পথে তারা রাজার বাগে ফিরে এসে এ সংবাদ দেয় এবং সেখানে অবস্থান রত পুলিশ সদস্যরা যে যার মত প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
রাত ১১.২০টায় (y) সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানসমুহ রাজার বাগ পুলিশ লাইনের চার দিকে অবস্থান নিতে থাকে।পাক বাহিনীর এই আক্রমনের সংবাদ তাৎক্ষনিকভাবে সারা দেশের জেলা ও সাব ডিভিশন সমুহে পুলিশ বেতার মারফত প্রেরন করা হয়।সংবাদটি ছিল “ base for all station of east Pakistan police, keep listening, watch, we are already attacked by the pak army. Try to save yourself, over “
রাত ১১.৩৫টায়  (y) রাজার বাগ পুলিশ লাইনে অবস্থান রত পুলিশ সদস্যরা অস্ত্রাগারের ঘন্টা পিটিয়ে সবাইকে সতর্ক ও একত্রিত করে। অস্ত্রাগারে কর্তব্য রত সেন্ট্রির রাইফেল থেকে গুলি করে অস্ত্রাগারের তালা ভাঙ্গে এবং তৎকালীন আর আই মফিজ উদ্দিনের নিকট হতে জোর পুর্বক অস্ত্রাগারের চাবি নিয়ে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র ও গোলা বারুদ বিতরন করে।প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহন কারী পুলিশ সদস্য বৃন্দ পুলিশ লাইনের চার দিকে,ব্যারাকে ও বিভিন্ন দালানের ছাদে অবস্থান নেয়।
রাত ১১.৪০টায় (y) পাক সেনাদের কন ভয় রাজার বাগ পুলিশ লাইনের মেইন গেটে এসে পৌছে এবং বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যেরা কৌশল গত স্থানে পজিশন নেয়।
রাত ১১.৪৫টায় (y) রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দক্ষিন পুর্ব দিক (পুলিশ হাসপাতাল কোয়ার্টার সংলগ্ন) থেকে প্রথম গুলি বর্ষন হয়।প্রায় সাথে সাথেই প্যারেড গ্রাউন্ডের উত্তর পুর্ব দিক (শাহজাহান পুর ক্রসিং) থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়।ব্যারাকের ছাদে অবস্থান রত বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যরা পাক সেনাদের লক্ষ করে গুলি বর্ষন শুরু করে।শুরু হয় দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।ইতিহাসে সূচনা হয় একটি নতুন অধ্যায়ের।
রাত ১২.০০টায় (y) বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যদের মরন পণ প্রতিরোধে থমকে যায় ট্যাংক ও কামান সজ্জিত পাক বাহিনী।একটু পরই মর্টার ও হেভি মেশিন গান দিয়ে গুলি বর্ষন শুরু করে।পি আর এফ এর ৪টি ব্যারাকে আগুন ধরে যায়।পাক বাহিনী ট্যাংক বহর সহ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করে।এ আক্রমনে পাক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় আটশ।
রাত ১২.৩০টায় (y) পাক বাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে বাঙ্গালী পুলিশ সদস্যরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করে।গেরিলা পদ্ধতিতে পাক বাহিনীর উপর হামলা চালায় এবং অনেক কে হতাহত করে। অপর একটি গ্রুপ অস্ত্র ও গোলা বারুদ সহ মালি বাগ চামেলী বাগ প্রান্ত দিয়ে ঢাকা শহরে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।রাজার বাগ পুলিশ লাইনের সেদিনকার সেই অস্ত্র আর গোলা বারুদ ব্যবহ্যত হয়েছে সারা দেশে, সীমান্ত বর্তী মুক্তি যোদ্ধা প্রশিক্ষন শিবিরে এবং সন্মুখযুদ্ধে।
রাত ০২.৪৫টায় (y) রাত ১১.৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া যুদ্ধ থেমে থেমে চলতে থাকে রাত প্রায় ০৩.০০- ০৩.৩০ টা পর্যন্ত।বাঙ্গালী পুলিশের কিছু সদস্য বুকে অসীম সাহস নিয়ে সমান তালে লড়ে চলে ট্যাংক , কামান, আর মর্টারের বিরুদ্ধে।
রাত ০৩.৩০টায় (y) কামান আর মর্টারের আক্রমন এক সময় থামে , বন্দী হয় প্রায় দেড়শ বাঙ্গালী পুলিশ, রাজার বাগ পুলিশ লাইন দখল করে নেয় দখলদার বাহিনী,তার আগেই রাজার বাগ পুলিশ লাইনের কিছু বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ও গোলা বারুদসহ রাজার বাগ ত্যাগ করেন। রাজার বাগ পুলিশ লাইনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পুর্ব পাকিস্থানে।
-{@ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের এমন বীরত্ত্ব পূর্ণ ইতিহাস হয়তো আজকের পুলিশ বাহিনী ভুলে গেছেন অথবা অনেকেই তা তেমন জানেন না কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছে তাদের সাহসী আত্ত্বত্যাগের ঘটনাগুলো।সেই সময়ে পুলিশ বাহিনী প্রথম প্রতিরোধ সৃষ্টি করাতে পরবর্তীতে তা জন সম্পৃক্ততায় বিস্তার ঘটে। -{@
তখন পুরো বাংলাদেশেই হিন্দু এলাকা গুলো বিশেষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মধ্যরাতের আগেই, ঢাকা পুরোপুরি জ্বলছিল, বিশেষ ভাবে পূর্ব দিকের হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো।১৯৭১ ২রা আগষ্ট টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, (y) "হিন্দু,যারা মোট রিফিউজিদের তিন-চতুর্থাংশ, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল"।
এ ছাড়াও ঐ রাতে বিভিন্ন এলাকাতে হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ করে চলে বর্বর পাক হানাদার বাহিনী । পাকিস্তানি বর্বর সেনারা বাংলাদেশকে সশস্ত্র উপায়ে স্বাধীন করার উদ্যোক্তা (y) কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) এবং জগন্নাথ হলে হত্যা করা হয় কয়েকশ নিরীহ ছাত্রকে এবং বড় বড় গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয় সব লাশ।ঐ কালো রাতেই হত্যা করা হয় ক্ষণজন্মা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক (y) অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরদা, ড. ফজলুর রহমান খান, অধ্যাপক এম মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক এম এ মুক্তাদির, অধ্যাপক এম আর খাদেম, ড. মোহাম্মদ সাদেক প্রমুখ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে। -{@

রোকেয়া হলের মেয়েদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলো ক্যান্টনমেন্টে। সারা শহরে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে পাষণ্ড বাহিনী। রিকশাওয়ালা, ভিখারি, শিশু, ফুটপাতবাসী কেউই তাদের ভয়াল থাবা থেকে রেহাই পায়নি। বস্তির পর বস্তি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রাণভয়ে পলায়ন পর আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাকে ব্রাশফায়ারে করে পাখির মতো হত্যা করা হয়। ভস্মীভূত করা হলো (y) দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক গণবাংলা এবং দৈনিক পিপলের দফতর। মিরপুর, মোহাম্মদপুরের বিহারিরা নিজেদের বাঙালি প্রতিবেশীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো হিংস্র উল্লাসে। রাতারাতি ঢাকা পরিণত হল মৃত মানুষের শহরে। ২৬ মার্চের সূর্য উঠতেই দেখা গেল ঢাকা সারা শহর জুড়ে নিরীহ মানুষের লাশ এবং বাতাসে লাশের পুড়া গন্ধ,ভস্মীভূত ঘর বাড়ি।
অন্য ব্লগ থেকে কপি করা দু'একটি বাস্তব ঘটনা দিয়েই শেষ করব.... যা শুনলে যে কেউ শিহরে উঠবে (y)

১৯৭১ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সুইপার হিসেবে কর্মরত রাবেয়া খাতুনের বর্ণনায়- (y)
" ১৯৭১ সনের ২৫শে মার্চ রাতে হানাদার পাঞ্জাবী সেনারা যখন রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উপর অতর্কিতে হামলা চালায় তখন আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের এস, এফ ক্যান্টিনে ছিলাম। আসন্ন হামলার ভয়ে আমি সারাদিন পুলিশ লাইনের ব্যারাক ঝাড়ু দিয়ে রাতে ব্যারাকেই ছিলাম। কামান, গোলা, লাইটবোম আর ট্যাঙ্কের অবিরাম কানফাটা গর্জনে আমি ভয়ে ব্যারাকের মধ্যে কাত হয়ে পড়ে থেকে থরথরিয়ে কাঁপছিলাম।
hjjnk২৬ শে মার্চ সকালে ওদের কামানের সম্মুখে আমাদের বীর বাঙ্গালী পুলিশ বাহিনী বীরের মত প্রতিরোধ করতে করতে আর টিকে থাকতে পারি নাই। সকালে ওরা পুলিশ লাইনের এস,এফ ব্যারাকের চারদিকে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ব্যারাকের মধ্যে প্রবেশ করে বাঙ্গালী পুলিশদের নাকে , মুখে, সারা দেহে বেয়নেট ও বেটন চার্জ করতে করতে ও বুটের লাথি মারতে মারতে বের করে নিয়ে আসছিল। ক্যান্টিনের কামরা থেকে বন্দুকের নলের মুখে আমাকেও বের করে আনা হয়, আমাকে লাথি মেরে, মাটিতে ফেলে দেয়া হয় এবং ওরা আমার উপর প্রকাশ্যে পাশবিক অত্যাচার করছিল আর কুকুরের মত অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছিল। আমার উপর উপর্যুপরি পাশবিক অত্যাচার করতে করতে যখন আমাকে একেবারে মেরে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হয় তখন বাঁচবার আর কোন উপায় না দেখে আমি আমার প্রান বাঁচাবার জন্য ওদের নিকট কাতর মিনতি জানাচ্ছিলাম। আমি হাউমাউ করে কাদছিলাম , আর বলছিলাম আমাকে মেরোনা, আমি সুইপার, আমাকে মেরে ফেললে তোমাদের পায়খান ও নর্দমা পরিস্কার করার আর কেউ থাকবে না, তোমাদের পায়ে পড়ি তোমরা আমাকে মেরোনা, মেরো না, মেরো না, আমাকে মেরে ফেললে তোমাদের পুলিশ লাইন রক্ত ও লাশের পচা গন্ধে মানুষের বাস করার অযোগ্য হয়ে পড়বে। তখনও আমার উপর এক
পাঞ্জাবী কুকুর, কুকুরের মতোই আমার কোমরের উপর চড়াও হয়ে আমাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করছিল। আমাকে এভাবে ধর্ষণ করতে করতে মেরে ফেলে দিলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন পরিস্কার করার জন্য আর কেউ থাকবে না একথা ভেবে ওরা আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমাকে এক পাঞ্জাবী ধমক দিয়ে বলতে থাকে ,' ঠিক হায় , তোমকো ছোড় দিয়া যায়েগা জারা বাদ, তোম বাহার নাহি নেকলেগা, হারওয়াকত লাইন পার হাজির রাহেগা।' এ কথা বলে আমাকে ছেড়ে দেয়।
ঘুমন্ত শিশুঅনেক পশু ছোট ছোট বালিকাদের উপর পাশবিক অত্যাচার করে ওদের অসার রক্তাক্ত দেহ বাইরে এনে দুজন দু পা দুদিকে টেনে ধরে চড়চড়িয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিল, আমি দেখলাম সেখানে বসে বসে, আর ড্রেন পরিস্কার করছিলাম, শ্মশানের লাশ যেমন করে কুকুরের খাদ্য হয়, ঠিক তেমন করে পাঞ্জাবীরা মদ খেয়ে সব সময় সেখানকার যার যে মেয়ে ইচ্ছা তাকেই ধর্ষণ করছিল। শুধু সাধারণ পাঞ্জাবী সেনারাই এই বীভৎস পাশবিক অত্যাচারে যোগ দেয় নাই, সকল উচ্চপদস্থ পাঞ্জাবী অফিসাররাই মদ খেয়ে হিংস্র বাঘের মত হয়ে দুই হাত বাঘের মত নাচাতে নাচাতে সেই উলঙ্গ বালিকা, যুবতী ও বাঙ্গালী মহিলাদের উপর সারাক্ষন পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ কাজে লিপ্ত থাকতো।

কোন মেয়ে, মহিলা, যুবতীকে এক মুহূর্তের জন্য অবসর দেওয়া হয় নাই, ওদের উপর্যুপরি ধর্ষণ ও অবিরাম অত্যাচারে বহু কচি বালিকা সেখানেই রক্তাক্ত দেহে কাতরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে, পরের দিন এ সকল মেয়ের লাশ অন্যান্য মেয়েদের সম্মুখে ছুরি দিয়ে কেটে কুটি কুঁচি করে বস্তার মধ্যে ভরে বাইরে ফেলে দিত। এ সকল মহিলা , বালিকা ও যুবতীদের নির্মম পরিণতি দেখে অন্যান্য মেয়েরা আরও ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তো এবং স্বেচ্ছায় পশুদের ইচ্ছার সম্মুখে আত্মসমর্পণ করতো। যে সকল মেয়ে প্রানে বাঁচার জন্য ওদের সাথে মিল দিয়ে ওদের অতৃপ্ত যৌনক্ষুধা চরিতার্থ করার জন্য ' সর্বতোভাবে সহ যোগীতা করে তাঁদের পিছনে ঘুরে বেড়িয়েছে তাঁদের হাসি তামাশায় দেহ দান করেছে তাদেরকেও ছাড়া হয় নাই। পদস্থ সামরিক অফিসাররা সেই সকল মেয়েদের উপর সম্মিলিতভাবে ধর্ষণ করতে করতে হঠাৎ একদিন তাকে ধরে ছুরি দিয়ে তার স্তন কেটে, শরীরের মাংস কেটে,গোপনাঙ্গে মধ্যে সম্পূর্ণ ছুরি চালিয়ে দিয়ে হত্যা করে, অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে এভাবে ওরা আনন্দ উপভোগ করত।
দ্বিতীয় ঘটনা (y)
jhjhjh" ঘরে ঢুকে দেখি,একি দৃশ্য।ও আল্লাহ,এমন দৃশ্য দেখার আগে কেনো আমার দুটি চোখ অন্ধ করলে না আল্লাহ। মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ। কয়েকটি পাগলা কুত্তা আমার মাকে ও বড় বোনটিকে খাচ্ছে কামড়ে কামড়ে। এক পলক তাকানোর পর আর তাকাতেই পারছি না। তখন গায়ের জোরে একটা চিৎকার করলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত মুখ বেঁধে ঘরের এক কোনায় ফেলে রাখলো। তারপর ঠিক আমার পায়ের কাছে মাকে এনে শুইয়ে দিয়ে একেবারে উলঙ্গ করে ফেলে। তারপর আর বলতে পারছি না। এসব দৃশ্য আমাকে দেখতে হচ্ছে। আমি যখনই চোখ বন্ধ করে রাখতাম,তখনই তাদের হাতের ধারালো একটি অস্ত্র দিয়ে চোখের চারপাশে কেটে দিত। এভাবেই চলল মায়ের ওপর সারারাত নির্যাতন।আর কিশোর হয়ে আমাকে তা দেখতে হয়েছে। রাত ভোর হয় হয় - এমন সময় তারা চলে গেছে, মা ততক্ষণে মৃত। যাবার সময় সঙ্গে নিয়ে গেল আমার অর্ধ মৃত রক্তাক্ত বোনটিকেও " -- ১৯৭১ এ পরিবারের সবাইকে হারানো কিশোর শফিকুরের আর্তি।
-{@ সেই রাতে যে সমস্ত পুলিশ সদস্য জান বাজী রেখে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেন সেই সব মহান মানুষগুলোর মধ্যে নীচে কয়েকজনের নাম দেয়া হল।
কনস্টেবলঃ এস আই /মজিবুল হক
কনস্টেবলঃ সার্জেন্ট মর্তুজা হোসেন
কনস্টেবলঃ ২৩৮ বাবর আলী
কনস্টেবলঃ ৫২৩১ কাঞ্চন আলী মিয়া
কনস্টেবলঃ হাঃ৩৯৪৪ মতিয়ার রহমান
কনস্টেবলঃ ৫১৮৬ শাহজাহান মিয়া
কনস্টেবলঃ ৪৫৫৪ আব্দুল মালেক খান
কনস্টেবলঃ ১৫০২ আব্দুল মতিন তরফদার
কনস্টেবলঃ ৪৯৬৩নুরন্নবী চৌধুরী
কনস্টেবলঃ ১০৫৫ আবদুল ওয়াদুদ
কনস্টেবলঃ ৪৮৬৯ মোঃ মকসুদ আলী
কনস্টেবলঃ ১০৯৯ আবুল ফারুক
কনস্টেবলঃ ৪৮৭৫ ইউনুস মিয়া
কনস্টেবলঃ ৪৯০৭ জহিরুল হক জহির
কনস্টেবলঃ ৪৮৯৭ নারায়ন চন্দ্র রায়
কনস্টেবলঃ ২৩৪ মোঃ শেখ আকরামুজ্জামান
কনস্টেবলঃ ৩০৬৪ জহিরুল হক কাজী চুন্নু
কনস্টেবলঃ ৪৪০৫ সাহেব আলী মোল্লা
কনস্টেবলঃ ৫০২৭ গিয়াস উদ্দিন
কনস্টেবলঃ ১৯৯ শাহজাহান মিয়া
কনস্টেবলঃ ১৪৩৬ সৈয়দ আশরাফ আলী
কনস্টেবলঃ ৫০১ নুরুজ্জামান মিয়া
কালো রাতের ভিডিও

সহযোগিতায়:
উইকিপিয়া,সামু,Jishnu Banerjee,অন লাইন

11 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ