কেবল মাত্র আধ্যাত্নিকতা ও বিশ্বাস থাকলেই পবিত্রতা আসে না। সেই সংগে থাকতে হয় যুক্তির তর্কের বৈধতা ও ঐতিহ্য।
কাউকে কারো সেই আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের পথে আনতে গেলে প্রচুর যুক্তি থাকতে হবে। যুক্তিছাড়া শুধুমাত্র নিজের বিশ্বাসের জোরে অন্যকাউকে সে বিশ্বাসের আওতায় আনতে চাওয়া বোকামী।
বর্তমানে প্রচন্ড গোড়া ধার্মীক লোক যারা ধর্মের পথে মানুষকে আনতে হবে এই চিন্তাতে মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখায়। সমাজের জন্য মূলত কিছু করতে পারে না। এরা সমাজের ক্ষতিই করে। এরা অশিক্ষিত ও বর্বর। এরা শুধুমাত্র মৃত্যু পরবর্তী জীবনের কথাই চিন্তা করে বাস্তব চলমান জীবনকে অবহেলা করে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে অস্বীকার করে। তারা তাদের আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী। তাদের আধ্যাত্মিকতার সংজ্ঞা অন্যরকম। যেমন লালনের আধ্যাত্মিকতা অন্যরকম। তার আধ্যাত্মিকতা তিনি কারো উপর চাপিয়ে দেননি। বরং এখনো মানুষ তার আধ্যাত্মিকতা নিয়ে গবেষণা ও চিন্তা করছে।
কিন্তু ধর্মব্যাবসায়ীদের আধ্যাত্মিকতা হলো মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের আযাব ও আরাম। তারা মনে করে পৃথিবীতে এই একই ধারার বিশ্বাসই চলমান। তাদের কাছে তাদের বিশ্বাসই শক্তিশালী। সে সব ধর্মের ধর্ম ব্যাবসায়ীদের ক্ষেত্রেই। এরা মূলত মনুষ্য ধর্মকেই অস্বীকার করে। এরা কখনোই অন্য ধর্মের মানুষদের ভালো চোখে দেখে না। তাদের বিশ্বাস বিপরীত ধর্মের সবাই আযাব ভোগ করবে। তাদের চিন্তা ঐ অস্তায়মান সূর্যের মতো। অন্ধকারে ভরা।
তাই আবারো হয়তো মানুষকে সভ্য হতে আদিম রীতিতে ফিরে যেতে হবে। ঢোল তবলা পিটিয়ে আদিম মানুষ আগে অন্ধকারের হিংস্র জীব জন্তুকে দূরে রাখার চেষ্টা করতো, ওরা মনে করতো এই শব্দে তারা বনের হিংস্র জীব জন্তুকে দূরে রাখার চেষ্টা করতো। আবার এভাবেও বলা যেতে পারে যে, তারা তাদের গৃহপালিত পশুদের সংকেত দিত তাড়াতাড়ি ঘরে ফেরার। একটা শৃঙ্খলে আনার এক সংকেত আরকি।
টিক তেমনি বর্তমানেও পৃথিবীর সমাজ ব্যাবস্থাকে সঠিক পথে চলার জন্য সঠিক একটি দিক নির্দেশনা দরকার। সঠিক জ্ঞান বিতরনের জন্য কলমের শক্তিই হতে পারে সেই সঠিক পথ।
আমরা জেরুজালেমের ইতিহাসকেও আধ্যাতিক হিসেবে গণনা করি। একে আমরা পূণ্য নগরি বলি। কেন একে পূণ্য নগরি বলি এর ব্যাখ্যা অনেক। এটা জানতে আপনাকে পুরো জেরুজালেম ইতিহাস বইটি পড়তে হবে।
পৃথিবীর তাবৎ ধর্মের মানুষ এই জেরুজালেমকে দখল করার চেষ্টা করে গেছে যুগ থেকে যুগে।
‘নগরীটিকে বার বার ধ্বংস করা হয়েছে, আবারো নির্মাণ করা হয়েছে এবং আবারো এ পুনরায় নির্মাণ বিদ্ধস্ত করা হয়েছে। জেরুজালেম হলো যৌণকাঙ্ক্ষা জাগ্রতকারী বৃদ্ধা, যিনি একের পর এক প্রেমিককে হাই তুলে ঝাঁকিয়ে ঝেড়ে ফেলার আগে ণিষ্পেষিত করে মেরে ফেলেন। কৃষ্ণাঙ্গ বিধবা যিনি তার সঙ্গীদের তীরবিদ্ধ করার সময়ও সাগ্রহে তাদের টানতে থাকেন।”
——অ্যামেজ ওজ, অ্যা টেল অব লাভ এন্ড ডার্কনেস।
“ইসরাইল রাষ্ট্রটি বিশ্বের কেন্দ্র; জেরুজালেম রাষ্ট্রটির কেন্দ্র; হলি টেম্পলটি জেরুজালেমের কেন্দ্র; হলি অব হলিজ হলো হরি টেম্পলের কেন্দ্র; হলি আর্ক হলো হলি অব হলিজ এবং ফাউন্ডেশন স্টোনের কেন্দ্র; যা থেকে হলি আর্কের আগে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
—-মিদরাশ তানহুম, কেদোশিম।
” পৃথিবীর পবিত্র স্থান হলো সিরিয়া; সিরিয়ার পবিত্র স্থান হলো ফিলিস্তিন ; ফিলিস্তিনের পবিত্র স্থান হলো জেরুজালেমে ; জেরুজালেমের পবিত্র স্থান হলো মাউন্ট ; মাউন্টের পবিত্র স্থান হলো নামাজের স্থান ; নামাজের পবিত্র স্থান হলো ডোম অব দ্য রক।”
–সুর ইবনে ইয়াজিদ,ফাজাইল।
“সবচেয়ে বর্ণাঢ্য নগরী হলো জেরুজালেম। তবে জেরুজালেমেরও কিছু অভাব রয়েছে। আর তাই বলা হয়ে থাকে, বিচ্ছুভরা সোনালি পানপাত্র।”
— মুকাদ্দাসি, ডেসক্রিপশন অব সিরিয়া ইনক্লুডিং প্যালেস্টাইন।
অতি পবিত্র মনে করার কারনে আর এটাকে দখল করার চেষ্টায় আজ সেখানে প্রতিদিন আমরা লাশের মিছিল দেখতে পাচ্ছি।
আমাদের বর্তমান ধর্ম ব্যাবসায়িদের চিন্তা যদি ঠিক হয় তবে মানব ধর্ম কি? প্রতিটা ধর্মের মানুষের মধ্যে অবশ্যই মহান অনেক মানুষ আছেন। তাদের ধর্ম আলাদা তাই বলে তারা বেহেশত, সর্গে প্রবেশ করবে না? একজন বিধর্মী লোক ধরে নিলাম ইন্দোনেশিয়ার সেই উদ্ধারকর্মীর কথা। সে তার নিজের জীবনের কথা চিন্তা না করে কয়েকটি শিশুর কথা চিন্তা করেছেন। এবং নিশ্চিৎ মৃত্যু পথযাত্রি শিশুদের উদ্ধারে এগিয়ে গেছেন। তার বিশ্বাসমতে, এ শিশুদেরই কেউ হয়তো বিজ্ঞানী হবে। যারা এমন কিছু আবিষ্কার করবে যা দিয়ে পৃথিবীর কল্যাণ হবে। তবে কি তার জন্য নরক বা দোযখ অপেক্ষা করে আছে? মৃত্যুর পরে আসলে তার স্থানটি কোথায় হবে?
যদি মুসলমান কোনো ধার্মিক ব্যাক্তি চিন্তা করেন যে সে দোযখে যাবে তবে তিনি মহানবীর বিদায় হজ্জ্বের ভাষণ মানলেন না। কারণ, বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটি মন দিয়েছেন, তিনি সেখানে একে অপরের জন্য ভালবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা দিয়েছেন। এখন আমি কি মনকে বলব, কোনো হিন্দু বাচ্চাকে ভালবাসতে পারবে না? অন্য ধর্মের খুবই প্রিয় কেউ মারা গেলে আমি কি চোখকে বলব, খবরদার কাঁদতে পারবি না?
ধর্মের কিছু কিছু বাণী তা সম্পূর্ণই ব্যাক্তি বিশেষের তৈরি করা।
যেমন ধরেন, হাইকোর্টের কোনো রায় যা জনগনের ভালোমন্দের সাথে জড়ানো। আবার কিছু থাকে তা অকল্যানেরও। এই রায়টা কারা দেয়? কতোজন দেয়? একজন। হাইকোর্ট বেঞ্চ যেটা আমরা বলি তাও কিন্তু ব্যাক্তি বিশেষ দুই তিনজনের একটি দল। তারা তাদের মনগড়া রায়টাই দিবে। আমার কল্যাণের জন্য যদি সে রায় ঠিক না হয় তবে কি আমি বলতে পারব না যে এ রায় সঠিক নয়?
তবে কি আমার তা দেশদ্রোহিতা হবে বা বিচার বিভাগকে অবমাননা করা হবে?
যেমন দেখুন-
১.’পরকিয়া’কে ভারতের আদালত বৈধতা দিয়েছে। ভারত আমার পার্শবর্তী দেশ। তাদের সংস্কৃতি চাল চলন কিন্তু আমাদের মতোই। তাই এ রায় নিয়ে আমার দেশের সমাজ, পরিবার ও আপনি আমি কি বলছি? সমাজ আমাকে কি সে অধর্ম করার ছাড় দিচ্ছে? না, দিচ্ছে না। আমি দিচ্ছি না। কারণ, আমার একটি সাজানো গোছানো সংসার আছে। আছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে ভালবাসার বন্ধনে গড়ার এক পরিকল্পনা। এখন এই পরকিয়া নামক বস্তুটি এসে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের স্বীকৃতি কি আমি দিব? না দিব না।
হুম ভালো লাগা একটা সাধারণ ব্যাপার। কাউকে ভালো লাগতেই পারে। তবে তাকে প্রকাশ করে অন্যকে কষ্ট দেবার অধিকার কারো নেই।
২. সমকামীতার রায়টাও একই রকম বিষয়। আমরা যেমন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হই তেমনি হরমনজনিত কারনে এ ধরনের মানুষরাও একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ভারতের আদালত সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছে। এটাতে সমস্যা হলো কি? আমি যখন আমার লিঙ্গের কারো প্রচন্ড প্রসংশা করব তখন আমার অবচেতন মনে এ ভয় কাজ করবে যে মানুষ কি ভাবছে?
কিছু বিষয় আছে যা কখনোই ঢাকঢোল পিটিয়ে হয়না। এটা আমার ব্যাক্তি ধারনা।
এটাকে আমার ধর্ম আবার সে স্বীকৃতি দেয় না। এ ধর্মকে আপনার মানতে হবে। এটাকে সমাজ ধর্ম আপনি বলতে পারেন।
ধর্ম কি আসলে? আমি সংসার করছি এটা আমার ধর্ম। আমি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ভালবাসতেছি এটা আমার ধর্ম। আমি কারো ক্ষতি করব না এটা আমার ধর্ম। আমি যে কোনো ভালো কাজে তার শুকরিয়া করছি, এটা আমার ধর্ম পালন। নীরবে আমি তাকে আমার মতো করে ডাকছি এটা আমার ধর্ম পালন।
সকাল বিকাল কোরআন পড়ে আমাকে ধার্মিক পরিচয় দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। একটি ভাষা আমি না বুঝে তা গদ পড়ে আসলে আমি কি বুঝব আর কি তার প্রার্থণা করব। আমি তাকে ডাকব আমার মনের মাধুরী দিয়ে। তবেই তাকে ডাকায় আমার স্বার্থকতা হবে। আমি বুঝেই তাকে ডাকব। আমি তাকে কি বলছি, তা তো আমাকে অবশ্যই বুঝতে হবে।
অনেকের ধারনা পার্থিব সুখ ভোগের যায়গা নয়। একদিন তো মরতেই হবে! হ্যাঁ একদিন তো মরতেই হবে। কিন্তু এ পৃখিবীতে সৃস্টিকর্তা আমাকে কেনো পাঠিয়েছে এটাও একটি বিষয়। হাদিসে আছে, মানব জাতির জন্যই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। তাই সৃস্টির সকল কিছু মানুষের জন্য। এ পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা আমার ভোগের জন্য যা যা পাঠিয়েছেন তার সবই আমার ভোগ করার অধিকার আছে। পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন জীবনকে উপলব্ধি করতেই। পাপ পূণ্য কিন্তু এসব ভোগ উপভোগের মধ্যেই। আপনার কর্মেই।
আপনাকে পাপের হিসেব দুনিয়াতেই করতে হবে। কারণ, দুনিয়াতেই বেহেশত দোযখ। এই যে আপনি আমি কষ্ট পেলে কষ্ট ভোগ করছি এটা আমার দোযখ। যে যে খুশি ভোগ করছি এটাই আমার বেহেশত। আমাদেরই আমাদের বেহেশত খুঁজে নিতে হবে।
“কারমা” শব্দটাকে আপনার বিশ্বাস করতে হবে। কর্ম ফল ভোগ করতেই হবে এই বিশ্বাসে আপনাকে আপনার কর্ম ঠিক করতে হবে। তাই পাপ ও পূণ্যাে অস্বীকার করা যাবে না। এজন্য ধর্মের প্রয়োজন রয়েছে তবে গোড়ামি নয়। চিরস্থায়ী উদ্বেগের কথা বলে গোড়ামী ধর্ম ব্যাবসায়ীরা, যা মানুষকে অতীন্দ্রিয়বাদী ও ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে।
মৃত্যু সৃষ্টির নিয়ম। সৃষ্টির শৃঙ্খল।আমরা মৃত্যুকে সম্মান করি এবং এর মাঝে অর্থ খুঁজে পেতে ব্যাকুল হই।
নিজেদের চেয়ে বৃহত্তর কোনো শক্তি অনুভব করা প্রয়োজন আমাদের। এ কথা সত্যি। শুধু অনুভব না তার পক্ষে সঠিক যুক্তি থাকতে হবে। আমার কাছে বৃহত্তর শক্তি মানেই সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টিকর্তার ঘূর্ণায়মান শৃঙ্খলবিধি। সৃষ্টির পরে যে সৃষ্ট।
আমরা আদিম কিছু নিদর্শনতা দিয়েই যদি উদাহরণ দাঁড় করাই তা এমন দাঁড়ায় যে, ধরুন- হঠাৎ করে আমাদের বর্তমান পৃথিবীতে একটা মহাপ্রলয় হলো সে মহাপ্রলয়ে সমস্ত মানুষ মারা গেলো। ধীরে ধীরে কি হবে? ধীরে ধীরে বর্তমান সময়ের সভ্য মানুষদের সমস্ত নিদর্শনের উপর এক ধুলির আস্তরণ পড়বে। একসময় মাটির নীচে দাবা পড়ে যাবে।
কিন্তু এরই মাঝে বহুদিন পরে যদি আল্লাহর সৃষ্টির কোনো মানব আবারো এ পৃথিবীতে আসে তবে তারা এসে এরকমই মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে এক এক করে নিদর্শন আবিষ্কার করবে আর অবাক হবে।
এখন যেমন আমরা অবাক হয়ে যাই তেমন কিছু প্রাচীন নিদর্শন দেখে। ১.পিরামিডে কোন প্রযুক্তি ব্যাবহার করেছে তা চিন্তা করে। হাজার গবেষণাতেও আমরা যা বের করতে পারিনি।
২.আমরা অবাক হই ব্রিটিশ রাজত্বের শক্তি, ক্ষমতা ও সহনশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রহস্যময় স্টোনহেঞ্জ দেখে। খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে প্রায় ৫০০ বহুদূর থেকে কখনো পানিতে, কখনো দড়িতে টেনে বিশাল বিশাল পাথরখন্ড যার কোনো কোনোটির ওজন ৫০টন। তা এনে তৈরি করে করে এই স্টোনহেঞ্জ।
৩.আলেকজান্দ্রিয় ভূগর্ভস্থ সমাধী যা ২০০০বছরের পুরনো। এটি আলেকজান্ডার আবিষ্কার করেন। এর ভেতরে অসংখ্য কোঠর ও মন্দির রয়েছে সেখানে আঁকা আছে দারুন সব চিত্রকর্ম। তখন মানুষ এতো চমৎকার চিত্রকর্ম কি করে জানলো?
৪. হ্যালিকারনাসাসের সমাধী।
৫.ব্যাবিলনের অন্যতম শাসক নেবুচাঁদ তার প্রিয় পত্নির জন্য তৈরি করেছিলেন ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যান। যেখানে তিনি ৬০০০ ধরনের ফুলগাছ লাগিয়েছিলেন। ইউপটরেটিস নদী থেকে পানি উঠানো হতো মোটা প্যাঁচানো রশি দিয়ে। এটাকেও উন্নত প্রযুক্তি বলা যায়।
৬. ঈস্টার দ্বীপ। এই ঈস্টার দ্বীপের পাথরের অদ্ভুতদর্শন মূর্তিগুলো সারা বিশ্বে এখনো একটি রহস্যই রয়ে গেছে। এ দ্বীপে ৮৮৭ টি মূর্তি আছে এহুলোর ওজন প্রায় ১৪থেকে ৫০ টন। কেউ জানে না কারা এটি নির্মাণ করেছে। লোককথা অনুযায়ী ৪৭৫ খ্রিস্টপূর্বব্দে লম্বাকানওয়ালা একদল লোক এসে এগুলো নির্মাণ করেন।
৭. টিওটিহুঅ্যাকান শহর। ৬০০ সালে এ শহরে ২,০০,০০০ মানুষ বাস করতো। ১৫০ বছর পর হঠাৎ করে এ শহরটি জনশুন্য হয়ে পড়ে। এ শহরে বিশাল পিরামিডের মাথায় গাছ জন্মাতে থাকে।
৮. ম্যাপিমি সাইলেন্ট জোন। ম্যাপিমি সাইলেন্ট জোন নিরব ভূমি বিজ্ঞানী আর গবেষকদের কাছে রহস্যজনক স্থান। কারন, এ মরুভূমিতে বেতার তরঙ্গ কাজ করে না। চলন্ত গাড়ির ইঞ্জিন হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। কেউ সেখানে টেপ রেকর্ড চালাতে থাকলে হঠাৎই সেটা থেমে যায়। এ এলাকার উপর দিয়ে উড়ে যাবার সময় পাইলটরা অভিযোগ করেন তাদের সবকিছু কেমন বিভ্রান্তিকর মনে হয়। অবশ্যই তাইলে আরো উন্নত প্রযুক্তির কোনো মহাশক্তি এখানে কাজ করছে।
৯. বল্ট্রা দ্বীপ। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে ১৩টি দ্বীপের মধ্যে একেবারই আলাদা একটি দ্বীপ। সান্তা ক্রুজ দ্বীপের ঠিক পাশেই এ দ্বীপ। এ দ্বীপে কোনো বৃষ্টিপাত হয়না। মেঘগুলো উড়ে আসে ঠিকই কিন্তু দিক পরিবর্তন করে অন্য যায়গায় ঠিক এ দ্বীপের পাশেই আছড়ে পড়ে। উড়ন্ত পাকিগুলোও এ দ্বীপের কাছাকাছি আসলে তারা তাদের দিক পরিবর্তন করে ফেলে। রহস্যময় এ দ্বীপে ঘড়ির কাটা ও কম্পাসের কাঁটা অস্বাভাবিক আচরণ করে। যার রহস্য আজও ভেদ করা যায়নি। তারমনে এখানেও উন্নত কোনো প্রযুক্তি আছে।
মহেঞ্জোদারো, বাম ইরানের বাম নগর, জর্ডানের কাসর অ্যামর,
দৃশ্যমান এ সকল নিদর্শণ আছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সময়ের চেয়েও আরো অত্যাধুনিক কোনো প্রযুক্তি এ পৃথিবীতে ছিলো।
তাই পৃথিবীর এই সৃষ্টি যে ঘূর্ণায়মান তা স্পষ্ট।
মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা না করে, উদিয়মান সূর্য হয়ে, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের কর্মগুনে মানুষের ভালবাসায় পৃথিবীর আয়ুকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাই।
,,,,রিতু,,,কুড়িগ্রাম।

৪৩৪জন ৪৩৪জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

  • ছাইরাছ হেলাল

    এত্ত গুলো বিষয় একবারে টেনে নিলে তাল গোল পেঁচিয়ে যাবে তো, গেছেও।
    বিষয় নির্বাচন করে অস্থির না হয়ে লিখুন, পাঠক দাড়ি-কমা সহ-ই পড়ে/পড়বে।

    আপনি একাকী বেঁচে স্বার্থপরতা দেখাবেন তা হবে না, হতে দিচ্ছি না।

    লেখাটি বার দু’য়েক পড়ুন প্লিজ!

    • রিতু জাহান

      এবার আর একবার কস্ট করে একটু পড়ে দেখুন গুরুজী প্লিজ। কিছুটা পেরেছি ঠিক করতে। আমি তো আগেই বলেছি সহ্য করতে পালে এমন সব লেখা দিমু। এখন করুন একটু সহ্য।

      • ছাইরাছ হেলাল

        আপনি কী বলতে চাচ্ছেন তা বুঝতে আমার কিন্তু মোটেই সমস্যা হয় নি,
        অনেক বিষয় একবারে নিলে তার সমন্বয় করা কিন্তু কঠিন,
        যেমন আপনি জেরুজালেমের বিষয়টি আপনি আপনার উপসংহারের সাথে কিভাবে নিলেন তা কিন্তু
        স্পষ্ট হয়নি (আমি কিন্তু বুঝেছি),

        চলুক পড়া জোর কদমে, পাঠক হাজির থাকবে।

      • রিতু জাহান

        আসলে আমি সৃষ্টির শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে ভাবছিলাম। যাকে আমরা গোড়ামির মধ্যে বেঁধে রাখছি।
        ধর্মকে রক্ষা করার জন্য বার বার আমরা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে শেষ করছি এক একটি তাজা প্রাণ। শহর শহর দেশ থেকে দেশ শেষ হচ্ছে।
        ধন্যবাদ গুরুজি।

  • মায়াবতী

    অনেক জটিল জটিল বিষয় কে এক সাথে টান দিয়েছো রিতু তাই আমি লেখা টা এই নিয়ে তিন বার পড়লাম তারপর ও কিছু কিছু জিনিস এখনক স্পষ্ট হচ্ছে না আমার কাছে ! ব্যাপার না আরো কয়েকবার পড়লে ই হয়তো স্পষ্টতা পেয়ে যাবে মায়াবতী । চমৎকার লিখো তুমি সোনা বোন আমার ! (3

  • মোঃ মজিবর রহমান

    সম্যক ঞ্যান (সরি গ্যান বানান টি আনতে পারিনি) না নিয়ে, ভাসা ভাসা ঞ্যান দিয়ে মানুস বা কোন কিছুতে বশে আনা সম্ভব নয়। সব ধর্মের মানুস স্ব স্ব ধর্মকে নিজেদের মত করে বলতে থাকেন।
    অনেক জানলান বুঝলাম অনেক মাথার উপর দিয়া বইয়ে যাচ্ছে। বিশাল এক পোষ্ট আপু।
    অনেকবার পড়তে হবে।

    • রিতু জাহান

      আসলেই পোস্টটি অনেক বড় হয়ে গেছে।
      মাথার উপর দিয়ে যাওয়ার মতো না ভাই। আমি সৃষ্টির শৃঙ্খলাবিধি বলতে চেয়েছি। সৃষ্টির পরে সৃষ্টি, এটা একটা শৃঙ্খল। যাকে আমার ধর্মিয় গোড়ামির মধ্যে আটকে রেখেছি।
      আমি নামাজ পড়ি, আমি কোরআন পড়ি তা তর্যমাসহ। আমি তাকে ডাকি মন খুলে ডাকি।
      অনেক ধন্যবাদ ভাই।

  • জিসান শা ইকরাম

    আমাদের দেশে ধর্মকে যেভাবে দেখি ধর্ম আসলে সঠিক ভাবে উপস্থাপিত কিনা তাই ভাবি মাঝে মাঝে।
    সঠিক ভাবে উপস্থাপিত হলে আমাদের দেশে এত অন্যায়, অনাচার কেন থাকবে? দেশে মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাথে সাথে অনাচারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে প্রমান হয়, ধর্ম প্রচারক এবং সাধারন মানুষের মধ্যে বিশাল এক গ্যাপ আছে।

    বিভিন্ন দেশে ধর্মের আচার ভিন্ন ভিন্ন। মালয়েশিয়ায় কুরবানী দেয় কেবলমাত্র যারা হ্বজে যান তারা। যদি ৩ লাখ লোক হজ্বে যান তবে ওই তিন লাখ লোকই কুরবানি দেবেন, তাও এই এক বছর। আর আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় সবাই কুরবানী দেন। কোন দেশের কুরবানীর আচার আসলে সঠিক।

    ধর্ম হচ্ছে মানুষের মধ্যের অন্তর্নিহিত গুন। অথচ ধর্মকে আমরা অন্যভাবে দেখি। কুরআনে বর্নিত সৎ কাজ গুলো যদি আমাদের মাঝে প্রতিফলিত হতো তাহলে বাস্তব জীবনে আমরা অনেক শান্তিতে থাকতে পারতাম, এই শান্তি বিরাজ করছে অমুসলিম দেশ সমুহে।

    অনেক ভাল একটি লেখা পড়লাম, তোমার মত এমন চিন্তা যদি আমাদের দেশের হুজুরগন করতেন, তবে দেশে শান্তি আসতো। পরকালের চিন্তায় এই দুনিয়াকে নরক বানানোর পক্ষিপাতি আমি নই।

    এমন লেখা আরো চাই।

    • রিতু জাহান

      মানুষ বড় বিচিত্র।
      এখানে একটা মক্তবে আমি প্রতিমাসে তিনশো টাকা দেই। গরিব বাচ্চাদের পড়ার জন্য। এ টাকাটা এক হুজুর নিতে আসে। একদিন খুব সকালে সে এসে হাজির। আমি ভেবেছি বুয়া। ওড়না ছাড়া দরজা খুলেছি বলে সে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে মুখটা ঘুরিয়ে নিলো। এখন কথা হচ্ছে অতো সকালে কোনো কথা না বলে সে কেনো ওরকম আসবে? এবং ওরকম বিরক্ত প্রকাশ করে আমাকে অপমান করবে কেনো?
      পাশে একটা মসজিদ তৈরি হচ্ছে। তারা খুব সকালে প্রচন্ড জোরে মাইক নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে টাকা কালেকশন করতে বসে। স্কুলগামি ছোটোবাচ্চাদের তারা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে নেয়। এটা কোন ধরনের ধর্মীয় যুক্তি?
      আগে আমাদের সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে জানতে হবে। পাপ পূণ্য কিসে তা জানতে হবে।
      কৃতজ্ঞতা রইলো ভাইয়া আমাকে উৎসাহ দেবার জন্য। ধন্যবাদ ভাইয়া।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    লেখাটি অনেক বড় হওয়াতে পড়ার মাঝে মাঝে কয়েকবার তাল হারিয়ে গেছে।আবার মুল বিষয় থেকে কিছু কিছু জায়গায় অন্য প্রসং চলে এসেছে।যাই হোক, আমার কাছে লেখার বিষয়বস্তু ভালো লেগেছে।খুবই সময়োপযোগী লেখা। বর্তমানে রাজনীতি বাদে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বস্তুই হলো ধর্ম।একটু যুক্তি দিয়ে বুঝতে অথবা বুঝাতে গেলেই আপনি আমি সরাসরি নাস্তিক পদবী পেয়ে যাব।কথায় আছে দুই দেশের দুই ডাক্তার এক বিছানায় ঘুমাতে পারলেও এক বাড়ির দুই হুজুর এক বিছানায় ঘুমাতে পারে না।অনেক ভালো লিখেছেন আপু।অভিনন্দন।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ