সূর্যাই-রাম্বার অভিসার এবং প্রেম সফলের বাজী
সূর্যাই বাঁশি বাজাচ্ছে। রাম্বা আসে নিঃশব্দে। চুপচাপ পাশে বসে সূর্যাইয়ের মন পাগল করা বাঁশি শুনতে থাকে। রাম্বার নিশ্বাসের শব্দে সূর্যাইয়ের সম্বিত ভাঙ্গে।
সূর্যাই: রাম্বা! তে এতনা রাতকে ইজাগামে…?!
রাম্বা: তোমার বাঁশির সুর হামার নিন চুরালিয়েবায়, তোর গদিমে মাথা রাখে।
সূর্যাই: না রাম্বা।
রাম্বা: কাথে!
সূর্যাই: তুম ঠিকহ বোলাহা রাম্বা আসমান-মাটি এক না হোই। তোর আর হামার রতি যদি তোর ভাই শ্রীপদ জানেসখে তাহলে হামকে জানে না ছোড়ি। তে হামাকে বাঁচাও রাম্বা… তে হামাকে বাঁচাও!
রাম্বা: হে তুম কিয়া বোলাহ্যায় সূর্যাই!?
সূর্যাই: হ্যাঁ। হাম বাঁচ্ সাকতিহু।
রাম্বা: বেত্তমিজ! তুম মুঝে কিসকেলিয়ে ছোররাহা হ্যায়, তুম কিসকে লিয়ে মেরা দিল লেগেয়া। তুম কিসকে লিয়ে বারবাদ কারলিয়া। হারামকা বাচ্চা তু মুঝে জিন্দা মারদিয়া! মুঝে মারকে তু বাঁচা সাকতিহ্যায়, মুঝকে লিয়ে তুঝে মায়া নাহি লাগতিহ্যায়?! তোমারা রাম্বাকে লিয়ে তুম জান কোরবান নাই দিয়ে সাকতিহ্যায়!? তোমারা বাহুমে মুঝে নাই দিয়া সাকতিহ্যায়। তোমারা বাহুমে মুঝে বাঁচা সাকতিহ্যায়!

শ্রীপদ পাশের উঁচু সড়ক ধরে তার সাঙ্গপাঙ্গসহ টর্চ জ্বালিয়ে আসছিলো। রাম্বার কণ্ঠ শুনে শ্রীপদের হাতের টর্চ বন্ধ হয়ে যায়। হাতের তর্জনীর ইশারায় সাঙ্গপাঙ্গরা নিশ্চুপ হয়ে যায়। শ্রীপদ একটা ছোট্ট টিলার উপড় বসে সূর্যাই-রাম্বার কথা গিলতে থাকে। তার মুখে প্রলয়ের মুচকি হাসি।

সূর্যাই: তুম দুঃখ নাহি কাওরা রাম্বা! তুমকো লিয়ে মাই কুছবিকার সাকতিহু। আজ রাতকো মেরা জান বাজী রাখদিয়া! তোম চুপ কারো রাম্বা, তোম চুপ কারো…।
রাম্বা: তো তোমারা পাছ ধেমাগ রাখি!?
সূর্যাই: আও, আও মেরা পাছ! আওনা…!
সূর্যাই: রাম্বা!
রাম্বা: হু!
সূর্যাই: তোমারা ভাই হাম দোনোকা বাদ জানতেহেনা তো তোম কিয়া কারেগা?
রাম্বা: তোমকো লেগিয়ে বহুত দূরমে চালা যাতা হ্যায়!

এবার শ্রীপদের হাতের টর্চ জ্বলে উঠে, সাথে জেগে ওঠে শ্রীপদের শীতল গলা। সে গলার স্বর রাতের নিস্তব্দতার গায়েও কাঁটা দেয়।
শ্রীপদ: রাম্বা! তুম ঘারমে যাও!

রাম্বার ধীরে প্রস্থান করে। হয়তোবা নিজের ভুলের জন্য লজ্জিতও হয় খানিকটা।

শ্রীপদ: বেঠো সূর্যাই বেঠো। সূর্যাই, তুম মেরা বাহিনছে পেয়ার কারতাহ্যায়, মুঝে কই পরওয়া নেহি। লেকিন মেরা বাহিকো সাদি কারনিকেলিয়ে তোমরা পাছ কিয়া সবুত হ্যায়। মুঝছে বাজী রাখেগা!

সূর্যাই: কিয়া সবুত মালিক, কেয়া বাজী!
শ্রীপদ: কাল রাতকো নদী চহরমে আও। মে সবকুছ তুমকো বাত দে সাকতিহ্যায়। যাইগারে সূর্যাই, যাইগা…! রামু, এ রামু…।
সূর্যাই: লমস্কার মালিক!

সূর্যাই ভয়, অবস্থানজনিত লজ্জা এবং প্রেমের আত্মসম্মানবোধজনিত বীরত্বের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে চলে যায়।

রামু: জ্বী মালিক!
শ্রীপদ: ইতনা দেরী কিউ রে।
রামু: মালিক রামদাসকা গরু দেখকে আয়া।
শ্রীপদ: ওয়া! চল, তুমছে মে কুছ বাতকার সাকতিহু।

(……………………………………..চলবে)

আগের পর্বগুলোর লিংক:

১. http://www.sonelablog.com/archives/12440

২. http://www.sonelablog.com/archives/12475

৩. http://www.sonelablog.com/archives/12531

৪. http://www.sonelablog.com/archives/12788

৫. http://www.sonelablog.com/archives/12859

৬. http://www.sonelablog.com/archives/12944

৭. http://www.sonelablog.com/archives/13003

৮. http://www.sonelablog.com/archives/13126

৯. http://www.sonelablog.com/archives/13269

১০. http://www.sonelablog.com/archives/13617

১১. http://www.sonelablog.com/archives/14926

১২. http://www.sonelablog.com/archives/17125

১৩. http://www.sonelablog.com/archives/17164

১৪. http://www.sonelablog.com/archives/17210

১৫. http://www.sonelablog.com/archives/17308

১৬. http://www.sonelablog.com/archives/17837       

১৭. http://www.sonelablog.com/archives/17968

১৮. http://www.sonelablog.com/archives/18263

৫০১জন ৫০১জন
0 Shares

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ