হরিদাসের আত্মহত্যা
হরিদাসের আত্মহত্যার দিন সকাল থেকে সে সারাদিন একা একা উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ায়। হরির এই শীতলতায় সকাল থেকেই তার স্ত্রী তপতীর মুখ ভার। কারণ, সেদিন ভোরের আগে তপতী হরিদাসের দেহ প্রার্থনা করেছিলো। হরি কামার্ত হলে নারীর প্রাকৃতিক রতি নিষিদ্ধ সময়েও তপতীকে উথাল পাথাল করে আদিম বাসনার ঝড় তুলে ফেলে, মানে না কোনো বারণ। অথচ আজ সেই সিংহ পুরুষ হরি অকস্মাৎ বিমুখ হওয়ায় তপতীর মনে নানা সন্দেহ, দুঃশ্চিন্তা দানা বাঁধে। আর নারী হিসেবে নিজের পরাজয়ের কথা ভেবে অভিমান, অপমান তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় সারাদিন। দুপুর গড়িয়ে গেলে তপতীর মায়া লাগে মানুষটার জন্য। মানুষটা যে সারাদিন অন্ন মুখে তুলে নাই, জল খাবারটাও মুখে না দিয়ে সেই কোন সকালে ঘর ছেড়েছে। তপতী এমন সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই হরিদাস নিঃশব্দ পায়ে উঠানে এসে দাঁড়ায়। তপতী হরিকে দেখে কোনো কথা বলে না। হরি ধীর গতিতে তপতীর কাছে আসে, ওর কাঁধে হাত দেয়। তপতীর সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে যায়। তপতীর খুব ইচ্ছে হয় হরি তাকে ঝড়ের মতো জাপটে ধরুক, তাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলুক। হরি হাতটা নামিয়ে নেয়। তপতীর বুক ভেঙ্গে যায় এই ভেবে যে, তবে কি তার পতিধন অন্য কোনো নারী শরীরের প্রতি আসক্ত! অল্পক্ষণ পরেই হরি মুখ খুললে তপতীর সকল অভিমানের বাঁধ ভেঙ্গে যায়।

হরি: তপতী তে হামার উপরে খিসিয়ায়েবারে?

তপতী মাথা নীচু করে থাকে।

হরি: আইজ সব কুচ্ছু কেসন জানি আজব লাগোতে। আজ ভোরে মনে হগ্তে হামার গোপন অঙ্গকে অ-কোষ দুগো খোঁজকে নেইখে মিলোতে।
তপতী: কা বে শরমের এসন বাত বোলতারে তু!
হরি: না রে মোওগি। যা বলোতিন সাচ্চা হ। সকালে ঘরছে নিকোলকে বাহার হকে বড়কা রাস্তামে গোই। তব রাস্তামে কোনো আদমিজন না রাহা। হঠাৎ কারকে দেখোতিন হামার সামনে হামি খাড়াবানি। মনে হকোতে রাহা হামার রূপ হাম দেখোত্রিহা।

হরি এসব বলতে বলতে হাঁপায়। দাওয়ায় বসে পড়ে। তপতী তার স্বামীর এসব কথা শুনে মনে মনে ভীত হয়। তপতী হরির পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে। পাখায় লাল, সবুজ সুতা দিয়ে জবার ফুল-কলি আঁকা। সে পাখা বাঁশের নলে ঘুরে ঘুরে দেয় মৃদুমন্দ ঠাণ্ডা বাতাস।

তপতী: কা বোলোতোরে ইসব!
হরি: সাচ্চা বলোতিন তপতী। আরো আজব বাত শুনেছে তু হামরেকে পাগল বরবে।
তপতী: কা?
হরি: ঘরে ফিরকে সময় দুপুরকে ঠাঠা ঘাম। সটান ঘাম ধরকে হটকে আওত রিহা। দেখোতিন ঘাসকেও ছায়া ঠিক বায় সবকুচ্ছুকেও ছায়া ঠিক বায়। হামার ছায়া বটগাছকে চাইতেও লম্বা।

তপতী হাসে।

হরি: ও বুজে বানি হামরেকে বুজ দিয়ে খাতির ইসব গপ্পো বানাও তরো।

হরি কোনোমতেই ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তপতীকে বিশ্বাস করাতে পারে না। হরি চুপ মেরে যায়। কোনো কথা বলে না। কাল প্রত্যুষেই তপতীকে পড়তে হবে বৈধব্যের বেশ। হায়! নিশ্চুপ মন কেনো বলে না সেই চুপ করে থাকা কথাগুলো? কাল সকাল থেকেই লাখো বর্ণিল আলোর যেকোনো স্বপ্নীল আলোর মর্জিতে সূর্য রাঙাবে তার বিষাদ বৈধব্যের শ্বেত বসন ইচ্ছেমতো। হরির নিদারুণ চাওয়ার দাবী কিংবা তপতীর নিজেকে নিবেদনের তীব্র বাসনা কিছুই থাকবে না তার হাতে। হরি কোনো রা না করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তপতী হরির চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে কি এক অজানা ব্যথায় কাঁদে, চোখ মুছে।
সেই দিন রাতের দ্বিপ্রর শেষ প্রায়। পূর্ণিমার চাঁদ আরো স্বপ্নীল হয়ে ওঠে রূপোর রূপোলি থালায়। দু’একটা কালো পাথরের মেঘ মাঝে মাঝে চাঁদের গায়ে কলঙ্কের চিহ্ন এঁকে দিয়ে উধাও। যেনো মায়াময় মরীচিকা চারিদিক। দুধশাদা রূপালী আলোর একটা ফসলবিহীন মাঠ। নবান্নের ফসল ঘরে তুলেছে কৃষক অগ্রহায়ণে। তারই প্রত্নচিহ্ন-কাঁটা ধান গাছের সারি সারি মুথা রয়ে গেছে জমিনের পরতে পরতে। সেই মাঠের ঠিক মাঝখানটায় একটা প্রাচীন শ্যাঁওলা পড়া অমগাছ একা দাঁড়িয়ে। শুনশান চারিদিক।
হরি আঁটিকলায় মাখানো একগোছা মোটা পাটের দড়ি আর একটা ছোট জলচৌকি সমেত মাঠের মাঝখান দিয়ে আম গাছ বরাবর হেঁটে যায়। আম গাছটার নীচে এসে দাঁড়ায় হরি। গাছের মোটা শ্যাঁওলা পড়া ডালটিতে ফাঁসির দড়ি ঝুলায়। জলচৌকির উপর দাঁড়িয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হরি বলতে থাকে, ‘হেই ডোমপাড়াকে আদমি তুলোকে হামরিকে মাপকারদিও। হাম যে কাহে নিজেকে জাত সংয়ে বেঈমানী করে বানি তা কেউ না জানোল। তুলুকে জানায়েকে কোনো মুও হামার নেইখে। ভগমান সব জানোল কোনোট সাচ্চা আর কোনোটা ঝুট। হামার জাতকে আদমি হামার মু দেখে না মাঙল। উনিক্কে কেউ হামার বাত বিশ্বাস না করি। রামদা, ভৌজি, পার্থ, গণেশ-তুলোক সবকোই হামরেকে মাফ কার দিয়ে।’
এসব কথা বলতে বলতে হরি অঝোরে কাঁদে। জানি না ডোমপাড়ার ঘুমন্ত, নেশায় বুদ হয়ে থাকা অচেতন মানুষদের কানে সে কান্না পৌঁছে কিনা। সে কান্নার আওয়াজ বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়ে দূরের বাতাসে মিলিয়ে যায়।
হঠাৎ হরি দেখতে পায় তিনজন মরা অপআত্মা শরীর ধারণ করে তার সামনের দিকের ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়ায়। প্রথম অপআত্মা ফাঁসির দড়ি গলায় জিহ্বা বের হয়ে আছে, গলা দিয়ে ঘর ঘর করে গার্দা বের হচ্ছে। দ্বিতীয় অপআত্মা বিষে নীল শরীর, মুখ দিয়ে শাদা ফেনা বেরুচ্ছে গলগল করে। তৃতীয় অপআত্মা আগুনে পোড়া চুল, চোখের ভ্রূ কিছুই নেই। সারা শরীরে দগ্ধ লাল মাংস বের হয়ে আছে স্থানে স্থানে। একটু দূরে উৎকণ্ঠিত চোখে শুভ্র পোশাক পরিহিত এক শুভ আত্মা, যেনো ধূসর নীলাভ তারার নীলচে আলোয় দাঁড়িয়ে আছে। সে স্বর্গীয় আত্মা হরিকে ইশারায় নিষেধ করে।
তিনজনই হাত বাড়িয়ে হরিদাসকে আহ্বান করে। তাদের মুখে কিম্ভূত কুহক হাসি। তারপর তিন অপআত্মা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উড়ে উড়ে তারা একে অপরকে নরকের আগুনের গোল্লা ছুড়ে মারে। সে আগুনের গোল্লা তুষ হয়ে ঝড়ে পড়ে শূন্য থেকে ভূমিতে। একসময় ফাঁসির অপআত্মা হারিয়ে দেয় বাকী দুই অপআত্মাকে। ওরা আগুনের ফুলকি হয়ে ঝরে পড়ে, মিলিয়ে যায়। ফাঁসির অপআত্মা হরিকে হাত বাড়িয়ে আহ্বান করে আর শুভ আত্মা ইশারায় না না করে। হরির আত্মহত্যার বাসনা ক্রমে ফিকে হতে থাকে। আর এ কারণেই ফাঁসের গীটের উপরের দিকের দড়ি হাতে ধরেই ছিলো হরি। হঠাৎ কি এক অসতর্কতাবশত পায়ের নীচের জলচৌকিটা সরে যায়। অশুভ ফাঁসির আত্মা হাসতে হাসতে অদৃশ্য হয়ে যায়। শুভ আত্মা মাথা নোয়ায়ে থির দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর স্থির চোখে বিষাদ নিয়ে শুভ আত্মা হরির দিকে তাকিয়ে থাকে। এই শুভ আর অশুভ, অতৃপ্ত আত্মাগুলো হয়তো মৃত্যুনদীর ওপাড়ে হারিয়ে যাওয়া আপাঙতেয়, অস্পৃশ্য ডোমপাড়ার মানুষদের প্রাচীন পূর্বপুরুষ। শুভ আত্মা নীরবে চোখ মোছেন।
পায়ের নীচের টুল সরে যাওয়ার ভুল তাকে মৃত্যুর ঝুলন্ত দোলনায় চড়িয়ে দেয়। আত্মহননের পথে যাত্রা করে হরি। শূন্যের দোলনায় দুলে দুলে সে হয়তো পৌঁছে যাবে জীবনের শেষ প্রান্তের মৃত্যু বন্দরে, যেখানে মৃত্যু মৃত্যুহীন। গলায় টান লাগার সাথে সাথে হরি হাত দিয়ে ফাঁসের দড়ির উপড়ের অংশ ধরে ঝুলতে চায় যাতে গলায় টান না লাগে। কিন্তু দড়িতে আঁটিকলা মাখিয়ে পিচ্ছিল করার কারণে অসুরের শক্তি থাকা সত্ত্বেও হরির হাত শরীরের ভার বহন করতে অক্ষম হয়। গলায় একটু জোরে টান খায়। হরি ওয়াক করে উঠে। তারপর আবার সে পৃথিবীর তাবৎ শক্তি দিয়ে ফাঁসের উপরের অংশের দড়ি ধরে দেহের ভার ধারণের বারবার আপ্রাণ চেষ্টা করে, হাতের তালু ছিলে দড়ি পিছলে যেতে থাকে ধীরে ধীরে। হরি চিৎকার করে, ‘আমাকে বাঁচাও! আমি মরতে চাই না…!’ কিন্তু এই নিশুতি রাতে কে জেগে থাকে পাহাড়ায়, স্বেচ্ছায় মৃত্যুপথযাত্রীকে বাঁচাতে! হাতের চেটোর থেনায় পেশী, হাইপোথেনায় পেশী, পিসি ফর্ম, পামার ফ্যাসা, ফ্যালাঞ্জেস বেইজ অকেজো হয়ে যায়। সেইসাথে কারপাস, মেটাকারপাস, ফেলাঞ্জেস ক্ষমতাহীন হয়ে যাওয়ায় রেডিয়াস-আলনার পেশীগুলো অসাড় হয়ে পড়ে ফলে হিউমেরাস অস্থিতে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা বাইসেপ্স্, ট্রাইসেপ্স এবং ডেল্টয়েড টিউবেয়োসিটি পেশী হয়ে পড়তে থাকে সম্পূর্ণ শক্তিহীন। হরির হাতের পিচ্ছিল দড়ি ফাঁসের গেরোর নিকটবর্তী হতে থাকে। পায়ের নখ দিয়ে বাঘের থাবার চেয়েও ক্ষিপ্র, তীব্র গতি আর শক্তিতে আঁচড়ের দাগ কাটে অমগাছের প্রাচীন শরীরে। হরির পায়ের আঙ্গুলের নখ উল্টে যায়, ডল ডল করে রক্ত ঝরে পড়ে। অনড় অমগাছও হয়তো নির্বাক কাঁদে, আঁচড়ের ব্যথায় নয়, হরিদাসের অসহায় মৃত্যুর করুণ পরিণতি দেখে। ফাঁসের গেরোর উপর থেকে দু’হাতে দেহের ভার রক্ষাকারী রশির বঙ্কিম অংশ ধীরে তালুর ভেতর দিয়ে পিছলে সটান হতে থাকে। হরি হাত ছেড়ে দিতেই ধপ করে ঝুলে পড়ে দেহ। মট করে ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে যায়। ঘাড়ের পেছনে মস্তিষ্কের সাথে সমস্ত দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় রক্ষাকারী সুষমা কাণ্ড ভেঙ্গে ছিঁড়ে যায়। গ্রীবার শ্বাসনালীতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে, নিঃশ্বাস নিতে পারে না হরি। ফুসফুসে অক্সিজেনের সংকট দেখা দেয়। ফুসফুস অক্সিজেন সংকটের সংকেত পাঠায় কিন্তু সুষমা কাণ্ড ছিঁড়ে যাবার কারণে সে সংকেত পৌঁছায় না কোটি নিউরনের জগতে। সে ছটফট করতে থাকে। গলা দিয়ে লম্বা জিহ্বা বের হয়ে যায় প্রায় এক হাত, চোখের কোটর থেকে চোখ বেরিয়ে হয়ে হাঁসের ডিমের মতো হয়ে যায়, চোখের পাতা সে চোখের বেড়কে ধরতে পারে না। সারা মুখমণ্ডলের শিরা, উপশিরাগুলো রক্তপ্রবাহহীনতার কারণে ফুলে-ফেটে চামড়ার নীচ থেকে বের হয়ে আসতে চায়। মুখমণ্ডল নীলচে কালো বরণ ধারণ করে। একসময় তার পায়ের দাপাদাপি থেমে যায়। নিস্তেজ হয়ে অমগাছের ডালে ঝুলে থাকে হরির প্রাণহীন বীভৎস শরীর। পার্থিব প্রয়োজনের খাঁচা থেকে বের হয়ে সে মায়াময় পূর্ণিমা রাতেই হরির আত্মা যাত্রা শুরু করে অজানা গন্তব্যে। সে আত্মার যাত্রা মহাকালের সুবর্ণ বন্দরে।
পরের দিন দুপুরে হরির দাহ শেষ হলে হরির স্ত্রী তপতী বিধবার বেশে ভেজা কাপড়ে রামদাসের বাড়ির উঠানে এসে দাঁড়ায়। আঁচলে মুখ ঢেকে তপতী ক্ষীণস্বরে কাঁদতে থাকে। অনতিদূরে হরির দুই অনাথ শিশু কন্যা দাঁড়িয়ে কাঁদছে। কান্না শুনে বিমলা ঘরের বাইরে আসে।

বিমলা: রোতে কে? তপতী!

বিমলা দৌড়ে এসে তপতীকে জড়িয়ে ধরে।

তপতী: দিদি! তু হামার আদমিকে মাফ কর দিও। তুহার সঙ্গে যে অবিচার করে বায় দিদি উকার বিচার ভগমান করে বায় দিদি। দেখোতরে না লম্বা চুল কাট ঘালে বানি, হাতকে শাখা টুট গায়ে, কপালকে সিঁন্দুর সারা জনম খাতির মুছ গায়ে দিদি!
বিমলার চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ে।
তপতী: দিদি ভগমান এতনা নিষ্ঠুর কাহে। হামার আদমি পাপ করে বায় তো হাম কাহে বিধবা! হকোপ দিদি। দিদি, দিদি গো হামার জোড় তুড় গায়ে দিদি!

তপতী কলস-ফাটা চিৎকার করে কাঁদে। বিমলা তপতীকে বুকে জড়িয়ে ধরে। একসময় তপতী থামে। কারণ, কোনো শোকই চিরকালীন নয়। তপতী চলে যায় তার দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে। বিমলা তপতীর চলে যাওয়া দেখে নীরবে কাঁদে।

(……………………………………চলবে)

 

আগের পর্বগুলোর লিংক:

১. http://www.sonelablog.com/archives/12440

২. http://www.sonelablog.com/archives/12475

৩. http://www.sonelablog.com/archives/12531

৪. http://www.sonelablog.com/archives/12788

৫. http://www.sonelablog.com/archives/12859

৬. http://www.sonelablog.com/archives/12944

৭. http://www.sonelablog.com/archives/13003

৮. http://www.sonelablog.com/archives/13126

৯. http://www.sonelablog.com/archives/13269

১০. http://www.sonelablog.com/archives/13617

১১. http://www.sonelablog.com/archives/14926

১২. http://www.sonelablog.com/archives/17125

১৩. http://www.sonelablog.com/archives/17164

১৪. http://www.sonelablog.com/archives/17210

৩২৭জন ৩২৭জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ