সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

সূখের অসূখ দ্বিতীয় পর্ব

মনির হোসেন মমি ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, সোমবার, ১০:০১:৫৭অপরাহ্ন গল্প ১৩ মন্তব্য

স্বামীর ঘর নারীর আপণ ঘর।কোন নারীই কখনোই এ ঘর ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে নয় যদি না  অসহনীয় কোননা কোন কারন থেকে না থাকে ।অনন্যা মনস্থির করলেন।শ্বাশুরী বয়স্ক মানুষ কয়দিন আর বাচবেন।তাছাড়া শেষ বয়সে এসে সবাই এমন একটু আধটু পাগলামী করেই থাকেন।শুনেছি মানুষ বুড়ো হলে নাকি শিশুদের মতন আচরণ করেন।কিন্তু স্বামীকে এসব বলা ঠিক হবে কীনা তাই অনন্যা ভাবছেন।যদিও বলাটা ঠিক হবে না কিন্তু না বললেওতো সমস্যা- ভবিষৎ এ সব কথা বললেও সেতো তখন বিশ্বাস করবে না। না থাক বলার দরকার নেই।শুধু শুধু প্রবাসে স্বামীকে ভাবিয়ে তুলা ঠিক হবে না।যা হয় মুখ বুজে সইবো।

পানসে দিন যায় বেশ কয়েকটি ।স্বামী বেশ কয়দিন যাবৎ ফোন করছেন না কিংবা ম্যাসেঞ্জার চ্যাটেও আসেন না। তার সময় কাটছে দুশ্চিন্তায় ভবিষৎ ভাবনায়।

স্কুল কলেজ পড়াকালীন অনন্যা ডায়রী লিখতেন।ডায়রীতে লেখা তার হাতের লেখাগুলো দেখলে যে কেউ অবাক হবে।এ যেন ছাপা অক্ষরে লেখা কবিতা গল্প প্রবন্ধ।ডায়রীর প্রতিটি লেখার উপরে চমৎকার সব আলপনা আকাঁ থাকত।

আমিতো বেশী কিছু চাইনি
তিলে তিলে গড়া তোমার অর্থ সম্পদও নয়,
তোমার পরিবার হতে তোমাকে নিজের করে নেয়া
তাওতো নয়,

শুধু চেয়েছি সমুদ্রের ন্যায় বিশাল হৃদয়ে
একটু সূখের আশ্রয়
একটু স্পর্শ আদর
একটু ভালবাসা।

আমিতো বেশী কিছু চাইনি
পরের মাঝে আপণকে খোজা ছাড়া
আমার আমিকে তোমার মাঝে বিলিয়ে দেয়ার তরে
একটু সুযোগ,
একটু আধটু সূখের স্বপ্নগুলো তোমার মাঝে খুজে পাওয়া,
ঠিক এইটুকুইতো চাওয়া।

ডায়রীতে তার লেখার মাঝে খুজে পাওয়া যায় অনন্যা তার স্বামীকে এই অল্পটুকু সময়তে কতটা ভালোবেসে ফেলে ছিলেন।তার স্বপ্ন তার আবেগ তার অনুভুতিগুলো যেন স্বামীর মাঝে খুজে পান সেই যে কী আকুতি মাখা  আবদার স্পষ্টত লেখাগুলোর মাঝে বিদ্যমান।

ম্যাজেঞ্জার চ্যাটে হঠাং ভালবাসার মানুষটির নক তাকে চমকে দেয়।মনে মনে খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

-কী করছো?

স্বামীর এমন একটি জিজ্ঞাসা  শব্দ অনন্যার দেহে যেন আবারো প্রান সঞ্চারিত হলো।নেতিয়ে পড়া মরা গাছে পানি ঢাললে মরাপ্রান যেমন করে তাজা হয়ে মাথা উচু করে তেমনি চ্যাটিং নকে অনন্যা হৃদয়কাশেও যেন  প্রান ফিরে পেয়ে একটু নড়াচড়া দিয়ে বসল।
-জেগে আছি।
-কেন?এতো রাত হলো! জেগে কী করছো?

-কিছু না,ঘুম আসছেনা,তাই।

-কী করে ঘুম আসবে সারাদিনতো মাথায় খালি কুবুদ্ধি ঘুরে।

-কী বলছেন এসব!
-বলার আর বাকী কী রাখলি!তুই ডায়রীতে কী লিখছ?

স্বামীর চ্যাটিং ভাষার হঠাৎ নোংরামি শুনে অনন্যার মনটা আবারো খারাপ হয়ে হয়ে গেল।এতক্ষণ কথা বলার যে ইচ্ছেটা ছিলো তা এখন হারাতে চলছে।বেশ কিছুক্ষণ উত্তর না পাওয়ায় স্বামী আরো বেশ কিছু নোংরা কথা লিখতে থাকে।
-তোর যদি ঠিকঠাক মত মা বোনের মন জুগিয়ে সংসার করতে মন না চায় তবে চলে যা…।আমারে একটু শান্তি দে।
-আপনি শুধু শুধু একপেশি আমার দোষ দেখছেন।
-না তোর মতন বেয়াদব মাইয়ারে কমু ভালা আর আমার আপণ মা বোনরে কমু খারাপ এইটাইতো তুই চাস তাই না?
-ছি ছি আপনি এসব কী আবোল তাবল বলছেন?
-আমি আবোল তাবল বলছি হারামজাতি ফকিন্নির মাইয়া।তুই যে স্বামীর আবদার রাখছনা স্বামীর কথা শুনছ না- এইটা কী ঠিক ?তুইতো আমারে চাস না তোর লাং ভাউ আছে চইল্লা গেলে চইল্লা যা।
-কোন কথাটা আপনার আমি রাখিনি?
-আবারো বলতে হবে-নামাজতো পড়ছ না তুই স্বামীর ভক্ত হবি কী করে!
-নামাজ আমি পড়িনা আপনেরে কে বলছে?তা ছাড়া স্বামী হয়ে আপনার যে আবদার তাতো কোন পরহেজগার স্বামীই করবে না।
-কী কইলি খুইল্লা ক
-কোন পবিত্র স্বামী কি স্ত্রীর নগ্নত ভিডিও দেখতে চায় নাকি দেখাটা ছোয়াবের কাজ?
-তার মানি আমি খারাপ পোলা?লুইচ্চা বদমাইস?আর তুই সতি সাব্দি?শুয়োরের বাইচ্চা আজকেই তোরে তালাক দিমু….।।

সূখের অনুভুতিতে অসূখের নগ্ন থাবা; অনন্যার জীবন সংসারে যেন বিষ ঢেলে দিলো।সর্বাঙ্গে,মননে বিয়ে নামক নতুন জীবনের সূখ যেন অসূখ হয়ে জীবন সম্পর্কে নতুন ম্যাসেজ পেল।

অনন্যা এখন কি করবেন!চ্যাটিং করবেন? নাকি চ্যাটিং করা বাদ দিয়ে দিবেন? তার মাথায় কিছুই আসছে না।ঐ দিকে স্বামী তার ম্যাসেজ ইনবক্সে চ্যাটিং লিখতে লিখতে ইনবক্স ভারি করে ফেলছেন।যা আসে মনে তাই লিখে চলছেন।বেশীর ভাগ শব্দেই নগ্নতার প্রকাশ।মনমরা মেজাজে অনন্যা কেবল আগত ম্যাসেস এ দৃষ্টি রেখে চোখের জল ফেলে চলছেন।

চলবে

পূর্ববর্তী পর্ব 

১১৯জন ১৫জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য