সুরের পাখি

তৌহিদুল ইসলাম ২৭ মে ২০২০, বুধবার, ১১:০১:৪৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

গতকাল সন্ধ্যা থেকে প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টিতে ইলেক্ট্রিসিটি ছিলোনা। কখন যে আসবে তাও জানিনা! টিভিতে এটিএন বাংলা চ্যানেলে বহুল আলোচিত ড. মাহফুজুর রহমান স্যারের গানের অনুষ্ঠান “হিমেল হাওয়া ছুঁয়ে যায় আমায়” শুরু হতে যাচ্ছে! চরম অস্থিরতায় আছি। এমন সময় দুই সেকেন্ডের আলোক ঝলকানি দেখে মনে যেই একটু সান্ত্বনা পেলাম কিন্তু বেত্তমিজ বিদ্যুৎ আবার ঠুস্ করে চলে গেলো। নাই নাই নাই আর তার দেখা নাই।

এদিকে প্রায় পৌনে এগারোটা বাজে। রিমোট হাতে নিয়ে বসে আছি বিদ্যুৎ এই বুঝি এলো! অতি উত্তেজনায় আমি আগেই টিভির সুইচ অন করে রেখেছিলাম যাতে বিদ্যুৎ আসার পরে আর একটা সেকেন্ডও সময় নষ্ট না হয়। অবশেষে দশ মিনিট পরে কানে এলো মনে দোলা দিয়ে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত সেই সুর-

“বুকেরই মাঝখানে কত যে কষ্ট হয়
আজ শুধু মন হলে
সবি ছিলো অভিনয়
ফিরে এসো ফিরে এসো
তুমি ফিরে এসো! ….

– সুরের পাখি ড. মাহফুজ স্যার।”

জাস্ট অসাধারণ! হান্ড্রেড ক্ল্যাপস ফর ইউ স্যার।

তবে দুঃখ একটাই, বিদ্যুৎ না থাকার কারনে গানের অনুষ্ঠানটির প্রথম অংশের প্রায় আধাঘণ্টা মিস করেছি আপনার সুরেলা কন্ঠে গাওয়া কিছু গান। এই করোনায় বিধিনিষেধ থাকায় দেশের বাইরে শ্যুটিং এ যেতে পারেননি বলে ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রতিটি গানের জন্য আলাদা আলাদা স্টিল ছবি ব্যবহৃত হয়েছে বুঝতে পারছি। যেমন – পাখির গানে ময়ূরের স্ট্যাচু, ফুলের গানে দৃষ্টিনন্দন বাগানবিলাস, বরফের গানে এন্টার্কটিকার হিমশীতল বরফের ছবি ইত্যাদি। ভিডিও এডিটিংকারী টিকটকবাসীদের চেয়ে যথেষ্ট দক্ষ ছিলো।

“যারা টিভি দেখেন তারা ড. মাহফুজুর রহমানকে ভালোবাসেন। – বলেছেন মুন্নি সাহা।

মুন্নি সাহার উপস্থাপনায় স্যারের গানের মাঝখানে মাঝখানে তার কথাগুলোকে কোকিলের কুউউউ কুউউউউ সুরেলা ডাকের চেয়ে কোন অংশেই কম মনে হয়নি আমার। এরপরে টিভির রিমোটকে ভালোবাসার কথা বললেন মুন্নি সাহা। তবে সে রিমোট স্যার নিজেই নাকি আমরা দর্শকরা তা ডিশ সংযোগের কিঞ্চিৎচাপায় ঠিক বুঝতে পারিনি।

কত সুন্দর মন ভোলানো কথায় মুন্নি সাহা আমাদের মাতিয়ে রেখে আবারও সামনের বছর স্যারের গান শোনানোর অগ্রীম দাওয়াত দিলেন যা একজন ভদ্রোচিত সামাজিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তি মাত্রই করা সম্ভব। এই করোনাবন্দি সময়ে সবাই অসভ্য অসামাজিক হয়ে গিয়েছে। ঈদের দিন পর্যন্ত কেউ দাওয়াত দেয়নি! অথচ মুন্নি সাহাকে নিয়ে অনেকেই অনেক ট্রল করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে আজ আমি ক্ষমা চাইছি স্যার।

ড. মাহফুজ স্যারের গানের ভক্ত আমি সেই ২০১৭ সাল থেকেই যখন প্রথম তার গান শুনি। তাঁকে নিয়েও অনেকেই ট্রল করেছেন তবে আমি কিন্তু তাঁর পক্ষেই ছিলাম যার প্রমান দুইশ’ এর অধিক লাইক কমেন্টস প্রাপ্ত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে ফেসবুকে দেয়া আমার একটি স্ট্যাটাস। বিশেষ প্রয়োজনে অবিশ্বাসীদের জন্য প্রমাণ স্বরুপ স্ট্যাটাসটির স্ক্রিনশট সরবরাহ করা যেতে পারে।

আমি লিখেছিলাম-

“ঈদ উপলক্ষে এটিএন বাংলায় ড.মাহফুজুর রহমানের “স্মৃতির আলপনা আকি” একক সঙ্গীতানুষ্ঠানটি দেখলাম। সব গান ভালো লেগেছে তা বলবোনা তবে তার কিছু গানের কথা ছিল অসাধারন।

যারা ফেসবুকে তাকে নিয়ে ব্যাঙ্গ আর উপহাস করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন বা দিবেন বলে মনস্থির করেছেন তাদের বলছি – ক্যামেরার সামনে একবার দাঁড়িয়ে দেখবেন কেমন লাগে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি অনেকেই উল্টা পাল্টা কান্ড করা শুরু করে দেবেন।

সবচেয়ে বড় কথা এ ধরনের গানের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিল্পী হিসেবে নিজেকে  প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়ার জন্য সাহস আর কলিজা লাগে বুঝলেন? শুধু টাকাপয়সা ক্ষমতা বা টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হলেই সবকিছু হয়নারে ভাই। একটু পজিটিভলি চিন্তা করলেই তা বুঝতে পারবেন।

সাহসী পদক্ষেপের জন্য মাহফুজ সাহেবকে সাধুবাদ জানাই।”

আজ এখন আমার কাছে মনে হচ্ছে আমিই সঠিক ছিলাম। কারন গত দু’বছরের তুলনায় মাহফুজ স্যারের কন্ঠে যথেষ্ট মাধূর্যতা এসেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে এবারের গানগুলোয় সিনেমার নায়কদের মত তিনি দু’হাত বাড়িয়ে পেট মোচর দেননি দেখে। আর তিনি নিজেই কিছু গান লিখেছেন জেনে মুগ্ধ হয়েছি আমি! সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।

প্রিয় ব্লগার ইকরাম জিসান ভাই ২০১৮ সালের ১৭ই জুন ফেসবুকে “ড. মাহফুজুর রহমান স্যারের কাছে গান শিখতে চাই” নামক একটি ইভেন্টস এ আমন্ত্রণ জানিয়ে লিখেছিলেন-  “আসুন আমরা গোইং (ইভেন্টস এ লাইক) দিয়ে মহান শিল্পীর গান উপভোগ করি। যদি বিশ্বকাপে সারা দেশ মেতে ওঠে, যদি জাস্টিন বিবার নিয়ে বিভোর হয়ে থাকে গোটা বিশ্ব তবে আমাদের এই প্রিয় শিল্পী ড. মাহফুজুর রহমান কে নিয়ে আমরা কেন চুপ করে থাকবো।”

দু’বছর পরে ২০২০ এ এসে সেই ইভেন্টস এ লাইক দিয়ে সাড়া দেইনি বলে আজ নিজেই অনুতপ্তবোধ করছি। আফসোস! এতদিনে আমি কিছুটা হলেও গান শিখতে পারতাম। স্যরি জিসান ভাই।

মাহফুজ স্যার, বেঁচে থাকলে আগামীবছর আবার আপনার গান শুনবো। পরিশেষে, এই অধমের ছোট্ট একটি বাসনা- আপনার সুরেলা কন্ঠে জন ডেনভারের ইউ ফিল আপ মাই সেন্সেস গানটি শুনতে চাই। প্লিজ! গান পিপাসু ব্যক্তির অন্তিম ইচ্ছে মনে করে আশাকরি নিরাশ করবেননা। জানেনইতো নিন্দুকেরা অনেক কথাই বলে। ইউ কিপ ইট অন স্যার।

গড ব্লেস!

৩৬৭জন ২৩২জন
0 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য