এক সময় অপলকে জোছনা দেখতাম, ছাতিম গাছে ভূত আছে ভেবে ভয়ে ঠকঠক করতাম!একবার পূর্ণিমার আড্ডায় পান খেয়েছিলাম, সে এক বিচ্ছিরি কাণ্ড! মাথা ঘুরল, কানে মুখে ধোঁয়া বেরোয় অবস্থা, এক সময় হড়হড় বমি।তারপর ও সেই রাতটা আজ ও ভীষণ উপভোগ্য স্মৃতি! মনেমনে তওবা পাঠের অমর্যাদা করিনি বলে আর পান মুখে দিইনি। আজকাল অবশ্য চাঁদ, তারা, পূর্ণিমা, কাকার বাঁশিতে সুরের তারানা আর মনে জাগেনা। গাছের কোটরে লুকনো পাখির বাসার ন্যায় স্বপ্নগুলো চুপসে থাকে, কখনো কখনো তা দেওয়া ডিম যেমন অবশেষে কেউটের পেটে চালান হয়, মা পাখিটা যেমন বাঁচে তেমনি আছি,বেঁচে আছি,বেঁচে থাকি।সর্বহারার হারাবার সম্ভাবনা কি? ছোট্ট একটা স্বপ্ন মুঠো পুরে রেখেছি প্রবল দুঃসাহসে!কেউ কিছু মনে করোনা, তেমন অসাধ্য কিছু নয়,শুধু ছেলের হাতের দুমুঠো মাটি!  তা-ও যদি না জোটে দুঃখ নেই মোটে! শুনেছি দক্ষিণে রাক্ষস ক্ষোক্ষস থাকে, ছোটবেলায় চৈতালি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠোনে শুয়ে দাদি এমনই ভয়ের রুপকথা শোনাতেন। কোনো একদিন হয়ত একটা টিকিট কেটে চড়ে বসব সিটে। তারপর ঢেউ গুনতে গুনতে পৌঁছে যাব রুপকথার রাজ্যে!

অসম্ভবের বেড়াজালে বন্দী হয়ে কাঁদে প্রেম,নাকি মন? মনই হবে হয়ত অমন অর্বাচীনতা তাকেই মানায়, অথচ এই নির্বাসনে হবিষ্যাশী হওয়াই বাঞ্ছনীয়।সুবোধ শোনো,কারো কারো জন্য স্বপ্ন দেখা পাপ দেখানোও পাপ!তুমি কি পাপ পূণ্য মানো?ঠিক জানিনা,  হয়ত মানো হয়ত না , কিন্তু আমি মানি খুব, ঈশ্বরের আগে খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে থাকে স্বত্তা,না মেনে উপায় কি বলো?আজ অবধি শীতে জমে হিম হয়ে ও পারিনি ছুঁতে হিমালয়, পুড়ে অঙ্গার হয়ে ও পোড়াতে পারিনি কাউকে গ্রীষ্মের লু হাওয়ায়, এটাই আমার ব্যর্থতা, শঠতা জানিনা।তবে হ্যাঁ ব্যর্থতা আছে শত, গ্লানি নেই একফোঁটা।থাকবে কেন বলো?বারবার ঠকেও তোমাকে, তোমাদেরকে ভালোবেসেছি!আমি যে দুঃখ দিতে শিখিনি।আবার বচসা ভেবোনা যেন, এ হচ্ছে আত্ম-জিজ্ঞাসা।সুবোধ শোনো, পাথুরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে একসাথে দেখব সূর্যাস্ত, যদি রাজি থাকো, চল সামনে এগোই, না হয় এখানেই থামো।জানোত প্রাপ্তিতে অভ্যস্থ হয়ে হারানোর ভয় পেয়ে বসেছে!ওটা অবশ্য আমার মস্ত দোষ।আমি বড়ো সাদাসিধে জীবনযাত্রার এই চতুর জংশনে। সুবোধ শোনো,যদি ঘুমিয়ে পড়ি ডেকে দিও সামনের স্টেশনে,চটজলদি নামতে হবে যে! যদি শেষ মুহূর্তে বলতে ভুলে যাই, তুমি বরং মনে করে আমার ভালোবাসার নিও প্রিয়!সবসময় হাসিখুশি আর  ভালো থেকো!আমি তোমার কবিতা। আমাদের কবিতায় খাতায় দেখা হবে। তুমি আমার পাশে নেই সেটা দুঃখ, কিন্তু  আমার চেতনায় যে থাকো সে-ই বা কম কিসে?আমরা দূরত্ব অতিক্রম করবোনা, শুধু মনে রাখব। আমরা কবিতার পৃথিবীতে বেঁচে থাকব। তুমি কবি, আমি তোমার বিগত কবিতা।কেউ পড়ুক বা না পড়ুক ডায়েরির পাতায় লিপিবদ্ধ থাকুক। পুণর্জন্মে প্রকাশিত হোক অন্য কোনো হৃদয়ের অলিন্দে!

তুমি আমায় কবিতা বলো, শুনতে ভালো লাগে! কিন্তু আমি জানি আমি মূলত নীল অপরাজিতা। পরাধীন অপরাজিতার তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকেনা, ঐ এক নীল রঙটা ছাড়া। আছে বৈষম্য বিমোচক ধারা যা অতি দুর্বল মূলত, ধোপে টেকেনা। ফুলদানির অধিকার নেই,নিবেদন আবেদনে নেই, তবুও ফুটে থাকে, চোখ ধাঁধানো নীল গায়ে মেখে। ছাপোষা মধ্যবিত্ত কবিতা ছাড়া ঠাঁই নেই আর কোথাও! বাহারি গোলাপের মত তাকে নিয়ে তুমুল তর্ক নেই, ছুঁড়ে ফেলার ভয় ও কিন্তু নেই।ফুটে থাকে সে প্রফুল্লচিত্তে বেদনার ক্ষত ঢেকে রেখে! রাগে-ক্ষোভে, মান- অভিমানে হারিয়ে যায় না সে,গোলাপের মত আক্রান্ত হয়না সংক্রমণে। নীল অপরাজিতা নামের কবিতা হওয়ার স্বাধ আমার যদি রাখো টুকে প্রিয় নোটবুকে।

২৬৭জন ৯০জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ