সুখের সন্ধানে জীবনধারা

নীলাঞ্জনা নীলা ১৪ অক্টোবর ২০১৮, রবিবার, ১০:২০:৪৭পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৮ মন্তব্য
বিকেলের শেষ আলোর হাসি

মানুষ কখন জীবনের মানে খোঁজে? যখন তার মন আহত হয়, তখন? নাকি যখন তার শরীর অক্ষম হয় তখন? এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া সহজ নয়, নয় কঠিনও। উত্তরণের জন্য বহু পথ খোলা আছে, যা চোখে দেখা যায়না। সবচেয়ে যা কঠিন যে কোনো সম্পর্কের মধ্যে জটিলতা।

আমরা যখনই কোনো বিপদে পড়ি, খুঁজি সেই মানুষটিকেই যে আমাদের মনটা বোঝে। তেমন মানুষ ক’জন পায়? বরং সেই সময়ে যারা কাছে আসে, দেখা যায় আরোও জটিলতার সৃষ্টি হয়। তখন মনে হয় তার চেয়ে বরং একা থাকাই ভালো। আদতে দুঃসময়ে কাউকেই আশা করতে নেই।

তবুও কি পারা যায়? আমরা তো মানুষ! আশা করি, জানি শূন্য হয়েই ফিরে আসতে হবে, তাও হাত বাড়াই। বারবার ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া, আবার উঠে দাঁড়ানো পৃথিবীতে বহু মানুষই এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে প্রতিমুহুর্তেই। যারা পারেনি, তারা কেউ আত্মহত্যা করেছে আর কেউবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ততার মধ্যে চলে গিয়েছে। সহজভাবে বললে একেই বলে স্ট্রেস। কেউ বোঝেনা, কাউকে বোঝানো যায়না। এতোটাই ভয়ঙ্করতম মুহূর্ত।

এতো না-পাওয়া কেন? এর উত্তরে বলবো অভাববোধ। যতোদিন আমাদের অভাব থাকবে, দুঃখও থাকবে। আচ্ছা জীবনে কোন জিনিসগুলো সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন; স্বাস্থ্য, খাদ্য, আশ্রয় নাকি অর্থ? সবগুলোই, তাই না? পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের ওসবের সব আছে, তবুও তারা ভালো নেই। আবার কারো খাদ্য, আশ্রয়, অর্থ আছে, কিন্তু স্বাস্থ্য ভালো নেই। প্রবাদ আছে, “স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।” আবার কারোর অর্থের অভাব। যদি অর্থের অভাব থাকে, হিসেব করে চালাতে হবে। আর ভাবতে হবে এমন অনেক মানুষ আছে যারা একবেলা খেয়ে কাটায়, আবার কেউ সারাদিনেও একগ্লাস জলপান করেই বাঁচিয়ে রাখে নিজেকে।

তবে এতোকিছুর ভেতর সবচেয়ে সুন্দরতম হলো আমাদের এই জীবন। অনেক না-পাওয়ার ভীড়ে এক/আধটু পাওয়া, আবার অনেক কষ্টের ভেতরও একটা ছোট্ট শিশুর হাসি জীবন আছে বলেই তো! কতো সুন্দর সুন্দর দৃশ্য আছে এ পৃথিবীর চারপাশে ছড়ানো! ফুল যখন ফোঁটে, তখন তার পাঁপড়ি অল্প অল্প করে মেলে ধরে নিজেকে। আবার পাখী ঠোঁটে খাবার নিয়ে এসে তার বাচ্চাকে খাওয়ায়, একজন গর্ভবতী মহিলা কিভাবে তার গর্ভকে হাত দিয়ে আগলে রাখে কিংবা একজন মা তার শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে স্তন্যপান করায়, এসব দৃশ্য কি চোখে পড়েছে? দেখে কি মনে হয়না জীবন অনেক সুন্দর!

ব্যথা, যন্ত্রণা, দুঃখ, কষ্ট আছে বলেই স্বস্তি, আনন্দ, সুখ, হাসি আছে। অন্ধকারের ভেতর আকাশের চাঁদ-তারা দেখা যায়, আর আলোতে দেখা যায় মেঘ। সকল সময় যদি সুখ-ই থাকতো, একঘেয়েমি চলে আসতো। এই যে বছরে একবার উৎসব আসে, যদি রোজ এমন হতো, তাহলে কেমন হতো? আনন্দ সবকিছুর ভেতরেই আছে, খুঁজে নিতে হয়। খুঁজে না পেলে থেমে না গিয়ে খুঁজে যেতে হয়। একদিন ঠিক পাওয়া হয়ে যাবে আসলে যা আমার পাবার কথা ছিলো। টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে রিদম পাওয়া যায়। একটা বৃষ্টির নিজস্ব ছন্দ আরেকটা টিনের চালের উপর পড়ার। আবার একই বৃষ্টি বিল্ডিং-এর ছাদে পড়লে শুধু বৃষ্টির শব্দটাই কানে আসে। ভালো লাগে কোনটা? এর উত্তর আমি বলবোনা।

সবাইকে শারদ শুভেচ্ছা।🌹 🌺 🌼💐

হ্যামিল্টন, কানাডা
১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং।

★Neera Sadeea আপুনি বলেছিলো প্রেরণাদায়ক লেখা লিখতে। কিছুটা ব্যস্ত আছি। আশা করি সোমবার থেকে নিয়মিত হবো। তার আগ পর্যন্ত ক্ষমা চাইছি এভাবে অনিয়মিতভাবে আছি বলে। আজ লেখাটা দিলাম, কারণ এ মাসেরই ১১ তারিখ ব্লগে প্রথম পোস্ট দিয়েছিলাম ছয় বছর আগে। সবাই ভালো থাকুন। অফুরান ভালোবাসা।

৬৪৮জন ৬২৪জন
6 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ