সীমানা

প্রিন্স মাহমুদ ৭ মার্চ ২০১৪, শুক্রবার, ০৭:৩৬:২৩অপরাহ্ন গল্প, সাহিত্য ১৪ মন্তব্য

আয়মনের মন বেশ খারাপ । তার স্বামী আরমানের সন্ধ্যায় এসে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা । যতবার সে রাগ করে চলে আসে সন্ধ্যায় তাকে নিতে আসে ।

সে এখনো আসেনি । সে আরমান থেকে খুব বেশী কিছু আশা করেনা । এটুকু আশা করেছিল । গতরাতে রাগ করে সে বাবার বাড়ি চলে এসেছে ।

আয়মনের বিশ্বাস ছিল আরমান তাকে নিতে আসবে । এখনো আসছে না । তাদের সম্পর্ক কি খুব শীতল হয়ে গেছে ?

বিয়ের একবছরে কি কোন সম্পর্ক শীতল হয় ? আয়মন জানেনা । মা তাকে প্রায় বলে , ছেলেটার সাথে তোর কিছু নিয়ে ঝগড়া হয় সবসময় ?

ভাই বলে , আগেই বলেছিলাম এঁকে বিয়ে করবি না । বড়লোকের মেয়েদের মধ্যবিত্তর ঘরে পোষায় না ।

এসব শুনলেই আয়মনের রাগ লাগে । সে জানে নিজের পছন্দে বিয়ে করার কারনে তারা খুচিয়ে এসব জানতে চায় ।

 

২.

আরমানের মন এখন খুবই অস্থির । তার কলিগ ফারজানা ইয়াসমিনের বিয়ের কথা হচ্ছে । পাত্র পক্ষ অফিসে চলে এসেছে ।

খোঁজ খবর নিতে । তাদের সময় দিতে দিতে সন্ধ্যা পার হয়ে যাচ্ছে । অথচ তার এখন আয়মনকে আনতে যেতে হবে ।

এই মেয়ে দূরে দূরে থাকলে তার সারাদিন রোজা রোজা মনে হয় ।

কি যেন নেই ! অদ্ভুত হাহাকার । এই হাহাকারের জন্ম কোথায় ? ।

তার ইচ্ছা ছিল ফারজানা ইয়াসমিনের সাথে চমৎকার বন্ধুত্বটাকে নতুন মাত্রা দেবে ।

কিন্তু তার আগেই আয়মন এসেই সব এলোমেলো করে দিল ।

তার খালি মনে হতে লাগল , এই কার্টুন কার্টুন চেহারার মেয়েটাকে আমার চাই ।

৩.

আয়মনদের ড্রয়িং রুমটা সুন্দর । সাজানো গুছানো । বড়লোকদের বড় বড় ব্যাপার ।

আরমান অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে । হাতে একটা ম্যাগাজিন ।

ম্যাগাজিনে কিছু বলিউডি নায়ক নায়িকার ছবি আছে ।

ছবির নিচে কে যেন লাল কালিতে লিখে দিয়েছে “ হায়রে শাহরুখ , সুপারস্টার হয়েও দু’টাকা ছাড়ের বিজ্ঞাপন করো !!

আমাদের শাকিব খানেরও তো একটা ক্লাস আছে ” ।

তুমি এসেছো ? এতো দেরিতে ?

– অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে গেলো

কেন ?

– কিছু কাজ ছিল । তুমি নিজেইতো চলে যেতে পারতে

পারতাম , কিন্তু তুমি “সরি ” বলে নিয়ে যাবে বলে যাইনি । এবার সরি বলো ।

– দোষ তোমার , আমি কেন সরি বলবো ?

দোষ করবো আমি , সরি বলবে তুমি , তাই বলবে ।

– সরি , চলো

দুলাভাই এসেছে , বারবিকিউ পার্টির আয়োজন হচ্ছে , খেয়ে যাবে ?

– না

কেন ?

– কেরানী টাইপের কাউকে পার্টিতে মানায় না ।

তুমিতো কেরানি না , ব্যাংকে ভালো জব করো

– আমার আব্বা কেরানি ছিলেন , তাকে মানুষ খুবই সম্মান করতো

-আমি তারচেয়ে অনেক ভালো চাকুরী করেও কেরানি হতে চাই । ঐ পেশাটাই আমার কাছে সবচে সম্মানের । পার্টিতে কেরানির ছেলেকে মানায় না ।

তাহলে কেরানীর ছেলের বউকেও মানাবে না , চলো যাই ।

—————-

গল্পটা শুন্য শুন্যালয় এর জন্য 

প্রিন্স মাহমুদ ।

 

২৬১জন ২৬১জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য