সিজোফ্রেনিয়া? এবং আমি

জিসান শা ইকরাম ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার, ১১:৫৬:২৪অপরাহ্ন গল্প ২২ মন্তব্য

ঘটনার প্রথম শুরু আজ থেকে ৩ বছর পুর্বে।
খুব মনযোগ দিয়ে প্রিয় একজনের সাথে আলাপ করছিলাম লেখালেখি প্রসঙ্গে। নারীদের অনেক সমস্যার মধ্যে লেখালেখিও একটা সমস্যা। কল্পনা প্রসূত একই লেখা একজন পুরুষ এবং নারী যদি কিছুদিনের বিরতিতে কোথাও প্রকাশ করে, পুরুষের নামে প্রকাশিত লেখাটি হয় কল্পনা প্রসূত। আর নারী নামে প্রকাশিত লেখাটি হয় নারীর নিজস্ব কাহিনী। মানুষ এমনটাই ভাবতে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। যেন নারী কল্পনা করে কিছু লিখতে পারেনা, যা লেখেন তাই হয়ে যায় তার বাস্তব কাহিনী। এ নিয়ে তখন আমি একটি লেখাও দিয়েছিলাম। যেটি সমাদৃত ও হয়েছিল।
* তবে একই সাথে ঘটে যাওয়া একটি সত্যি এবং অভাবনীয় ঘটনা প্রকাশ করিনি, যা আমার জীবন কাহিনীই বদলে দেয়। কথোপকথনের সময়  কয়েকটা কুকুর এমন বিকট ডাকছিল যে বার বার আমার মনঃসংযোগে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। আগের রাতেও এদের অসহ্য ডাকে ঘুমই  ভেঙ্গে গিয়েছিল। অসহ্য এই কুকুরগুলো। ইচ্ছে করছিল লাফ দিয়ে বিছানা হতে নেমে দরজা খুলে রাস্তায় বের হই মোটা লাঠি নিয়ে। একটাকে মাথায় বাড়ি দেই। যাতে মাথা থেকে ছিটকে মগজ বের হয়ে আসে, আর  ভয় পেয়ে অন্য কুকুরগুলো  দৌড়ে পালাক। এই চিন্তা করার কিছুক্ষণ পরে কুকুরের ডাক বন্ধ হয়ে গেলো। মনে হলে কুকুরগুলো কিছু একটা দেখে ভয়ে পালিয়ে গেলো। সুনসান নীরবতায় ঘুম দিলাম। পরদিন সকালে মর্নিং ওয়াকে গেটের বাইরে এলেই দেখতে পেলাম একটি কুকুর মরে পরে আছে। মাথার মগজ অনেকটা রাস্তায় ছড়িয়ে আছে। অবাক হয়ে ভাবছি – এত বীভৎস  ভাবে কুকুরটাকে কে মারলো ? চমকে গিয়ে ভাবলাম গতরাতে তো আমি এমনই ভেবেছি।
* ২০১৬ সনে লিগাল ভাবে কেনা আমার একটি জমি নিয়ে মামলায় পরে যাই। মামলাবাজ এক লোভী মানুষ আমাকে বিবাদী করে মামলা করে কোর্টের লোভী স্টাফদের হাত হরে আমাকে কোনো সমন না দিয়েই একতরফা মামলার রায় তার পক্ষে নিয়ে যায়। রায় প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পরে আমি এই মামলার কথা জেনে তার রায় বাতিলের জন্য মামলা করি। লোকটির মিথ্যে বয়ান, মিথ্যে সাক্ষীতে হতবাক হয়ে যাই। তার উকিলের জেরায় অপ্রস্তুত আমি। এত খারাপ লাগছিল যে কোর্টে বসেই ইচ্ছে করছিল পিটিয়ে ওর হাত পা ভেঙ্গে মেরে ফেলি ওকে।
কিছুদিন পরে ঐ মামলাবাজ লোকটিকে পাওয়া গেলো সেই জমিতেই হাত পা ভাঙ্গা অবস্থায় মৃত।
* ২০১৭ সনে আমার পার্শ্ববর্তী উপজেলায় একটি বড় ব্রীজের কাজ পাই। কাজের সাইটে গেলে একজনের নেতৃত্ব একদল চাঁদাবাজের পাল্লায় পরি। এমনি ভদ্র ভাবে বললে মিষ্টি খাবার জন্য কিছু দিতাম। কিন্তু এমন ভাবে বললো যে তার অধীনস্ত কোনো লোক আমি, যাকে ঐ মুহূর্তেই দুই লক্ষ টাকা দিতে হবে। কথা বার্তায় আমি একসময় খুব উত্তেজিত হয়ে যাই, এবং চাঁদাবাজ প্রধানকে ধাক্কা দেই। তারা সংখ্যায় ছিল পঁচিশ জনের অধিক, এত লোকের সাথে আমার এমন করা উচিৎ হয়নি। এরা আমাকে আক্রমন করে, সবার মিলিত প্রহারে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার কোমরে থাকা রিভলবারটি এরা নিয়ে নেয়। জ্ঞান ফেরার পরে আমি ব্রীজ নির্মাণ স্থলের কাছেই একটি বাড়ির সামনের রুমের বিছানায় নিজকে আবিষ্কার করি। জ্ঞান ফেরার পরেই প্রথম যে কথাটা ভাবি আমি তা হচ্ছে, ওদের নেতাকে যদি সুযোগ হয় তবে কপালে গুলি করে ব্রীজ যে স্থানে হবে সেই ক্যানেলে ভাসিয়ে দেবো।
ঘটনার ১০ দিন পরেই তাকে কপালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঐ স্থানে ক্যানেলে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেলো, মৃত।
**
এমন কেন হচ্ছে? আমি যেমন ভাবি তেমনই ঘটনা কেন হচ্ছে? আরো অনেক ঘটনা আছে যাতে আমি রাগ করে কিছু ভাবলেই ঠিক তেমনই ঘটে যাচ্ছে! আমি কি দ্বৈতসত্তার কোনো মানুষ? এসব কি আমিই ঘটাচ্ছি? নইলে যেমন ভাবছি তেমনই হয় কিভাবে?
============================
-{@ উত্সর্গ তোমাকে, তুমি তো জানোই, তুমি কে,
১৫৩জন ১৫৩জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য