গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে দেশে যেন নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার এর প্লাবন হচ্ছে। এই প্লাবনে দেশের প্রায় সমস্ত মানুষ বিপর্যস্ত দিশেহারা হয়ে পরেছে। ধর্ষন, নারী নির্যাতন এবং বলাৎকারের প্রকৃত সংখ্যা অবশ্যই প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। লোকলজ্জা, শ্রেণী বিভাজন ইত্যাদি কারনে অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত রয়ে যায়।
সেপ্টেম্বর ২০ থেকে অক্টোবরের ৬ তারিখ পর্যন্ত আলোচিত ধর্ষন, নারী নির্যাতন এবং বলাৎকারের ঘটনা সমূহ দেখা যাক। এরপরেও গত তিন দিনে বেশ কিছু ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে। এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

১। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণ এবং ধর্ষনের ভিডিও ধারণ।
২। খাগড়াছড়িতে এক প্রতিবন্ধী মেয়ে্কে গন ধর্ষণ।
৩। সিলেট এম সি কলেজে এক নববধূকে গন ধর্ষণ।
৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ।
৫। গাইবান্ধায় দুই দিন ধরে তরুণীকে ধর্ষণ।
৬। নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ।
৭। শিবগঞ্জে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ শ্বশুর গ্রেফতার।
৮। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কোচিং সেন্টারে ছাত্রী ধর্ষণ।
৯। ওজু করতে বাহির হয়ে ৭০ বছর বয়সের এক নারী ধর্ষণ।
১০। ফেনীতে তিন বছরের এক মেয়ে শিশুকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী এক রাজমিস্ত্রী।
১১। মাদ্রাসার এক হুজুরের গত তিন মাস ধরে এক মাদ্রাসার ছাত্রকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে বলাৎকার।
১২। রাজশাহীর তানোর উপজেলার এক গির্জায় তিন দিন এক কিশোরীকে আটকে রেখে গির্জার ফাদার কর্তৃক ধর্ষণ।
১৩। নোয়াখালীতে এক মহিলাকে উলঙ্গ করে ধর্ষণের চেষ্টা ও নির্যাতন, যার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

উপরের ধর্ষণ, নারী নির্যাতন এবং বলাৎকার সবগুলোই সমান গুরুত্বের দাবিদার হলেও গুরুত্ব পেয়েছে দুটি ঘটনার। একটি প্রবল আলোচিত ধর্ষণ মামলা গুরুত্বহীন কর হয়েছে। অন্য সব ঘটনা আলোচনা হতে ছিটকে পরেছে। একটি ঘটনা ব্যাতিত অন্য সব ঘটনার হোতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে এক নববধূকে গণধর্ষণ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে উলংগ করে নির্যাতন এবং তা ভিডিও করে একমাস পরে অনলাইনে প্রকাশ করে দেয়ার ঘটনায় দেশব্যপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গণধর্ষণের আরো একটি ঘটনা পাহাড়ি অঞ্চলে ঘটলেও তা তেমন আলোচনায় আসেনি।
এর কারণ সম্পুর্নই রাজনৈতিক। এমসি কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনার হোতা হচ্ছে ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীরা। অনলাইন দখল করা সরকার বিরোধী শক্তির প্রচার এবং অফলাইনে সরকার বিরোধী ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারনায় এটি জনগনের মনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

আবার একটি ধর্ষণ মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষনের দুটো মামলা করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ এর নেতা হাসান আল মামুন , নাজমুল হাসান সোহাগ সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে। ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরও এই মামলার একজন আসামি। সাম্প্রতিক ধর্ষণের মামলা গুলোতে মামলা হলেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারের দুটো উদাহরন
১। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় এক চেয়ারম্যান গ্রেফতার।
২। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতার।
এমন অসংখ্য উদাহরন পাওয়া যাবে নেটে সার্চ দিলে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর করা এই ধর্ষণ মামলাটি প্রায় হিমাগারে পাঠান হয়।

যে কোন ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, বলাৎকারের ঘটনা সমান ঘৃণিত এবং গুরুত্বের দাবীদার হলেও তা সমান গুরুত্ব পায় না। যে সমস্ত ঘটনায় রাজনীতির কুট কৌশল দ্বারা সুবিধা নেয়া যাবে সে সমস্তই কেবল গুরুত্ব পায় বা আলোচনায় আসে। এখানে ধর্ষণ,নারী নির্যাতন,বলাৎকারের ঘটনার কোনো মূল্য নেই, আছে স্বার্থের মূল্য। এই স্বার্থের জন্যই একপক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল নির্ধারণ করেন। ধর্ষণ বা নির্যাতন একটি হাতিয়ার মাত্র। আসল উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা।

উপরে বর্নিত ৩ এবং ১৩ এর ঘটনায় ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ এর কর্মীরা জড়িত ছিল বলেই তা গুরুত্ব পেয়েছে। ২। খাগড়াছড়িতে এক প্রতিবন্ধী মেয়ে্কে গন ধর্ষণ এবং ৩। সিলেট এম সি কলেজে এক নববধূকে গন ধর্ষণ প্রায় একই সময়ে সংঘটিত হলেও ২ গুরুত্ব পায়নি। ৩ গুরুত্ব পেয়েছে রাজনৈতিক কারনে। ১৩ নং ও রাজনৈতিক কারনেই গুরুত্ব পেয়েছে।

ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বন্ধের দাবীতে শাহাবাগ সহ সমস্ত দেশে আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং তা এখনো চলছে। সাধারণ জনতা এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনও ব্যাক্ত করেছে। তবে আন্দোলনের পিছনে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত তা দু একদিনের মধ্যেই প্রকাশ হয়ে গিয়েছে আন্দোলনের প্লাকার্ড, ব্যানার, শ্লোগানের মাধ্যমে। আন্দোলনকারীরা সরকারের পতন চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধর্ষকদের পাহাড়াদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পুর্নই অপ্রাসঙ্গিক ভাবে মুজিব কোট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এসমস্ত কার্যকলাপে এটিই প্রমানিত হয় যে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ কর্মীরা যদি ধর্ষণ, নির্যাতন না করতো তবে এই আন্দোলন হতো না। আন্দোলন কারীদের মুখ্য উদ্দেশ্য ধর্ষণ ঘটনা নয়। মূখ্য উদ্দেশ্য সরকারকে অ-জনপ্রিয় করে তোলা। প্রচার কৌশল, নারী নির্যাতন এবং ধর্ষন ঘটনায় অতিষ্ঠ জনসাধারনের চাহিদার প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা তাদের উদ্দেশ্য কিছুটা হলেও সফল হয়েছে।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান আইনে যুক্ত করা হবে। পূর্বে সর্বোচ্চ সাজা ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।এই সরকারের আমলেই কি ধর্ষণ,নারী নির্যাতন হচ্ছে?

কোনো ভাবেই তো ধর্ষণ কমছে না।সরকার তো চাচ্ছে ধর্ষণ,নারী নির্যাতন কমে যাক।প্রচলিত আইনে ধর্ষণ কমছে না বলে অন্য ভাবেও ধর্ষকদের দমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং এমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর সমালোচনার প্রেক্ষিতে তা বন্ধ হয়ে যায়।
নীচের ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করলেই সরকারের ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন বন্ধের আন্তরিকতার পরিচয় পাওয়া যাবে।

*২২ মে, ২০২০,টঙ্গীতে বন্ধুকযুদ্ধে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি নিহত।
*১৫ জুন ২০২০,নোয়াখালীর সেনবাগে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি মিজান বন্দুকযুদ্ধে নিহত।
*১৫ জুন ২০২০, র‍্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে বাঁশখালীতে ধর্ষণ মামলার আসামি নিহত।
*২৯ জানুয়ারী ২০১৯, চট্টগ্রামে বন্ধুকযুদ্ধে গণধর্ষণ মামলার আসামী শাহাবুদ্দিন নিহত।
*১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯,চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় আসামি সাহাবউদ্দিন ক্রস ফায়ারে নিহত।
*২৯ এপ্রিল ২০১৯,হাত-পা বেধে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুল র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত।
*মে ১১, ২০১৯,মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষণের আসামি ইয়াকুব আলী নিহত।
*২৭ জুন ২০১৯,সীতাকুন্ডে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি ইকবাল হোসেন রানা র‍্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত।
*১৪ আগষ্ট,২০১৯, ভোলায় ঈদের চাঁদরাতে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ মামলার সন্দেহভাজন দুই আসামি ক্রসফায়ারে নিহত।
*২১ফেব্রুয়ারী,২০১৮,কক্সবাজারের চকরিয়ায় আনোয়ার হোসেন নামে একজন ধর্ষক র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত।
*২৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ চট্টগ্রামের বাঁশখালী- পেকুয়া এলাকায় র‍্যাবের সাথে ক্রসফায়ারে শিশু ধর্ষণকারী আবদুল হাকিম নিহত।
*এ-ব্যাতীত দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে কয়েকজন ধর্ষক রহস্যময় হারকিউলিসের হাতে নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ লাশের সাথে ধর্ষণ সম্পর্কে স্বীকারোক্তি এবং পরিণতি সম্পর্কে সাবধানবাণী লেখা ছিল।
অনলাইনে খুঁজলে এমন ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আসামির নিহত হবার ঘটনা আরো পাওয়া যাবে।

এই সমস্ত ঘটনায় এটিই প্রমাণিত হয় যে,সরকারও চাচ্ছে দেশ থেকে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন কমে যাক। কিন্তু কমছে না এটিই বাস্তব। সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড হলেই যে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা আশা করা যায় না।

কেন কমছে না ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন? – আগামী পর্বে

সংযুক্তিঃ
রাজনৈতিক বিবেচনা এবং স্বার্থের কারণে অনুষ্ঠিত শাহবাগে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ।

 

রাজনৈতিক স্বার্থের বলি  একা লড়াই চালিয়ে যাওয়া  অনশনে বসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেই ছাত্রী। 

ফিচার ছবিঃ গুগল ইমেজ

১৬২জন ৪৯জন
0 Shares

১৪টি মন্তব্য

  • ফয়জুল মহী

    মুখে বলে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ‍ন্ড করা হবে।কিন্তু চার সন্তানের মা গণধর্ষণকারীও জামিন পায়। পুলিশ এবং উকিল বাবারা , নারী নিরহ মা‘দের তোরা বাঁচতে সাহায্য কর।

  • শামীম চৌধুরী

    সময়পোযোগী পোষ্ট। তথ্যগুলি দারুন সহায়ক। যে ধর্ষনের ঘটনা গুলি মিডিয়ায় আসে সেটা নিয়ে শোরগোল বাঁধে। আলোচিত হয়। মিডিয়ার নজরের বাহিরেও শত শত ধর্ষন হচ্ছে। যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। যারা ধর্ষক তারা মানুষ নয়।
    সরকার যদি এখনই নজর না দেয় তবে ভবিষ্যত খারাপ হবে।
    ধন্যবাদ ভাই লেখাটি শেয়ার করার জন্য।

  • তৌহিদ

    ধর্ষণ শুধু এই সরকারের সময় নয়, সব আমলেই ছিলো। কিছু প্রকাশ পায়, কিছু পায়না। কিন্তু কিছু মানুষ এমনভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে যেন ধর্ষণ শুধু এই সরকারের আমলেই হচ্ছে! আসলে এসব মানুষ যেকোন কিছুতেই একটাই ইস্যু নিয়ে আসে আর তা হলো সরকার পতন! এদের কার্যক্রম দেখলে মনে হয় ধর্ষণ বিরোধিতা এদের উদ্দেশ্য নয়।

    সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনা আমাদের নাড়া দিয়ে গেলো। ধর্ষনের জন্য বেশ কিছু বিষয় দায়ী। আমাদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এক্ষেত্রে বিবেচ্য। দলের ছত্রছায়ায় থেকে কিছু মানুষ অপকর্ম করে এর দায়ভার দলের নয় অপরাধী ব্যক্তির। কিন্তু দলে এ ধরনের মানুষ অনুপ্রবেশ করে কিভাবে? এটাও তাদের ভাবতে হবে।

    সামাজিকভাবে একজন নারীকে হেয় করা একটা স্বাভাবিক রীতিতে পরিনত হয়েছে। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরী।

    অপসংস্কৃতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। টিভি সিরিয়াল, ইউটিউবে নাটকে, সিনেমায় খুন ধর্ষণ, পরকীয়া এসব দেখতে দেখতে আমাদের কাছে এসব অতি স্বাভাবিক একটি ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। যার ফলে এসবের কুফল সম্পর্কে আমরা অবগত নই।

    সবচেয়ে বড় কথা আমাদের মুল্যবোধের অভাব। সামাজিক, পারিপার্শ্বিক, ধর্মীয়, জৈবিক, আদর্শিক মুল্যবোধ যতদিন মানুষের জাগ্রত হবেনা ততদিন ধর্ষণ, রাহাজানি এসব কমবে না। মুল্যবোধের অভাবেই বাবা কর্তৃক মেয়ে, চাচা কর্তৃক ভাতিজি এবং বৃদ্ধারাও ধর্ষিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীই বা কেন নিজেদের যৌনলিপ্সার জন্য বিয়ের ক্ষেত্রে প্রলোভিত হবে? তাদের অবশ্যই মুল্যবোধ শিক্ষার অভাব আছে।

    আইন সবার জন্য সমান। কেউ ধরা পড়বে আর কেউ বাতাস খেয়ে বেড়াবে তাতো হতে পারেনা। এতেই বোঝা যায় তাদের হাত কত লম্বা। আন্দোলনকারী সেই নারীকে সমর্থন করি। তবে ঘটনার ১০ মাস পরে এসে তার বোধদয় হলো কেন! সেটাও প্রশ্ন।

    ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করাটাই যৌক্তিক। কিন্তু বলাৎকারকে এর অন্তর্ভুক্ত কেন করলোনা এটাই প্রশ্ন। পত্রিকা খুললেই হুজুরদের বলাৎকার, গৃহপালিত পশুকে বলাৎকার এসব দেখতে পাই। তাদেরকেও এই শাস্তির আওতায় আনতে হবে অবশ্যই।

    সমসাময়িক বিষয়ে চমৎকার পোষ্ট পড়লাম ভাইজান। ধন্যবাদ আপনাকে।

  • সুপায়ন বড়ুয়া

    আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ ঘটনা গুলোকে বিস্তারিত ভাবে তুলে আনার জন্য।
    জাতির কপালে দু:খ , সবকিছুকে রাজনীতি করন আর সুবিধা নিতে গিয়ে আসল থেকে বঞ্চিত হয়।
    লজ্জা লাগে ধর্ষক আর সহযোগী আজ বুক ফুলিয়ে মিছিল করে।
    তাদের পক্ষে উকালতি করে।
    ভাল থাকবেন। শুভ কামনা।

  • প্রদীপ চক্রবর্তী

    সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তথ্যবহুল লেখনী শেয়ার করলেন দাদা।
    সাধুবাদ জানাই।
    ধর্ষণের মাত্রা সব আমলে ছিলো তবে তার মাত্রা কম বা বেশি।
    কিছু আড়ালে কিছু বাইরে।
    কিন্তু ধর্ষণ ও ধর্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এর মাত্রা বেড়েই চলবে।
    এ বিষয়ে সরকারের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

  • সুরাইয়া পারভীন

    এতো এতো ধর্ষকের মৃত্যু হলো তবুও তো ধর্ষণ কমছে না। আসলে মানুষ হয়ে গেছে নির্ভয় নিকৃষ্ট, মস্তিষ্ক বিকৃত। নিজেদের মানসিক অবস্থার উন্নতি না হলে এর থেকে মুক্তি অসম্ভব। স্বার্থের টানেই দৌড়ায় সবাই। ধর্ষণের আন্দোলনের নামে সরকার পতন আন্দোলন ই তার বাস্তব উদাহরণ।

    চমৎকার পোস্ট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া
    ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবসময়

  • মনির হোসেন মমি

    ধর্ষণের বিষয়ে আমি কোন সরকারকেই দায়ী করবো না-দায়ী আমরাই আর আমাদের নিয়েইতো সরকার। কোন সরকারের আমলে ধর্ষণ বেশী হয়েছিলো সেটাও আমার কাছে মুখ্য নয়।ধর্ষণ সব সরকারের আমলেই কম বেশী হয়েছে।রাজনৈতীক দলীও লোকজন ছাড়াও নিরপেক্ষ কিছু জনবল আছেন যারা এ সরকারের উপর বর্তমানে ক্ষুদ্ধ।তাদের এই ক্ষোভের অর্থ এই নয় যে তারা সরকারের বিপক্ষে সরকার হটানোর ইচ্ছেতে প্রতিবাদ করছে।তারা সরকারকে যেমন বেশী ভালবাসেন তেমনি বেশী কিছু আশাও করে থাকেন।দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা এ সরকারে উন্নয়ণমুলক কর্মকান্ড ছাড়া সাধারণ জনগন নিরাপত্তাহীন,বেচে থাকার জন্য বাজারধরের লাগামহীনতা,বিচার ব্যাবস্থায় শ্লোগতি,দলীও লোকেরা দলীও ক্ষমতার অপব্যাবহার,মন্ত্রণালয়গুলোর দূর্ণীতি, ইত্যাদি আমরা বেশ ভাল ভাবেই প্রত্যক্ষ করেছি।বলা যায় সব মিলিয়েই সরকারই সুযোগ করে দিচ্ছেন সাধরন জনগনের সাথে রাজনৈতিকদলগুলোকেও মাঠে নামবার।ইস্যু সৃষ্টির শুরুতেই যদি সরকার আন্তরিকতার সাথে ইস্যুর সমাধানে যেত তবে মাঠে নামর এ সুযোগ রাজনৈতিক দলগুলো পেত না।
    আপনি আমি যে দলই করিনা কেন সবার আগে দেশপ্রেম দেশের স্বার্থ।দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এ দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধীদলের প্রয়োজন ছিলো যা আমাদের নেই।আমরা উন্নয়ণের স্বার্থে সব বিসর্জন দিয়েছি।সরকারের সব সমালোচনাই সরকারকে ক্ষতিগ্রস্থ করে না কিছু সমালোচনা আমলে নিলে সরকারই বেশী লাভবান হন।কিছু সিদ্ধান্ত দ্রুত নিয়ে জনগণকে বুঝাতে হয় আমরাও নির্যাতীতা ধর্ষিতার পক্ষে-মুখে নয় করে দেখাতে হবে যে নিজের দলের প্রভাবশালীরাও শাস্তির বাহিরে নয়।একের পর এক বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতাই আজকের এই পরিস্থিতি।

    লেখা চলুক।

  • সুপর্ণা ফাল্গুনী

    ধর্ষণ কখনো রাজনৈতিক ইস্যু হতে পারে না। পরিবার, সমাজ, আকাশ সংস্কৃতি, ভার্চুয়াল নোংরামি, মানসিক অবক্ষয় এর জন্য দায়ী। যারা করছে তারা নিজেদের স্বার্থে দলে অনুপ্রবেশ করেছে আর দলের নাম ভাঙিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে। এরা আসলে কোন রাজনীতি করেনা , করে পেটনীতি। আপনার তথ্য গুলো থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম দাদা ভাই। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

  • রোকসানা খন্দকার রুকু

    বাংলাদেশে আইন তৈরি হয় কিন্তু প্রয়োগ হয়না। সমস্যা এটাই। আমরা আশা করছি যথাযথ পদক্ষেপ নিক সরকার। সমসাময়িক লেখাটি ভালো লাগলো।
    শুভ কামনা।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    কঠর হওয়া ছাড়া উপায় নায়। স্বাভাবিক রায় বাস্তবে কার্যকর করা অতিব গুরুত্বপুর্ণ।।
    আপনার সাথে সহমত অনেক গুলোই কিন্তু তা অতি সাবধানে সরকারকে এগুতে হবেই।
    মন্ত্রীদের অতি কথন বন্ধ দরকার।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য