সানিয়া (২)

ইঞ্জা ৫ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার, ১২:৫৮:২০অপরাহ্ন ভ্রমণ ২০ মন্তব্য

 

 

 

 

পনেরো বিশ মিনিটের মধ্যে আমরা বিশ্ব বিখ্যাত হোটেল চেইন হোটেল রয়াল অর্কিড প্লাজায় পোঁছে গেলাম, গাড়ী হোটেলের ভিতরের গেইটে গিয়ে দাঁড়ালো, আমরা গাড়ী থেকে নেমে গেইটের সামনে এগুলে দুই সুন্দরী ললনা এগিয়ে এসে অর্কিড ফুলের মালা গলায় পড়িয়ে দিয়ে অভ্যর্থনা জানালো এবং ভিতরে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলো, ইস্টেফেন আমাদের নিয়ে গিয়ে গেইটের ভিতরে রাখা সুন্দর সোফায় বসতে দিলো, সাথে সাথে আরেক সুন্দরী এসে আমাদের ঠান্ডা অরেঞ্জ জুস পরিবেশন করলো যাতে অর্কিড ফুল রাখা আছে গ্লাসের সৌন্দর্য্য বর্ধন করার জন্য, ইতি মধ্যে ইস্টেফেনের অফিস কলিগ জেনি এসে আমার সাথে গল্প জুড়ে দিলো (জেনি আবার সবাইকে আমার গার্লফ্রেন্ড বলে পরিচয় দেয় মজা করার জন্য), আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, “কি ব্যাপার পুরা চায়না এই ডিসেম্বরের শীতে কাঁপছে, অথচ সানিয়াতে শীত নেই, বরঞ্চ একটু গরম অনুভূত হচ্ছে?”
জেনি যা বললো, এই এলাকা নাতিশীতোষ্ণ, ফলশ্রুতিতে এইখানে শীত অনুভূত হয়না।
আশ্চর্য হলাম এক দেশে তাদের কতো ধরণের ঋতু আছে।

আমাদের ড্রিংকস শেষ হলে জেনি আমাদের নিয়ে গেলো পাশের রিসেপ্টশন রুমে, এইখানে আমি এবং আমার সিইও রেজিস্ট্রেশন কম্পলিট করলাম, ইস্টেফেন আমাদের দুইজনকে দুইটা কার্ড দিয়ে বললো সামনের ক্রিস্টমাস উইশ করে পাশেই রাখা ক্রিস্টমাস ট্রিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য, আমরা দুজনেই কিছু উইশ লিখে ঝুলিয়ে দিলাম, এর মধ্যে আমাদের জন্য বরাদ্ধ করা হলো আইডি কার্ড যা সার্বক্ষণিক আমাদের গলায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যেন হোটেলের সবাই বুঝে আমরা ডংফেং শোকোনের, এরপর আমাদের বলা হলো বাইরে অপেক্ষা করার জন্য, ওরা কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের রুম বরাদ্ধ করবে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের ডিলাররা একে একে আসছেন, কেউ আসছেন বউ নিয়ে, কেউ আসছেন বিজনেস পার্টনার নিয়ে, জেনি, ইস্টেফেন আমাদেরকে তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, হংকং, ব্রাজিল, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, প্যারিস, পাকিস্থান সহ বিভিন্ন দেশের ডিলার হাজির হইয়েছেন এই কনভেনশন এটেন্ড করতে, আরো আসছেন যারা রাতের মধ্যে এসে পোঁছাবেন।

ইস্টেফেন এসে আমাদেরকে রুমের চাবি দিয়ে বললো, “জেনি তোমাদেরকে রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসবে, আমি ঘন্টা খানেক পরে এসে দেখা করবো, তোমাদের লাগেজ অলরেডি তোমাদের রুমে পোঁছে গেছে”।
আমরা আপাতত ওর থেকে বিদায় নিয়ে জেনিকে ফলো করলাম, জেনির সাথে আমরা তিনতলার রুমে এসে প্রবেশ করেই অবাক হলাম কিন্তু জেনিকে তা বুঝতে দিলামনা, একটু পর জেনিকে বিদায় দিয়ে রুমের সৌন্দির্য্য নিয়ে নিজেরা বলাবলি করছি, টুইন বেডের রুম আমাদের, সবচাইতে অবাক করার বিষয় হলো আমাদের বিছানা দুটি, এ বিছানা এতো উঁচু আমাদের সন্দেহ হলো এতে কিভাবে উঠবো ভেবে, এতো উঁচু বেড আমার মতো ফ্রিকোয়েন্ট ট্রাভেলারও কখনো দেখি নাই, জীবনে প্রচুর ফাইভ স্টার হোটেলে থেকেছি, কিন্তু এমন বেড জীবনে প্রথম দেখলাম।
এরপরে আসি এর টয়লেট এবং বাথরুমের কথায়, এ আবার দুইটা ভাগে বিভক্ত, প্রথম ভাগে আছে পাশাপাশি দুইটা বেসিন, দুইটা মিরর, একি রুমে আছে আলিশান বাথটাব, বাথটাবের পাশেই আছে বিভিন্ন ধরণের এবং সাইজের টাওয়াল, এরপর আছে স্লাইডিং ডোর, ওইটা ঠেলে ভিতরে গিয়ে দেখি দুই ভাগ করা গ্লাস ডোর দিয়ে, একটাতে আছে টয়লেট, আরেকটাতে আছে স্পা শাওয়ার, যাতে আপনি গোসল করবেন ম্যাসাজের সাথে সাথে, পানিই আপনাকে ম্যাসাজ দেবে, রুমে আছে রিমোর্ট কন্ট্রোল টিভি, যা রিমোর্টের সাথে উপর থেকে নিচে নেমে আসবে, আবার আপনি চাইলে উপরে হাওয়া হয়ে যাবে, আছে বিভিন্ন ফ্রি ড্রিংক্সের ব্যবস্থা, রিডিং টেবিল চেয়ার, আলিশান দুই সোফা, আপনার রুম থেকেই দেখা যাবে নীল জলরাসির সমুদ্র, তার আগেই আছে এক পাশে সুইমিংপুল, আবার অন্য পাশে আছে বীচ পার্টির স্থান।

চলবে।
ছবিঃ গুগল।

১৩৯জন ১৩৯জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য