সানিয়া ভ্রমণ (৪)

ইঞ্জা ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ০৭:১৪:১২অপরাহ্ন ভ্রমণ ১৭ মন্তব্য

 

পরদিন সকাল সাতটায় রেডি হয়ে নিলাম আমরা ব্রেকফাস্টের জন্য, রেডি হয়ে দুজন দোতলায় চলে এলাম, এইখানেই ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা হয়েছে, দুজন ভিতরে হাই, হ্যালো করতে করতে প্রবেশ করলাম, এরপর দুজনে গিয়ে হাজির হলাম ব্রেকফাস্ট নিতে, প্রথমে নিলাম ব্রেড, বাটার, স্টিমড ব্রেড, দুই ডিমের অমলেট, ওগুলো নিয়ে একটা টেবিলে সিইও সাহেবকে বসিয়ে দিয়ে ফিরলাম জুস নিতে, জুস টেবিলে পেলাম গরম দুধ, তা দুই গ্লাস নিয়ে ফিরে এলাম, টেবিলে বসে আরামসে খেতে শুরু করলাম, ওগুলো শেষে দুজনেই উঠে গিয়ে প্রচুর ট্রপিকাল ফ্রুটস, বড় দুই গ্লাস অরেঞ্জ জুস, কিছু সুইটস নিয়ে এসে ফিরলাম নিজ টেবিলে, ইতিমধ্যে ইস্টেফেন সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তারা হাই হ্যালো করে গেলো, ফ্রুটস জুস শেষে দুজন সিইউ, সিইউ করে করে বেরিয়ে রুমে ফিরে গেলাম, সিগারেট খেয়ে কম্পলিট ভদ্রলোক হয়ে গেলাম, স্যুট পড়ে নিলাম আমি, আমাকে দেখে সিইও বেচারা গাইগুই করছে দেখলাম, বললো “ভাই আমি তো টাই বাঁধতে পারিনা”।
আমি হেসে উনার টাই বেঁধে দিলাম।
উনিও হাসতে হাসতে বললেন, আপনাকে দেখতেই এলিট এলিট লাগে, আমি গ্রামের ছেলে, কখনো এইসবের মধ্যে পড়িনি।
আমি জবাবে বললাম, এইসব তেমন কিছুইনা, চলুন নিচে যাওয়া যাক।

নিচে নেমে কনভেনশন হলের গেটেই পেলাম ইস্টেফেনকে, ইস্টেফেন এবং এক ডিরেক্টর আমাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে ভিতরে নিয়ে গেলো, আমাদের প্রথমে নিয়ে গেলো বড় এক ওয়ার্ল্ড ম্যাপের সামনে, কলম দিয়ে বললো, আমার দেশের উপর দুজনে যেন সাইন করি, সাইন শেষে পাশে রাখা গ্লোবে আবার সাইন করালো।
এইসব শেষ করে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম, ভিতরে ডংফেং গাড়ীর পার্টস ডিসপ্লে চলছে, আমরা ঘুরে ঘুরে দেখলাম, ওখানে ডংফেং ম্যানেজাররা সবাইকে পার্টসগুলো পরিচিতি দিচ্ছে, ইতিমধ্যে আমাদের সবাইকে একটা করে কার্ড দেওয়া হলো, যেখানে আজকের প্রোগ্রামের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, মূল প্রোগ্রাম শুরু হবে দুইটাই, আমি হাত ঘড়িতে দেখলাম দিনের এগারোটা বাজে, সিইওকে ইঙ্গিত করে আমি বেরিয়ে এলাম হল রুম থেকে, পিছন পিছন সিইও চলে এলেন, দুজনে রুমে ফিরে এসে কিছুক্ষণ নিজেদের কিছু কাজ সারলাম, বারোটার সময় নিচে নেমে দুপুরের লাঞ্চ করলাম গ্রীল্ড ফিস, সালাদ এবং ফ্রাইড রাইস দিয়ে।

দুপুর একটা তিরিশে আমরা প্রবেশ করলাম আবার কনভেনশন হলে, সেখানে টেবিল চেয়ার দেওয়া আছে, প্রত্যেক টেবিলে ডিলারদের নাম সম্বলিত কার্ড রাখা আছে কে কোথায় বসবে বুঝার জন্য, টেবিলে সুন্দর নেভি ব্লু কালারের পানির গ্লাস, পানির বোতল রাখা আছে, আমরা নির্দিষ্ট চেয়ারে গিয়ে বসলাম।
দুইটার একটু পরেই শুরু হলো প্রোগ্রাম, ইস্টেফেন এসে বললো, তোমাদেরকে এপ্রিসিয়েশন ক্রেস্ট দেওয়া হবে, তোমাদের মধ্যে কে যাবে ডায়াসে, আমি সিইওকে বললাম, আপনিই যান, ইস্টেফেন উনাকে নিয়ে ডায়াসের সামনে রাখা চেয়ারে নিয়ে গিয়ে বসালো।
প্রথমে শুরু হলো ৭৫এমএম পর্দায় ভিডিও, যেখানে দেখাচ্ছে এয়ারপোর্টে ডিলাররা আসছে, তাদের রিসিভ করা হচ্ছে, ধারাভাষ্যকারের বর্ণনা স্পিকারে ভেসে আসছে, একটু পর দেখলাম আমাদের ভিডিও, আমরা হাসিমুখে এক্সজিট দিয়ে বেরুচ্ছি, আমি থাম্বস আপ দেখাচ্ছি, গাড়ীতে উঠে চলে যাচ্ছি, একিভাবে অন্য ডিলাররা আসছেন, ভিডিও শেষ হলে ডায়াসে উঠলেন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার, উনার স্পিচের পরে এলেন কোম্পানির চেয়ারম্যান, উনি স্পিচ শেষে শুরু হলো ক্রেস্ট বিতরণ, আমার সিইও উঠে গিয়ে ক্রেস্ট নিলেন, আমি ডায়াসের সামনে গিয়ে পটাপট কিছু ছবি নিলাম।
এরপর ডিলারদের একে একে ডাকা হলো ইন্সেন্টিভ গ্রহণের জন্য, আমরা নিজেরাই পেলাম বিশ হাজার ডলারের চেক, প্রথম যারা হয়েছে তারা পেলেন এক লাখ ডলারের চেক, পাঁচটা মাইক্রোবাস, দুইটা পিকআপ।
বিকেল পাঁচটার পর আমাদের প্রথমার্ধের প্রোগ্রাম শেষ হলো, আমাদের বলা হলো সন্ধ্যা সাতটায় হবে ডিনার, আমাদের সবাইকে যাস্ট সাতটায় ফিরে আসতে হবে।

…….. চলবে।
ছবিঃ নিজ।

১৬৬জন ১৬৬জন
0 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য