সহস্রাধিক দর্শকে ভর্তি হল রুম। আর মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “সাদর সম্ভাষণ ১৪২০ বাংলা”। হল রুমের আলো একটু একটু করে নিভে আসছে, মঞ্চের সম্মুখের বিশালাকার কালো পর্দা ধীরে ধীরে উপরে উঠে যাচ্ছে তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে উপস্থাপকের প্রবেশ ঘটলো মঞ্চে। সেই সাথে কুদ্দুসের বিরক্তিরও ইতি ঘটলো, এতোক্ষণ ধরে আবুল টিভি’র পর্দায় মুখ হা করে তাকিয়ে অপেক্ষা করছিলো কখন পহেলা বৈশাখের এই লাইভ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক আসবেন। কুদ্দুস এবার নড়ে চড়ে বসলো…

স্মরিনা সে কাল যা গত হয়ে গেছে অতলে
ছাই হয়ে যাক সব পাপ পুড়ে নব অনলে,
গগণ মাঝে তপন ভাসুক স্বপ্নীল মূর্ছনায়
নব জীবনের আজি শুরু হোক নব প্রার্থনায়…
– জবরুল আলম সুমন

আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২০ বাংলা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আমাদের এই বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক এবং টিভি সেটের সামনে বসে, শুয়ে, দাঁড়িয়ে, দেশে বা দেশের সীমা ছাড়িয়ে যে যেখানে যে অবস্থায় থেকে আমাদের এই অনুষ্ঠান দেখছেন তাদের সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ। দর্শক আপনারাও আমার সাথে চিৎকার দিয়ে বলুন “শুভ নববর্ষ”। বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক পঞ্জিকা অনুসারে ইংরেজী বর্ষের বা গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই দিনে আমাদের দেশে সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালী জাতির জন্য বিশেষ উৎসবের দিন এ দিনে বাঙ্গালী জাতি নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখময় হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা একে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ্য হিসেবে বরণ করে নেয়। দর্শক আমরাও এই দিনটি বরণ করে নিতে চাই গানে গানে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকছে বৈশাখের গান, কবি গুরুর গান এসো হে বৈশাখ এসো এসো… চিন্ময় মুখার্জীর কন্ঠে কবি গুরুর গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন

টিভি পর্দায় গান ভেসে উঠলো সেই সাথে মডেলদের নর্তন কুর্দন। কুদ্দুসের বিরক্তি আবারো বাড়লো, এই গানের কি কোন বিকল্প নেই ? আর কত কচলাবে এই গানকে ? সেই ছোট বেলা থেকে বৈশাখ এলেই এই গান শুনে আসছে। নাহ, আমাদের কোন কিছুতে ভেরিয়েশন আসবে না। না সমাজে, না সংস্কৃতিতে, না রাজনীতিতে। আমরা কেবল মুখে মুখে দিন বদলের কথা বলি। কুদ্দুস কিছুক্ষণের জন্য আবুল টিভির চ্যানেল পাল্টে দিলো, মিনিট দুয়েক পর আবারো আবুল টিভিতে ফিরে আসতেই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ফিরে এলেন।

বাঙ্গালী সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব। বাংলা বর্ষবরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে বাঙ্গালী সমাজে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই দিনের সাধারণ মানুষকে বিনোদন দেবার লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। তবে সব কিছুর পেছনের একটা ইতিহাস থেকে যায়। বাংলা বর্ষ বা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হঠাৎ করেই শুরু হয়নি এর পেছনেও ইতিহাস রয়ে গেছে। প্রিয় দর্শক আসুন এখন আমরা বাংলা বছরের সূচনা কিভাবে হয়েছিলো তা জানার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জনাব আব্দুলের কাছ থেকে ঘুরে আসি।

হিন্দু সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বারটি মাস অনেক আগে থেকেই পালিত হতো। এই সৌর পঞ্জিকার শুরু হতো গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় হতে। হিন্দু সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হতো। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হতো। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ। প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হতো। ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করতেন। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হতো। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন।

১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে। আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে।

প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয় এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকান্ডের উল্লেখ পাওযা যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি। ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমেই বর্ষবরণ উদযাপন শুরু হয়। ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে “এসো হে বৈশাখ” গান গেয়ে নতুন বর্ষকে বরণ করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানট এই রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। বটমূল বলে পরিচিত হলেও আসলে এটা একটা অশ্বথ বৃক্ষ। কিন্তু অনেককাল ধরে এটা মানুষের কাছে বট বৃক্ষ বলে পরিচিত। ঢাকার বৈশাখী বা নববর্ষ উৎসবের আবশ্যিক একটি অংশ হচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের অন্যতম একটি আকর্ষণ। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা পদক্ষিণ করে এখানেই শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় আবহমান গ্রামবাংলা ও জীবনের ছবিকে ফুটিয়ে তোলা হয়। নানা শ্রেণী-পেশার বিভিন্ন মানুষ এই মঙ্গল শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের মুখোশ পরে। এই দিনে যেন পাঞ্জাবি আর শাড়ি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। রঙ-বেরঙের মুখোশ আর মুখে ফুলকি একে ছোট-বড় নানান বয়সী মানুষ এই দিনটিকে উৎসবের সহিত পালন করে। ঢাক-ঢোলের আওয়াজ আর বৈশাখী নানা গানের আয়োজনে এই দিনটি আরও উৎসবমুখর হয়ে উঠে।

প্রিয় দর্শক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাব আব্দুলের কাছ থেকে জেনে নিলাম পহেলা বৈশাখের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হচ্ছে পান্তা ভাত। ১৯৮৩ সালে রমনা বটমূলে কয়েকজন বাংলা সংস্কৃতি প্রিয় মানুষ প্রথম পান্তা-ইলিশের সূচনা করেন। তখন পান্তা-ইলিশের সাথে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ দিয়ে এর আয়োজন করা হয়। এভাবেই রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের সূচনা হয়, যা আমাদের বাঙালিয়ানার পরিচয় বহন করে। পান্তা ভাত, ইলিশ ভাঁজা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ছাড়া পহেলা বৈশাখ কল্পনা করা যায়না। দর্শক আসুন পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে আসি বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ভানুমতির কাছ থেকে।

পান্তা ভাত বাঙালি দরিদ্র জনগোষ্ঠির একটি জনপ্রিয় খাবার। রান্না করা ভাত প্রায় একদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা পান্তা ভাতে রূপান্তরিত হয়। মূলত পান্তা ভাত, ভাত সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। ভাত বেশিক্ষণ রেখে দিলে তা পচে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু পানি দিয়ে রাখলে গাজনকারি ব্যাক্টেরিয়া সেখানে ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে যার ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায় (pH কমে)। তখন পচনকারি ও অনান্য ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না। নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতকে পানিতে প্রায় একদিন ডুবিয়ে রাখলেই তা পান্তায় পরিনত হয়। ভাত মূলত পুরোটাই শর্করা (Carbohydrate)। ভাতে পানি দিয়ে রাখলে বিভিন্ন গাজনকারি (Fermentation) ব্যাক্টেরিয়া (Bacteria) বা ইস্ট (Yeast) শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক এসিড তৈরি করে। এই ইথানলই পান্তাভাতের ভিন্ন রকম স্বাদের জন্য দায়ী।

প্রিয় দর্শক আমরা এতোক্ষণ বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ভানুমতির কাছ থেকে জেনে নিলাম পান্তা ভাত সম্পর্কে এবার তবে সময় হলো নাচের। মঞ্চে আসছে এসময়ের অত্যান্ত জনপ্রিয় নৃত্য শিল্পী সাহারা খাতুন ও তার দল…

কুদ্দুস এবারো নড়ে চড়ে বসলো। নৃত্য শিল্পী সাহারা খাতুন তার দল নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করেছে। সাহারা খাতুনসহ প্রত্যেক সহশিল্পীর পরনে গামছা দিয়ে তৈরী বিশেষ জামা, হাতে কানে গলায় মাটি দিয়ে তৈরী অলংকার। প্রত্যেকের হাতে একটি করে মাটির কলস; পুরুষসহ শিল্পীদের হাতে কাস্তে, কোমরে বাঁধা গামছা ও মাথায় তাল পাতার তৈরী রোদ নিরোধক ছাতা। বুঝা-ই যাচ্ছে শহুরে এই শিক্ষিত নাচিয়ে দল আবহমান বাংলার গ্রামীণ জনগোষ্ঠির জীবন যাত্রা নাচের মাধ্যমে সবার কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে এই নৃত্যের মঞ্চায়ন করছে। কুদ্দুসের অজ্ঞান হয়ে যাবার মতো অবস্থা হলো। কুদ্দুসের সাম্প্রতিক অতীত ও বর্তমান খুব একটা সুখকর নয়। ভার্সিটিতে পড়া অবস্থায় পরিচয় হয় সহপাঠী মর্জিনার সাথে। পরিচয় থেকে প্রেম, আর প্রেম থেকে বিয়ে। বিয়ের আগে মর্জিনার কোন চাহিদা ছিলো না, প্রায়ই বলতো “কুদ্দুস, তুমি আমাকে বিয়ে করে যেভাবে রাখবে আমি সেভাবেই থাকবো” কিন্তু এখন সময় পাল্টে গেছে, এখন মর্জিনা কুদ্দুসকে যেভাবে রাখে কুদ্দুসকে সেভাবেই থাকতে হয়। মাস শেষে বেতনের সব গুলো টাকা মর্জিনার হাতে তুলে দিতে হয় পারিবারিক শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। বেতনের বড় একটি অংশ চলে যায় পাশের বাসায় ভাবীদের সাথে পাল্লা দিয়ে নিত্য নতুন বিদেশি জামা কাপড় আর অর্নামেন্ট কিনতে। তারপরও রয়ে গেছে চায়নিজ রেষ্টুরেন্টের দামি খাবারের বিল আর প্রতি মাসে দেশি বিদেশি বন্ধুদের নিয়ে বাসায় একটা, দু’টা পার্টি। কুদ্দুস মনে মনে ভাবে আহ! মর্জিনা যদি এই বাঙ্গালী পোষাক, বাঙ্গালী খাবার আর বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে পারতো তাহলে মাস শেষে অনেক গুলো টাকা বেঁচে যেতে পারতো। কুদ্দুসের ভাবনায় ছেদ পড়ে মর্জিনার আগমনে। ওয়েষ্টিন হোটেলে দেশি বিদেশি বন্ধুদের নিয়ে পহেলা বৈশাখের বিশেষ ভদকা পার্টি শেষ করে মর্জিনা হন্তদন্ত হয়ে ফিরে আসে, ঘরে ঢুকতেই কুদ্দুসের হাত থেকে টিভির রিমোট কন্ট্রোলটা কেড়ে নেয়। এক ঝটকায় আবুল টিভি থেকে ষ্টার প্লাসে চ্যানেল ঘুরায়, সাস ভি কাভি বহুতি’র আজকের পর্বের প্রথম পাঁচটি মিনিট আর দেখা হলো না বলে মর্জিনা কুদ্দুসের উপর রাগ ঝাড়তে থাকে…

জবরুল আলম সুমন
সিলেট।

তথ্যসূত্র:
প্রথম মহাযুদ্ধে বাংলা বর্ষবরণ, মুহাম্মদ লুৎফুর হক দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল ২০০৮
রমনার বটমূলে জাতীয় উৎসবে, নওয়াজেশ আহমদ, দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল ২০০৮
হাজার বছরের চট্টগ্রাম। দৈনিক আজাদীর ৩৫ বর্ষপূর্তি বিশেষ সংখ্যা। পৃ‌ ১৬২

২১৭জন ২১৭জন
0 Shares

৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য