ক্ষণস্থায়ী জীবনের একজন মানুষ যদি সে নিজেকে মানুষ দাবী করে থাকেন তবে তার মান সন্মান আর মনুষত্বকে নিজের জীবনে সব চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে নতুবা সে মানুষই না।সে ক্ষেত্রে নারীদের সব চেয়ে বেশী স্পর্শকাতর বিষয়টি হল কোন নারীর সম্ভ্রম বা ইজ্জত।আমাদের এই ভারতীয় উপ মহাদেশে পুরুষতান্ত্রীক সমাজে নারীদের সম্ভ্রমহানি ব্যাপারটি নারী জীবনের সর্বো ক্ষেত্রে খুব নাড়া দেয় যা প্রাচ্যাত্যাত্বের জন্য এটা একটা নরমাল বিষয় মাত্র।

এ সমাজে এক জন পুরুষ ধ্বংসে বা সামাজিক ভাবে সম্পূর্ণ বাতিল মাল বা মানুষ নামের অমানুষ হওয়ার বেশ  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারন থাকে তার মধ্যে-জুয়ারি,মাদক ব্যাবসায়ী আর মাগিবাজী।এই কয়েকটি বিষয় কম বেশ প্রায় পুরুষের মাঝে থাকলেও কিন্তু সমাজের একজন দর্পণ, এক জন মানুষের দ্বিতীয় জন্মদাতা,সুন্দর ও সঠিক ভাবে জীবন গঠনের অভিভাবক শিক্ষকের যখন ধর্ষণের মত একটি মহাপাপের সংশ্লিষ্টতা থাকে তখন নিজের কাছে একজন পুরুষ বা কারোনা না কারো অভিভাবক হিসাবে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়।ভাবতে থাকি তাহলে আমাদের মেয়েরা আর কার কাছে গেলে নিজের সন্মান নিয়ে বেচে থাকবে বা নিজেকে সমাজে শিক্ষায় দীক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জীবনকে সঠিক ভাবে পরিচালিত করবে।

এ দেশে ধর্ষণের ঘটনা নতুন কিছু নয়।আমাদের দেশে অধিকাংশ ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আর মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষা গ্রহন করে থাকেন।বগুরার মাদ্রাসার ছাত্রী  নুসরাত হত্যাকান্ডে প্রমান করে আমাদের মেয়েরা জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা স্থল ধর্মীও মাদ্রাসায়ও নিরাপদ নয়।তাকে যে শুধু যৌন হয়রানিই করা হয় তা নয় মাদ্রাসার তথাকথিত শিক্ষক সিরাজ তার সাঙ্গদের নিয়ে খুব পরিকল্পনা মাফিক নির্মম ভাবে পুড়িয়ে মারেন। অন্য দিকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ এর  ধর্ষণের বিষয়টি আমরা কম বেশ জানি।এর পরিসংখ্যান দেখলে রীতিমত অজ্ঞান হবার পালা।এ যেন এ দেশটা ধর্ষকদের স্বর্গ রাজ্য।
এমনি ভাবে জানা অজানা বহু যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটেই চলছে দেশের সকল স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোতে।তাহলে প্রশ্ন জাগে আমাদের মেয়েরা লেখা পড়া শিখতে, জীবনকে সুদীক্ষায় গড়ে তুলতে আর কোথায় যাবে? কি ভাবে নারী জাগরণের মহীয়সী নারী বেগম সুফিয়া কামালের স্বপ্ন পূরণ হবে।

আমি আমার এ লেখার মুল যে আলোচ্য বিষয়টি তা হল,ধর্ষণে সম্প্রীতি ঘটে যাওয়া আমার এলাকার স্কুলের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কতটা নীচ আর প্রতারক লম্পট হলে একজন শিক্ষক এমন বিবেকহীন ধর্ষণের মত কাজ করতে পারে তা আমাকে ভাবিয়ে তুলে।
ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি অঞ্চলে।যে অঞ্চলে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডারের ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল এর বসতবাড়ী ছিলো।সেই মিজমিজির মাদ্রাসা রোডে ব্যাঙ্গের ছাতার মত লোকাল নেতাদের ম্যানেজ করে গড়ে উঠা “অক্সফোর্ড স্কুল” এর সহকারী সিনিয়র শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বছরের পর বছর প্রায় ২০ এর অধিক সন্তান তুল্য ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এবং ব্লাকমেল করে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষিকা সহ প্রায় ৭০ এর অধিক নারীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী করা হয় এবং তাকে এ কাজে যিনি সহযোগিতা ও সমর্থন সহ নিজেও জড়িত ছিলেন তিনি হলেন স্কুলটির তথাকথিত প্রধান শিক্ষক জুলফিকার।
’ ৭১ টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রধান শিক্ষক  স্ত্রী এক জন নারী হয়ে তার  স্বামীর সম্পর্কে বেশ সাফাই গেয়ে যান অথচ তিনি নিজেও জানেন এবং এখন এলাকাবাসীর কাছে বিষয়টি স্পষ্ট যে তার স্বামীর মদদতে ঘটে যাওয়া এ সব ধর্ষণের ঘটনাগুলো ইচ্ছে করলে শুরুতেই সমাপ্তি বা স্কুলটিকে পবিত্র রাখতে পারতেন। তার কাছে এর আগেও একজন শিক্ষিকা যৌন হয়রানির রিপোর্ট দিয়েছেন।টিকতে  না পেরে সে স্কুলটি ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

এবার লম্পট তথাকথিত শিক্ষক আরিফের কিছুটা লম্পটগিরি প্রসঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করব।


বিভিন্ন পত্রিকা ও এলাকা বাসীর কাছ হতে জানা গেছে যে, লম্পট আরিফ ও তার সহযোগী প্রধান শিক্ষক জুলফিকার এ সব ঘটনাগুলো এক দিনে ঘটাননি।দিনের পর দিন – প্রথমে ছাত্রীদের ছবি ও ভিডিও করে ভয় দেখাত, সে তার টার্গেট ছাত্রীদের বলত, এখানে মানে মোবাইলে তোমাদের বা তোমার খারাপ খারাপ ছবি ও ভিডিও করা আছে,এছাড়াও তিনি পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া এবং ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখাত।তুমি বা তোমরা যদি বেশী বাড়াবাড়ি করো তবে ছবি ও ভিডিও গুলো অনলাইনে প্রকাশ করে দেবো।এর পর লম্পটের ইচ্ছে মত নিজের মনকামনায় পিপাসা মিটানো এবং সেই সব যৌনচার ছবি ও ভিডিও করে রাখা।
অতপর এ সব ছবি ও ভিডিও ছাত্রীদের অভিভাবকদের দেখিয়ে হুমকি দিয়ে তাদেরকেও যৌন হয়রানি করেন।কেউ কেউ এ সব সহ্য করতে না পেরে স্কুল হতে পরিবার সহ অন্যত্র চলে যান।শুধু তাই নয়, জানা যায়  এ ঘটনায় পাঁচ ছয় শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়েছিলো তা গোপনে আরিফ তাদের ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছেন। আর যাতে এ অবৈধ সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে রাখা যায়  সে জন্য এর ভিডিও ও ছবিগুলো সংরক্ষণ করে ছাত্রীদের দেখিয়ে দিনের পর দিন যৌনচার করে যেতেন।

এ সব অবৈধ ঘটনাগুলো তিনি প্রথম শুরু করেন ২০১৪ সালে।তখন প্রাইভেট পড়ানোর ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি করেন অতপর যৌন কার্ষ সম্পাদন করে তা ছবি ও ভিডিও করে তার যৌন কামনার ফাদে ফেলেন।

তার দ্বিতীয় শিকার হলেন ৯ম শ্রেনীর এক ছাত্রী।২০১৫ হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাদের যৌন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে।কয়েক বারের অন্তঃসত্বাও ঔষধে নির্মূল করেন।গোপনে ছবি ও ভিডিও তুলে এই মেয়ের সাথে বিয়ের পরও যৌন সম্পর্ক বজায় রাখেন।

এমন অসংখ্য ঘটনা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে যা শুনলে নিজের কাছে অবাক মনে হয়।এরাই কি তাহলে আমাদের বর্তমান সময়ের সন্তানদের শিক্ষক? অথচ আমাদের মানে আশি দশকের শিক্ষকদের চরিত্র আর বর্তমান যুগের শিক্ষকদের চরিত্রের মাঝে কতই না পার্থক্য।আশির দশকের শিক্ষকরা শিক্ষা দিতেন ঘরে ঘরে গিয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে, দিনরাত ছাত্রদের লেখা পড়ার খোজঁ নেয় সরেজমিনে গিয়ে আর ছাত্রদের ঘরে বা প্রাইভেট পড়াটার বেশীর ভাগই শেষ হত স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের মনযোগ শিক্ষাদানে।আর এখনকার শিক্ষাটা স্কুলগুলোতে নাম মাত্র।কোচিং যেন শিক্ষকদের প্রধান কামনা।টাকাই যেন সন্মানের চেয়ে বড় বেশী আপণ।

ঘটনাগুলো জানা জানি হয়   ২৫ জুন ২০১৯ স্কুলটির নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেয় লম্পট শিক্ষক আরিফুল। ছাত্রীটি তখন বিষয়টি তার তার মা–বাবাকে জানালে তারা এলাকাবাসী নিয়ে লম্পট শিক্ষক আরিফুল ও প্রধান শিক্ষক জুলফিকারকে গণপিটুনি দিয়ে সকাল থেকে তাঁদের শাস্তি দাবিতে অক্সফোর্ড হাইস্কুলটিকে ঘিরে রাখেন।পরে এলাকাবাসী বিষয়টি Rab-১১ কে জানালে তারা এসে আরিফুলের মুঠো ফোন সার্চ করে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রমান পেয়ে তারা তাদের গ্রেফতার করেন।

প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট সূত্র বলছেন, Rab-১১–এর কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদে ফেলে ২০১৪ সাল থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত অক্সফোর্ড স্কুল এবং বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সহ মোট ২০ জনকে ধর্ষণের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এ সব শিক্ষার্থীরা ছিলেন বেশীর ভাগ পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর।শিক্ষক আরিফের মুঠোফোন, ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে ছাত্রী ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক আরিফুল ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকারও করেছেন এবং তাঁকে এ সব কাজে মদদ দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করা হয়।এখন আরিফকে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুটি মামলায় ৩ দিন করে ৬ট দিনের রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদ শেষে করে তাকে আদালতে পাঠান।আদালত তার জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠান।

এ তো গেল কয়েকটি ধর্ষণের জানা অজানা ঘটনা কিন্তু এ দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাচ্ছে অসংখ্য নারী নির্যাতন সহ শিশু ধর্ষণের মহড়া।রাষ্ট্রের কর্ণধারদের নিকট এ যেন কিছুই নয়।অপরাধীরা অপরাধ করবে আর রাষ্ট্র তাদের বিচার করার অযুহাতে তদন্ত ফদন্তের নামে যুগ যুগ ঝুলিয়ে রেখে দূর্বল আইনের ফাক ফোকর দিয়ে ক্ষমতার দাপটে এ সব অপরাধীরা এক সময় খালাস পেয়ে যাবে।সে ক্ষেত্রে অপরাধীদের সব চেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হল জেলখানা।তাই আমদের সময়ের দাবী ধর্ষণে মৌখিক ও সরেজমিন স্বাক্ষীর প্রাথমিক প্রমানেই ধর্ষণকারীকে ক্রসফায়ারে দেয়া হোক। ধর্ষণকে রাখা হোক রাষ্ট্রীয় ঘোষনায় অন্যান্য  জিরো টলারেন্স এ মাদক-সন্ত্রাস এর মত জিরো টলারেন্সে।

কারন রাষ্ট্রের কর্ণধারদের মনে রাখা দরকার-নারীরা আমাদের এ পুরুষ শাসিত সমাজে বড় অবলা।তারা ঘরে কিংবা বাহিরে কোন না কোন কারনে অনবরত হচ্ছেন নির্যাতীত,অবহেলিত,ইভজিং, ধর্ষিত যা থেকে নারী,শিশু,বয়োবৃদ্ধ কেহও এ যৌন লাঞ্ছণা হতে রেহাই পাচ্ছেন না।যেমন  এ সমাজের আম পুরুষ কিংবা শিক্ষক হতে রেহাই পাচ্ছে না তেমনি রক্ষা পাচ্ছে না স্বয়ং পিতা হতেও।
আবার ধর্ষণের পর বিচারিক কার্যে নারীদের আদালতে প্রকাশ্যে জন সম্মুখে আরেক বার প্রমান করতে হয় যে, সে কি ভাবে ধর্ষিত হয়েছিলো।এটা যে একজন নারীর জন্য কত বড় লজ্জা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।এ সব লজ্জাকর বিচারিক ফর্মালিটিসের কারনে ধর্ষিত অনেক নারীই বিচার চাওয়া হতে নিজেকে গুটিয়ে নেন।তাই বন্ড নয়ন সন্ত্রাসীর মত  সময়ের দাবী ধর্ষককে ক্রসফায়ারে দেয়া হোক।

চলবে,,

——————————-

তথ্য ও ছবি
প্রথম আলো
মানব জমিন
ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যম।

৪৪২জন ১০৯জন
181 Shares

২৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য