সময়ের কথা!

খুব করে খেয়াল করে দেখলাম,পরীমনি ইস্যুতে বিশিষ্ট সাংবাদিকদের হাতের কলম টনকে টন কালি খরচ করে চলেছে পরীমনির অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য। আর এই একই সান্মাদিকদল মুনিয়ার বেলায়ও প্রায় একই ভূমিকা রেখেছিলেন। কেউ অবশ্য আবার এসময়গুলোতে সুশীল ভূমিকায়ও থাকেন।

অথচ এই এনাদের কাউকেই মাদ্রাসায় বলাৎকার নিয়ে তেমন লিখতে দেখা যায়নি। কখনো তাঁদের কলম দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে জ্বলে উঠতে দেখিনি। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে তাঁদের জ্বলে উঠতে দেখি, সে পাপিয়া-সাবরিনার দেখা পেলে তাঁরা ঠিক নেচে-গেয়ে ওঠেন বটে!

তো, এক পরীমনিই যদি আপনাদের চুলকানিকে রীতিমতো ঘা করে দিতে পারে, তো হাজারো পরীমনি রাতের রাস্তা দখলে নিলে কী করবেন ভাইয়্যু? রাতের আঁধারে লুকিয়ে পরীমনির সাথে মদ গিলে খুশগল্প করবেন আর একটু এদিক-ওদিক হলেই বেশ্যা মাগি বলে ছুঁড়ে ফেলবেন, সবসময় যে একক রাজত্বই থাকবে এমনটা ভাবছেন কেন?

মুনিয়ারা আত্মাহুতি দেয় কিন্তু পরীমনিরা রণমুর্তি ধারণ করে, কেন জানেন? হাজারো মুনিয়ার আত্মার অভিশাপেই এক পরীমনি জন্মলাভ করে। জানিয়ে যায়, হাজারো মুনিয়ার কণ্ঠরোধ করতে যে দুর্গ তোমরা গড়ে তুলেছো, সেটায় হাল্কা একটা নাড়া দিয়ে জানিয়ে গেলাম তোমাদের দুর্গ রাতের পরীমনিরা দখলে না নিলে তোমরা টাল হয়ে পড়ে থাকো, আবার ভোরের আলো ফোঁটার সাথেসাথেই যখন হুস ফিরে স্যুট-কোট পড়ে বলে ওঠো, এই বেশ্যাটা এখানে আইলো ক্যামনে? আর এক টালের আওয়াজ শোনামাত্র হাজারো ভাই-বেরাদর হুক্কাহুয়া তুলে বলতে থাকে “আমার ভাইয়ের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র।”

হ্যাঁ, পরীমনি তাই-ই বোঝাতে চেয়েছে, রাতের ঢাকায় পরীরা রাস্তায় নামে, পুরুষরা ঘরে যাও। সত্যিই তো, পরী না থাকলে জিনরা যে হারে মদাসক্ত হয়, টাল হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা ছাড়া আর কী করবে? কাজেই রাতের রাস্তায় পরীরাই রাণী। আর স্যুট-কোটপরাদের জন্য দিনের ঝলমলে আলো। যেখানে তারা একেকজন রাজা উজির। সো, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদে সম্পদশালীরা সর্ব সময় নিজেদের রাজা উজির ভাবলে তো হবেনা। রাতের পরীদের সাক্ষাত পেতে হলে তাদের সাথে বোঝাপড়া করেই পেতে হবে। টাকার গরমে ধরারে সরাজ্ঞান করলে চলবে না। জবরদস্তির দিন শেষ। জোর করে টেসে ধরে মদ গিলিয়ে যাচ্ছেতাই করার দিন শেষ।  হালের পরীমনিদের ভাষ্য হচ্ছে, “তুমিও চোর, আমিও চোর’ চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। কাজেই তুমি যদি আলোর রাজা হও, আমি তবে অন্ধকারের রাণী। বোঝাপড়া ছাড়া জগত সংসার অচল।”

যাহোক, অনেক তো একতরফা সব দখলে রেখেই খেলে গিয়েছেন ভাইয়্যু, এবার সে খেলায় পরীরাও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে। মুনিয়াকাণ্ডে দেখা তো গেছে, নিজস্বার্থে আপনারা যেমন সোনা ময়না টিয়া বলে বলে মুখে ঝপ করতে পারেন, সেই আপনারাই আবার স্বার্থে উনিশ-বিশ হলে হেন কোনো দুর্গন্ধযুক্ত শব্দ নেই যা বলতে পারেননা। তো, এক পরীমনিতেই এভাবে হুক্কাহুয়া শুরু করলে হাজারো পরীমনির মিছিল রুখবেন কীভাবে একটু চিন্তা করুন প্লিজ।

হ্যাঁ, চিন্তা করুন। চিন্তা না করলে নিজেকে শুধরাতে পারবেন না। আর না শুধরালে কী হতে পারে অনুমান কি করতে পারছেন? এমনও দিন আসতে পারে, ভোরের আলো ফোঁটার সাথেসাথে বেশ্যা বলে যে প্রমাণটি আপনি মুছে দিতে চেয়েছেন, ময়না তদন্ত শেষে সে প্রমাণই আপনার পিতৃত্বের যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিয়তি যে বড়ই কঠিন। প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। সুতরাং হুসে ফিরুন। সভ্যতার চাকা একা ঘুরতে পারেনা, সভ্যতার চাকাকে ঘুরাতে হয়। দ্বৈতহাতে না ঘুরালে সভ্যতা তো এগুবেই না, বরং অসভ্যতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

★জনৈক সাংবাদিক কলাম লিখেছেন: রাতের ঢাকায় পরীরা রাস্তায় নামে, পুরুষরা ঘরে যাও।

১৬৯জন ৬০জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ