হিন্দুদের মধ্যে সতীদাহপ্রথা প্রচলিত ছিল। কিন্তু হিন্দুদের সৌভাগ্য যে তাদের সম্প্রদায়ের একজন রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম হয়েছিল যিনি এই প্রথা বন্ধ করেছিলেন। ইহা সহী হিন্দু ধর্ম নয় বলে তিনি নিজের দায়িত্ব শেষ করেন নি।

হিন্দুদের মধ্যে বিধবাবিবাহ ছিল না। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যিনি বিধবাবিবাহ চালু করেছিলেন তিনি নাস্তিক হলেও উনার জন্ম হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়েছিল। পরিবর্তনের শুরুটা করেছিলেন সবার আগে নিজের ছেলের সাথে এক বিধবার বিয়ে দিয়ে। দৃষ্টান্ত এবং উদাহরণ নিজের ঘর থেকেই শুরু হোক। বিদ্যাসাগরও ইহা সহী হিন্দু ধর্ম নয় বলে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন নি।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যিনি হিন্দুধর্মকে তেলাপোকার সাথে তুলনা করে কটাক্ষ করেছিলেন। বিলাসী ছোটগল্পে এক হিন্দু সমাজপতি গর্ব করে বলেছিলেন;-
“হিন্দু ধর্ম তার নির্ভূল বিধিবিধানের জোরে এতকাল টিকিয়া আছে।”
জবানে লেখক(শরৎচন্দ্র) বলেছিলেন;-
“অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে। টিকিয়া থাকাটাই চরম স্বার্থকতা নয়।”
নানা উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারগুলোকে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত করেছেন নিজের লেখনি দিয়ে।

হিন্দুদের সৌভাগ্য যে তাদের মধ্যে রামমোহন, বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্রদের জন্ম হয়েছিল। যারা ইহা সহী সনাতন নহে, ধর্মে এসব নেই বলে দায়িত্ব শেষ করেন নি। লড়াই করেছেন প্রথার বিরুদ্ধে। নিজেদের আত্মসমালোচনা করেছেন। সব ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্র আর আমাদের কোন ভুলে নেই এটা তাদের মানসিকতা ছিল না। অবশ্য হিন্দুদের সহনশীলতাও ধন্যবাদ পেতে পারে। এসব প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য কেউ তাঁদের চাপাতি দিয়ে কোপাতে যায়নি।
নয়তো দেখতেন মুসলমানের ঘরে জন্ম হলে;-
“অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু ইসলাম টিকিয়া আছে” এটা বলার জন্য কোনদিন অভিজিৎ রায়দের মতো শরৎচন্দ্রকেও কুপিয়ে দেওয়া হতো। আমাদেরও “দেবদাস”, “পথের দাবী” কিংবা “শেষ প্রশ্ন” এসব অসাধারণ উপন্যাস আর পাওয়া হতো না।

২৬৯জন ২৬৮জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

  • শুন্য শুন্যালয়

    রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যুগে যুগে বারবার জন্ম নেয়না। মুসলিম প্রথার বিরুদ্ধে কেউ লেখেনি?লিখছেনা? প্রথা ভাঙ্গার চেস্টা কি কেউ করেনি? এতদিনে তো আমরাও তাহলে বোরখা আর হিজাবের ভেতর কারো গুলি খাবার অপেক্ষায় থাকতাম। যারা চাপাতি দিয়ে কোপাচ্ছেন তারা সহী মুসলমান, যারা কোপ খেয়ে মরছেন তারা সহী বাস্তববাদী, প্র্যাক্টিকেল মানুষ। আর মাঝখানের কিছু মানুষ এরা কোন দলের মধ্যেই পরছে না। মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছে এই অপরাধে এরা দুইদলেরই গালি খাচ্ছে।

  • কৃন্তনিকা

    আপনার লেখার সাথে সহমত হতে পারছি না।
    আমার জ্ঞানের স্বল্পতা থাক্তেই পারে। কিন্তু আমি যতদূর জানি, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নাস্তিক ছিলেন না। হিন্দুসমাজে একসময় চরম কুসংস্কার ও কুপ্রথা ছিল, বিদ্যাসাগর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজবিরোধী ছিলেন, নাস্তিক না। বিধবা-বিবাহ চালু করার জন্য তিনি বিধবা-বিবাহকে শাস্ত্রমতেই বৈধ প্রমাণিত করেছিলেন। রামায়ণে বালিপত্নী তারার বিবাহের উল্লেখ আছে। মহাভারতের পান্ডুস্ত্রী কুন্তিও পান্ডুর মৃত্যুর পর জীবিত ছিলেন, অর্থাৎ সতীদাহ কোন ধর্মীয় বিধি নয়।
    কুসংস্কার-কুপ্রথার উৎপত্তি সমাজে, ধর্মে নয়। শরৎচন্দ্র তেলাপোকা বলেছেন “প্রচলিত কুপ্রথা ও বিধিনিষেধ”কে, যা হিন্দুসমাজের সৃষ্টি, হিন্দু ধর্মের নয়।
    সহী ইসলামও কোপাকোপির কথা বলে না। নবীজি বিদায় হজ্বে বলেছিলেন, “মুসলমানগন, তোমরা ধর্ম লইয়া বাড়াবাড়ি করিও না”
    বেগম রোকেয়া কি মুসলিম সমাজের প্রচলিত অশিক্ষার বিরুদ্ধে লেখেন নি? ঘরের বাইরে মেয়েদের নিয়ে আসেন নি?
    আবারো বলছি, আমার জ্ঞানের স্বল্পতা থাকতে পারে। আশা করছি, ব্যাখ্যা পাবো আপনার কাছে থেকে।

    • জুলিয়াস সিজার

      আচ্ছা? হুমায়ুন আজাদকে কেন কোপানো হয়েছে? চার ব্লগারকে কারা কোপাইছে? তারা ইসলামী মৌলবাদী না? তসলিমা কাদের ভয়ে দেশ ছাড়া? বেগম রোকেয়ার কপাল ভালো। তখন জন্মেছিলেন। এই যুগে জন্মালে কোপ খেয়েই মরতেন।
      এবার আসি বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে। তিনি বলেছিলেন বাঙালি যুবকদের আমি বিশ্বাস করি না। যৌবনে তারা প্রচন্ড ধর্মদ্রোহী নাস্তিক আর বৃদ্ধ বয়সে প্রচন্ড ধর্মভীরু।
      শুধু বেগম রোকেয়া কেন? হুমায়ুন আজাদ,আহমদ ছফা, আহমদ শরীফ, আরজ আলী মাতব্বর এনারা মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া নাস্তিক। উনারা লিখেছেন কিন্তু কোপ খান নি। কারণ যে সময়টা উনার লেখালেখি করতেন তখন বাঙালি মুসলমান কিছুটা মানুষ ছিল। তাই আহমদ শরীফের বিরুদ্ধে মিছিল হয়েছিল শুধু। আহমদ ছফার বিরুদ্ধে জুমার নামাজে লিফলেট বিলি হতো। এতটুকুতেই শেষ।
      এরপর পৃথিবী এগিয়েছে। আর বাঙালি মুসলমান দিনদিন মুসলমান হয়েছে। তারা যে মানুষ সেটা তারা ভুলেই গেছে। তাই হুমায়ুন আজাদ, অভিজিত রায়, বাবু, অনন্ত বিজয়দের কোপ খেয়ে মরতে হয়।

  • স্বপ্ন নীলা

    আপনার লেখা মনোযোগ দিয়েই পড়লাম — সমাজে কিছু লোক আছে যারা কোন বিষয়ের কিছু জানে আর বেশির ভাগ জানেই না, আবার কিছু আছে জানার আপ্রান চেষ্টা করছে, আবার কিছু আছে জানছে এবং ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করছে এবং তা মানার চেষ্টা করছে — । এখন যারা কিছু জানে আর বেশির ভাগই জানে না তারাই সমাজে সমস্যা তৈরি করে — আজ যারা দেশে দেশে ইসলাম গেল বলে হাতে অস্র তুলে নিয়ে অন্যদের আঘাত করছে তারা কিন্তু ঐ কিছু জানা আর বেশির ভাগ অজানার দলে, আর তাদেরকে কাজে লাগাচ্ছে সুযোগ সন্ধানী আমেরিকা — আমার সালের কথা মনে আছে কিন্তু মাসের কথা মনে নেই -২০০৯ সালে প্রথম আলো পত্রিকাতে হিলারী ক্লিনটনের ধারাবাহিক কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল তাতে তিনি বলেছেন কিভাবে আমেরিকার স্বাথে কিভাবে গোড়াপন্থী মুসলমানদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল —- এখন দেশে দেশে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ইসলামকে ব্যবহার করা হচ্ছে যা খুবই কষ্টের কারণ —
    ভারতে এখন মুসলমানদেরকে জোর করে হিন্দু বানানো হচ্ছে, মুসলিম মেয়েদেরকে জোর করে ধর্ষণ করা হচ্ছে, মুসলিম ছেলেদেরকে পড়ালেখা ও চাকুরীর সুবিধা রহিত করা হচ্ছে, তাদের জোর করে বন্ধান্ত করানোর কথা বলা হচ্ছে, তাদের সম্পত্তি দখলে নেয়ার জন্য পায়তারা করা হচ্ছে — এটাও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যই করা হচ্ছে —
    ইসলাম ধমে বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় না দিতে বলা হয়েছে — কিন্তু অনেকের অন্ধত্বের জন্য অন্যরা তার সুযোগ নিচ্ছে আর গোটা ইসলাম ধর্মকে খারাপ বলা হচ্ছে যা একেবারেই অনুচিত

    • জুলিয়াস সিজার

      আমেরিকা বাংলাদেশের আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে তৈরি করছে? ভারতে মুসলমানদের হিন্দু বানানো হচ্ছে? মুসলিম মেয়েদের ধর্ষন করা হচ্ছে? আমাকে তথ্য দেন।
      এবার বলেন এখানে ভারত নিয়ে মন্তব্য করার কারণ কি? বাংলাদেশের হিন্দুরা কতটা ভালো থাকবে না থাকবে তা নির্ভর করবে ভারতের মুসলমানেরা কেমন আছে তার উপর? এটাই কি আপনার মতামত? কথা হচ্ছে ধর্মের সমালোচনা নিয়ে। আপনি কি মনে করেন ইসলামে যা লিখা আছে তার সবই সঠিক? এগুলোর বিপক্ষে কিছুই বলা যাবে না? বললেই কোপাতে হবে? যারা কোপাইছে তারা সহী মুসলমান নয়? তাহলে মুসলমান কে? আপনি? যিনি ব্লগে শান্তির বানী প্রচার করছেন তিনি?

  • ইমন

    হুম। আমি এটাই চাই। জা আছে তাই একটু ঘসে মেজে চলি। কিন্তু তা না করে নব্য মুক্তমনারা হাজার বছরের মতবাদ, প্রথাকে এক বাক্যে লাথি মারে।
    আপনার উদাহারণ যদি তাদের কানে পৌছায় ও বা, তাতে কাজ হবেনা। কারণ তারা সবজান্তা শমশের এক একটা।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য