সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

সমাজ নামক আসামির কথা

দালান জাহান ৯ আগস্ট ২০২১, সোমবার, ০৫:২৪:৫৬পূর্বাহ্ন অন্যান্য ৪ মন্তব্য

 

সমাজ একটি প্রাগৈতিহাসিক সংগঠন। পৃথিবীর শুরু অদ্যাবধি এই সংগঠনটি আমাদের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।

মানুষ পশুপাখি সহ অন্যান্য জীবজন্তুর মাঝেও এই সংগঠনটির আবশ্যিকতা দেখা যায়। অর্থাৎ এই সংগঠনটি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন। 

যে যেকোনো সময় যে কারো উপর তার নীতি নিয়ম প্রবর্তিত করতে পারেন। যেকোনো সমাজে বসবাস করি ব্যাক্তি গোষ্ঠীর প্রতিবিম্ব দেখা যায়। তাই সমাজকে অনেকেই আয়নাও বলে থাকে। 

এর প্রভাব অনেকটা সূর্যের আলোকরশ্মির মতো সূর্য সকালে যেমন নরম আলো দেয়, দুপুরে দেয় তপ্ত রোদ এ রোদে পোড়ে অনেকের চোখ মুখ ঝলসে যায়। 

তেমনই সমাজের নিয়মগুলো অনুরূপভাবে আমাদের জীবনের অপরিহার্য আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা মানসিক ক্ষতি ও কষ্টের উদ্রেক করে। 

আসলে সমাজ ছাড়া বসবাস করা হয় তো আমাদের জন্য হানিকর অবস্থা হতো। তবুও সমাজের বাধ্যবাধকতা এবং কিছু অদ্ভুত নিয়মনীতি আজও মানুষের বিড়ম্বনার বীজ রোপণ করে। 

কিন্তু পৃথিবীর সমবয়সী এই সংগঠনটি আজও পুরোপুরি সুষ্ঠ ও পরিশুদ্ধ নয়। সমাজের আবেগের মূল্য নেই।

সমাজ বিচার করে তার নির্ধারিত নিয়ম নীতি দিয়ে। যেমন শ্বাস রোগে মৃত পথযাত্রীর বৃদ্ধের ভেন্টিলেটরটি খুলে যুবকের মুখে লাগানো হয় সামাজিক কারণেই। 

কিন্তু অসহায় বৃদ্ধের চোখের জলের যে ওজন তা সমাজ ধারণ করে না। শুধু করুণাটুকু দু-হাত দিয়ে মুছে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। সমাজ ঠিক এভাবেই চিরকাল ধরে আমাদের শাসন ও শোষণ করে আসছে।

অনেক অপরাধ সৃষ্টির জন্য সমাজ পুরোপুরি দায়ী। অপরাধের জন্য অপরাধীর বিচার হচ্ছে কিন্তু সমাজের বিচার হচ্ছে না। সমাজ থেকে যাচ্ছে বিচারের বাইরে। 

এই প্রভাবমূলক সংগঠনটির শক্তি এতোই বেশি যে, সে আজও সবকিছু নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছে।

তবে সেদিন হয় তো বেশি দূরে নয়, যেদিন সমাজকেও জবাবদিহিতার জন্য যেতে হবে কাঠগড়ায়। 

দালান জাহান 

০৬.১২.২০

৫৯জন ২২জন
0 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য