সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

সব ভালো কি ভালো ?

আরজু মুক্তা ২৪ জুলাই ২০২১, শনিবার, ১২:০৬:৩৪পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৮ মন্তব্য

শকুন একপ্রকার পাখি। যদিও এখন দুর্লভ। এটি মৃত প্রাণীর মাংস খায়। শকুন মানুষের কাছে অপছন্দের একটি পাখি। অথচ এরা উপকারী। তবে, এরা প্রয়োজন না হলে জীবন্ত প্রাণী শিকার করে না বা খায় না।

একবার আমাদের গরু মরেছিলো। রাতে মরদেহটা মাঠে রেখে আসা হয়েছিলো। সকালে উঠে দেখি, কোত্থেকে শকুনের দল এসে অর্ধেক সাবাড় করেছে। আর আশ্রয় নিয়েছে সবচেয়ে উঁচু গাছটাতে।

এখন মানুষের মাঝে শকুন। চারপাশে শকুন। এমনকি শকুনের মধ্যেও শকুন। এদের অপরাধ অনেকটাই দৃশ্যমান।  আবার তাদের কাজটা ইতিবাচক মনে হলেও পেছনে নেতিবাচক দিক থেকেই যায়। আলোর নিচেই তো অন্ধকার। আমাদের চামড়ার চোখ। আবার সবটা দেখতে পারে না। এটা কী আমাদের অপূর্ণতা না বিবেচনা বোধের অভাব?

১৯৯৪ সালে পুলিৎজার পুরস্কার অর্জন করেছিলেন কেভিন কার্টার। তিনি একজন ফটোগ্রাফার। তাঁর ছবিটার নাম ছিলো “The vulture and the little girl ” ১৯৯৩ সালে যখন সুদানে দুর্ভিক্ষ চলছিলো, ছবিটি সেই সময়ে তোলা। একটি কঙ্কালসার বাচ্চা মেয়ে আর সবার মতো ছুটছিলো রিলিফ ক্যাম্পের দিকে। মরুভূমির তপ্ত রোদে তার হাড়গুলো যেনো ঠিকরে বের হচ্ছে। ক্ষুধায় আর চলতে পারছে না। হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ক্লান্তিতে দুর্বল শরীর থমকে যায়। একটা শকুন তার পিছু নেয়। ক্ষুধার্ত শকুনও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে কখন সেই ছোট দেহটি খাবলেে খাবে। দুটি ক্ষুধার্ত প্রাণীর রুদ্ধ শ্বাসের লড়াইয়ের একটি ছবি বিখ্যাত হয়ে যায়। সেই কাঙ্খিত ছবিটি নিউইয়র্ক টাইমস চড়া দামে কিনে নেয়। আর কেভিন ভাসতে থাকেন খ্যাতি, সম্মান আর প্রশংসায়।

সে সময় এক ফোন ইন্টারভিউয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, মেয়োটির শেষ পর্য়ন্ত কী হয়েছিলো?  উনি উত্তরে বলেছিলেন, ” তিনি জানেন না। তার ফ্লাইট ধরার তাড়া ছিলো।” অপর প্রান্ত থেকে লোকটি বলেছিলো, ” তাহলে ওখানে দুটা শকুন ছিলো, যার একটার হাতে ক্যামেরা ছিলো। ”

ছবি তোলা অপরাধ নয়। কিন্তু শিশুটিকে না বাঁচানো ছিলো অপরাধ। কেভিন বুঝেছিলো সৃষ্টির ক্ষুধা। আর সেই শকুনের ছিলো পেটের ক্ষুধা। কোন পার্থক্য নেই। অদৃশ্য একটা পাপবোধ থেকে কেভিন শকুন হয়েছিলেন। আর অসময়ে বুঝে দগ্ধ হয়ে করেছিলেন আত্মহত্যা।

পাপ কখনো মানুষের অগোচরে ঘটে যায়। আমরা জানি ও না। হয়তো অসময়ে বুঝি। তাই বলে কী অনুশোচনা থাকবে না?  চারিপাশের শকুনদের মধ্যে নাই মানবিকতা ; নাই অনুশোচনা। নাই আত্ম উপলব্ধি। বিবেকের তাড়নাও অনুপস্থিত।

আমরা কী এই ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে জ্বলে উঠতে পারিনা ?

৪৭৭জন ১০০জন
90 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য