সব কটা জানালা খুলে দাওনা

তৌহিদুল ইসলাম ১৪ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ১২:৩৩:০৫অপরাহ্ন মুক্তিযুদ্ধ ১৪ মন্তব্য

স্নেহের শামীম,

কারও কোন বিপদে এখন আর এক পয়সার সাহায্যে আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থা আমার কাছে অসহ্য। সারা জীবন পরিশ্রম করে আজ বলতে গেলে একেবারে নতুন করে সংসার যাত্রা শুরু করতে হবে। কোন অপঘাতে যদি মৃত্যু হয়, জানি না কোন অকুলপাথারে সকলকে ভাসিয়ে রেখে যাব। কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবিনি যে সংসার জীবন এমনি করে পেছনে ফিরে যেতে হবে। এ বয়সে নতুন করে দুঃখ–কষ্টের মধ্যে যাওয়ার মতো মনের বল আর অবশেষ নেই। যা হোক তোমাকে আশীর্বাদ করি, জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে সামনে এগিয়ে যাও। আমার বন্ধুবান্ধবের সম্পর্কে যে কথা লিখেছ, ওতে আমি বিস্মিত হইনি, কারণ আমি অনেকের বন্ধু হলেও কেউ আমার বন্ধু ছিল না। কারণ এ সংসারে সকলেই স্বার্থের দাস, জীবনের মহত্ত্বের গুণাবলি কয়েকজনের আছে। আমার জীবনে অপরিচিত জন ছিল যাঁরা বিপদেআপদে তাঁরাই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, পরিচিত কোন বন্ধুজন নয়।

শুনে খুশি হলাম, তুমি মানিকের স্নেহস্পর্শে আছ। ওদের কয়েকজনকে আমি বরাবর স্নেহের নয়, শ্রদ্ধার চোখেই দেখেছি। ওকে আমার শুভেচ্ছা জানাবে।

ইতি, আব্বা
এগারোই অক্টোবর উনিশ শ একাত্তর

এটি শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজউদ্দীন হোসেন কর্তৃক তার পরিবারকে লেখা শেষ চিঠি। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র পাঁচদিন আগে ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আরেক দফা বুদ্ধিজীবী হত্যা। হায়েনারা ১০ ডিসেম্বর ধরে নিয়ে যায় প্রথিতযশা সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন হোসেনকে। তাঁকে আর পাওয়া যায়নি।

[কৃতজ্ঞতা – প্রথম আলো পত্রিকায় শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দীনের আরেক সন্তান নিউইয়র্কপ্রবাসী সাংবাদিক ফাহীম রেজা নূরের প্রকাশিত লেখা থেকে]

এটি মাত্র একটি গল্প। এরকম হৃদয় বিদারক ইতিহাসের নির্মম শিকার –

শিক্ষাবিদ – ৯৯১ জন,
সাংবাদিক – ১৩ জন,
চিকিৎসক – ৪৯ জন,
আইনজীবী – ৪২ জন,
অন্যান্য (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী এবং প্রকৌশলী) – ১৬জন।

দেশ হারিয়েছে তার সূর্যসন্তানদের। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকল শহীদ ও তাদের পরিবারের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

২৮৮জন ১৬৩জন
4 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য