রাত মধ্য-হলেই ধানসিঁড়ি নদীটি ডাকে, খুব করেই ডাকে, যাই, যাই-ও না,
রাত্তিরে যাই-ই-না, ডর লাগে, খু-উ-ব,

সকাল-দুপুর-বিকেলে-সন্ধ্যায় যাই, সন্ধ্যা-বসন্তেও, একাকী করে নিজেকে, চুপে,
খুব চুপে, না-শব্দে, কাঁদা মাখামাখি করি, পা-ভেজাই, ভিজি-ও।
ঠেস দেই, মোটাসোটা গাছ দেখে, বসি অজস্র পা-ছড়িয়ে, ঝুম-আনন্দে;
কথা হয়-না, তাকাতাকি হয়, হাসে, হাসি-না, ঝামেলা বাঁধার ভয়ে।

যথেষ্ট ঈর্ষা করার ভঙ্গিতে বড়-সাদা-বক এক-পা তুলে ধ্যান করে, অপলক চোখে,
পানির দিকে তাকিয়ে। কাছ-দূরের হঠাৎ বেজে ওঠা জাহাজীভেঁপুতে ধ্যানী বক দূরে-মিলায়।
মাছরাঙা, পানকৌড়ি, কাঠ-ঠোকরা, ঘুঘুরাও পলকহীন;

বাবুই-ছানা টুপ করে পড়ে ডুবে যায় বাতাসের ঝড়ো দোলায়,
সোয়ানা-বাবুই-স্বপ্নের অকস্মাৎ পতনে বাবুই-কান্নায় বাতাস গড়ায়,
দুঃখের বিষজর্জরতায়।

রাতের ধানসিঁড়ি,
যদিও আগের মত সুগঠনে নও, সারা-সীমান্ত-জুড়ে,
কলা-বিদ্যাতেও, তবুও দেখ, ক্ষীণ বাতাসে
লক্ষ্মীপেঁচার কর্কশ ধ্বনির ভ্রান্তি ঠেলে
ঠিক-ই জানান দিয়ে-না-দিয়ে-একদিন, ছিপ-ছিপে
জ্যোৎস্নার আঁধারে, ভারী বর্ষণ-মুখরতায়
ডুব দেব, ডুবে যাব, রাতসিঁড়িতে,
পতনের কীর্তি গড়ে,
তিল-তিল করে, তিলে তিলে;

কত-কত জল বয়ে যায়, বেলার অ-বেলায়,
ধানসিঁড়ির গহীন-জল, জলসিঁড়িতে হারায়;

৩১২জন ৩১২জন
0 Shares

৩২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ