সঠিক যে কি?//(কথপকথন)

বন্যা লিপি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ০৪:৩৮:০৬পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৬ মন্তব্য

 

বছর দুয়েক আগের কথা। কয়েকলাইনের একটা স্টাটাস দিয়েছিলাম ফেসবুক ওয়ালে। তার কয়েকদিন আগেই এক ফ্রেণ্ডরিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করেছিলাম। তার আইডি ঘেটে ঘুটে নিশ্চিত হয়েছিলাম,  তিনি একজন উদিয়মান সাংবাদিক। স্টাটাসটা দেবার একঘন্টার ব্যাবধানে দেখলাম,  একটা লাইন গাপ করে নিয়ে নিজের ছবির সাথে এ্যাড করে দিয়েছেন। আমি তাজ্জব বনে গেলাম। কারন আমার কোনোরকম অভিজ্ঞতা নেই এসব চুরিটুরির বা কপি, সংগৃহিত পোষ্টের নিতীমালার ব্যাপারে। সরাসরি কমেন্টট বক্সে এ্যাটাক দিলাম……” এতো শব্দচুরি!!” তার আগেই তিনি আমার ইনবক্সে নক দিয়েছেন ভদ্রতার আরেক কাঠি বাড়িয়ে। মেসেজ দেখেই যথারিতী আমার চান্দি হট্ হয়ে গেলো।—” কি চাও বলো, সব দেবো।এমন সুন্দর লেখা!”

আমিঃ তাই কি চুরি করলেন?

— কি করবো? পছন্দ হয়ে গেলো যে!

:- পছন্দ হতেই পারে, তাই বলে অনুমতি নেয়া যেত! আমি আপনাকে ভদ্র ভেবেছিলাম। আপনি যেমন একজন সাংবাদিক। আমিও তেমন একজন সৎ, আদর্শবান সাংবাদিকের কন্যা এবং বড় বোন।

আমার ভুল না হলে আপনি তাঁদের অবশ্যই চেনেন।

— কে কে বলুন তো!

তাকে নাম বলতেই তিনি চিনেছেন বলে স্বিকার করলেন। এবং কখনো তার এলাকায় গেলে যেন এককাপ চা খেয়ে যাই তেমন অনুরোধও করলেন।এরপরে তো এভেইলেভেল দেখছি অনলাইন দুনিয়ায় লেখা চুরির কাহিনি।এদের ব্যাপারে কারো কিচ্ছু যেন করার নেই। একজন প্রথিতযশা কবির লেখা প্রায়ই চুরি হয়।  তিনি তা নিয়ে থানা পুলিশ পর্যন্ত করে ছাড়েন। উনার হাজার হাজার ফ্যানফলোয়ার বৃন্দ লেখা চোরকে তুলোধুনো করতেও ছাড়েন না। লেখা চোর সর্বোপরি নিজের ভুল সংশোধন করে মুচলেকাও দিতে বাধ্য হন অবশেষে।

আমার মনে হয় এই স্বনাম ধন্য কবির পথ অনুসরন করা যেতে পারলে মগজ খাটানো, সময় ব্যায় করে একেকটা জন্ম দেয়া লেখার পরিশ্রম কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

ভালো আছেন?

: আছি

– কি করছেন?

: লেখা চুরির কাহিনী দেখছি

– ও, কেমন?

:  এক কবির।

এই কবির লেখা চুরি হতেই থাকে।সে নিয়ে তিনি খুব তোলপাড়ও করেন।

– আমি বুঝি না,এতে রাগ করার কি আছে?

লেখা কি এমন আহামরি জিনিস?

: এ কেমন কথা?

– হ্যাঁ , সত্যি কথা

:নিজের সৃষ্টি আরেকজন নিজের নামে চালাবে । আর সেটা মেনে নেবে?

– -আর এত দরদ লেখার প্রতি বাংলা একাডেমি তে যোগাযোগ করলেই তো হয়।

ফেসবুকে লেখা ছাপলে লোকে চুরি চামারি করবেই। বই বের করলেই তো হয়।

ফেসবুকে এমন হবেই

: কি বলে?

– হ্যাঁ, সত্যি বলছি

: এই কবির ৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবং সব নিজের খরচ এবং পরিশ্রমে। তিনি কোনো প্রকাশকের কাছে দেননি বইয়ের দায়িত্ব। প্রুফ দেখা থেকে শুরু করে বেচাবিক্রির সমস্ত দায়িত্ব নিজে সুশৃঙ্খল ভাবে তদারকি করে পাঠকের হাতে বই পৌঁছে দিয়েছেন।  যাতে করে প্রকাশক  লেখকের বইয়ের কমিশন বা পার্সেন্টিজও মেরে দেবার সুযোগ পাননি। বই মেলায় কোনো এক প্রকাশনীকে বইগুলো বিক্রি করার জন্য শুধু এজেন্ট করেছেন। রকমারীতে দিয়েছেন যাতে টাকা অপচয় রোধ হয় দুদিক থেকেই। সেই লেখকের লেখা যখন অন্যকেউ সগর্বে চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেন। তখন একটু হলেও তো তিনি তা নিয়ে তোলপাড় করবেনই!

 

— এ লেখক তো কোনদিন প্রতিবাদ করলো না

 

: কে বললো প্রতিবাদ করে নাই??উনিও করেন,  আবার ওনার ভক্তরাও প্রতিবাদ করেন।

– ধুর

যার বিয়া তার খবর নাই

: বারোটা বাজিয়ে ছাড়েন লেখা চোরের।

–আমি কোনদিন কোন কবি সাহিত্যিক কে দেখলাম না এসবের জন্য কাউকে চোর বলতে।

তারা জানে ফেসবুকে এমন হবেই।

: তুমি হয়ত দেখোনি। ইদানীং লেখাচোর বিষয়ে প্রায় কবিরাই সোচ্চার

দেখছি তো!

 

–আপনার লেখা চুরি করছে কেউ?

: আমি কি কবি?

ওনাদের মত কবি হলে খবরই ছিলো

–কেউ কবিতা না লিখে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে এটা খুব ভালো একটা প্রচার।

মানুষ জানে কে কি লিখতে পারে

 

: হুম, সেটাই, মানুষ জানে কার কতটুকু কলমের দৌঁড়!

–আপনার লেখা চুরি কইরা অহন ছাড়মু আমি

: হা হা হা হা….বলে কয়ে চুরি হয়?তোমার চুরি করতে হবে না। এমনিই নিয়ে নাও।

— চুরি করমু তার পর স্ক্রিনশট নিবেন

: হা হা হা হা,  আমি কিছুই করবো না।

–তাহলে দিবো না

: আমি গর্বিত হব

— এহ্

: স্ক্রিনসট নিয়ে ফলাও করে প্রচার করবো, আমার মত নগন্য লেখকের লেখাও কেউ ভালবেসেছে।

–তাহলে লেখেন একটা কিছু সহজ করে

: এখন?

সহজ কিনা জানিনা

গতরাতে একটা লিখেছি

চাইলে ওটা দেখাতে পারি।

— অবশ্যই

:

সরল ঋণ//

সরলের মত অংকের ঘর কেটে কুটে নামিয়ে নিয়েছিলাম বেজোড় সমাধানের সংখ্যা।

ছাদ ফুঁড়ে চোখ উঠে গেলো আকাশের খোলা বুকে; ছুঁড়ে দিয়েছি শঙ্কার,  দ্বিধায় ভরা নির্ভূল পেন্সিলের স্কেচ। আঁকতে চেয়ে নদীর সিঁড়ি,

মেঘের জলে ভিজেছে নীল  হাওয়া কাগজের পৃষ্ঠা।

অক্ষ পথের মোহে আটকে গেলো গুচ্ছ গুচ্ছ মাথার কেশ! নেমে যাবার পথ খুঁজছি মহাশুন্যের চারিধার জ্যামিতিক কম্পাসের কাটায়।

দুর্বোধ্য নিরবতায় সরেজমিন ফালা ফালা করে চিড়ে দেখেছি একেকটা শব্দের তির ছুঁড়ে। কৃষ্ণ গহ্বরের ওপারে রয়ে গেছে ঠাঁয় স্থির মুর্তির পাথুরে চোখের  প্রহরী। আমি অপেক্ষায় সমাধি নেব । অপ্রতিশোধ্য ঋণে বেঁধে দিয়ে যাব ঋণাত্বক ঘণত্বের ধরাপাতের হিসেব।

প্রহরীর কান ফেটে রক্তাক্ত হয়ে উঠুক কোনো একসময়……শুধিতে ঋনের বোঝা।

— আপনি কি একটা বিষয় খেয়াল করছেন?

: কোন বিষয়?

— আপনার লেখায় আমি তুমি শব্দ থাকে না

: আমি পারিনা আমি তুমি মার্কা লেখা লিখতে

— এটা কিন্তু দারুন ব্যাপার!

ধরুন আমি বা অনেকেই লিখতে না চাইলেও চলে আসে।

: কারনও আছে হয়ত!

— কারন ছাড়াই

: নাহ্, দুটোই

–হ্যাঁ

: একবার লিখেছিলাম একটা লেখা– “বললে, ভুল বুঝছো আমায়…..

আমি বললেম, সঠিক যে কি?

আমার যে জানা নাই!!!

আমি ভালোই আছি……..নিমিত্তের সরোবরে ফোটাই আমি, দিবারাত্রি’র সাদা আর নীল কমলে’র কাব্য”

— সঠিক যে কি??

: হ্যাঁ, সঠিক যে কি?

২৭৫জন ৬৩জন
0 Shares

৩৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ