সখী ভালোবাসা কারে কয়?

আরজু মুক্তা ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার, ১১:৪৬:১৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৪ মন্তব্য

চিরসবুজ পাঁচ ভালোবাসার গল্প :

১) রোমিও ও জুলিয়েট

২) আনা কারনিনা

৩) ওয়েদারিং হাইটস

৪) প্রাইড এণ্ড প্রেজুডাইস

৫) দ্যা থর্ন বার্ডস

★ ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রি তাই প্রথম ৪ টি পড়া। বাকিটা পড়ার চেষ্টায় আছি। তবে,  ওয়েদারিং হাইটসটা একটু অন্যরকম লাগে বরাবর।

★সুত্র : ইংল্যান্ডের ” দ্য টেলিগ্রাফ”

 

ভালোবাসলে যে মানুষ সন্দেহবাতিকে ভোগে, তা বুঝেছি স্কুল জীবনে জীবনানন্দ এর কবিতার সেই লাইনটি পড়ে, ” সুরঞ্জনা, ওইখানে যেও নাকো তুমি….. কী কথা তাহার সাথে?  তার সাথে?”

ঈর্ষা স্পষ্ট!

আবার কলেজে এসে “পদ্মা নদীর মাঝি” তে কপিলার আকুতি, ” আমারে নিবা মাঝি লগে?”

এখানে ভালোবাসা আকুলতার সাথে আদরণীয়।

 

একটা গল্প বলি :

একটা ছেলে,  একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসতো। মুখে কখনো বলেনি। একদিন শুনলো মেয়েটার বিয়ে। সে মেয়েটিকে বললো, ” আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই? ”

মেয়েটি বললো, ” আজ রাতে গোলাপ এনে দিতে পারবে?  টকটকে লাল গোলাপ? ”

ছেলেটি পারবো বলে, দৌড় দিলো। অথচ তখন গরমকাল। গোলাপ পাওয়া কঠিন। এখন কী করবে?  ছেলেটি একটা গোলাপ গাছকে জড়িয়ে ধরে ঘটনা বললো। গাছটির মায়া হলো। বললো, যদি বুলবুলি পাখি এসে আমার কাঁটার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। তাহলে আমি একটা গোলাপ তোমায় দিতে পারবো। আবার ও ছেলেটি এ গাছ ও গাছ খুঁজতে লাগলো। বুলবুলিকে  আবার সব ঘটনা বললো। বুলবুলি ওর দুঃখ দেখে রাজি হলো। নিজের গায়ের রক্ত দিলো। আর গোলাপ একটা তরতাজা গোলাপ দিলো, রক্ত থেকে।

ছেলেটি হাঁপাতে হাঁপাতে প্রাচীর ডিঙিয়ে মেয়েটির হাতে লাল গোলাপ দিলো। মেয়েটি একটা একটা পাপড়ি ছিঁড়ে বাতাসে উড়িয়ে দিলো। বললো, এই দেখো, হাতে হীরার আংটি। সন্ধ্যায় এনগেজমেন্ট হয়েছে।”

 

আর একটা সত্য গল্প। তখন আমি পোর্টসিটিতে জব করি। ব্যস্ততার কারণে কলিগদের সাথে ততোটা কথা বলা হতো না। একদিন খুব বৃষ্টি। ওদের সাথে বসলাম। পাশে শিউলি নামে একজন। বললাম, তুমি সবসময় বিষণ্ন থাকো, কথা না বললেও বুঝি। শেয়ার করবে কী?  বললো আমার হাজব্যান্ডের ক্যান্সার। উত্তরে কী বলবো?  ভাষা খুঁজে নিতে বললাম। আজ একটা সুখের গল্প বলো।

বলে, ম্যাডাম। যখন আমি ক্লাস নাইনে। তখনও প্রেম শুরু হয়নি?  আমার জন্মদিনে পুরা বাংলোটা হলুদ গাঁদা আর গোলাপ দিয়ে ও সাজিয়েছিলো। বারান্দার সামনে রেখে দিয়েছিলো একটা টেবিলে চকলেট কেক, আমার পছন্দের। সাথে চুড়ি, গল্পের বই। পুরো মেঝেটাও ছিলো এমনি সাজানো।

আমি অবাক হয়ে বললাম, কেমনে করলো?

ও বলে, আমরাও অবাক হয়েছিলাম। আব্বা রাগ করার বদলে উনিও অবাক। আবার, পরের জন্মদিনে পতেঙ্গায় ১০০ ফানুস উড়িয়েছিলো। আর সৈকতের ঐ অংশটা আমার নাম লিখেছিলো ফুল দিয়ে।

 

২০১৯ শে গিয়েছিলাম ওর খোঁজে। দেখা হয়নি।

ভালো থাকুক এই ভালোবাসাগুলো। নীরবতায় অনেককিছু বলা হোক।

 

শুভকামনা সবার জন্য।

৫৬১জন ২২৩জন
61 Shares

১৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ