মানুষ হত্যা কখনো কোনো ধর্ম হতেপাড়ে নাহ , সকল ধর্মের মূলবক্তব্য  শান্তি সততা স্বচ্ছতার বিজয় । আমি আল্লাহ’র একজন নগণ্য বান্ধা হিসেবে এটাই বিশ্বাস করি , আর আমাদের অতীত থেকে অবশ্যই শিক্ষা নেওয়ার দরকার ।

মুজাফফর নগর জেলার কান্দেহালা নামক এক স্থান ভারত বর্ষের ইংরেজী শাসনামলের প্রথম দিকের ঘটনা । একটি ছোট্ট ভূ-খণ্ড নিয়ে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা বাধার উপক্রম হলা । হিন্দুদের দাবি হলো, স্থানটি তাদের মন্দিরে । আর মুসলমানদের দাবি , স্থানটি তাদের মসজিদের । বিষয়টি আদালত প্রযন্ত গড়ালো , ইংরেজ ম্যজিস্ট্রট উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে কয়েকজন মুসলিমকে একান্ত ডেকে তাদের কাছে জানতে চাইলো হিন্দুদের মধ্যে এমন কেউ আছে যাকে তোমরা বিশ্বাস করো, এবং তিনি যা সিদ্ধান্ত দিবে তা আপনারা মেনে নিবেন ?

 

মুসলিমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলো , হিন্দুদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যার সততার প্রতি তারা আস্হা রাখতে পারে । তারপর ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কয়েকজন হিন্দু নেতৃবৃন্দকে বললো , বিষয়টা সাম্প্রদায়ীক স্বার্থের সাথে জড়িত । সিদ্ধান্তে সামান্য ভুল হলেই দাঙ্গা বেধে যেতে পারে , তোমরা কি মুসলিমদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বাস করো ?

হিন্দুরা বললো হুম এমন একজন ব্যক্তি আছেন । কিন্তু তিনি তো কোনো ইংরেজের মূখ দর্শন করেন না ।

এই ঈমানদার লোকটি ছিলেন হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয দেহলভী (রাহঃ) এর অন্যতম অনুসারী বালাকোটের শহীদ ইসলামী আন্দোলনের সিপাহসালার সাইয়েদ আহমদ ব্রেলভী শাহীদ (রাহঃ) এর খলীফা হযরত মুফতী ইলাহী বখশ (রাহঃ) এর বংশের একজন ।  তাকে ইংরেজ বিচার ডেকে পাঠালেন কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ,  যে ইংরেজরা মুসলিমদের অত্যাচার করেছে , আমি তাদের মুখ দর্শন করবো না ।

 

ইংরেজরা বললো আমাদের মুখ দেখার দরকার নেই , আপনি এসে শুধু একটি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিন। অবশেষে তিনি আদালতে উপস্থিতি হয়ে ইংরেজ বিচারকের দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে পতন নীরবতার মধ্যে ঘোষণা দিলেন , প্রকৃতপক্ষে স্হানটি হিন্দুদের , এই স্হানের সাথে মুসলিমদের দূরতম সম্পর্ক নেই । স্হানটি হিন্দুদের প্রাপ্য । তার এই কথায় মামলায় মুসলিমরা পরাজিত হলো বটে , কিন্তু ইসলামী চরিত্র হিন্দুদের মন-মস্তিষ্ক জয় করে নিলো ।

 

আমার ভাইয়ারা তোমারা আল্লাহ’র নামে যে নরকিয় হত্যার কৃতিকরমে মেতে উঠেছো , একবার বুকে হাতরেখে বলতে পারবে? আল্লাহ তোমাকে এই কর্মের জন্য বিচারের কাঠগরায় দারাকরাবে না । আমি জানি পারবে না ! তাহলে কেনো এ হত্যা , তুমি’ত আমাদের’ই ভাই ।

তোমার এই মাটি ও মায়ের জন্য কি এ মন কান্না করে না ?

শামীম ওমান / ৭-৭-২০১৬

৮৪জন ৮৪জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য