শেষ থেকে শুরু_পর্ব নয়

শুভ্রনীল ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ০৯:৫৭:০৩অপরাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

শেষ থেকে শুরু _পর্ব অষ্টম

দখিনা বারান্দায় দাঁড়িয়ে এলোমেলো কতো কিছু ভাবনার অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে সুনয়না। হঠাৎ শায়নের সাথে দেখা তারপর এই সব উপহার পাঠানো। কী হচ্ছে এসব? জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে এমন হাস্যকর পরিস্থিতি সত্যিই অস্বস্তিকর। সুনয়না কখনো ভাবছে হয়তো শায়নই করছে এসব আবার কখনো ভাবছে সে কেনো করবে এমন ছেলেমানুষী? আর তাছাড়া দীর্ঘ দুই যুগ পেরিয়ে গেছে আমাদের কলেজ জীবন। এতো দিনে তার নিশ্চয় ঘর হয়েছে, ঘরের মানুষ হয়েছে, ছেলে মেয়ে হয়েছে। সেই সব কিছুর পর নিশ্চয়ই এমন কর্মকাণ্ড সে করবে না! তবে কে কে করবে এইসব? উফ্!

টুং টাং শব্দের আওয়াজে ছেদ পড়ল সুনয়নার ভাবনায়। চুমকে উঠল সে!

ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো আননোন নম্বরে একটা টেক্সট এসেছে।

 

প্রিয় মায়াবতী,

এ জন্মে তুমি আমার হবে না, সে আমি ভীষণ করে বুঝে গেছি। তোমার এই পরিপূর্ণ জীবনে এতোটুকু জায়গা নেই আমার জন্য বরাদ্দ তা জেনেও তোমাকে পাবার আশা রাখি কী করে? এ জন্ম তো কেটেই যাচ্ছে তোমাকে না পাওয়ার বিহর ব্যথায় হতাশায় যন্ত্রণায়! কিন্তু পরের জন্মে, পরের জন্মে কী পাবো তোমায়? পরের জন্মে তুমি আমার হবে তো মায়াবতী!

লেখাটা পড়তে পড়তে কখন সুনয়নার চোখ ভিজে গেছে তা সে টেরই পায়নি। হঠাৎ আতকে উঠলো সুনয়না, তার ভেজা চোখ পেরিয়ে অশ্রু বিন্দু একটু একটু করে গড়িয়ে পড়ছে কপোল বেয়ে তা দেখে। মেসেজের কথা গুলো কেমন যেনো সুঁচের মতো বিঁধছে তার হৃদয়। এফোঁড় ওফোঁড়ে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত করছে তার অন্তর। সুনয়না মনে মনে ভাবছে হায় ঈশ্বর! এ কেমন যন্ত্রণায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করছো আমায়? এ কার নষ্ট হয়ে যাওয়া জীবনের দ্বায় চাপিয়ে দিচ্ছো আমার উপর? এ কোন সত্য আজ আমার দুয়ারে দাঁড়িয়ে? আহ! আমি আর এসব কিছুতেই ভাবতে পারছি না।

 

সুনয়না চোখ মুছে ফোনটা হাতে নিয়ে টেক্সট এর রিপ্লাই দিল।

-কে আপনি? আমি তো আপনাকে চিনিও না তবে কেনো ছলনায় মড়ানো এক পৃথিবী যন্ত্রণা পাঠিয়েছেন আমার নামে। এই সব যন্ত্রণা দানের মানে কী? কী চাইছেন আপনি, কেনো করছেন এমন ছেলেমানুষী?

টেক্সট সেন্ট করে পরের রিপ্লাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে সুনয়না। আবার টুং টাং আওয়াজ 

সুনয়না তাড়াতাড়ি মেসেজ পড়তে শুরু করলো।

 

-মায়াবতী আমি দুঃখিত তোমাকে এভাবে কষ্ট দেবার জন্য। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আর কখনো তোমাকে টেক্সট পাঠাবো না। না পাঠাবো কোনো যন্ত্রণা। আমাকে ক্ষমা করো মায়াবতী, ক্ষমা করো আমায়।

 

সুনয়নার বুকের মধ্যে কেমন ছ্যাঁত করে উঠলো! কেমন মায়াময় ছিল পরের কথা গুলো। সুনয়না ভাবলো সে ফোন দেবে। তারপর যা হয় দেখা যাবে। সুনয়না কল দিল। রিং বেজে বেজে কেটে গেলো। সুনয়না আবার ফোন দিল। অপর প্রাপ্ত থেকে ভেসে এলো নারী কন্ঠস্বর। দুঃখিত আপনি যে নম্বরে ফোন দিয়েছেন তা এখন বন্ধ আছে…

 

সুনয়নার বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে যেতে শুরু করলো। অজানা অচেনা কারো জন্য এতোটা কষ্ট কেনো হচ্ছে? এ কোন ঝড়ের পূর্বাভাস? মানুষের মন এমন কেনো? এই অধো-শেষ বসন্তে পদার্পণ করেও মন কেমন কিশোরীর মতোই অস্থির, হতাশায় ডুবে যাচ্ছে! তবে কী মানুষের মন সারাজীবন একই থাকে! কখনো বুড়ো হয় না?

১৭৬জন ৩৩জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য