শেষ থেকে শুরু_ পর্ব চার

আকাশনীলা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ০৫:০৯:৪৯অপরাহ্ন গল্প ১৬ মন্তব্য

শেষ থেকে শুরু_তৃতীয় পর্ব

লাইনটা যে কেটে গেছে সেদিকে খেয়ালই নেই সুনয়নার। ফোনটা কানে ধরে রেখেই যেনো ভাবনার অতলে হারিয়ে গেছে সে। সুনয়নার ব্যাপারটা একদম ঠিক লাগছে না। মনের মধ্যে অজস্র প্রশ্নের আনাগোনা। হঠাৎ এতো অস্বস্তি লাগছে কেনো? মন বলছে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কিন্তু কী ঘটতে পারে তা সে আন্দাজও করতে পারছে না। কতোকিছু আবল তাবল ভাবার ফলে মস্তিষ্কে চাপ পড়ে সুনয়নার মাথার যন্ত্রণাটা যেনো তড়তড় করে বেড়েই চলেছে। এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো। হঠাৎ চমকে উঠে দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকায় সুনয়না। সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে, নিশ্চয়ই সেঁজুতি এসেছে! আসছি সোনা বলে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো সুনয়না।

-মামুনি কী করছিলে এতোক্ষণ? কখন থেকে কলিংবেল দিচ্ছি।

-স্যরি সোনা!

-মামুনি তুমি কী ঘুমাচ্ছিলে?

-না সোনা। তুমি তো জানোই আমার দিনে ঘুম আসে না।

-সে তো জানি। কিন্তু তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো? তোমার মাথার যন্ত্রণা কী বেড়ে গেছে?

-ঐ একটু। সিরিয়াস কিছু না। যাও ফ্রেশ হও আমি তোমার জন্য নাস্তা বানাচ্ছি।

-মামুনি শোনো না আজ তোমাকে কিছু বানাতে হবে না। তুমি বসে রেস্ট নাও আমি আসছি একটু পর।

-সোনা তোমার খুদা পেয়েছে তো।

-আহা! একটু চুপ করে বসো তো। আসছি আমি

 

সেঁজুতি ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেলো। পাঁউরুটির ঝাল ডিম টোস্ট বানানো। সেঁজুতি ডিম টোস্ট এবং দুই মগ কফি নিয়ে বেলকনিতে গেলো। গিয়ে দেখলো সুনয়না রেলিং এ ভর দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছে। সেঁজুতির মনের মধ্যে কেমন করে উঠলো! এ কাকে দেখছে সে? যেনো অদ্ভুত সুন্দর মায়াবতী এক মধ্যবয়স্কা নারী! সুনয়না যে আজ নীল শাড়ি পরেছে তা এই এক্ষুনি দৃষ্টি গোচর হলো সেঁজুতির। মনে মনে ভাবছে  বাহ্ এতো সুন্দর আমার মামুনি!

 

সেঁজুতির বুদ্ধি হবার পর থেকে সে তার মামুনিকে কখনো শাড়ি পড়তে দেখেনি। সালোয়ার কামিজ ই পড়েছে তাও কিনা সাদা কালো। অন্য কোনো রঙের জামা কাপড় তার পরোনে দেখেনি। সেঁজুতি টি-টেবিলে নাস্তার ট্রে রেখে চেয়ারে বসে পড়লো। গালে হাত দিয়ে চেয়ে রইলো সুনয়নার দিকে । হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো আকাশনীলা। সুনয়না বললো

-আকাশনীলা! সেটা আবার কে?

-মামুনি তুমি, তুমিই আকাশনীলা! দেখো না, দেখো আকাশের নীল এসে যেনো তোমার অঙ্গে মিশেছে। তোমায় অপরূপ সুন্দরী করে তুলেছে। মামুনি এই যে এতো রূপ, সৌন্দর্য কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলে!

সুনয়না একটু লজ্জা পেয়ে বলল…

-সেঁজুতি কি হচ্ছে এসব!

-চুপ, চুপ করো থাকো এবং আমাকে দু’চোখ ভরে দেখতে দাও।

সুনয়না সেঁজুতির কান আলতো করে চেপে ধরে বলছে-

-খুব পেকে গেছো তাই না। দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা…

-উফ্! মামুনি ছেড়ে দাও না, লাগছে তো

-সে একটু লাগুক। একটু লাগলে কিছু হয়না।

-মামুনি দেখো আমি তোমার জন্য তোমার প্রিয় ঝাল ডিম টোস্ট আর কফি বানালাম আর তুমি কী না আমার কান ধরে আছো! কফি ঠান্ডা হবে তো। নাও তো তাড়াতাড়ি খেয়ে বলো তোমার মেয়ে কেমন কফি বানিয়েছে।

-তুমি এতো কষ্ট করতে গেলে কেনো? আমিই বানাতাম

-মামুনি রোজ তো তুমিই করো আজ না হয় আমিই করলাম। এ আর এমন কী কষ্ট? নাও নাও

 

সুনয়না এক কামড় টোস্ট মুখে নিয়ে বললো বাহ্ দারুণ হয়েছে তো খেতে।  বলেই গবগব করে দুটো খেয়ে নিলো। পানি খেয়ে হাতে কফির মগ নিয়ে রেলিং এর কাছে গেলো। এক চুমুক কফি খেয়ে বললো বাহ্ সেঁজুতি!

-তুমি তো আমার থেকে ভালো কফি বানাতে পারো। এখন থেকে তো রোজ তোমার হাতের কফিই খেতে হবে।

 

সেঁজুতি চেয়ার থেকে উঠে কফির মগ হতে নিয়ে মায়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো…

-আহ্! এমন মিষ্টি সুন্দরী সুদর্শিনী মায়ের মেয়ে আমি। এটুকু গুণ তো আমারও থাকবে তাই না। জানো মামুনি নীল রঙের শাড়িতে দারুণ লাগছে তোমাকে। কী সুন্দর মানিয়েছে। আগে কেনো শাড়ি পরোনি? আচ্ছা মামুনি তুমি শুধু সাদা কালো ড্রেস পরো কেনো?

-এমনিই সোনা। আমার সাদা কালো পোশাকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর আমি শাড়ি কেরি করতে পারি না তাই পরি না। ছাড়ো এসব তোমার ইউনিভার্সিটির প্রথম দিন কেমন কাটলো বলবে না আমাকে….

 

সেঁজুতি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে সুনয়নার দিকে। মনে মনে ভাবে মানুষটাকে সবসময় কড়া ধাঁচের মনে হয়েছে। হ্যাঁ মামুনির সাথে আমার বন্ডিংটা দারুণ। তবে আগে কখনো এতো অন্যরকম দেখিনি।

-সেঁজুতি,এই সেঁজুতি!

-হ্যাঁ মামুনি বলছি বলছি…

ছবি-গুগল

১৪৯জন ৫৯জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ