শুভমঃ শুরু (ম্যাগাজিন)

মেহেরী তাজ ৫ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার, ১১:২৩:৩৭পূর্বাহ্ন গল্প ২৫ মন্তব্য

= ভাইয়া, সারাদিন ল্যাপটপ এ বসে কি করিস? ব্যস্ত?
// হুম অনেকটা।
= ভেতরে আসি?
// না আসিস না।
= প্লিজ ভাইয়া প্লিজ। একটু আসি?
// কথা! ঢং করিস না , আয়।
= ভাইয়া এমন অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাস না প্লিজ। একটু বসি?
// কথা তুই যে ঢংগি তা আমি জানি কিন্তু আজ একটু বেশি বেশি হচ্ছে না?
= কথা ঢংগী মেয়ে? আমি ঢংগী? আমি সারাক্ষণ ঢং করি? আচ্ছা আমি চলে গেলাম।
// যা না বাবা যা।
= এই দরজা পেরিয়েছি কিন্তু। গেলাম…..
// এই যা ভাগ ঢংগী।
= হুম যাই যাই। সাথে এগুলাও ভুলে যাই যে “নীইইলু” কি ফুল পছন্দ করে, কি রঙ পছন্দ করে, কি খাবার, কোন জায়গা এসবও ভুলে যাই কেমন?
// ( নীলু? ওহ মাই গড) কথা? এই কথা? বুনু? এই বুনু? শোন না? বলছিলাম কি, আয় না বোস আমার সামনের চেয়ারে। একটু গল্প করি। পড়াশোনা, থিসিস এসব ঝামেলায় কতদিন গল্প করিনা তোর সাথে।
= আচ্ছা বসলাম। আর কখনও ঢংগি বলবি না তো?
// জীবনেও না। ইয়ে তুই নীলুকে চিনিস কিভাবে?
= সব বলবো কিন্তু কন্ডিশন আছে কিছু।
// কী চাই বল? আইসক্রিম খাবি? চকলেট? নাকি আমার বুকসেল্ফ এর কোন রো চাই তোর বল না বল?
= ভাইয়া আমি কিসে পড়ি?
// সেকেন্ড ইয়ার অনার্স।
= আমি তো অনেক বড় বল?
// তা অবশ্য।
= আমার চাওয়াটাও একটু বড়।
// আচ্ছা বল শুনি।
= তোর ফোন বুকের সেকেন্ড নম্বরটা।
// লেট মী চেক, আবির!!!?
= আবির নামে সেইভ আছে? তাহলে ওটাই।
// কথা!!!
= ভাইয়া তুই না দিতে চাইলে বল আমি চলে যাবো। আর নীলুদির চিঠিটাও নীলুদি কে ফেরত দিয়ে দেবো। বলে দেবো তোর চিঠি পড়া ভালো লাগে না।
// না না চলে যাওয়ার কি দরকার! আবির ছেলেটা অবশ্য ভালো। আর আমার বিশ্বাস সে তোকে….. সে যাক।
= ভাইয়া তুই একটা কাগজে লিখে দে নম্বরটা। আমি বাম হাতে নেবো সেই কাগজ আর ডানহাতে নীলুদির চিঠি তোকে দেবো। গিভ এন্ড টেক এর দুনিয়া ভাইয়া। সেটা ভুললে কি চলে?
// পাঁকা পাঁকা কথা শিখেছিস না? টেবিলে রাখা আছে নম্বর ওটা নিয়ে নীলুর লেখা কাগজটা আমায় দিয়ে যা।
= ভাইয়া…….
// যা ভাগ…..

“বৃত্ত”
এই চিঠি ছিঁড়ে ফেলো। ছিঁড়ে ফেলো বলছি। কি হলো? তাও পড়ছোই যে? থামো বলছি। থামলে না তো! তাহলে তুমি ততোটাও ভীতু না। তাহলে যেদিন দেখলে সেদিনই প্রপোজ করলে না কেনো? তুমি যে একটা বুদ্ধুও। কিভাবে ৩ বছর না বলে চুপ করে ছিলে ভেবেই পাই না। তিন বছর আগের সেই মেলায় আমায় দেখে দুহাতে মুখ ঢেকে ফেলেছিলে। প্রথমে ভেবেছিলাম আমায় বিচ্ছিরি লাগছে কিন্তু তোমার নিঃশ্বাসে তোমারই চশমার ঘোলা কাঁচের মাঝ দিয়ে যখন তোমার চোখ দেখেছিলাম তখনই বুঝেছি “কী”। একটিবার সাহস করে বলতে পারলে না? সব মেয়ে চায় ছেলেরা আগে বলুক। বুদ্ধু একটা। বোন কে বলে খোঁজ নিতে পারে অথচ আমায় বলতে পারে না! ভীতু একটা। আমি কি বাঘ নাকি রাক্ষস? খেয়ে ফেলতাম তোমাকে?

পহেলা বৈশাখ! বিকেল ৫ টা। যেখানে প্রথম দেখেছিলে।
ও হ্যাঁ একটা কথা বলতে ভুলে গেছি তোমায় নীল রঙ এর পাঞ্জাবী তে খুব মানায়।

নীলু।

= ভাইয়া? এই ভাইয়া? চিঠির ভেতর ঢুকে যাবি নাকি?
// কি হইছে?
= আর একটা কথা ভুলে গেছি।
// কী?
= আজ থেকে ২২ কি ২৩ বছর আগে বৈশাখ এর প্রথম দিনে “নীলু” নামের এক মেয়ের জন্ম হয়েছিলো, যে রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া খুব পছন্দ করে। আর টং এর দোকানে বসে চা খেতেও……

২০২জন ২০২জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ