শিশু কথন – ২ । সমুদ্র সাঁতার

নাসির সারওয়ার ২৫ আগস্ট ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৪৩:৫৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩০ মন্তব্য

মামা বাড়ি আসতে না আসতেই সবাই কেমন যেন ব্যস্ত হয়ে উঠলো। কোথায় কোথায় বেড়াতে নিয়ে যাবে। কী কী করবে এসব নিয়ে। আমি বুঝিনা, এতো তাড়া কিসের! আমিতো অনেক দিন থাকবো। তারপরও রাতে গোজগাজ শুরু। অনেক ভোরেই নাকী বের হতে হবে। আমি এখনো জানি না, যাচ্ছিটা কোথায়।

সেই কাঁক ডাকা ভোরে উঠতে হলো। সমুদ্র দেখতে যাবো শুনে ভোরের ঘুমকে বাই বলে দিলাম। সমুদ্র কী, কেমন! ওটা কী খাওয়া যায়! ওখানে গিয়ে আমি কী করবো! কত প্রশ্ন, অথচ কেউ আমাকে বুঝিয়ে কিছুই বলছে না। আর একটু পরে গেলে কি সমুদ্রটা দূরে চলে যাবে! আমার কী, গাড়ীতে চেপেই দেবো একটা লম্বা ঘুম।

আহা, একি! সবাই কেনো যাচ্ছিনা! মামি দুজনই যাচ্ছেন না। এরই মধ্যে আমার কত ভাব ওনাদের সাথে। অল্প সময়েই সব আদর ঢেলে দিয়েছেন। একটা ভাইয়ার পরীক্ষা। এতো পরীক্ষা দিয়ে কী হয়! অন্য মামির কী যেনো জরুরী কাজ। আর সময় পেলোনা কাজের! তবে আপ্পি যাচ্ছে, সে যে এরই মধ্যে আমার বন্ধু বনে গেছে। বন্ধু হতে কি সময় লাগে! একটা ভাইয়া আর তার একটা বন্ধু। আর মামারাতো আছেই।

অবশেষে সমুদ্র। বাহ, এতো পানি! আমিতো সারা দিন পানিতে বসে কাটাবো, যা  ঘরে আমি অল্প সময়ের জন্যই পাই। ভারী সুন্দর। আরে আরে, হচ্ছেটা কী! আমরা কি নৌকাতে থাকবো নাকি! অনেক গাড়ীর সাথে আমাদেরটাও একটা নৌকাতে উঠছে। ব্যাপারটা অবশ্য বেশ। আমরা চড়ি গাড়িতে আর গাড়ি চড়ে নৌকাতে। বাবা কি আমার মনের কথা শুনে ফেলেছে! সে কি বলছে, এটা নদী। সমুদ্র তো বিশাল, ঠিক তোমার মনের মত।

কী সাহসরে বাবা! আপ্পিটা ঘোড়ায় চড়ছে, ভাইয়াটা পানিতে মটর বাইক চালাচ্ছে। আর আমি দেখছি শুধু পানি আর পানি। ওকূলের কোন কূল নেই। একটা ঢেউয়ের পরে আর একটা, যেনো সূরে তালে নাচছে।

Somudra-4

আমি কি মুগ্ধ হবো নাকি ঢেউ ধরে ধরে গুনবো!

Somudra-1

বাবা, হাটতে চলতে শিখিয়েই হাত দুটো ছেড়োনা।

তোমার হাত ধরে আমি ওকূলে যাবো।

আরও কত গল্প যে আছে, শেষই হতে চায় না।

শিশু কথন – ১ মামা বাড়ি

 

১৩০জন ১৩০জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য