শিক্ষার কারিগর

রেজওয়ান ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ০৬:৪৩:২৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৭ মন্তব্য

আপনার সন্তানকে মারবেন না!

অনেকেই বলে থাকেন, দুষ্টুমি করে, মিথ্যা কথা বলে, কিংবা অন্যরা নালিশ নিয়ে আসলে মারবো না তো কি করবো? আবার এও বলেন আমার সন্তানকে আমি মারবো, তাতে আপনার কি?

হ্যাঁ এখানেই মূল সমস্যা। আপনার সন্তান মানেই কিন্তু আপনার সম্পত্তি নয়, সে সম্পূর্ণ একটি আলাদা সত্ত্বা, সেটা ভাবতে শিখুন। এ পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যাকে দুঃখভোগ করতে হয়নি বা হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও এই দুঃখময় পৃথিবীতে আমরা যখন কাউকে (সন্তান) নিয়ে আসছি তখন তাকে অন্তত আপনার মুখোমুখি হওয়া দুঃখ কষ্ট থেকে আগলে রাখার দায়িত্ব নিয়েই সেই সন্তানকে আনা উচিৎ। হাজার ভুল করলেও তাকে বোঝানোর দ্বায়িত্বটা বাবা-মা’কেই নেওয়া উচিৎ যা অবশ্যই মারধর করে নয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সন্তানকে মারধর করা বাবা-মা,আত্মীয় কিংবা শিক্ষকরা আসলে প্রকৃত অর্থে বাবা-মা কিংবা অভিভাবক বা উন্নত মন-মানসিকতার শিক্ষক হয়ে উঠতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতেই সন্তানদের মারধর করে থাকেন। আপনি একটি শিশুর দায়িত্ব নিতে না পারা সত্ত্বেও দায়িত্ব নিয়ে তাকে বকা দেওয়া বা মারধর করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং সে অধিকার আপনার নেই হোক সে আপনার রক্ত বা ডিএনএ!

শিশুর দায়িত্ব নিতে চাইলে প্রয়োজনে শিশুদের কিভাবে দেখোশোনা করতে হয় সেটা আগে শিখে নিন। শাসনের নামে মানুষিক নির্যাতন বা মারধরের চেয়ে ভালোবাসা অনেক কঠিন, ভালবাসতে শিখুন। সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করুন। দয়াকরে অন্যের কথায় বা নালিশে আপনার সন্তান দোষি এই ভেবে বিচার করার সিদ্ধান্ত নিবেন না। কথা বলুন, রাগের স্বরে নয় বরং জানার জন্য। সন্তানের সিদ্ধান্তের চেয়ে আপনার সিদ্ধান্ত ভাল সেটা বুঝান তাকে কিন্তু ঘাড়ে চাপিয়ে দিবেন না। আপনি যেটা করতে পারেন নি বা যেটা আপনার স্বপ্ন ছিলো কিন্তু কোনো কারণে হিয়ে উঠেনি সেটা আপনার সন্তানকে দিয়ে করানোর ইচ্ছাটা বাদ দিন। আস্বস্ত করুন সন্তানের ইচ্ছাই আপনার স্বপ্ন। (লেখাপড়া জন্য বিষয় নির্বাচন করা-খেলাধুলার সিদ্ধান্ত) দেখবেন সংসারে অশান্তি বলে আর কিছু থাকবে না। বিশ্বাস করুন আমি বলছি পারিবারিক বন্ধন অটুট থাকবে চিরকাল।

সন্তান যতই ছোট হোক পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে মতামত নিন, দেখবেন কত তাড়াতাড়ি আপনার সন্তান আপনার মনের মত হয়ে উঠে। একটা পরিবারে ভালবাসা স্নেহ থাকাটা অনেক জরুরি। ভালবাসতে শিখুন, এই কাজটা সাধারণত কাপুরুষেরা পারে না। তাই নিরীহ সন্তানকে বকাঝকা করে নিজেকে কাপুরুষ প্রমাণ করবেন না। আপনার সন্তানটির জন্য আপনার সমাজের চোখে পুঁথিগত ভাবে অশিক্ষিত বা কুলি/মজুর বা রিক্সাওয়ালা লোকদের কথা শুনতে হয়? বাঙালি একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য- নিজে কিছু করতে না পারলে অন্যকেও করতে দিবে না। এটা নিশ্চয়ই আপনারও জানা। তাই কথা বলুন একটা নালিশ আসার পরে। “তুই কিছু না করলে কেন নালিশ নিয়ে আসবে ওরা..” এমন চিন্তা করা বাদ দিন দেখবেন আপনার সন্তান দ্বিতীয়বার একই ভুল বা অন্যায় করবে না। মারধরের ভয়ে মিথ্যাও বলবে না। কিছু করার আগে আপনার সাথে আলোচনা করবে, ভাল খারাপের পার্থক্য বুঝবে!

আপনার সন্তান আপনার উচ্চ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা আচরণ করতে না পারলে, নিজের হতাশা থেকে আপনারই রক্ত থেকে জন্ম নেয়া প্রাণটির উপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করবেন না। আপনি বাবা-মা-আত্মীয় বা শিক্ষকের মার, বকাঝকা খেতেন বলে সে শোধ আপনার নিরীহ সন্তানের উপর তুলবেন না। সন্তান পাল্টা প্রশ্ন করলে “লোকের কথায় মারো কেন? যাচাই বাছাই না করে?” এমন প্রশ্নের জবাবে “এভাবেই মানুষ করতে হয়!” বলা থেকে বিরত থাকুন। অনুকরণ প্রিয় শিশুদের মনে গেঁথে যাবে ব্যাপারটা এবং পরবর্তী প্রজন্মের উপরও একই থিওরী বিদ্যমান থাকবে। পারিবারিক বন্ধন তিতা হয়ে যাবে দিনকে দিন।

আপনি যদি আপনার সন্তানকে প্রকৃতঅর্থে একটুও ভালোবাসেন, তাহলে সন্তানের স্বার্থেই কখনও তাকে মারধর-বকাঝকা করবেন না। বুঝাবেন কিভাবে কি করতে হয়, কি করলে লোকে বিচার দিবে না। অন্যদিকে যদি কেউ বিচার দেয়ও ওই লোকের সামনে আপনার সন্তানকে ডিফেন্ড করুন। সন্তানের পক্ষ নিতে আমি বলছি না শুধু সন্তানকে আস্বস্ত করুন অন্য কেউ কিছু বললে বা করতে চাইলে “আমি আছি তোর সাথে।” বকা/মারা বা বুঝানোর দায়িত্ব শুধু আমাদের তৃতীয় কোনো ব্যক্তির নয়। বিশ্বাস করুন আপনার সন্তান আর কখনো সেই কাজটা করবে না যেটার জন্য বাসায় নালিশ এসেছে…

এখন বলি আপনার সন্তানকে কেন মারবেন না?

‌‌★ আপনি শিশুকে নিয়মিত মারধর-বকাঝকা করলে একসময় সে এসব সয়ে যাবে, যার ফলে আপনার তাকে শোধরানোর চেষ্টা ব্যর্থই হয়ে যাবে। মারধর-বকাঝকা সন্তানের শারিরীক-মানুষিক ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকারই করে না।

★ আপনি যখন আপনার সন্তানকে কথায় কথায় মারধর করবেন, তখন সে এটা শিখবে যে মারধর করেই সমস্যা মেটাতে হয়। ফলে সে মারধর করলে আপনার অবাক হওয়ার কিছু নেই, কেননা আপনিই তাকে মারধর করা শিখিয়েছেন।

★ আপনি তাকে মারধর করবেন, অথচ প্রতিক্রিয়া একদমই আসবে না, এমনটাও ভেবে বসে থাকবেন না। একসময় সে পাল্টা আঘাত কিংবা বিদ্রোহ করে বসলে তখন তাকে উচ্ছন্নে যাওয়া সন্তান বলার আগে নিজের আচরণ ঠিক করুন। আপনি শিশুর সাথে রাগ দেখাতে থাকলে শিশুও আপনার থেকে শিখে রাগী-বদমেজাজী হয়ে গড়ে উঠবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

★ বাবা-মা-শিক্ষক-অভিভাবকের মারধর শিশুকে কতোটা মারাত্মকভাবে মানসিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে, সেটা শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে হয়তো
শুনে থাকবেন। দয়াকরে আপনার সন্তানকে মারধর-বকাঝকা করে সর্বদা আতঙ্কগ্রস্ত, হতাশ মানসিকতায় গড়ে তুলবেন না।

★ শিশু সন্তানকে কথায় কথায় মারধর-বকাঝকা করার আগে একবার নিজেকে সে জায়গায় রেখে ভাবুন তো, কেউ আপনাকে সব ছোটোখাটো ভুলের জন্য বকাঝকা/মারধর করলে আপনার কেমন লাগবে?

★ আপনি সন্তানের সবচেয়ে আপন। আপনার কথাকেই সন্তান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনি যখন তাকে মারধর-বকাঝকা করবেন তখন সে নিজেকে অসহায় মনে করবে এবং আপনি তাকে দোষী মনে করে মারধর-বকাঝকা করতে করতে সে নিজেও তাকে দোষী ভেবে হীনমন্যতায় ভুগবে। যখন সে বুঝতে শিখবে সে আসলে দোষি ছিলো না তখন থেকে সব সময় আপনার বিরুদ্ধতা করবে।

★ নির্যাতনকারী – শাসকের সাথে সবসময়ই নির্যাতিতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আপনি যখন সন্তানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হবে। এতে সন্তান একা হয়ে যাবে, হতাশ হয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়া, নেশার রাজ্যে নিজেকে সপে দেওয়া বা আত্মহননের মতো সিদ্ধান্তও নিয়ে
বসতে পারে। সন্তানকে আপনি মারধর-বকাঝকা করলে এসবের ভয়ে আপনার সামনে কিছু না করলেও আপনার অগোচরে খারাপ কাজ করতে উৎসাহী হবে, ফলে হীতে বিপরীতই হচ্ছে তাইনা? বরং আপনি তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে রাখলে সে সব বিষয় আপনার সাথে শেয়ার করবে, ফলে সে ভুল করার বা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে আপনি তাকে সচেতন করতে পারবেন।

★ একটি শিশু সন্তানকে সামাজিক করে তোলার শিক্ষা শুরু হয় পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই। তাই অভিভাবক ও শিক্ষকদের থেকে বিরূপ আচরণ পেলে শিশু সামাজিক না হয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়বে। আপনি শিশুর সাথে কেমন আচরণ করছেন সেটা কিন্তু শিশুর মস্তিষ্কে থেকে যাবে, ফলে অতীতের কথা ভাবলেই মানসিকভাবে সে অস্বস্তিতে ভুগবে।

এমন আরো অগণিত পয়েন্ট আছে সন্তানকে মারধর-বকাঝকা করার কারনে সমস্যাগুলো চাউর হয়ে উঠে। আমার জানার ও ভাবনার স্বল্পতার জন্য তুলে ধরতে পারিনি হয়তো। এজন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন পাঠিক-পাঠিকা।

-তাহলে মারধর-বকাঝকা না করে শিশুকে সঠিক পথে রাখার বা ভুল পথ থেকে সংশোধনের উপায় কি?

-আচ্ছা নিজের মতামত দিচ্ছি। ভুল হলে হলবেন, আপনার যুক্তিযুক্ত মতামত সাদরে গ্রহণ করবো-

* শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই জন্মের পর থেকেই তার সাথে ও তার সামনে সুন্দর ও সৎ আচরণ করুন, এতে সে আপনাকে দেখেই শিখে যাবে, ফলে তথাকথিত “উচিত শিক্ষা” দেয়ার নামে মারধর-বকাঝকার প্রয়োজন পড়বে না। অবশ্যই অবশ্যই স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া সন্তানের সামনে করবেন না।

* শিশু সন্তান কোনো ভুল করলে সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সময় নিন। এতে আপনি ও রাগের মাথায় থাকবেন না আর শিশু সন্তান ও তার ভুলটা নিয়ে ভেবে অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। পরে একসময় সে ভুলের ব্যাপারে বন্ধুসুলভ আলোচনা করে বুঝিয়ে দিতে পারেন তাকে।

* সন্তান আপনাকে কোনো কথা বললে সেটা অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না এবং অন্যায় করে ফেললে ও স্বীকার করলে সেজন্য বকাঝকা-মারধর করবেন না অর্থাৎ সন্তানের কাছে নিজেকে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন। এর ফলে আপনার কাছে নিজে থেকেই সত্য বলে সংশোধিত হতে চাইবে।

* শিশুকে আপনার আচরণের মাধ্যমে উপলব্ধি করান, আপনি তাকে কতোটা বেশি ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন। এর ফলে শিশু আপনার অগোচরেও আপনার ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে অন্যায়/ভুল কিছু করবে না।

* কোনো কারণে এসবকিছু করা সত্ত্বেও যদি সন্তান অন্যায় করে, তাহলে তার সাথে অভিমানের অভিনয় করতে পারেন। ভালোবাসার মানুষ অভিমান করে বা কথা না বলে থাকলে, শিশু অনুতপ্ত হয়ে আর অন্যায় করবে না বলে আপনার অভিমান ভাঙ্গাবে।

* আপনি যদি শিশুর সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে বুঝে না উঠতে পারেন তাহলে শিশু সম্পর্কিত কাউন্সিলর বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন।

এই শিশু সন্তানইতো আমাদের ভবিষ্যৎ। বাবা-মা, শিক্ষক-অভিভাবক যে হিসেবেই একটি শিশুর দায়িত্ব আপনি নিচ্ছেন, সেটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিশু সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করুন।

 

😇 বিঃদ্রঃ ভয় হয়, নিজেকে প্রস্তুত করতে পারিনি বলেই হয়তো এখনো বাবা হইনি। তবে গুছিয়ে নিচ্ছি নিজেকে, সন্তানকে সু-শিক্ষাই দেওয়ার চেষ্টা করবো। ভালবাসা নিবেন সব সময় এবং দোয়া করবেন আমাদের জন্য❤

৪৫৯জন ১৯৭জন
42 Shares

১৭টি মন্তব্য

  • তৌহিদ

    শিশুদের নিয়ে সবাই এরকম করে ভাবে না। তাদের কোমলমতি মনে আমাদের অনেক আচরণ যে ইফেক্ট ফেলে তাতে তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা অবাধ্য হয়, নেতিবাচক আচরণ করে। এসবই কিন্তু শিশুর পারিবারিক এবং সামাজিক শিক্ষা থেকেই আসে।

    আপনি যেসব মতামত দিয়েছেন সেটা অনুকরণীয়। ভালো লিখেছেন ভাই। শুভকামনা জানবেন।

    • রেজওয়ান

      চমৎকার মন্তব্য ও সময়নিয়ে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইজান। আরেকটা পয়েন্ট ভুলে গিয়েছিলাম।

      সেটা হলো- কম্পেয়ারিজম। প্রতিটা বাবা-মা ই চায় সন্তান সব সময় প্রথম হোক, অল রাউন্ডার হোক। “অমুকের ছেলে পারে তুই পারবি না কেন?” বা “অমুকের পা ধুয়ে পানি খা”
      এই দুইটা লাইন গার্ডিয়ান মহলে অনেক কমন। আর এই লাইন দুইটাই অনেক প্রভাব ফেলে একজন কোমলমতি শিশুর প্রাণে।
      ভাল থাকুন প্রিয় ভাই❤

  • নিতাই বাবু

    সময়োপযোগী পোস্ট! বর্তমান মানুষের মন মানসিকতা নিয়ে আপনার এই পোস্টখানা সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। সাথে বর্তমান সমাজের এবং অবুঝ মানুষের জন্য আপনার পরামর্শ খুবই গুরুত্ব বহন করছে।

  • এস.জেড বাবু

    কর্মের প্রয়োজনে পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশে ভাতিজা, ভাগনে দের নিয়ে ওদের স্কুল, ট্যুর এবং বিভিন্ন আয়োজনে যাওয়া হতো। বিকেলে ওদের সময় দিতে ওদেরই খেলার মাঠে সময় কাটত।
    ওসব দেশের কালচার সম্পর্কে ছোটখাট ধারনা থেকে বলতে পারি- যে বয়সে যতটা প্রেসার একটা বাচ্চার মানষিকতার শুধুমাত্র রেজাল্ট এর জন্য চাপিয়ে দেয়া হয়- পশ্চিমা দেশগুলিতে তা কল্পনাও করা যায়না।

    আমরা বাঙ্গালীরা আধো বাঙ্গালী আর আধো পশ্চিমা কালচারে গুলিয়ে আছি। নিজেদের পছন্দমত / সুবিধা মত পশ্চিমা পোষাক আর ভাষা আচরণ শিখতে উৎসাহিত করলেও ওদের মত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আমরা সহজ, বন্ধুসুলভ হতে পারি না। মূল্যবোধ বয়স অনুযায়ি বাড়ে, বাচ্চাদের মূল্যায়ন না করে আমরা আমাদের পছন্দ চাপিয়ে দিতে গিয়ে আর পশ্চিমাদের মত ভাবি না- গোয়ারের মত চাপিয়ে দিই-
    তুমি সাইন্স পড়বে ডাক্তার হবে-
    কখনো ভাবি না বাচ্চাটা কি হতে চায়।

    চমৎকার লিখেছেন ভাইজান।
    সবাই এমনি করে ভাবলে একটা আদর্শ ভবিষ্যত প্রজন্ম আমরা উপহার হিসেবে পাবো এটা আশা করতে পারি।

    শুভেচ্ছা রইলো।

    • রেজওয়ান

      খুবই সত্যি কথা বলেছেন ভাইজান। আমরা আসলেই জগা খিচুড়িতে পরিনত হচ্ছি দিন দিন।

      আমার মনেহয় একটি শিশু যদি পরিবারের কাছ থেকে বন্ধুসুলভ আচরণ পায় তাহলে সে গন্ডির বাহিরে বন্ধুই বানাবে না আর যদি বানায়ও তাহলে তাকে নিজের পরিবারের সদস্যের মত করেই ভালবাসবে। সে ভালবাসায় কোনো উৎকট নিয়মনীতি থাকবে না। থাকবে না কোনো বিবাদ বা মনমালিন্য…

      জানিনা পাবো কিনা, তবে হ্যাঁ আমরা আশা করতেই পারি একটা সুস্থ প্রজন্মের!! ভাল ও সুস্থ থাকুন সব সময় ভাই😇❤

      • এস.জেড বাবু

        অবশ্যই পারবেন,
        এখনও অনেক ভালো মানুষ আছে এদেশে। ওদের বাবা মা ওদের মানুষের মত মানুষ করেছেন তাদের সুন্দর মনের সহজ ইচ্ছায়।

        আমরা অবশ্যই আশা করতে পারি।

        অনেক ভাল থাকবেন আপনিও।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    আপনার ভাবনা খুব প্রয়োজন প্রতিটি মানুষের মাঝে। কিত্নু হইত সবাই ভাবতেও পারেনা। বা সম্ভব হইনা। তবে নিশ্চিত সন্তান মানুষ করতে হলে জোর করে বা গায়ের বলে কুছুই সম্ভব না। তাঁকে পাশে বসিয়ে গল্প করে বিভিন্ন ব্যাক্তির উদাহরন বা আদর্শবান ব্যাক্তির জিবনি পড়িয়ে বুঝান উচিত। যেটা শিশুসুলভ মনে দাগ কাটবে যে আমি কি করব কি করবনা। ভাল মন্দ পার্থক্য করার গল্প করলে বাচ্চা ঞ্জেই তা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
    আল্লাহ আপনাকে শীঘ্রই বাবা হওয়ার ইচ্ছা পুরুন করুক। আমিন।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    দৈহিক নির্যাতন বা অতিরিক্ত শাসন শিশুমনে বিরুপভাব সৃষ্টি করে। একটা বয়সের পর সেই সন্তান শাসন-বারনের তোয়াক্কা করে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শাসনে শিশুরা তাদের সাধারন জীবন-যাপনে বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে, ফলে তাদের মানসিক বৃদ্ধি সাভাবিক ভাবে গঠিত হয়না। শিশুদের আদর, ভালোবাসার পাশাপাশি সঠিক সুশাসনে বড় করাই দায়িত্বশীল অভিভাকদের কর্তব্য।

    লেখাটি ভালো লেগেছে।
    শুভ কামনা 🌹🌹

    • রেজওয়ান

      একটা ক্লাশে সবাই প্রথম হতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। অনেক অভিভাবক এই দ্রুব সত্য মেনে নিতে চায় না। সন্তানের উন্নতির জন্য ক্লাশে প্রথম হওয়ার জরুরি না বরং সমাজের উন্নতির জন্য মন মানুষিকতা উন্নতির জন্য ভালবাসাটা জরুরি।

      অনেক ধন্যবাদ আপি এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য। শুভকামনা রইলো, ভাল থাকুন সব সময়😇💙

  • জিসান শা ইকরাম

    শিশু সন্তানকে তার মানসিক অবস্থার সাথে মিশে গিয়ে ভালো এবং মন্দের পার্থক্য বুঝাতে হবে,
    তার মনে বিরূপ ধারনা, বিদ্রোহ, প্রতিহিংসা জন্ম নিতে পারে, এমন ধরনের কাজ কোন ক্রমেই শিশু সন্তানের উপর করা উচিৎ নয়।
    অত্যন্ত ভালো একটি লেখা।
    তোমাদের জন্য অফুরান শুভ কামনা।

  • রেহানা বীথি

    শিশুরা যা দেখে তাই শিখে। রাগ, জেদ, প্রতিহিংসা, মারপিট সবই তারা দেখেই শেখে। সহানুভূতিশীল আচরণ যদি পরিবারের কাছ থেকে পায়, তারাও বেড়ে উঠবে সহানুভূতিশীল হয়েই।
    খুব ভালো পোস্ট।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য