শিক্ষার অভিশাপ

পথহারা পাখি ১১ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ০২:০৭:৫৫পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৩ মন্তব্য


হঠাৎ ঘুম ভাঙলো নিশির।
ইদানিং প্রায় প্রতিদিন সকালে ওর ঘুম ভাঙে একটা না একটা দুঃস্বপ্ন দেখে। হয়তো সে দেখে কোনো ট্রেন মিস হয়ে যাচ্ছে, অথবা প্রচন্ড উত্তপ্ত কোনো মরুভূমিতে তৃষ্ণায় বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে, কিংবা খুব ঘুটঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন কোনো জায়গায় একাকী বসে আছে! ঘুম ভাঙার পরেই খুব পানির পিপাসা পায় তার।
বালিশের পাশে রাখা মোবাইল ফোনটা চোখে পরতেই পানির কথা ভুলে গেলো সে। তাড়াতাড়ি চেক করে, কোনো কল আসেনি তো অপরিচিত কোনো নাম্বার থেকে!

গত কয়েকমাস ধরে নিশি বিভিন্ন জায়গায় সিভি দিয়ে বেড়াচ্ছে একটা চাকরির আশায়। দুই এক জায়গায় ভাইবাও দিয়েছে। কিন্তু এটা তো এখন ওপেন সিক্রেট, সবখানে আগে থেকেই ঠিক করা থাকে কাকে চাকরি দিবে। তবুও আশা তো করতেই হয়।

একটা চাকরি খুব দরকার নিশির।

অশিক্ষিত মেয়ে হলে চাকরি না করেও কেটে যায় দিন। হাজবেন্ড মেনেই নেয় যে, তারা শুধুই ঘরের ভেতরটা সামলাবে, ছেলেমেয়ে পালবে, রান্না করবে…ব্যস্!
নিশি তো আর যেনতেন মেয়ে না। স্কুল, কলেজে টপ স্টুডেন্ট ছিল যে, নামকরা সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছে অনার্স, মাস্টার্স…তার কী আর এভাবে বেকার বসে থাকা মানায়?
তার স্বামী রাফি তো প্রায়ই বলে, “এত ভালো স্টুডেন্ট ছিলে, তারপরও যদি স্বামীর কাছ থেকে হাতখরচ আশা করো, এর চেয়ে লজ্জার কিছু আছে তোমার, বলো?”

কাবিনের পর এখনো বাবার বাসায় থাকে ও। কতজনের কত কথা! “মেয়েকে এত পড়াশুনা করিয়েছে, তারপরও এখনো বাবার ঘাঁড়ে বসে খাচ্ছে, ছিঃ!”
খাবার টেবিলে খেতে যেতেও অস্বস্তিবোধ করে নিশি। হাতে একটা টাকা নেই, তবুও কারো কাছেই চাইতে পারেনা। পাশ করার পর এই ২/৩ মাস বাসায় থেকেই চারপাশের বাক্যবাণে হাঁপিয়ে উঠেছে ও…আর পারছেনা।

মাঝে মাঝে মনে হয়, কী লাভ এতো শিক্ষিত হয়ে? এর চেয়ে বরং অশিক্ষিত হয়ে জন্মালে সারাদিন ঘরকন্যা করেই কেটে যেতো, এত কথা শুনতে হতোনা তাকে উপার্জন না করার জন্য।

নিজের উচ্চশিক্ষা আর ভাল ফলাফলকে এখন রীতিমত অভিশাপ বলে মনে হয় নিশির কাছে!

মোবাইল ফোনটা বাজছে, দৌড়ে ধরল নিশি।
অসীম হতাশার মধ্যে বাঁচতে চাইলে আশা বাঁধতেই হবে, উপায় তো নেই আর। ।

৪৪৬জন ৪৪৬জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ