“ কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বুঝে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। রোববার (৩০ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার (২৬ মে) শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি করোনা সংক্রমণের কারণে আগামী ১২ জুন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ১৩ জুন খোলা হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাচ্ছি করোনা রোগী ৫ শতাংশ নেমে আসার পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকাটা স্বস্তিদায়ক।”

এদিকে চলুন দেখা যাক আমাদের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষার বেহাল দশা-

তোয়া বাবু ছয়বছরে পা দিয়েছে। করোনার শুরুতে সে নার্সারীতে ভর্তি হয়েছিলো।তখন সে ছিলো চার বছরের। স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে সে গত পনের মাস ধরে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ছিলো। সম্প্রতি সে শিক্ষককে মেরে ভাগিয়েছে। তার যুক্তি হলো, একই বই আর কতো পড়বে। পড়াশুনা এতো বোরিং কেন? সে স্কুলে যেতে চায়! আর তার সহিংস হবার পেছনে কারণ হল দীর্ঘদিন বাবা- মা, কাজের মানুষের সাথে থেকে থেকে বোর ফিল করছে। একই পরিবেশ তার মানসিক বিকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুসহ সকল শিক্ষার্থী মানসিক ভাবে  দিন দিন ভেঙ্গে পরছে। যার ভয়াবহতা মারাত্মক।

সৃজন, অটোপাশ রেজাল্টের দিন খুব কেঁদেছিলো। ভবিষ্যতে সবাই তাকে অটোপাশ বলবে। চাকরীর পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে বলবে, ‘ও আপনি অটোপাশ।’

অনেক বোঝানোর পর নিজেকে সামলে নিয়েছে। ভার্সিটি কোচিং করছে, কিন্তু তা কতোদিন চলবে বা করবে? বাইরে থাকছে, মাসে মাসে খরচের টাকা যাচ্ছে, কোচিং ফিস চলছে। কিন্তু সে সারাদিন ফোনে মুখ গুঁজে থাকে। অনলাইন ক্লাসের বদৌলতে তার হাতে বেশ দামী এনড্রয়েড ফোন। পড়াশুনা কতক্ষন করে সেই জানে। ফেসবুকিং, গেম খেলে, মুভি দেখে সময় কাটায়। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী পর্ণ এ আসক্ত হয়ে পড়েছে।

বাড়িতে বাবা- মা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে ছেলে মেয়ের পড়ার খবর কিংবা তাদের কাছে কৈফিয়ত চেয়ে বসলেই শুরু হচ্ছে ঝামেলা। তারা শাসনের পাল্টা জবাব দিচ্ছে খারাপ ব্যবহার দিয়ে। সন্তানের সাথে বাবা- মায়ের সম্পর্কের চরম অবনতি! তারাও আর কতদিন এমন করে একই বইয়ে মুখ গুঁজে থাকবে?

তনিমা ভাবীর তিন ছেলে। বড় দুটোই স্কুলে যেত এখন যেহেতু বাসায় তাই সারা সকাল মোবাইল বা ল্যাপটপে ভিডিও গেম খেলে, উচ্চ শব্দে গান শুনে, পুরো বাড়ি মাথায় তুলে থাকে। তিন ছেলের অত্যাচারে তিনি অতিষ্ঠ। এক মুহূর্ত ঘরদোর পরিস্কার থাকে না। তারউপর প্রতিদিন তারা ভরদুপুর কিংবা সন্ধ্যা অবধি যেটা ছিলো রেষ্ট কিংবা পড়ার সময় সে সময়েও খেলছে। বাবা- মা না পারছে সন্তানদের ঘরে রাখতে , না পারছে বাইরে দিতে। কোনটিতেই যেন স্বস্তি নেই।

গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষের ছেলেমেয়েরা যেভাবে পডাশুনায় এগিয়ে ছিলো ঠিক তেমনি করেই এক ঝটকায় তারা প্রায় শেষের পথে! মেয়েদের বাল্যবিবাহ হয়ে শেষ আর ছেলেরা সব পড়াশুনা বাদ দিয়ে গার্মেন্স বা অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে গেছে। স্কুল- কলেজ খুললে আদৌ তারা সেখান থেকে ফিরবে বলে মনে হয় না। এতে করে গ্রামীণ শিক্ষা আবারও বহু বছর পিছিয়ে গেলো। শুধুমাত্র টাকাঅলা লোকজনই তাদের সন্তানকে টিউশনির দিয়ে সামান্য আটকে রেখেছেন। তাও বা কতদিন চলবে?

শামসুজ্জোহা স্যারের সাথে জরুরী কাজে ফোন দিয়ে কোনভাবেই পাওয়া গেল  না। সন্ধ্যায় তিনি ফোন ব্যাক করে যা জানালেন, ফোন বাসায় ফেলে সকাল দশটায় হাল্কা নাস্তা সেরে বাইরে গেছেন তারাতারী ফিরবেন এ আশায়। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তাঁর ফিরতে ইচ্ছে হয়নি। এখানে সেখানে অযথা সময় কাটিয়ে সাপ লুডু কিংবা তাস খেলে ফিরেছেন। বাসায় ফিরে তিনি মনে করতে পারছেন না সকালে তিনি কি কি করেছেন? গোসল কিংবা দুপুরের খাবার খেয়েছেন কিনা? কারণ জবাবদিহিতা নেই, কলেজে যাবার তাড়া নেই, পড়াশুনা নেই, তাই লাইফ থেকে রুটিনও হারিয়ে গেছে?

আগে সকাল ছটায় উঠে বই নিয়ে বসতেন। ক্লাসে কি পড়াবেন তার প্রিপারেশান নিতেন তারপর ছুটতে ছুটতে কলেজ। অনেকগুলো ক্লাসের পর চরম ক্ষুধায় বাসায় ফেরা এবং পরের দিনের জন্য তারাতারি ঘুমোতে যাওয়া। অনেকের মতে, শিক্ষকরা তো বেতন পাচ্ছেন সমস্যা কি? টাকা পয়সায় কি জীবনের আনন্দ আছে? শিক্ষকতার আনন্দ তো শুধু শিক্ষার্থীদের মাঝেই পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে হাজার হাজার কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে। আমরা এগুলোকে তেমন মূল্যায়ন না করলেও এরাই শিক্ষার্থীর ভিত তৈরি করে দেয়। সরকারী প্রাইমারী স্কুলের চেয়েও এখানে ভালো পড়াশুনা হয়। অথচ যেগুলোর এখন চরম বেহাল দশা। শিক্ষকরা কিছুদিন অপেক্ষা করার পর অনেকে ছোট ব্যবসা, ফলের দোকান এমনকি অটোরিকসার ড্রাইভার পর্যন্ত হয়েছেন।

বিগত করোনাকালীন সময়ে সরকার কিছু শিক্ষককে ৫০০০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েই যেন হাঁফিয়ে উঠেছেন। এবার আর কোন নাম গন্ধ নেই। তারা কিভাবে চলছে পরিবার নিয়ে এ নিয়ে সরকার নিরব।অথচ এরাই কারও কাছে হাত পাততে পারেনা, কাউকে বলতে পারে না অভাবের কথা। সব কিছু ঠিকঠাক চললেও কেন যেন শিক্ষা বাঁচানোর কোন তাগিদ বা ইচ্ছাই নেই সরকারের?

অথচ নিম্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য বহু বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সেক্টরে চলছে রমরমা টাকার ছড়াছড়ি। কেউ কেউ ফুঁলেফেঁপে একাকার আর কারও কারও ঘরে হাহাকার!!! এমন অবস্থাই দেখা গেলো করোনাকালে।

যাই হোক, কেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে না এ নিয়ে নানা জনের নানা অভিমতে যেতে চাই না। তবে বলতে চাই, করোনা যদি থেকেই যায় তাহলেও কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এভাবে বছরের পর বছর বন্ধই থাকবে? নাকি অন্য সব যেমন চলছে তেমনি সঠিক পরিকল্পনামত, সুব্যবস্থাপনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে? শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার যে বেহাল দশা, যে চরম সেশনজট ও ধংসের মুখে পড়েছে। তা থেকে অনতিবিলম্বে উপায় বের করে রক্ষা করা উচিত। তাই পরিস্হিতি নয় বরং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হোক!!!

ছবি- নেটের

১৩৭জন ৭জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

  • সুপর্ণা ফাল্গুনী

    আপনার বিষয় নির্বাচন নিয়ে কিছুই বলার নেই। চমৎকার পোস্ট। শিক্ষা ব্যবস্থা বলা যায় পুরোপুরি ভেঙ্গে পরেছে। সবকিছুই তুলে ধরেছেন। মধ্যবিত্ত রা সবখানেই পাঁঠার বলি হয়ে ছিলো , থাকবে। এদের জন্য কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। অর্থনীতি ও এখন‌ কোমর ভাঙ্গা অবস্থা। উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত রা আছেন রাজার হালে। সুন্দর বিষয় নির্বাচন এর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ

  • আরজু মুক্তা

    রুকু আসলে সবাই বোঝে। শুধু দীপুমনি বোঝে না। কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং এর সাথে জড়িত পরিবারের যে কী অবস্থা সেটা সবাই জানে। সরকার বোঝেনা। আমাদের বাচ্চাদের কী অবস্থা। সেটা আমরা জানি। সরকার আমলা বোঝে না। ওদের বাচ্চা তো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। আমাদের বাচ্চারা হবে মুদি, ফল ব্যবসায়ী। ওদের বাচ্চা টাকা দিয়ে হবে ডাক্তার ইন্জিনিয়র। সুতরাং স্কুল বন্ধ থাক। গোল্লায় যাক।
    ইসরাইল কি করপছে জানেন? সবার আগে শিক্ষক এবং স্টুডেন্টস দপর টিকা দিয়ে দিছে। পার্থক্য এখানেই।
    আমরা সাধারণ মানুষ বুঝি। সরকার বোঝে না।
    অভাগা জাতি

  • জিসান শা ইকরাম

    সমস্যা সব দিকেই আছে। ছাত্ররা বাসায় থাকতে থাকতে বিষাদ গ্রস্থ হয়ে গিয়েছে। মানসিক অবসাদ, পড়াশুনার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরো খারাপ, অনলাইনে ক্লাস তারা করতে পারছে না। ভীষন এক মেধা শূন্যতা তৈরী হবে এই দুই বছরের।
    কিন্তু স্কুল কলেজ খুলে দেয়ার পরে ক্লাসে বা স্কুল কলেজের মাঠে বা রাস্তায় নিরাপদ দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি কি শিক্ষার্থীদের মানতে বাধ্য করা যাবে? তারা কি ক্লাসে তিনফুট দূরে বসবে? আমার অভিজ্ঞতায় মফস্বলের অধিকাংশ স্কুলে তিনজনের একটি বেঞ্চে চয় সাত জনও বসে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাধিক্যের কারনে। একটি বেঞ্চে যদি দুই জন বসে, বাকী চারজন কি করবে? তারা কি ক্লাসে যাবে না? বা প্রতি দিনদিন পরপর একজন ছাত্র ক্লাসে যাবে?

    স্কুল কলেজ খুলে দিলে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হবেই, কেউ তা ঠেকাতে পারবে না, গ্রামের অভিভাবকগন তো বুঝতেই পারবেন না যে তার সন্তান করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ে কি আমাদের চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা আছে?
    তখন আপনিই আবার পোষ্ট দিয়ে সরকার তথা দিপু মনির আহাম্মকির কথা লিখবেন। কেন বোকার মত স্কুল কলেজ খুলে দেয়া হলো তার সমালোচনা করবেন।

    ভালো লিখেছেন।
    শুভ কামনা।

  • হালিমা আক্তার

    সমসাময়িক বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। শিক্ষার্থীরা মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। শিক্ষকরাও
    ভালো নেই। ভেবেছিলাম কিছু দিনের মধ্যে স্কুল খুলবে। আবারো একরাশ হতাশা। জানিনা আগামী দিনগুলোতে কি হবে।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল অনাগ্রহ তৈরী হয়েছে ইতিমধ্যেই। আবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই মুহুর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার পক্ষপাতী হতে পারছি না। শপিং মল, কর্মক্ষেত্রে যাওয়া না যাওয়া মানুষের ঐচ্ছিক ব্যাপার, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সাথে ঐচ্ছিক ব্যাপার টা খাটবে না। ভাইরাস নির্মুল বা ভাইরাস কন্ট্রোল করার উপায় নিয়ে এখনো সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি, এই অবস্থায় আমি অন্তত স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আমার বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাবো না।
    পোস্টের বিষয় নির্বাচন ভালো লেগেছে।
    ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন। শুভ কামনা 🌹🌹

  • স্বপ্নীল মেঘ

    আজকে প্রায় এক বছর হয়ে গেলো ইভেন তার ও বেশী কলেজ যাওয়া হয়না। আড্ডা, ক্লাস, টিচার দের সাথে দেখা হয়না। কি একটা অবস্থা!
    আমরা স্টুডেন্ট রা যদি এভাবে মানুষিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পরি তাহলে আমাদের টিচার দের কি অবস্থা সেটাও বুঝা যায়।
    আর পড়াশোনা!
    ক্লাসের বাড়তি চাপ একজন স্টুডেন্ট এর জন্য পড়াশোনা করার ভালো সুযোগ বলতে পারেন। ভাঙ্গাচুড়া অনুভূতি নিয়ে আর যাই হোক, পড়াশোনা হয়না।
    আমাদের শিক্ষা উন্নত হয়না, কিন্তু আমাদের দুর্নীতি দুর্নিবার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এও বা খারাপ কিসে? সুনাম ও নাম কুনাম ও নাম।
    আর দেশের সরকার? উনি তো আজকাল এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতেই নারাজ। রাষ্ট্রের সকল বোঝা টানতে টানতে উনি ক্লান্ত😁
    শিক্ষামন্ত্রী হঠাৎ মাঝেমধ্যে লাইভে এসে রুপ খানা দেখিয়ে দুটো কথা বলে আবার উধাও।

    আমরা দেশের মানুষ নামে স্বাধীন হলেও পরাধীনতার আবদ্ধ শিকল ঘাড়ে ঝুলে আছে।

    • রোকসানা খন্দকার রুকু

      দারুন বললেন। দল মত নির্বিঘ্ন মতামত। শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার্থী অসম্পূর্ণ তেমনি শিক্ষকরাও বিষাদগ্রস্ত। অনেকেই বলছেন শিক্ষক নাকি বেতন পায় তাই চায় না খুলুক এটি ভুল ধারনা। শিক্ষামন্ত্রী একজন ডাক্তার মানুষ আর কিছু না বলি! শুভ কামনা আপনার জন্য।

      • স্বপ্নীল মেঘ

        “অনেকেই বলছেন শিক্ষক নাকি বেতন পায় তাই চায় না খুলুক এটি ভুল ধারনা”।

        একজন শিক্ষক প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুল/কলেজে যেতে অভ্যেস্ত হয়ে উঠে। রুটিনমাফিক পড়াশোনা, খাওয়া, ঘুম, জগিং, ইত্যাদি তৈরি হয় স্কুল/কলেজ যাওয়ার মাধ্যমেই।
        দীর্ঘদিনের বন্ধে উনারা এসব থেকে ছিটকে গেছেন। কারন, মুক্তমনা জীবন বেশীদিন ভালো লাগেনা।
        হুম এটা ঠিক যে উনারা বন্ধে একটু স্বস্তির বোধ পেয়েছেন কিন্তু এতোদিনের বন্ধে স্বস্তি দূরে থাক এখন ওদের নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
        উনারা শিক্ষক। বাবা মায়ের পরের দায়িত্ব উনাদের।
        এসব রটাচ্ছে তারাই যাদের সন্তান পড়াশোনায় ভালোনা। অনেক শাসন করেও যাদের সন্তান ক্লাসে ভালো করতে পারেনা। নিজের অক্ষমতাকে শিক্ষক এর উপর জোর করে চাপাচ্ছে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, এই মানুষ গুলো সেকাল থেকে হেঁটে এসেছে।

        ভালো থাকুক সকল শিক্ষক।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য