তুখোড়, চটপটে, হাসিখুশি একজন ব্লগার। যার পদচারণায় সোনেলা সমৃদ্ধ এবং তার লেখাগুলো পাঠক হৃদয়কে করেছে পুষ্ট। তিনি আর কেউ নন। খুবই প্রাণবন্ত….. রোকসানা খন্দকার রুকু।

 

শততম পোস্টের জন্য সোনেলা ব্লগের পক্ষ থেকে তাকে জানাচ্ছি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

রুকু নিবন্ধন করেছেন ৯ মাস ১৫ দিন আগে।  ” আমি ও আমার সহযোগী ” তার প্রথম লেখা। যা প্রকাশিত হয় ৭ জুলাই ২০২০। এবং আজকের ” আক্ষেপের খরতাপ ” এই লেখার মাধ্যমে তিনি শততম পোস্টের মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

When we reading, we don’t fall in love with the character’s appearance,  we fall in love with your words,  your thoughts and hearts. We fall in love with your soul. তার লেখা বরাবরি আমাদের চমৎকৃত করেছে।

তার প্রথম লেখায়, যারা আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত; তাদের করোনাকালীন যত্নের কথা বলেছেন। অথচ আমরা বহুলাংশে তাদের এড়িয়ে চলি। এখানে তার মানবিক হৃদয়ের স্পষ্ট প্রতিফলন। আবার তার ” একাকীত্ব ” লেখায় ; আমরা মেয়েরা নিজেদের ভাবনার আকাশে সাঁতার কাটতে গিয়েও কতো যে অভিনয় করি আর মুখে সুখের হাসি দিয়ে চলি, তা বলেছেন। এভাবে হাসিমুখে চলতে চলতে তার নাকি প্রেম হবে প্রকৃতির সাথে। তার ভালো লাগে রোদেলা দুপুর, নদীর তীরের হাঁসের নীরবে বয়ে চলা, কুচুরিপানার ফুল, আর বাসার ব্যালকনির চড়ুই পাখির কিচিরমিচির।  আবার অল্পতে তুস্ট সে। দুপুরের খাবার ডাল, আলুভর্তা, ডিম ভাজি কিংবা একটা লাল মরিচ হলেও চলবে। পুরাই বাঙালি।

রাতের চাঁদ আর মেঘের সাথে চাঁদের যে লুকোচুরি তা দেখে তিনি বিমোহিত।  হাজার বছর বাঁচার তার ইচ্ছা।

করোনা নিয়ে তার রম্য, বাস্তবতা এবং মানুষের ভাবনা….  অনেক লেখাতেই ফুটে উঠেছে। ” তিথি পজিটিভ বনাম করোনা ” তেমনি একটি লেখা।

তিনি মেয়ে বা নারী কে মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে কখনো বৌমা, মেয়ে, বা মা হয়ে সমাজের ভনিতাগুলোকে ভ্রুকটি করে আসল রূপ তুলে ধরেছেন। একজন বাড়ির মেয়ের যখন বিয়ে হয় তখন তাকে বৌমা নয় মেয়ে হিসেবে দেখতে হবে। ” যে নারীর গন্ধ শুঁকে শুঁকে বড় হয়েছো তাকে সম্মান করতে শিখো। ” এটা আমার কথা না। তার কথা।

যৌতুক, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বৃদ্ধাশ্রম, হিল্লা বিয়ে, মেয়ে কেনো কালো, মেয়েদের দায়িত্ব, পুরুষ তান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চপেটাঘাত, এমনকি ছেলেদের রোমান্টিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, অন লাইন ক্লাসের বিড়ম্বনা, মেয়েদের প্রি কন্সাসনেস — কোন বিষয় তিনি লেখায় আনেননি, ভাবতে বসতে হবে।

সাহিত্যের সব শাখায় তার বিচরণ।  তবে রম্য গুলোতে মানুষকে যেভাবে মেসেজ দিয়েছেন : তা মানুষ উপলব্ধি করতে পারলে, সমাজ বদলাবে।

সোনেলা তার ভালোবাসার আঙিনা। এটা বলতেও তিনি কার্পণ্য করেননি। তিনি লেখার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেনো ব্লগে লেখা উচিত আর আর ফেসবুকে কেনো উচিত নয়। এরকম লেখা পড়তে চাইলে ” ফেসবুক ও সোনেলা রোদ্দুর ” লেখাটিতে ক্লিক করতে পারেন। তার কথায়, ” বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর, আমি সোনেলার ছাত্র। ” সোনলা ছাড়া তার নাকি একদিনও চলে না। এমন ব্লগার আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি যার শয়নে – স্বপনে- জাগরণে শুধুই সোনেলার সোনা সোনা ঝিলমিল রোদ।

তিনি ভালোবাসায় বিশ্বাসী।  প্রতিটি দিন রঙিন করে তুলতে এবং রাঙাতে চান। আমরাও দোয়া করি তার একঘেঁয়েমি যেনো না আসে।

তার লেখা পড়ে আমার প্রায়ই মনে হয়, ” She picks up a pen to change the world. ”

ভালো থাকবেন সবসময়…. এমন প্রত্যাশা রেখে গেলাম।

৩৬৯জন ৮৯জন
67 Shares

৪৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য