লোকমান হেকিমের কেরামতির গল্প-১

নিতাই বাবু ৬ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার, ০২:১৮:৩৯পূর্বাহ্ন গল্প ২৭ মন্তব্য

আগে হাট বাজারে গেলে ক্যাম্বাচারদের দেখা যেতো। শুধু হাট বাজারে-ই-বা কেন, শহরের  আনাচে-কানাচেও ক্যাম্বাচারদের দেখা যেত। ওঁরা যাঁরা বনাজি ঔষধ বিক্রি করতো, ওঁদের সামনে থাকতো সাজানো দেশীয় গাছগাছালি। কোন গাছের কোন গুণ, তা সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতো। অনেক ক্যাম্বাচারদের সাথে হারমনিয়াম তবলা থাকতো। গান বাজনার ফাঁকে ফাঁকে ঔষধের গুণাবলি তুলে ধরতো। ক্যাম্বাচারদের চারদিকে মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনতো, ওঁদের কাছ থেকে ঔষধও কিনতো। যেকোনো হাট বাজারের দিন ওঁরা দুপুরের পরপর গাছগাছালির পসরা সাজিয়ে বসতো। থাকতো লোকের সমাগমের আশায়, অপেক্ষায়। লোকের সমাগম হতে, আর ক্যাম্বাচারদের লেকচার শুরু হতো। ওঁরা ক্যাম্বাচাররা মাজার মজার গল্পও বলতো। ওঁদের মুখে সেসব গল্প শুনতে খুবই মজা লাগতো। ওঁদের সাজানো গাছগাছালির সামনে চুপ করে বসে বসে ওঁদের বানানো গল্পগুলো শুনতাম। সেই গল্প মনের ভেতর গেঁথে রেখে আবার না শোনা বন্ধুদের শোনাতাম।

সেসব গল্পের মধ্যে একটা গল্প আজ কয়েকদিন ধরেই মনে পরতে লাগলো। গল্পটা হলো এক হেকিমের বাদশার তেলেসমাতি দেখানোর গল্প। যার নাম ছিল লোকমান হেকিম। তিনি নাকি গাছেদের সাথেও কথা বলতেন। গাছেরাও হেকিমের সাথে কথা বলতো। ক্যাম্বাচাররা লোকমান হেকিমের গল্প বলে মানুষকে আকৃষ্ট করতো। গল্প বলার একটা উদ্দেশ্যও ছিল। উদ্দেশ্য হলো, ওঁরা যে গাছগাছালি নিয়ে বসেছে, এসব গাছগাছালি দিয়ে তো একসময় একমাত্র লোকমান হেকিমই ঔষধ তৈরি করতেন। তাই ওঁরা মানুষকে বুঝানোর জন্য লোকমান হেকিমের গল্প শোনাতো। আজ সেসব গল্পের মধ্যে একটা গল্পের পুরো কাহিনী সবার সামনে তুলে ধরছি। তবে হ্যাঁ, এই গল্পের সাথে আমি কোথাও কোনও মিল খুঁজে পাইনি। সত্য আর মিথ্যা, তা বিবেচনায় নিবে আমার পাঠক ও সহ-লেখকবৃন্দ। আশা করি সবাই সাথে থাকবেন।

গল্প ছিল এরকম:
এক বাদশা ছিলেন। বাদশার নেশা ছিল শিকার। দুই তিনদিন পরপর বাদশা সৈন্যসামন্ত নিয়ে হরিণ শিকারে বের হতেন। যেতেন গহীন বনে। ভয় বলতে বাদশার ছিল না। বাদশা ছিলেন খুবই সাহসী। একদিন তিন চারজন সৈন্য সাথে নিয়ে শিকারে বের হলেন। কোথায় কোন বনে যাবেন, তা আর ঠিক করতে পারছিলেন না। হঠাৎ বাদশার মাথায় এক বুদ্ধি চলে এলো। বুদ্ধি হলো, যেসব বনে একবার গিয়েছি, সেসব বনে আজ আর যাবো না। যাবো এক অচেনা বনে। তা হোক নিকটে, হোক দূরে। সাথের সৈন্যদের জিজ্ঞেস করলো, ‘দূরে কোনও অচেনা গহীন বন আছে কিনা’। একজন সৈন্য বললো, ‘আছে’। বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন, ‘সেই বনের নামটা কী?’ সৈন্য বললো, ‘বনের নাম সোনা বন’। বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা কোথায়?’ সৈন্য বললো, ‘অনেক দূরে হুজুর’। আবার অনেক ভয়ানকও’। বাদশাহ রেগে বললেন, ‘ভয়ানক হোক আর দূর হোক, আমাকে সোনা বনে নিয়ে চলো’।

যেই কথা, সেই কাজ। বাদশাকে নিয়ে গেলেন অচেনা অজানা সোনা বনের কাছে। সোনা বনের পরিবেশ দেখে বাদশাহ খুবই খুশি হলেন। খুবই সুন্দর! মনোরম মায়াবী পরিবেশ। বনের কাছে যেতেই বনের প্রাকৃতিক শোভা যেনো বাদশাকে ভেতরে ডাকছে। বাদশাহ খুশিতে বলতে লাগলো, ‘এই সুন্দর মায়াবী সোনা বনে মায়াবী হরিণ আছে। আমার শিকার জীবনে এ-ই বনের হবে সেরা শিকার’। কিন্তু সাথে যাওয়া সৈন্যরা কেউ যেতে সাহস পাচ্ছিল না। কারণ এই সোনা বন সবার কাছে অচেনা হলেও, সোনা বনের ভেতরের কাহিনী অনেকের কাছেই ছিল শোনা এবং জানা। তাই বন দেখে সাথে যাওয়ারমত সবাই ভয়ে থতমত। সবার এরকম অবস্থা দেখে বাদশা ভীষণ রাগ করলেন। সবাইকে বললেন, তোমরা পুরুষ নামের কলঙ্ক। এই বলেই বাদশাহ সবাইকে রেখে নিজেই সোনা বনের ভেতরে চলে গেলেন। সাথে যাওয়া সৈন্যরা সোনা বনের বাইরে বসে রইলেন, বাদশার অপেক্ষায়।

বাদশাহ সোনা বনের ভেতরে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। যতই ভেতরে যাচ্ছে, সাহসী বাদশার ততই শরীর ছমছম করছে। আর এক সৈন্য তো আগেই বলেছিল বনটি খুবই ভয়ানক। কিন্তু বাদশাহ তা আর গুরুত্বের সাথে নেয়নি। বাদশাহ তাঁর সাহসিকতার দাপটে একপর্যায়ে বনের গহীনে চলে গেলেন। সাথে থাকা সৈন্যদল রয়ে পেলেন বাইরে। বাদশাহ এখন সোনা বনের গহীনে একা। সাহসী বাদশাহ তীর-ধনুক তাক্ করে এদিক সেদিক এগুচ্ছে, তাকাচ্ছে। বাদশার কানে মানুষের কান্নার আওয়াজ আসছে। অতি নিকটেই কে যেন কাঁদছে। সেও আবার মেয়ে গলায়। বাদশাহ ভয় পাচ্ছিল তো পাচ্ছিল না। এগুচ্ছে তো এগুচ্ছে না। এমনই চলছিল বাদশার অবস্থা।

এভাবে একটু একটু করে সময় যাচ্ছে, আর বাদশার কানে কান্নার আওয়াজ আরও বেশি আসছে। বাদশা এখন হরিণ খোঁজা বাদ দিয়ে, কান্নার খোঁজে মন দিলো। বাদশা জোরে বলতে লাগলো, ‘কে তুমি কাঁদছো? তুমি কে? তুমি আমার মতো মানুষ? নাকি জ্বীন-ভূত? যদি মানুষই হয়ে থাকো, তাহলে আমার সামনে আস! তোমার শত সমস্যা আমি সমাধা করে দিবো।’ এসব বলার পরপরই আড়াল থেকে কে যেন বললো, ‘হুজুর আমি আপনার মতো মানুষ। তবে মেয়েমানুষ। কিন্তু আমি আপনার সামনে আসতে পারছি না। আমি যে বস্ত্রহীন হুজুর! আমাকে এক টুকরো বস্ত্র দিন। আমি আপনার দেওয়া বস্ত্র পরে আপনার সামনে আসি।’ বাদশার এবার একটু বাড়তি সাহস হলো। মনের ভেতর থেকে কিছুটা ভয় দূরীভূত হলো।

এবার বাদশা বললো, ‘তুমি কোথায়? আমি তো তোমাকে দেখছি না। না দেখার মাঝে আমি তোমাকে পরিধান করার বস্ত্র দেই কীভাবে?’ দূর থেকে আওয়াজ আসলো, ‘হুজুর আমি আপনার পিছনে বড় গাছটার আড়ালে আছি। দয়া করে বস্ত্রখণ্ড গাছের ওপাশে ফিকে দিন। আমি বস্ত্র পরিধান করে আপনার সামনে আসি।’ কথামতো বাদশা নিজের মাথায় থাকা সাদা কাপড়ের পাগড়ি খুলে গাছের সামনে ফিকে দিলো। কিছুক্ষণ পর গাছের পিছন থেকে সাদা কাপড় পরিহিত এক রূপসী মেয়ে বের হয়ে আসলো। বাদশাহ দাঁড়িয়ে আছে। বাদশার সামনে এখন উঠতি বয়সের রূপসী যুবতী মেয়ে। বাদশা তো অবাক হয়ে দেখছে। মেয়েটার রূপের বাহার দেখে বাদশার এখন মাথা খারাপ হবার পালা। কিন্তু মাথা খারাপ না করে নরম গলায় মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার নাম কী?’ মেয়েটি বললো, ‘আমার নাম কোঁয়া কোঁয়া’। বাদশা জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি এখানে কী করে এলে?’ তোমার মুল্লুক কোথায়? তোমাকে কেউ কী অপহরণ করে এখানে ফেলে চলে গিয়েছে?’ মেয়েটি বাদশার সব কথার উত্তর দিলো, ‘জানি না’।

মেয়েটির কথা শুনে বাদশার মায়া হলো। বাদশার সাথে সীমিত খাবার ছিল। যা-ই ছিল মেয়েটাকে খেতে দিলো। মেয়েটা খেলো। এবার বাদশা জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি কি আমার সাথে আমার মুল্লুকে যাবে? যদি যেতে চাও, তো আমি তোমাকে আমার মুল্লুকে নিয়ে যাবো। বলো তুমি কি যাবে?’ মেয়েটি বললো, ‘জ্বি হুজুর, আমি আপনার সাথে যাবো। তবে এভাবে যেতে পারবো না’। বাদশা জিজ্ঞেস করলো, ‘এভাবে মানে? তুমি যেভাবে যেতে চাও, আমি তোমাকে সেভাবেই নিয়ে যাবো। বলো, তা কীভাবে?’ মেয়েটি বললো, ‘হুজুর, আপনার সাথে নিতে হলো আমাকে বিবাহ করে নিতে হবে। তা কি আপনি করবেন?’ বাদশা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, ‘ঠিক আছে, তা-ই হবে’। এই বলেই দুইজনে সোনা বনের গহীন থেকে বাইরে আসলো।

এদিকে বাদশার সাথে যাওয়া সৈন্যরা চিন্তায় অস্থির! ওঁরা সৈন্যরা শুধু বনের দিকে তাকিয়ে আছে কতক্ষণে বাদশা আসবে। বাদশাকে দেখার জন্য সৈন্যরা করছে পাঁয়তারা। এমন সময় বাদশা সৈন্যদের সামনে হাজির। সাথে রূপসী এক মেয়ে। সৈন্যরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘হুজুর, আপনি গেলেন হরিণ শিকার করতে। অথচ আপনার সাথে হরিণ নেই! সাথে নিয়ে আসলেন এক রূপসী মেয়ে। তো হুজুর, আপনার সাথে এই মেয়েটা কে?’ বাদশা বললো, ‘এটা হবে তোমাদের নতুন রাণী মা’। এই বলেই সবাইকে সাথে নিয়ে বাদশা তাঁর মুল্লুকের দিকে রওনা দিলেন। বাদশার মুল্লুকে গেলেন।

বাদশার মহলে আগে বিয়ে করা এক রাণী আছে। বড় রাণী জিজ্ঞেস করলো, ‘জাঁহাপনা, জানতে পারি, আপনার সাথে মেয়েটি কে?’ বাদশা বললো, ‘এই মেয়েটি আজ এখনই আমার রাণী হবে। তুমি হবে বড় রাণী, আর এই মেয়েটি হবে আমার ছোট রাণী।’ বড় রাণী বাদশার কথা শুনে চুপ করে মহলের ভেতরে চলে গেল। এমনিতেই আগেকার রাজা বাদশাদের মহলে তিন চারটে করে রাণী থাকতো। তাই আর বড় রাণী বাদশার মুখের উপর কিছু না বলে চুপ করে চলে গেলো। এরপর বাদশা উজিরকে ডেকে বললেন, ‘কাজী ডাকো! যেই কথা সেই কাজ। কাজী আসলো। বিয়ে হলো। ছোট রাণীর থাকার জন্য আলাদা এক কোঠা দেওয়া হলো। বাদশা এখন বড় রাণীর ঘরে না থেকে, মনের আনন্দে ছোট রাণী কোঁয়া কোঁয়াকে নিয়েই বেশি থাকে। বাদশা রূপসী কোঁয়া কোঁয়াকে পেয়ে অতীত বর্তমান যেন সবই ভুলে গেছে।

ভুলে গেছে বাদশার প্রাণপ্রিয় বন্ধু লোকমান হেকিমের কথাও। যিনি হলেন, হেকিমের বাদশা। এর আগে বাদশা যখন যা কিছু করতো, প্রিয় বন্ধুর থেকে বুদ্ধি পরামর্শ নিয়েই করতো। যেকোনো জটিল বিষয়ে বন্ধুকে স্মরণ করতে, বন্ধু লোকমান হেকিম সেই জটিল বিষয়ের সমাধান করে দিতো। অথচ বাদশা রূপসী কোঁয়া কোঁয়াকে বিয়ে করে ঘরে তোলার পর প্রিয় বন্ধুকে যেন মনের অজান্তেই ভুলে গিয়েছে। কোঁয়া কোঁয়াকে দেখার পর বিয়ে পর্যন্ত কোনকিছুই জানানো হয়নি, প্রিয় বন্ধু লোকমান হেকিমকে। তবে বাদশার প্রিয় বন্ধু লোকমান হেকিম কিন্তু তাঁর মুল্লুকের বর্তমান হালচাল সবই নজরে রাখছে। স্মরণেও রাখছে। বাদশার মুল্লুকে কখন কী হচ্ছে, সব বিষয়েই সজাগ দৃষ্টি রাখছে। আগে-পরে খবরও রাখছে। বাদশা যে সোনা বনের গহীন থেকে একটা মেয়েকে উদ্ধার করে এনে বিয়ে করেছে, তাও জানে। কীভাবে করেছে, তাও জানে। মেয়েটির জন্ম পরিচয়ও আগে থেকে লোকমান হেকিমের জানা আছে। কিন্তু বাদশা মেয়েটিকে বিয়ে করার পর লোকমান হেকিম নিজে থেকে কোনদিন মুল্লুকে প্রবেশ করেনি।

এদিকে বাদশার মুল্লুকে একের পর এক অঘটন ঘটেই চলছে। অঘটন হলো, প্রতি রাতে কোনো-না-কোনও গ্রামে জনসাধারণের গরু থাকে না, মহিষ থাকে না, ছাগল থাকে না। কোঁয়া কোঁয়াকে মুল্লুকে আনার পর থেকে চারদিকে কিসের যেন এক আলামত শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন বাদশার কাছে গ্রামের মানুষজন এসে প্রতিকার চেয়ে কান্নাকাটি করছে। লোকজনের মুখে এমন কথা শুনে বাদশা ভাবতে শুরু করলো। অবশেষে ভাবনার কুল-কিনারা না পেয়ে স্মরণ করলো বন্ধু লোকমান হেকিমকে। বাদশার দরবারের উজিরকে দিয়ে খবর পাঠানো হলো। বাদশার এমন মহাবিপদের কথা শুনে লোকমান হেকিম আর রাগ করে থাকতে পারলেন না। হেকিমের বাদশা ছুটে এলেন বন্ধু বাদশার মুল্লুকে। বাদশার সাথে দেখা করলেন। বাদশা বন্ধু লোকমান হেকিমকে বসতে দিলেন। লোকমান হেকিম বাদশার পাশে বসলেন। ক’দিন আগে সোনা বন হরিণ শিকারের ব্যাপারে বিস্তারিত খুলে বললেন। হরিণ শিকারে গিয়ে হরিণ না পেয়ে সাথে করে এক অসহায় মেয়েকে বন থেকে উদ্ধার করে মুল্লুকে এনেছেন, তা জানালেন। বিয়ে করে ঘরে রেখেছেন তাও জানালেন। এরপর থেকে মুল্লুকে বর্তমান পর্যন্ত মুল্লুকের পরিস্থিতির বর্ণনা দিলেন। মুল্লুকের বর্তমান সংকটময় অবস্থার কথা জানিয়ে, কীভাবে কী করা যায়, বুদ্ধি চাইলেন।

লোকমান হেকিম বাদশার মুখে সব বিবরণ শুনলেন। শুনে হাসলেন। বন্ধু লোকমান হেকিমের হাসি দেখে বাদশা হাসির রহস্য জানতে চাইলেন। লোকমান হেকিম বাদশার কথা শুনে চুপ করে থেকে বললেন, ‘নতুন বিয়ে করা স্ত্রী কোথায়? আপনার নতুন স্ত্রীর হাতে কি এক গ্লাস পানিও পান করতে পারবো না? নতুন স্ত্রীকে বলুন আমার জন্য এক গ্লাস পানি আনতে’। বন্ধুর কথা শুনে নতুন স্ত্রীকে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসতে অন্দর মহলে লোক পাঠালেন। লোক মারফত নতুন স্ত্রীর কাছে খবর যাওয়ার পর, নতুন রাণী এক গ্লাস পানি নিয়ে বাদশার দরবারে এলেন। কোঁয়া কোঁয়া পানি নিয়ে দরবারে এসে লোকমান হেকিমকে দেখে রাগে গোস্বায় একাকার হয়ে গেলেন। নতুন রাণী বললেন, ‘আমি কোনও পরপুরুষের সামনে আসি না, কথা বলি না। আর যেই লোক আপনার বন্ধু, অন্তত এই লোকের সাথে কিছুতেই আমি কথা বলবো না’। প্রিয় বন্ধুকে হঠাৎ ক্ষণিকের দেখায় এরকমভাবে বললো, আর কেন-ই-বা বললো, বাদশা এর কিছুই বুঝতে পারলেন না। এরপরও নতুন স্ত্রীকে বন্ধু লোকমান হেকিমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে, নতুন রাণীর মুখ ঘুরিয়ে মহলের ভেতরে চলে যায়।

নতুন রাণীর এমন অবস্থা দেখে বাদশা অবাক হয়ে বন্ধু লোকমান হেকিমকেই জিজ্ঞেস করছে, ‘এর ঘটনা কী?’ বাদশার এমন প্রশ্নে বন্ধু লোকমান হেকিম শুধু হাসতে লাগলো। বন্ধু লোকমান হেকিমের হাসি দেখে বাদশা রেগে-মেগে বললো, ‘হাসি বাদ দিয়ে বলুন ঘটনা কী?’ এবার লোকমান হেকিম বললো, বন্ধু ঘটনা তো অনেক কিছু! তা বলে কী আর শেষ করা যাবে? যাবে না বন্ধু! তবু্ও অন্তত কিছু তো বলতেই হয়! তাহলে শুনো! মেয়েটিকে মহলে এনে তুমি মারাত্মক ভুল করেছো বন্ধু। যেই ভুল তুমি করেছো, তার খেসারত তোমার মুল্লুকের সবাইকে দিতে হবে। এর কারণ হলো, এই মেয়েটি বন্ধু মানুষ নয়! মেয়েটি একটা রাক্ষস। এই রাক্ষসী মেয়েটি তোমাকে ঘুমে রেখে রাতের অন্ধকারে তোমার মহল থেকে বের হয়ে গ্রামের জনসাধারণের গরু, ছাগল, মহিষ-সহ যা পায়, তা-ই খেয়ে ফেলে। বন্ধু লোকমান হেকিমের মুখে এসব শুনে বাদশার এখন জীবন যায় যায় অবস্থা। এসব বিষয় আসয় শুনে বাদশা ভয়ে কাঁপতে লাগলো। বাদশার অবস্থা বেগতিক দেখে বন্ধু লোকমান হেকিম এক পুরিয়া ঔষধ খাইয়ে দিলো। বাদশা সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে বললো, এসব আমি বিশ্বাস করি না। আমাকে এর প্রমাণ দেখাতে হবে।’ লোকমান হেকিম বললো, ‘অবশ্যই প্রমাণ দেখবে বন্ধু’।

চলবে…

এখানে☛লোকমান হেকিমের কেরামতির গল্প-২ 

১৮৮জন ২৮জন
17 Shares

২৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য