লেখক হব না – লিখতে চাই…..//

বন্যা লিপি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার, ০৩:৩২:৪২পূর্বাহ্ন সমসাময়িক ৩১ মন্তব্য

লেখক হবার খায়েশ নাই, যা লিখি নিজস্ব যোগ্যতায়। নিজস্ব স্বকিয়তায়। কারো কারো লেখা খুব ভালো লেগে গেলো বলে নিজের নামে চালিয়ে মিথ্যে হাততালি বাহবা কুড়াবার মতো হীনমন্যতায় অসুস্থ্য মস্তিষ্কের যত্ন আমি করার আদিখ্যেতা/ ন্যাকামো , ভাবতেই পারিনা। তথ্যভিত্তিক লেখা লিখতে হলে অবশ্যই পড়তে হয়। তথ্যগুলো কোথা হতে সংগ্রহ করলাম তারও ব্যাখ্যা দেয়াটা দায়িত্ব। সবাই সবকিছু জানবে এমন তো কথা নয়, ন্যুনতম সৌজন্যবোধটুকু বর্তমান সময়ে,জাগ্রত হবার নামে বরঞ্চ ন্যাক্কারজনক ভাবে বিলুপ্ত হতে দেখছি। আরে!! একটা লিমিট তো আছে নাকি?

যতই দেখছি,
যতই জানছি,

যতই বুঝছি……ততই হতবুদ্ধি হচ্ছি। ভাইরে, বইনরে…. লেখালিখি কইরা কে কতটা কি করতে পারবেন একেকজন? মনের খোরাক যদি বলেন ,বেশ ভালো কথা, নিজে যা যোগ্যতায় রাখেন সেটা নিয়েই নিজের স্বকিয়তা বজায় রাখুন না! কপি, লেখা চুরি, পেষ্টপোষ্ট…….। তাও করেন ,সমস্যা নাই, ভদ্র হলে অন্তত উল্লেখ করেন,  “লেখাটা ভালো লাগলো বলে সবার সাথে শেয়ার করলাম”।  তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিয়ে নিজের সন্মানটা বজায় রাখেন। আপনি মার্কেটে বা রাস্তায় নামলে হঠাৎ হোঁচট খেয়ে উল্টে পাল্টে পড়ে গেলেন বলে লজ্জা পান, কথায় কথায় কেউ আপনাকে তীর্যক কথায় ঘায়েল করলো বলে আপনি অপমানিত বোধ করেন। অথচ অন্যের লেখা কপি,চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন বলে আপনার খুব সন্মান বাড়ে? কি হয় এসব না করলে? আপনি খুব ক্ষুধার্ত  থাকবেন? আপনি অক্সিজেন ছাড়া নিঃশ্বাস নিতে পারবেন না? আপনি মাছ? জল ছাড়া আপনি সাঁতরাতে পারবেন না? আপনি মনে করছেন আপনার এই বিরলচুরি,কপিপোষ্টের ব্যাপারটা এই বর্তামান বিশ্বায়নের সময়ে চাপা থাকবে? আপনি নিজেকে এতটাই মূল্য দিতে ব্যাস্ত যে ভাবছেনই না যে, এখনকার সময়, কোনোকিছু গোপন নয়। আর তারপর? আপনার মেধা আছে, মনন আছে, অভিজ্ঞতা আছে আপনি নিজেই এগুলোর যথাযথ ব্যাবহার করে লিখুন না যা লিখতে চান! যে বিষয়টা নিয়ে লিখতে চান, একটু সময় নিয়ে তথ্যগুলো জেনে নিয়ে নিজের মতো করে লিখুন। ওতে আপনার নিজস্বতা থাকবে, থাকবে আপনার স্বকিয়তার পরিচয়। এই লেখালিখি করে কেউ পরিচিতি পেতে চাইলে অবশ্যই তাঁর নিজস্ব স্বকিয়তা প্রয়োজন। হুমায়ুন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, আহমেদ ইউসুফ সাবের, রাবেয়া খাতুন, সেলিনা হোসেন, কবি রোকেয়া সাখাওয়াত, কামিনী রায়, জীবনানন্দ দাশ, শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এরকম প্রথিতযশা লেখকদের কথা ভাবুন! চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় কোনটা কার লেখা। আমরা শখের বশে বা মনের খোরাক মেটাতে যারা লিখে যাচ্ছি, কেউ কেউ ইতিমধ্যে ছাপ রেখে চলেছেন নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখে রেখে ভেবেছেন একটুও? মহারাজ ছাইরাছ হেলাল, এস জেড বাবু, নাজমুল হুদা, জিসান শা ইকরাম, অনন্য অর্ণব, প্রদীপ চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিন, তৌহিদ ,রেহানা বিথী, সুপায়ন বড়ুয়া, হালিম নজরুল। এদের পোষ্ট দেখলেই ধরে নেয়া যায় চোখ বন্ধ করে কি ধরনের শব্দের হাডুডু খেলা দেখার নজর কাড়া দৃশ্যায়ন হতে পারে! হাসি পেলো এ কথায়? না… আমি হাস্যকর কিছু বলিনি। হাডুডু শব্দটা ব্যাবহার করেছি কেন তা ছেড়ে দিচ্ছি আপনি পাঠক; আপনার বোঝার ওপরে। এই দুই বছর দুইমাস অতিক্রম করা ব্লগীয় জীবনে আমিও দৃঢ় বিশ্বাস রাখি , আমার নিজেরও একটা ক্যাটাগরি দাঁড় করিয়ে ফেলেছি ইতিমধ্যে সোনেলা ব্লগবাসীদের নতুন পুরাতন অনেক ব্লগারের কাছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি , আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরী। আমি কি লিখছি? কি লিখব? কেন লিখব? এর ফিডব্যাক কি হতে পারে? এতসব চিন্তা করে কেউ লিখতে পারেনা সত্য। কিন্তু আমার প্রশান্ত মন তো জানে!  আমার মন কি লিখতে চায়? কেন লিখতে চায়? আমারও দায়বদ্ধতা থাকতেই হবে। আমি লিখছি মনের খোরাক যোগাতে, আমি লিখছি আমার অনুভূতির জায়গাটাকে সন্মান জানাতে, আমি লিখছি -আমার ভাবনা অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে। একটা গল্পে বলে যাচ্ছি ,হচ্ছে এমন, হওয়া উচিৎ কেমন? সমাজের বৈষম্যের কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি নিজের মতো করে। আমার আপনার জায়গা থেকে কে কতটা নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সমাজে অবস্থান করছি তার একটা শিক্ষা নিচ্ছি প্রতিনিয়ত। অথচ কি শিখছি? কি দেখছি? একটা ছোট্ট কাহিনী দিয়ে লেখা শেষ করবো-এই স্মৃতীটুকু আমার জীবনে সবচে টার্নিং পয়েন্ট। তখন যতটা না বুঝেছি, তারচে বেশি  বড় হতে হতে- বুঝতে বুঝতে  বড় হয়েছি।

ক্লাশ থ্রী’তে পড়ি হয়ত তখন। পেন্সিল ছেড়ে দিয়ে কলম ধরেছি তখনই আমরা ক্লাশের সবাই। আমার কলমে কালি শেষ।  রমার কাছে বাড়তি কলম ছিলো। ওর কাছে চাইতেই দিলো লিখতে। ওই বয়সে  একজনার একটা জিনিস যত্নে ব্যাবহার করতে হয় একটুকু বোঝার কথাই নয়!  অসাবধনতায় কলমটা ভেঙে গেলো। রমা আমার ওপরে খুব রেগে গেলো। রমা ওর বাবাকে গিয়ে কি বলবে? বাবা যদি জানে তো মেরে হাড় গুড়ো করে দেবে। আমিও ভয়ে কাপাকাপি শুরু করে দিলাম। আব্বা জানতে পারলে আমারো হাড়গোড় আস্ত থাকবে কিনা সন্দেহ। ইচ্ছা মতো বকাবকি করলো। ইচ্ছামতো অপমানকর যা ইচ্ছা তাই বললো। কোনোমতে বলেছিলাম, কলমের দাম দিয়ে দেব। কিভাবে কলমের দাম দেবো না ভেবেই বলেছিলাম। এরপর প্রত্যেকদিন আমাকে তাগাদা দেয়া শুরু। বলতে গেলে এমন অবস্থা করে যাচ্ছে, আমার স্কুলে যেতেই ভয় করতো। গেলেই রমা টাকা চাইবে। আব্বা বা আম্মাকে বলার সাহসই জোটাতে পারছি না। আমি দুঃস্বপ্নেও দেখি রমা আমার সাথে যাচ্ছেতাই ব্যাবহার করে যাচ্ছে ক্লাশভর্তি বন্ধুবান্ধবের সামনে। আমার চোখে পানি। আমার ঘুম ভেঙে যায় আতঙ্কে। এমনি করে করে এক বছরে কেটে গেছে। একদিন এ্যাসেম্বলির পরে আমাকে জোড় করে টেনে নিয়ে গেলো রমা এবং আরো ২/৪জন সহপাঠী সহ আব্বার কাছে টিচার্স রুমে। আব্বা তো দেখেই স্বভাবগত আচরনে কপাল কুঁচকে তাকালেন আমার দিকে। আমার তখন অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। আব্বা সব শুনে রমাকে তাঁর কলমের দাম দিয়ে দিলেন বিনা বাক্যব্যায়ে । আমি প্রমাদ গুনলাম , বাসায় গিয়ে আজ খবর আছে আমার।

কলমটা ভেঙে ফেলা অযত্নে-অসাবধনতার কারনে কোনো ব্যাপার না ওই বয়সে। আমি যে মানসিক যন্ত্রণাটা ভোগ করেছি দীর্ঘ সময় ধরে। আমার জীবনের একটা চরম শিক্ষা হয়ে রয়ে গেছে আজো। আমি শিক্ষাটা নিয়েছিও চরম ভাবে। প্রয়োজনে প্রয়োজন ভুলে যাবো। তবু কারো থেকে কোনোকিছু কোনোদিন ধার-উদ্ধার করে প্রয়োজন মেটাব না। আজো আমি দুর্বিসহ সেই স্মৃতী প্রতিটা ক্ষেত্রে মনে রেখে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিটা মানুষ ভেদে তার আচরনগত, স্বভাবগত, অভ্যাসগত বৈষিষ্ট ধারন করে চলেন। সেই বৈষিষ্টের কানরনেই তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকেন সমাজ সংসারের দৃষ্টান্ত। এক একজন আলাদা আলাদা বৈশিষ্টের মানুষজন একেক রকম গ্রহনযোগ্যতা নিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন/ করে আসছেন। সন্মান যশ প্রতিপত্তি কেউ কাউকে হাতে তুলে দেয়না। কঠোর সংযম আর নিষ্ঠার সাথে অর্জিত প্রতিষ্ঠা যশ গৌরব অসাবধানে অযত্নে খোয়া গেলে জীবন অনর্থক যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে।

দীর্ঘ এই লেখার উদ্দেশ্য একটাইঃ উপরিউক্ত কথাগুলো অন্তত মনোযোগ দিয়ে ভাববার সময় এসেছে।  যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়মনিতী বলবৎ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেই ধ্বংস  বা ভাঙন অনিবার্য। আজ যে নিয়মাবর্তিতা নিয়ে গর্ব করে ফাটিয়ে ফেলছি! কালকের ভুল পদক্ষেপেই তা ডেকে আনতে বাধ্য পরাভূত পরাজয়। একটা গ্রুপ বা ব্লগসাইটের গর্ব হওয়া উচিত নিজস্বতা। সেই নিজস্বতার বলয়ে উদ্ভাসিত হতে হলে প্রত্যেক সঞ্চালক, পরিচালক, সদস্যদের সমান দায়িত্ববোধ থাকা একান্ত জরুরী। আমি জানি আমার থেকে অনেক অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) ব্লগার লেখক আছেন এই সোনেলায়। তাঁদের সবার কাছে আমি নিতান্তই কনিষ্ঠ একজন অতি সাধারন হাবিজাবি মার্কা লিখিয়ে। অনেক দুঃসাহস নিয়ে আজ এই পোষ্ট দিতে ইচ্ছে হলো। সঞ্চালক মনে করলে এ পোষ্ট মুছেও দিতে পারেন, আমি মনে করিনা যে আমি বিধিবহির্ভূত কোনো উস্কানী মুলক অথবা আপত্তিকর কোনো লেখা লিখেছি। তারপরও যদি ব্লগ সঞ্চালক বৃন্দ মনে করেন কোনো কোনো ব্লগার লেখক মনোক্ষুন্ন হবার আশংকা আছে। তাহলে আমার বলার বা প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ না রেখেই তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি। সবশেষে — লেখক হতে চাইনা, লিখতে চাই। নাম চাই না মান চাই।

শুভস্য🌼🌼
শুভ ব্লগিং 🌹🌹
২৬ সেপ্টেম্বর
সময়ঃ ৩:৩২

ছবি- নেট থেকে নেয়া।

৩৪০জন ৪৪জন
0 Shares

৩১টি মন্তব্য

  • ছাইরাছ হেলাল

    একটি অনিবার্য বিষয় তুলে ধরেছেন, ধন্যবাদ।
    তথ্য আমাদের ব্যবহার করতেই হয়, বিশেষ কোন বিষয় উপস্থাপন করতে হলে রেফারেন্স দিতেই হবে,
    এখন কথা হলে সেটি কীভাবে কেমন করে আমরা ব্যবহার করব, করতে চাই সেটি ভাবনার বিষয়,
    যারা লেখেন বা লিখতে চান তাঁরা এটি পারেন না বা পারবেন না তা মনে করি না। একটু লক্ষ্য করে বিখ্যাত মানুষদের
    লেখা অনুসরণ করলেই এর সমাধান পাওয়া সম্ভব। কঠিন কাজ না মোটেই , যা এখানকার লেখদের অগম্য।

    • বন্যা লিপি

      আপনার মন্তব্য যদি এক্কেবারে সোজাসাপ্টা ভাষায় দিতেন তাহলে কি খুব বেশি ক্ষতি হতো? মোট কথা কপি বা চুরিকরা লেখা ব্লগপোষ্ট হতেই পারে না। কোনোভাবে প্রমানিত হলে তা পোষ্টদাতাকে অবহিত করে সঞ্চালক তা রিমুভ করে দেবার অধিকার রাখে। ব্লগ কারিগরি টিম এ ব্যাপারে নিষ্ঠাবান হতেই হবে ব্লগের স্বার্থে। ব্লগের নিতীমালায় এই পয়েন্ট তো অবশ্যই দেয়া আছে। তাহলে বিগত সময় ধরে একই কাণ্ড বারবার ঘটছে কি করে? লেখাটা আমার তখন থেকেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। পরিস্থিতী কিছুটা নিমিলীত হবার অপেক্ষায় ছিলাম। তাই এই পোষ্টের অবতারনা। অনিবার্য বিষয়াদি কিছুদিন পর পর উস্কে দিতে হয়, নতুন পুরাতস সব ব্লগার লেখকদের জন্য। কিছু বাধ্যবাধকতা আমারও আছে, সে আপনি ভালোই জানেন।তবুও সাহস করে লিখেই ফেললাম এমন লেখা। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

  • রেজওয়ানা কবির

    প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব স্বকীয়তা আছে এইজন্যই কেউ জাফর ইকবাল আর কেউ হুমায়ুন আহমেদ।নিজস্ব স্বকীয়তায় অনেক দুর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া যায়,অন্যের ধার করা জিনিস নিয়ে কিছুদুর যাওয়ার পর অটোমিকালি মুখ থুবরে পড়ে যায়।আর আমার নিজের যা আছে তাই আমার চলার প্রেরনা, এটাই সঠিক পথ।নিজের মধ্যে অনেককিছু আছে প্রত্যকেরই,সেটা শুধু বের করতে হবে।গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

    • বন্যা লিপি

      আমিও সেটাই বোঝাতে চেয়েছি রোজোয়ানা কবির আপু। প্রত্যেকের নিজস্ব পরিধিটাকে হয়ত নিজেদের অজান্তেই অপরিচিত থেকে যায়। তাই নানামুখী বিপরীত আচরন করি। যথাযধ বোধটুকু উদিত হলে নির্ঘাত নিজেকে নিয়ে আলাদা কিছু ভাববার সুযোগ পাওয়া যেতেই পারে। সেই অচেনা বোধটুকুই জাগ্রত করার আপ্রান চেষ্টা অব্যাহত থাকুক।
      শুভ কামনা। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।

  • সুপর্ণা ফাল্গুনী

    আপনার এই সত্যবাদিতা সবসময় ভালো লাগে যতই কঠিন হোক। আপনাকে ধন্যবাদ ও স্যালুট। লেখক হতে চাইলেই কি লেখক হওয়া যায়! অনেক অধ্যবসায়, ধৈর্য্য, সময়, জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। এসব বাজারের পন্য নয় যে চাইলাম আর হয়ে গেল, তারপর ও বিধাতার দান বলে একটা কথা থাকে। যারা লেখালেখির সাথে জড়িত তাদের সবারই নিজস্বতা, স্বকীয়তা থাকাটা পাঠকের জন্য জরুরী। তা না হলে পাঠক ধরে রাখাটা সম্ভব নয়। অনেকেই অন্যের লেখাকে নিজের বলে চালিয়ে দেয় সেটা মেনে নেয়া যায় না। সৌজন্যতা বলে একটা কথা আছে সেটা অনেকেই মনে করেন না। আবারো ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন সবসময় শুভ কামনা রইলো

    • বন্যা লিপি

      সুপর্ণা ফাল্গুণী @ হতে চাওয়া আর চেষ্টা করার মধ্যে সম্পর্কই হচ্ছে অধ্যাবসায়। আমি যা ই হতে চাইনা কেন, সেজন্য আমার নিরলস অধ্যাবসায়ই চেষ্টার অপর নাম বলে মনে হয় আমার কাছে। যেমন আমি লিখতে চাই কথাটা লিখেছি, সেহেতু অধ্যাবসায় বা চর্চাটা চালিয়ে যাওয়াই আমার চেষ্টা। অব্যাহত চেষ্টা করতে চাওয়াটাও অধ্যাবসায়। কি জানি কি বললাম! ঘুরিয়ে ফিরিয়ে! এই চেষ্টাই দাঁড় করিয়ে দেয় আমার একটা আলাদা নিজস্বতা। নাকি ভুল বললাম দিদি?
      শুভ কামনা।

  • খাদিজাতুল কুবরা

    “আমি কি লিখছি? কি লিখব? কেন লিখব? এর ফিডব্যাক কি হতে পারে? এতসব চিন্তা করে কেউ লিখতে পারেনা সত্য। কিন্তু আমার প্রশান্ত মন তো জানে! আমার মন কি লিখতে চায়? কেন লিখতে চায়? আমারও দায়বদ্ধতা থাকতেই হবে। আমি লিখছি মনের খোরাক যোগাতে, আমি লিখছি আমার অনুভূতির জায়গাটাকে সন্মান জানাতে, আমি লিখছি -আমার ভাবনা অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে।”

    আপু আপনার এই বক্তব্যটি যে লেখক মনেপ্রাণে ধারণ করেনা আমার মতে সে লেখকই নয়।অন্যের লেখা নিজের নামে পোস্ট করার হীনমন্যতাকে ধিক্কার জানাই। ব্লগ কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই এরকম কিছু নজরে এলে বিধিমালা অনুযায়ী যেন ব্যাবস্থা নেয় যাতে এরকম হীনতার পরিচয় সবার সামনে আসে এবং স্ব দর্পে ঘুরে বেড়াতে না পারে।
    এমন সাহসী লেখার জন্য আপনাকে স্যালুট জানাই।
    অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানবেন।

  • তৌহিদ

    ওরে বাবা, একটু পানি দেন আপু পান করে গলা ভেজাই। কি লিখলেন!

    আপনার পুরো বক্তব্যের সাথে আমি সহমত পোষণ করছি। লেখা অনুযায়ী অবশ্যই রেফারেন্স দেয়া উচিত। লেখকের লেখাই তার স্বকীয়তা প্রমাণ করে। কাজেই ধার করা লেখা লিখে সে স্বত্বা বিলীন করার কোন মানেই হয়না।

    আপনার শৈশবের সে ঘটনাটি আমাদের জন্যেও শিক্ষণীয় অবশ্যই। আশাকরি সকলের বোধোদয় হবে।

    এমন ক্ষুরধার একটি লেখনীর ধন্য সহব্লগার হিসেবে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেলো অবশ্যই।

    শুভকামনা সবসময়।

    • বন্যা লিপি

      তৌহিদ@ আমি বুঝিনাই ভাউ, লেখা পড়তে পড়তে আপনার গলা শুকাইয়া যাইবে। পানির তৃষ্ণার কথা লেখার মধ্যো রাখতামই না😁
      সহমত পোষন করার জন্য সত্যি আমি কৃতজ্ঞ। আমাদের সকলেরই ব্লগের স্বার্থেই সবদিক খেয়াল রেখে পোষ্ট করা প্রয়োজন। যে পোষ্ট ব্লগীয় হুমকি স্বরুপ বিবেচিত হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত।

      মাথাডারে ঠান্ডা রাখতে চাই এক্কেবারে কুল কুল ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা😊😊😊
      শুভ কামনা।

  • জিসান শা ইকরাম

    এই লেখায় মন্তব্য করবো নাকি আলাদা একটি পোষ্ট দেবো এটি নিয়ে ভাবছি।
    বর্তমানে কপি পেস্ট অন্যনা সাইটে মহামারির আকারধারন করেছে। একই লেখা বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা গুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুকে তো এটি অনেকের কাছে কোনো অন্যায় নয়। অন্যের লেখা চুরি করে নিজে পোষ্ট দিচ্ছে লাইক কমেন্টের আশায়। প্রশংসার উত্তরে ধন্যবাদও দিচ্ছে। অথচ অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দিয়ে প্রশংসা নিতে এদের বিবেকে বাঁধছে না।

    আমাদের সোনেলায় এমন কপি পেস্ট ব্লগারের সংখ্যা নেই বললেও চলে। যারা দু একটা দিয়েছেন ইতিপুর্বে তারা না বুঝেই দিয়েছেন বলে আমার ধারনা। আমাদের ব্লগে অনেক ভালো লেখক আছেন, তাদের যদি বুঝিয়ে দেয়া যায়, কিভাবে লিখতে হবে, আশাকরি তারা তা ভালোভাবেই লিখতে পারবেন। কপি পেস্ট কি এবং এর ক্ষতি কি এটা জানলে কেউই আর সোনেলায় কপি লেখা দেবেনা আশাকরি।

    সোনেলার নীতিমালা পড়লাম। সেখানে লেখা আছে ” অন্য সাইটে প্রকাশিত নিজের লেখাও সোনেলায় দেয়া যাবে না।” অন্যের লেখা তো পরের কথা। কপি পেস্ট লেখা একটা সাইটের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তা হয়ত অনেকেই জানি না আমরা।

    অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দেয়ার মধ্যে কোনো আত্মপ্রসাদ নেই। সবারই উচিৎ নিজস্ব একটি লেখার ধারা প্রতিষ্ঠিত করা। যাতে লেখা দেখলেই বুঝা যায় এটি কার লেখা। তোমার লেখায় জিসান শা ইকরাম এর নাম দেখে অবাক হলাম। সে আবার লেখক হলো কবে!!!

    মন্তব্য লিখতে লিখতে সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছি ‘ ব্লগ টিউটরিয়াল” শিরোনামে কপি পেস্ট লেখা সম্পর্কে লিখব।
    তোমাকে ধন্যবাদ এমন জরুরী বিষয়ে একটি পোষ্ট দেয়ার জন্য। আমি নিজেও একটা লেখার টপিক পেলাম তোমার এই লেখার কল্যানে।

    শুভ কামনা।

    • বন্যা লিপি

      জিসান শা ইকরাম@ আপনি আলাদা পোষ্ট দিয়েই ফেলেন, টিউটোরিয়াল পোষ্ট। আর জিসান শা ইকরামের লেখা গল্প গুলো একটু কষ্ট করে পড়ে নেবেন। যারা এরকম গল্প লিখতে পারে বা সমসাময়িক বিষয়াদি নিয়ে লিখতে পারে, তাঁদেরকে লেখক ব্যতীত কি বলে আমার জানা নাই।আপনার জানা থাকলে আমারে বইল্লেন, আমি শিখে নেব। কৃতজ্ঞতা সহ শ্রদ্ধা জানবেন।

  • প্রদীপ চক্রবর্তী

    আপনার লেখাটা বেশ মনযোগ সহকারে পড়লাম।
    সমসাময়িক বিষয় নিয়ে যথার্থ লেখনী।

    যাঁরা লিখে তাঁরা নিশ্চয় কিছু সত্তা নিয়েই লিখে থাকে।
    অন্যের লেখা কপি করে নিজে আরও দু একটা লাইন বসিয়ে নিজের নামে চালিয়ে দিবেন তা কখনো হয় না।
    আপনি পাঠক হিসেবে অন্যের লেখায় যা তা মন্তব্য করে ব্যক্তির লেখাকেও ব্যঙ্গ করতে পারেননা।
    তবে ব্যক্তির লেখানুযায়ী আপনি নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পাশ কাটাবেন না।
    যথার্থ মন্তব্য করবেন।
    ভুল হলে ভুল ধরিয়ে দিবেন এবং তা কিভাবে সংশোধন করা যায় সে মতামত রাখবেন।

    আর যাঁরা লিখে থাকেন নিশ্চয় তাঁদের লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানা উচিত।
    অনেকেই আছেন ভালো ভালো লিখে থাকেন ঠিক।

    কিন্তু আমার মতো যারা মনের আনন্দে দু এক লাইন লিখে থাকে। তাদের লেখাটা বেশ পড়া হয় না!
    তার কারণ যিনি ভালো লিখেন তিনি কখনো কখনো মনে করেন ওরা আর কি বা লিখবে?
    এতে করে কিছু লেখা ভাবনার অতলে পড়ে থাকে।
    .
    আপনার এমন লেখার বেশ প্রশংসা করতে হয়।
    কেননা সকলে এ বিষয়ে ভালো একটা ধারণা পেয়েছেন।
    শুভকামনা জানাই, দিদি।

    • বন্যা লিপি

      প্রদীপ@ তোমার পুরো মন্তব্য আমিও মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। অত্যন্ত উঁচু মানের বক্তব্য রেখেছো। আত্মঅহংকারী লেখকদের ছড়াছড়ি দেখছি ইদানীং।এটা খুবই হাসকর লাগে আমার কাছে। আমি সবসময়ই মন্তব্য করার ব্যাপারের নিজ অবস্থান আঁকড়ে ধরে আছি। আমি যে লেখাটা পড়ছি, আমার অন্তরগত অনুধাবনে কি উপলব্ধি করছি, তাই যদি ব্যক্ত করতে না পারি! তাহলে সেখানে আমার মন্তব্য করাই উচিত না। আমার যদি ভালো লিখি বলে অহংকার জন্মেই থাকে, তবে আমার উচিত আমার লেখার মাধ্যমটাকে বদলে নেয়া। অহংকারটা আমার নিজেরই থাকুক। অন্য কারো ঠেকা পড়েনাই আমার অহংকারের তোয়াজ করা। লেখা জগতে কেউ কাউরে তোয়াজ করার জন্য বইসা থাকেনা। থাকবেও না। এ্যাপ্রিসিয়েশনের একটা ব্যাপার অবশ্যই আছে, আমি কাউরো এ্যাপ্রিসিয়েট করতে না পারলে আমার কোনো অধিকার নেই নিজেকে শুশীল ভাবার। আমার ২/১ টা লেখা প্রশংসিত হলো বলে আমি জমীনোর চার ইঞ্চি উপর দিয়া হাঁটার কথাও না ভেবে উড়ার চেষ্টা করবো, ভাববার আগেই মুখ থুবড়ে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তখন ওইটাই যদি মাথায় রেখে চলতে না পারি, তো আমার উচিত কলম বন্ধ করে ঘরসংসারে মনোযোগী হওয়া। তোমার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  • রেহানা বীথি

    আমাদের দেশে একটা বিরাট সমস্যা খুব গভীরে গিয়ে পৌঁছেছে, সেটা হল, আমরা কেন যেন পড়ার জায়গাটা থেকে সরে এসেছি অনেকটাই এবং তৈরি না হয়েই ভাবছি, আমি বড় কবি হবো কিংবা লেখক। কেন? সবার মধ্যে সবকিছু থাকে না, এটা মেনে নিচ্ছি না কেন আমরা? আমার মধ্যে যদি লেখার দক্ষতা না থাকে, বা কোনওভাবেই তা আয়ত্বে না আসে, তাহলে পাঠক হই। মন্দ কী! পড়ার মাধ্যমে যে নিজের মেধা মননের উন্নতি করা যায়, তা নিশ্চয়ই আমরা সবাই জানি। জেনেও পড়ি না, নকল করে লেখার চেষ্টা করে নিজস্বতা বিসর্জন দিই। যাঁরা সাহিত্যের দিকপাল, তাঁরা কিন্তু প্রত্যেকেই স্বকীয়। বানানে, ভাষায়, শব্দের প্রয়োগ এবং যথাযথ ব্যবহারে একেবারে নির্ভুল। বড় কবি সাহিত্যিক তাঁরা এমনি এমনিই হননি, আমাদের অনুসরণীয়ও তাঁরা এমনি এমনিই হননি। লেখার আগে অন্তত শেখা এবং নিজেকে তৈরি করে নেয়া উচিত। যদি আমার মধ্যে দক্ষতা থাকে, শিক্ষাটা যদি আত্মস্থ করতে পারি, একদিন আমি একটা লেখা দাঁড় করাবোই আর তা মানুষের মনে দাগ কাটবেই। তার আগে নয়।
    কিন্তু এতকিছু না ভেবেই আমরা লিখতে চাই। ভুলভাল, যা-তা লিখে জনপ্রিয়ও হতে চাই। চুরিতেও দ্বিধা নেই। যেন ছেলেখেলা।
    ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নই আমরা আর শেখারও কোনও শেষ নেই। পড়ি। সে পড়া শুধু চোখ বোলানো পড়া নয়। লেখক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে গেলে অবশ্যই প্রাথমিকভাবে দরকার বানান সচেতনতা। বাংলা আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা ভাষা। কেন তাকে অবহেলা করবো? কেন চুরি করে হারাবো নিজের মান?

    অনেক কথাই বলে ফেললাম, জানি না উচিত হল কি-না। ভীষণ দরকারি এই পোস্টটির জন্য ভালোবাসা বন্যা আপু।

  • নাসির সারওয়ার

    সাব্বাস। অনেক শক্ত পোক্ত লেখা। তবে আমি বুঝতে চাইনা যা আমাকে গুলিয়ে খাইয়ে দিলেও নয়।

    আমাদের এখানে লেখালিখি মনের খোড়াক। তবে আমি যদি চুরি করেও মনের খোঁড়াক পাই, তাতে ক্ষতি কি!
    সবাই আমরা সজাগ হই। সুস্থ সাহিত্যের মাঝেই থাকি। নিজে কিছু সৃষ্টি করি যাতে দিন শেষে মন মনে করিয়ে দেয়, হ্যাঁ, কিছু একটা নিজের মত করতে পেরেছি।

    • বন্যা লিপি

      আপনার মন্তব্যে আমি সাহস পেলাম কিছুটা। ভয়ে থাকি আপনার মন্তব্য দেখলেই। আপনি স্ট্রেইটফরোয়ার্ড গতিতে সব চুরমার করে দিতে দক্ষ।

      আমারো মূল বক্তব্য “নিজের মত করে নিজেকে প্রকাশ করার আনন্দই আলাদা” আমি জ্ঞানমূলক হোক আর শিক্ষামূলকি হোক, তথ সংগ্রহ করে নিজে সাজিয়ে লেখার দক্ষতা আপনার আছে, তাহলে অন্য কোনোখান থেকে পেষ্ট মারা বুদ্ধি কেন দেখাতে যান? এটা আইলনামীর বদবুদ্ধি। অনেক কৃতজ্ঞতা রইলো আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।

  • রোকসানা খন্দকার রুকু

    সবাই বলতে পারেনা আপনি সাহস দেখালেন। অন্যর লেখা কপি করে আর কতদিন চালানো যায়। তবে কিছু নিয়ম সব খানেই মেনে চলা উচিত। সাহস দেখাতে থাকুন আমরা সাথে আছি।
    শুভ কামনা।

    • বন্যা লিপি

      সত্য এবং সুন্দর আজীবন নির্ভীক।কখনো কখনো আমরা স্বজনপ্রিতীর কারনেও এড়িয়ে যাই সত্য বলা। তাতে লাভের বিপরীতে ক্ষতিই করি স্বজনদের। একটু দরকার সাহসী হওয়া। দুটো দিক থাকে এই সত্য সাহসের হয় ভালো, নয় মন্দ। মন্দ নিয়ে ভাবলে আর সত্য বলা সম্ভব না। আমি বলার সাহসটা দেখালাম ভালোর ভাবনা থেকে। কারো মধ্যে যদি এতটুকু বোধ জাগ্রত হয়, এই সাহকিতার মূল প্রাপ্তিই হবে সেটুকু। ভালো থাকবেন শুভ কামনা।

  • সুরাইয়া পারভীন

    টান টান উত্তেজনার উৎকণ্ঠা নিয়ে পুরো লেখাটা পড়লাম। প্রথমে ঘাবড়ে গেলাম ভুল ভাল কিছু করিনি তো! তারপর শান্ত মনে ভাবলাম আরে ধুর আমি কেনো ভয় পাচ্ছি? আমি হয়তো, হয়তো কেনো সত্যিই তো শব্দের শহরে এখনো প্রবেশ করতেই পারিনি হাবুডুবু খাবো ক্যামনে! আমার শান্তি আমার প্রশান্তি একটাই নিজের অভিধানে থাকা যতসামান্য শব্দ দিয়ে নিজের মত করে লিখি। কখনো কারো লেখা কপি করার কথা ভাবনায়ও আসেনি।‌ কারো কোনো লেখা মন ছুঁয়ে গেলে তা শেয়ার করেছি যাতে সবাই লেখাটার মালিককে চিনতে পারে।

    দুর্দান্ত পোস্ট শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আপু❤️❤️

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য