লেখক পাঠক দ্বৈরথ

ছাইরাছ হেলাল ২২ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, ১০:০০:০৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি মন্তব্য নাই

শিরোনামে দ্বৈরথের কথা বলেছি, কথা সত্য, সত্য না।
এবারে খুলে বলার চেষ্টা করি।

পূর্ব-কথন।
লেখক, লেখা ও পাঠক নিয়ে নিজের মত করে কিছু একটা বলার কথা ভাবতেছিলাম, একটি আজগুবি কাঠ-কাঠ একটি লেখা লিখে ফেলেও রেখেছি, সাহস হয়নি প্রকাশের,
সে ভাবনার উত্তরণ/অবনমন করে প্রবর্তনা এই লেখাটির।

যা বলছিলাম, লেখক, লেখা ও পাঠক বিষয়টি এভাবে ভাবতে পারি। লেখক লেখাটি লিখে
প্রকাশ করে ফেলেন, এই লেখার পেছনে কী কী কেমন কেমন ভাব-ভাবনা দুঃখ-কষ্ট
হাসি-কান্না ছিল তা আপাতদৃষ্টিতে প্রায়-ই দেখতে পাই-না, একেবারেই যে পাই-না এমন না।
ভাবুন, একটি কারখানায় নানা ধাপ পেরিয়ে একটি প্রোডাক্ট ফাইনালি আমাদের হাতে পৌঁছায়, যেমন একজন মৃৎ শিল্পী কত্ত কিছু করে শ্রম-ভালোবাসা দিয়ে একটি মৃৎ পাত্র আমাদের হাতে তুলে দেন। এমন করে করে ইনিয়ে –বিনিয়ে অনেক কিছুই বলা যায়, বলছি না।

ধরুন, ছোটবেলার ঝঁকানো সুন্দর একটি মার্বেল (লেখা),
নির্মেঘ দুপুর, সামর্থ্য-সৌকর্যে নিদারুণ রকম স্বার্থপর, দীর্ঘতর থেকে দীর্ঘতম সময় ধরে
গড়িয়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে, খেলে যাচ্ছে, খেলে দিচ্ছে, ধীরে ধীরে চুপিসারে, অফুরান সময়ের
অন্তহীন ধারায়, এক অনুভব-অদ্ভুত নৈকট্যের ঝকঝকে দ্যুতি, বিলম্বিত রাগে, অকপট
তর্ক-যুক্তির বাইরে গাঢ়-নিগূঢ় মারপ্যাঁচ-হীন ভাবে।

সুদৃশ্য কাঁচ-গোলকটি ক্রমাগত গড়িয়ে যায় গড়িয়ে যায়, গড়িয়ে দেয় মসৃণ অ-মসৃণ তল উপতলে, সিঁড়িতে শব্দ তুলে নেমে যায়, উঠে-ও যায়, বুক পকেটে লুকায়, ভাগারে পড়ে রয়, বাবুই জোনাকি পোকা ভেবে তুলে নিতে বাসায় গেঁথে রেখে আলো জ্বালে।

শিশুর হারানো খেলনা খুঁজতে অন্ধি সন্ধিতে ঘোরাফেরা, সাহসের আত্মবিশ্বাসে, সাহসী আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঝুলে ঝুলে তন্ময় পাঠে। ফুলে ওঠা বুক পকেটে তুমুল ওলট পালটে ।

হঠাৎ লেখাটি জেগে ওঠে, রাহু কেতুর বেশ ক্রমাগত গিলতে থাকে, অসফল হয়ে
ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মত ছুরি হাতে পাঠকে তাড়া করে বুক বসিয়ে দেয় তীক্ষ্ণতম ছুরিটি, শোণিত ধারার একই রঙ, পাঠক ও লেখকের।

৭৭জন ৭৭জন
0 Shares

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য