লিংক ব্লগ….রাজনৈতিক ভাবনা

মনির হোসেন মমি ১২ জানুয়ারী ২০১৪, রবিবার, ০৬:৫৩:৫১অপরাহ্ন সমসাময়িক ১৬ মন্তব্য

২০১৩ বিদায়ী সাল আমাদের জীবনে কারো সাফল্য কারো বা বিফল হিসাবের যোগ বিয়োগে কেটে গেছে।মানুষের জীবন থেকে একটি বছরে আয়ু কমে গেলো।বছরের বিদায়ের সাথে সাথে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান।দেশের অনেক ক্লান্তিকালে সে ছিল অকুতোভয় দেশপ্রেমিক।

চলে গেলেন বিচার পতি হাবিবুর রহমান

সন্ত্রাসী মন…বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নির্বাচিত প্রবন্ধ

শপথ নিয়েই এরশাদ ফিরে গেলো সি এম এইচে।আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর একটি রাজনৈতিক দল হল জাতীয় পাটি।এই দলটির কখন সূর্য্য উঠে আর কখন যে অস্তিমিত যায় তা বলা মুসকিল।১৯৯০ সালে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক বিরোধী নেত্রী,এক সময়কার আপোষহীন নেত্রী দু’বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দু’জনের ঐক্যতায় অল্পতেই ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বৈরাচার সরকারের ৯ বছরের শাসনের অবসানে আমজনতার বহু কাঙ্খিত “গণতন্ত্র”।সেই স্বৈরাচর এরশাদই এই আজকের সকাল বিকালের জাতীয় পার্টি।তার রাজনৈতিক লফ্ফ ঝপ্প দেশের রাজনিতীতে প্রতি জাতীয় নির্বাচনেই সমস্যার সৃষ্টি করে।

খালেদা জিয়া এখন জামাত নেতা…বলেছেন আমাদের প্রিয় বর্তমান দশম সংসদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।জম্মের শুরু থেকেই এর রকম খোচা মারা বেফাস কথা আমারা আমাদের প্রিয় দেশ নেত্রীদ্বয়ের মুখ হতে প্রায় শুনতে পাই…মনে হয় যেন সতীন সতীনের সংসার।আর এই সুযোগে আমার মত যারা অযোগ্যরা একজন বড় মাপের নেতার মন্দ কথাতো দুরে থাক ভাল কথা বলারই সাহস পাবেনা এই আমরাই তাদের দু’জনকে নিয়ে ছবি এ্যাডিটিং করে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্ত্বক পোষ্ট দেই বিভিন্ন অনলাইনের সাইটগুলোতে কিন্তু কেনো? হাজার হলেও তারাইতো আমাদের দেশের কর্ণধর।আমরা এখনও তাদের বিকল্প খুজেঁ পাইনি যে তাদের বাদ দিয়ে অন্যকেউ রাষ্ট্র চালাতে পারবে থাকলেও রাজনৈতিক ইমেজে তারা শূণ্যের কোটায়।নেতা-নেত্রীদের এই হিংসাত্ত্বাতক মনোভাবের জন্য আমার মত সাধারন জনতাও তাদের হেয় করে কথা বলি যা একটি সুস্হ রাজনিতীর পরিপহ্নী।এমনকি অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হলো যে ব্যাক্তি জীবন বাজী রেখে দেশকে স্বাধীন করল সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে তাকে ছোট করে কথা বলে ফেলি যা অমার্জিনীয় যার কারনে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতার স্বীকৃতি দিতে আইন করতে হয়।কিন্তু কেনো?এর জন্য দায়ী তারাই আমরাই আমরা অকৃজ্ঞ জাতি নতুবা জম্মদাতাকে কিভাবে স্বপরিবারে ১৫ই আগষ্ট হত্যা করি আবার সেই মৃত্যু দিবসকে… মিথ্যে জম্মদিন বানিয়ে তামাশা করি।অথচ পাশ্ববর্তীদেশ দেশ ভারত দেখুন দল মত নির্বিশেষে মহেত্ত্বা গান্ধীকে জাতির পিতা মেনে দেশ আজ কত দুর চলে গেছে।সে জন্য কোন আইনের প্রয়োগ করতে হয়নি।সে মনের রাজা…মনই বলে দেবে সে কে তার মর্যাদা কি….

পেট্রোল বোমায় তিনজন গ্রেফতার…হায়রে আমাদের দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশ।যতটুকু জানি পুলিশ পারেনা এমন কোন কাজ নেই…সাগরের গভীরে লুকায়িত কিংবা আকাশে উড়ন্ত অপরাধীকে নিমিশেই ধুলিষাৎ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই যদি না থাকে কোন বাধা।জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারছে একের পর এক, কোন আসামীই ধরতে পারছেনা ।সরকারও প্রমান করতে পারছেনা এগুলো কারা করাচ্ছে,বরং সরকার শুধু মুখেই বলছে জামাত শিবির কিংবা বি এন পি কার্যতঃ কোন প্রমান করে তেমন কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি অযথা রাজনৈতিক নেতাদের ঢালাও ভাবে গ্রেফতার করে পক্ষান্তরে রাজনৈতিক সহিংসতাই  বাড়াচ্ছে।যদি তারা সরকারের চেয়ে শক্তিশালী হয় তবে দেশ চলবে কি ভাবে?আমরা চাই আইনের কঠোরতায় কার্যকারীতার নগদ হিসাবের যোগ বিয়োগ কিছুদিন পর ছেড়ে দেয়া এ সব ভন্ডামী রাজনীতির পরিহার করতে হবে।আর একটি মুক্তিযুদ্ধা ভিত্তিক দল হিসাবে বি এন পি অবশ্যই জামাতের মত রাজাকারের দলকে ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দল হিসাবে জনতার কাছে স্পষ্ট হতে হবে নতুবা বি এন পিও একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে কারন আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সেই বাঙ্গালী যারা দেশের স্বার্থে জীবন দিতেও জানে।

কি ভাবে সন্ত্রাসী বন্ধ করতে হয় তা আমি জানি-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।যদি জানাই থাকে তবে কেনো বার বার এমন ঘটনা ঘটে?তবে কি আমরা রাজনৈতিক সহিংসতায় খেলনার পুতুল।সুযোগ্য বঙ্গন্ধুর কন্যা কথা বলতে হবে বঙ্গবন্ধুর মতন “যে কথা সেই কাজ”এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম…এবারের সংগ্রাম সন্ত্রাসী নির্মূলের সংগ্রাম…কোন পক্ষের ছাড় নেই।মিল্কীর কিংবা রানা প্লাজার রানার  মত রহস্য ঘেরা ঘটনা যেন আর দু’বার না ঘটে এই আশা আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে রাখতে পারি।অন্যেদের ফলো নয়, ফলো করতে হবে বঙ্গবন্ধুকে তার আদর্শকে।

আমাদের পরম শ্র্দ্ধেয় ব্যাক্তি রফিকুল ইসলাম…তর দীর্ঘ দিনের আইন পেশা এবং রজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রবীন রাজনৈতিক সমালোচক।তর মতে শক্তিশালী গণতন্ত্রী সরকারের পূর্বশর্ত সরকারে থাকতে হবে শক্তিশালী বিরোধীদল।বর্তমানে দশম সংসদের সরকার একটি সিংস্র রাজনৈতিক অবস্হায় এক প্রকার একদলীয় নির্বাচনে কিছু বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় এসেছে সেখানে শক্তিশালী একক সংখ্যাগরিষ্ট তেমন কোন রাজনৈতিক বিরোধী দল নেই ।তাই এ সরকর দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে বেশ কষ্টসাধ্য হবে তাছাড়া যে যাই বলুক বি এন পি  একটি দু বার নির্বাচীত সরকারী দল এ দেশে এখনও আর কোন শক্তিশালী দল কিংবা বিরোধীদল হয়নি সৃষ্টি, তাই তাকে ছাড়া নির্বাচন মানে বিশ্ব এবং বাংলাদেশের জণগনের কাছে অগ্রহনযোগ্য নির্বাচন। কথা হলো তাকে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করানোর দয়ীত্ত্ব সরকারে, কি ভাবে সে রাজি করাবে সেটা তার রাজনৈতিক কৌশলের বিচক্ষনতা।সব দলের অংশগ্রহন ছাড়া গঠিত সরকার বিশ্বের কাছে গ্রহনযোগ্য হারালে তা উন্নয়নের পথে বিশাল বাধা হয়ে দাড়ায় কারন আমরা এখনও রাষ্ট্রীয় সম্পদের কোন কিছুতে স্বয়ংসম্পর্ন নই বৈদেশিক সাহায্যেই চলতে হয় তাই সাবধান থাকতে হবে নতুবা দেশে যে কোন সময় আর একটি দূর্ভিক্ষ এসে যেতে পারে।

২০০ কোটি ডলারের অর্ডার রাজনৈতিক অস্হিরতায় হাত ছাড়া হতে চলছে যা কর্মসংস্হানের উপর হুমকি স্বরূপ।গার্মেন্টস শিল্প আমাদের প্রধান বেচে থাকার হাতিয়ার দেশের গ্রাম অঞ্চল থেকে উঠে আসা অধিকাংশ মহিলাদের কর্মসংস্হানের কেন্দ্র।দেশ উন্নয়নে মহিলাদের কাজে লাগানো অপরিহার্য্য।সেখানে আঘাত হলে কি হয় দেশের অবস্হা তা ধারনার বাহিরে তাই সাবধান সরকার এবং বিরোধীদল এবং শ্রমিক নেতারা।

 গণজাগর মঞ্চের প্রতিষ্টাতা মরহুম জননেত্রী জাহানারা ইমাম।সে মুলত স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে যখন অনেকেই অনেকবার ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করতে থাকে কিন্তু কার্যতঃ যারা বাংলাদেশ জম্মের বিরোধীতা করছে কিংবা যারা যুদ্ধের সময় মানবধীকার আইন লঙ্গন করে নির্বিচারে হত্যা,গুম,ধর্ষন করে পার পেয়ে এ দেশেই আবার তাদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্টিত করেন আমাদের দেশের যোগ্য রাজনিতীবিদেরা তাদের বিচারের ডাকে রাজপথে শ্রদ্ধেয় মরহম জাহানারা ইমাম সৃষ্টি করেন “গণজাগরন মঞ্চ”সেই সুবাদে ২০১৩তে কসাই কাদের এবং সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় ফাসির দাবী নিয়ে ডাঃ ইমরান এইচ সরকার গণজাগরন মঞ্চকে উজ্জ্বীবিত করেন আপামর জনসাধারনদের নিয়ে।সে কয়েকজন অনলাইন ব্লগারদের নিয়ে শুরু করেন তা এখন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি সচেতন নাগরিকের দাবীতে রূপান্তরিত হয়েছে।প্রথমতঃ তাদের দাবী ছিল একটি “যুদ্ধাপরাধীর রায়ে ফাসি আদেশ কার্যকর”এবং তা ছিল সকল দল মতের উর্ধ্বে ।অভাগা জাতিকে একটু আলোর মুখ দেখিয়েছিল তাইতো তার জনপ্রিয়তা বিশ্বের কাছেও প্রসংসিত হয় এর পর তা ধীরে ধীরে একটি বিশেষ দলের হয়ে যায় কিছু জনতা সে কারনে মাঝ পথে ভরসা হাড়িয়ে ফেলে জনতা।অনেকেই ভেবেছিল ফাসির দাবীর সাথে দেশের জাতীয় স্বার্থে আঘাত হানে তেমন কোন ইস্যুর বিপরীতেও তারা এগিয়ে যাবে…এখন তারা যা করছে তা দেশের জাতীয় স্বার্থে আঘাতের একটি….ধর্ম যার যার বাংলাদেশ সবার সুত্র ধরে এ দেশে ভ্রাতৃত্ত্বের বন্ধন যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ।কে হিন্দু কে মুসলিম কে বা বৌদ্ধ,খৃষ্টান কখনও কারো কল্পনাতেও আসেনি ।পুজোয়ঁ কিংবা গির্জায় প্রার্থনায় মুসলিমদের অংশগ্রহন ছিল লক্ষনীয়।এমনও পরিবার আছে যারা ধর্মে নয় মানুষ হিসাবে আত্ত্বীয়তায় থাকছে।আমার বন্ধুদের তালিকায় বেশীর ভাগই হিন্দু এখনও সেই মমতায়,সেই ভালবাসায় দিন কাটাচ্ছি।রাজনৈতিক নোংরামী এখানে অন্তরায় হয়ে দাড়ায় তবে আমার বিশ্বাস আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ এ কথা হিন্দু সম্প্রদায়রাও মনে প্রানে বিশ্বাস করেন।আমার অনুরোধ প্লিজ সংখ্যালগু বলে কেউ কাউকে আলাদা করার সুযোগ দিবেন না।বাংলাদেশে সংখ্যা লগু আর সংখ্যা গুড়ু বলে কিছু নেই...রক্তের রংয়ে যেমন ভাগ নেই তেমনি এ দেশে হিন্দু মুসলিম বলে কোন শব্দ নেই।মুক্তিযুদ্ধে যেমন বঙ্গবন্ধুর সাথে সকল ধর্মে মিলে যুদ্ধ করে পাকিদের পরাজয় ঘটাইয়াছিল তেমনি আমাদের এই নতুন প্রজম্মনেরা সকল ধর্মের একটি নাম বাংলাদেশের ঐক্যতায় সকল সমস্যা সমাধানে সজাগ থাকবে।

সাবাই ভাল থাকুন….. এবং ঐক্যতায় সুর তুলুন……

ধর্ম যার যার….বাংলাদেশ সবার।

লিং সহযোগীতায় প্রথম আলো এবং কালের কন্ঠ পত্রিকা

২৪৬জন ২৪৬জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য