কথায় আছে খুব দ্রুত নিজেকে নিজের দেশকে যদি বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে চাও তবে শিল্প সংস্কৃতির বা খেলাধুলায় মনোনিবেশ দাও।খেলা ধুলার মাঝে বিশ্বে এক সময় ফুটবলের এক চেটিয়া জনপ্রিয়তা ছিলো,এখনো যে নেই তাও নয় তবে এর মধ্যে জনপ্রিয়তার বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করে নিয়েছে ক্রিকেট খেলাটি।বলা বাহুল্য যে জনপ্রিয় ফুটবলার ম্যারাডোনার অংসখ্য ভক্ত এই বাংলাদেশের নাম শুনে বলেছিলেন, এ দেশটি কোথায়? বিশ্বে সেই অপরিচিত এই দেশটি এখন সবার নজরে। বিশ্ব দরবারে এ বাংলাদেশকে পরিচিত করতে সবচেয়ে বেশী সহায়ক হয় এই ক্রীকেট খেলা।আর এই দেশে এই ক্রীকেট খেলার এ যাবৎ কালে শীর্ষে থাকা সাকিব আল হাসান হলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। গুণী এই ক্রিকেটার সম্পর্কে আমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে জানার চেষ্টা করব।

পরিচিতিঃ
নাম: সাকিব আল হাসান
জন্ম: ২৪ মার্চ, ১৯৮৭
জেলা : মাগুরা
উচ্চতা : ১.৭৫ মিটার
বয়স : ৩২ বছর(২০১৯)
ধরন : অলরাউন্ডার ক্রিকেটার।
ব্যাটস ম্যান : বামহাতি
বোলার : স্পিন
বাবার নাম : মাশরুর রেজা কুটিল।
মা : গৃহিণী।
স্ত্রীর নাম : উম্মে আহমেদ শিশির।
বিয়ে : ১২ ডিসেম্বর ২০১২
সন্তান: আইলানা

মা বাবার আদুরে  ফয়সাল মানে আজকের এই সাকিব আল হাসান হয়ে উঠেন ধারাবাহিক নৈপুণ্যে ক্রিকেট দুনিয়ার আলোচিত ব্যক্তিত্ব যার নাম দেশ-বিদেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনায় নিয়মিতই উঠে আসে।সেই সাথে বিশ্ব দরবারে উঠে আসে লাল সবুজ পাতাকার বাংলদেশটির।সে তার বাবার সূত্র ধরে প্রথমে ফুটবলার হিসাবে নাম তার নিজ এলাকায়।অতপর তারুন্যের জোয়ারে গা ভাসিয়ে ক্রীকেটকে এক সময় সাথী করে নেন।

প্রেম ও বিবাহঃ

“বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”
কবির এ উক্তি পৃথিবীর প্রতিটি সার্থক পুরুষদের স্বরণীয় ক্রীয়াকলাপে দেখা যায়।কয়দিন আগেও সাবিককে কেউ চিনতো কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাঙ্গালী নারী তার প্রেমিকা শিশির এর আগমনে তার খেলায় যেন আরো নিত্য নতুন নতুন নৈপন্য খুজেঁ পায়।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই তারা প্রথম পরিচিত হন।২০১১ সালের বিশ্বকাপ খেলায় অধিনায়ক ছিলো সাকিব আর তখনি মিডিয়ায় বেশ জোড়ালো ভাবে প্রচারে আসে সাকিব সেই থেকেই শিশিরের চেনা জানা শুরু।ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলার সময় সুদুর আমেরিকা হতে লন্ডনে চলে আসে শিশির,হয় কত কথা,কতোনা রোমান্টিকতা।
সাকিব আল হাসান এর নিজের প্রেম এবং বিয়ে প্রসঙ্গে যতটুকু জানা যায়  তাহলো-ফেসবুকেই তার প্রথম পরিচয় ঘটে উম্মে আহমেদ শিশিরের সাথে। এত সুন্দর মেয়ে, ছবি দেখেই অভিভূত হই। এক পর্যায়ে তার মনে হয়েছিলো যে, এটি হয়তো কোন ফেইক আইডি। কিন্তু বাস্তবেই যে,সেই ছিলো।এর পর লন্ডনে খেলার সময় দেখা হয় তার সাথে আরো দুই বার। এর পরই বিয়ের আসরে বসলেন আর তারিখটাও ছিলো রেকর্ড করা > ১২.১২.২০১২ । প্রেম করার তেমন সুযোগ তার ঘটেনি। তবে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তটি ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে সময়োপযোগী একটি ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ, বিয়ের পর ক্রীকেটে আরও বেশী উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলেন শিশির যার জন্য বিশ্বে আজকে তার উজ্জ্বলতর ক্রীকেট নক্ষত্রের স্থানটা দখলে।
২০১৫ সালে তাদের ভালবাসার ঘরে উপচে পরা ভালবাসার অংশিদার হতে জন্ম নিল ফুটফুটে কন্যা সন্তান নাম তার আইলানা।

তার ছেলে বেলা এবং বিশ্ব নন্দিত ক্রীকেটার হওয়ার নেপথ্যে:
ছোটবেলায় তাকে কেউ  বা কারো কাছ হতে ক্রীকেট খেলার  উপর কোন রকম শিক্ষা গ্রহন করেননি।সে সাধারনতঃ মাগুরা শহরের বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। সারা দিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে দিন কাটাতো বলে তার বাবা বেশ রাগ করতেন।তবে মা কিছুই বলতেন না।বাবার শাসন,মায়ের আদরে সাকিব ধীরে ধীরে নিজেকে ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে ফেলেন।


সাকিবের ছেলেবেলার স্মৃতিচারণে তার মা শিরিন রেজা জানান- “একদিন পড়তে না বসায় রেগে গিয়ে তার প্রিয় ব্যাটটি ভেঙে ফেলি। সে দিন সে ভীষণ ভাবে কান্না করেছিলো! খুব কষ্ট পেয়েছিলো সে দিন। তারপর  রাতে অভিমানী কণ্ঠে নিজের ক্রিকেট ব্যাটের প্রিয়তার কথা জানালো আমাকে। সেই দিনের কথা আমার এখনো খুব মনে পড়ে।
মাগুরার এক সময়কার জনপ্রিয় ফুটবলার ব্যাংক কর্মকর্তা তার বাবা স্মৃতি চারণে জানান-“ছেলেকে ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলব এমন ইচ্ছেতেই প্রতিদিন স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতাম। অথচ সে হয়ে গেছে ক্রিকেটার। তবে আমি যা-ই চাই না কেন, ছেলের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি সব সময়। এখনও সেভাবেই চলছে সব।
বাংলাদেশে এই প্রথম কোন খেলোয়ারর জীবনি নিয়ে বই রচিত হয়, দেশর সুনামধন্য বর্তমান সময়ের কবি সাহিত্যিক আনিসুল হক তার “সফল যদি হতে চাও” বইটিতে বিশ্বের অন্যান্য সফল ব্যাক্তিদের জীবনির সাথে তুলে ধরেছেন তাদের মধ্যে সর্বো কনিষ্ঠ এই বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সফলতার নানান দিক।

তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় মাগুরা ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে মাগুরা মডেল স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এখান সে  ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে  বাংলাদেশ বি.কে.এস.পি স্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকার এ.আই.ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজীতে অনার্স পড়েন।
এ জগতে যত বড় বড় বিশ্ব বিখ্যাত নামকরা ব্যাক্তি আছেন যাদের জীবনিতে দেখতে পাই শৈশবে স্কুল পালানো বা লেখা পড়ায় বেশ অমনযোগী যেমন স্কুলে নিয়মিত হাজিরা না দেওয়া, বাড়িতে ঠিকমতো পড়তে না বসা,পাঠ্য বইয়ে মনযোগ না দিয়ে অন্য বিষয়ে আকৃষ্টতা থাকা ইত্যাদি এ সব সাকিবের শৈশবেও দেখা যায়। সকাল-দুপুর-বিকেল কাটত কেবল দুরন্তপনায়। ফুটবলের পাশাপাশি খানিকটা ক্রিকেট খেলার জন্য সুযোগ পেলেই দিনের অধিকাংশ সময়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন।
বিশ্ব ক্রীকেটে নন্দিত অল রাউন্ডারের স্কুল জীবনের বন্ধু নয়ন খান এর মতে, মাগুরা শহরের কেশব মোড় এলাকায় বাড়ির পাশে পতিত জমিতে সাকিবের ফুটবল আর ক্রিকেটের মহড়া চালিয়ে যেত। তবে ক্রিকেটটাই তাকে বেশি টানত। পথে-ঘাটে, রাস্তায় সে যেখানেই থাকত, সেখানেই হঠাৎ হঠাৎ বোলারদের মতো একটু হাত ঘুরিয়ে নেওয়া বা স্ট্রেইট-ড্রাইভের মত করে কয়েক বার ব্যাট চালানোর ভঙ্গি করত যে জন্য বন্ধুরা সেই সময় সাকিবকে ‘বাগানে খেলোয়াড়’ বলে ডাকতেন।

বিভিন্ন পয়েন্টে ছোট্র ফয়সালের ক্রীকেট খেলার নৈপুন্যতা চোখে পড়ে মাগুরা ক্রিকেট একাডেমির ক্রিকেট প্রশিক্ষক সাদ্দাম হোসেন সাহেবের।তার মতে সে যখন ১৯৯৮ সালে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র,তখন প্রশিক্ষণ নিতে সে তার একাডেমিতে আসে।এখানে সে তিন বছর প্রশিক্ষণ নেয়। তার অসামান্য ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রথম প্রকাশ ঘটে বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে নেমে। সেখানে সেই খেলায় ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে জানিয়ে দেন হি ইজ বিকাম এ জিনিয়াস প্লেয়ার। এরপর ২০০২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় হয়ে ঝিনাইদহে মাগুরা জেলা দলের একাদশে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে সাকিব ১০৮ রানে নট আউট থেকে ভবিষ্যতের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যান। সেই খেলায় কুষ্টিয়া দলকে পরাজিত করে মাগুরা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আর এর সব কৃতিত্বই ফয়সাল অরফে সাবিক আল হাসানের।

২০০১ সালে বিকেএসপি’র ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের বাছাই পর্বে নির্বাচিত হন সাকিব।অতপর নড়াইলে এক মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চলাকালীন সময়ে তার খেলার ভ্যারাইটিজ নৈপন্যে সাকিব আল হাসান এর উপরনির্বাচকদের বিশেষ দৃষ্টি পড়লে ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় দলে তার অভিষেক ঘটে।এর পর হতে তাকে আর পিছু তাকাতে হয়নি।২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় তার একদিনের আন্তজর্তিক ক্রীকেট খেলা। শুরুর দিকে এবং একজন জেনুইন অলরাউন্ডার হয়েও সাকিব ২০০৮ সাল পর্যন্ত ব্যাটসম্যান হিসাবে খেলেছেন।একই বছর নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম বারের মত কোচ জিমি সিডন্স তাকে স্পেশালিষ্ট বোলার হিসেবে টেস্টে  খেলান। আর সাকিব তাতে শতভাগ সফলও হোন। ৩৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে সাকিব তার সামর্থ্যের যথার্থ প্রমাণ দেন। এটাই এখন অবধি সাকিবের টেস্টে সেরা বোলিং ফিগার। শুরুতে সাকিব  পেস বোলিং করলেও পরে জাতীয় পর্যায়ে খেলা শুরু করলে তিনি স্পিন বোলিং প্রাক্টিস শুরু করেন। আর এই স্পিন দিয়েই সাকিব ঘায়েল করেছেন বিশ্বের বড় বড় অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের। গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। পরে অবশ্য তাকে “রেকর্ড আল হাসান”ভাবতে লগেন। সাকিব আল হাসান হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর। নিজেদের স্থান বিশ্ব সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে পারফর্মেন্স দিয়ে। ৩২ বছরের সাকিব আল হাসান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলে চলেছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। দীর্ঘ এই পথচলায় সাকিব নিজের নামের পাশে অসংখ্য কীর্তি গাথা লিখেছেন, এখনো লিখে চলছেন। রেকর্ডে রেকর্ডে ছেয়ে গেছে তার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার। এখন অবধি ১৯৮টি ওডিয়াই ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসান। ১৮৬ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৫.৫১ গড়ে রান করেছেন ৫৭১৭ রান। সেঞ্চুরি করেছেন ৭টি, হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৪২ টি। তবে সাকিবের সেঞ্চুরি আরো অনেক বেশি হতে পারতো। ৯০ এর ঘরে অসংখ্য বার সাকিব আত্মবলিদান দিয়ে সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি তার অসংখ্যবার। ১৯৮ টি ওডিয়াই খেলে ১৯৫ ইনিংস বল করে সাকিব ২৪৯টি উইকেট শিকার করেছেন। মোট ১ লাখ ৭৩ টি বল করে সাকিব ওডিয়াইতে রান দিয়েছেন ৭ হাজার ৪শ ৫৪।বর্তমান বিশ্বে সাকিবের মতো এমন ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ অলরাউন্ডার একটিও নেই। তিনি অনেক দিন যাবত বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন।
২০১৫ নভেম্বর। সবাই তাকে মিস্টার অল রাউন্ডার হিসেবেই চিনেন। এরই মধ্যে গড়ে ফেলেছেন বেশ কিছু বিশ্ব রেকর্ড। একই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট, ১০ উইকেটও নিয়েছেন । সেসব ছাপিয়ে তার যে রেকর্ড ক্রিকেট বিশ্বে অমরত্ব পেতে পারে তা হলো বিশ্বে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই সাথে ৩ ফরম্যাটেই বিশ্বের শীর্ষ অল রাউন্ডার হওয়া। এক সাথে যেখানে তিন ফরম্যাটের দলে জায়গা ধরে রাখাই কঠির সেখানে তিনটি ফরম্যাটে এমন দুরবোধ্য কীর্তী গড়া প্রায় অসম্ভবই। যিনি এই রেকর্ড ভাঙবেন তাকে স্পোশাল প্রতিভা নিয়েই এ পৃথিবীতে জন্ম নিতে হবে। আর যদি ভেঙেও ফেলেন তার পরও সাকিবের এই কীর্তি টিকে থাকবে হাজারো বছর। কারণ বিশ্ব ক্রীকেটে প্রথম হিসেবে এই রেকর্ড গড়ার সুযোগ আর কারও নেই।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্যাট হাতে ৬ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি এবং ৩টি হাফ সেঞ্চুরি করেছন সাকিব আল হাসান। আর অন্য ইনিংসে,পরিসংখ্যানে যেটি এবারের আসরে ব্যাট হাতে তার সবচেয়ে খারাপ পারফরমেন্স সেটিতেও তার রান ৪১ ছিলো।আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে এই আসরে নিজের শিকার করা উইকেটের সংখ্যাও নিয়ে গিয়েছেন ১০ এর সংখ্যায়।আর এই বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ওয়ানডে’তে ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
প্রমাণ করেছেন সাকিবকে কেন ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্ব কালের সেরা অলরাউন্ডারদের অলরাউন্ডার বলা হয়। সব চেয়ে কম ম্যাচ খেলে ওয়ানডেতে ৫০০০ রান আর ২৫০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্বটা যে আমাদের সাকিবের দখলেই ছিলো। এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দ্রুততম সময়ে ৬ হাজার রান আর ২৫০ উইকেট নেয়ার রেকর্ডটিও দখল করে নেন সাকিব।

ওয়ানডেতে সাকিব ছাড়াও এই অর্জন জ্যাক ক্যালিস আর সানাথ জয়সুরিয়া শহীদ আফ্রিদিরও রয়েছে যারা ছিলেন সাকিবের আগে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছানোর রেকর্ডের মালিক।কিন্তু মাইলফলকটি ছোঁয়ার ক্ষেত্রে শহীদ আফ্রিদির চেয়ে ৯২ ম্যাচ কম খেলেন সাকিব।এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫১ রানের ইনিংস খেলার পথে পার করেছেন ইতিহাসের ১৬তম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে এক হাজার রান করার কৃতিত্ব; বলা বাহুল্য যে বিশ্বকাপে এক হাজার রান করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।আর  সাউদাম্পটনে বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি আর ৫ উইকেট নেয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন রেকর্ডবুকে। এর আগে এ যাবৎ এই রেকর্ডটির একচ্ছত্র দখল ছিল ভারতের যুবরাজ সিংয়ের কাছে। তাই  বিশ্বকাপে অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যের পরিসংখ্যানের হিসেব করলে কাগজে-কলমে এখন বলাই যায় যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। কারণ বিশ্বকাপে এক হাজার রান করা এবং ৩০ উইকেট নেয়া একমাত্র ক্রিকেটার আমাদের প্রিয় লাল সবুজের দেশের কৃতি সন্তান সাকিব আল হাসান।এর আগে ১১৬৫ রান ও ২৭টি উইকেট নিয়ে ৫টি বিশ্বকাপ খেলা শ্রীলঙ্কার সানাথ জয়সুরিয়া ছিলেন পরিসংখ্যানের খাতায় সবচেয়ে কার্যকরী অলরাউন্ডার যা এখন সাকিবের দখলে।
বিশ্ব ক্রীকেট তারকা সাকিবের সাম্প্রতিক ফর্ম বিশ্ব কাপে বজায় থাকলে সাকিবই বাংলাদেশের ২০১৯ বিশ্বকাপে এক্স ফ্যাক্টর হবেন সেটা অনায়াসে বলা চলে। তার বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেটীয় ব্রেন আর অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং বোলিং দিয়ে বিশ্বকাপে সেমিতে যেতে আর মাত্র দুটি খেলা ভারত ও পাকিস্থানকে হারিয়ে বাংলাদেশ কে স্বপ্নের শিরোপা এনে দিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

অভিনন্দন ও শুভ কামনা বাংলাদেশ ক্রীকেট টিম
—————————–
বিশ্বকাপ ২০১৯ এর আমাদের সোনেলার গর্ব তৌহিদ ভাইয়ের পোষ্টগুলো ফলোআপে থাকলে জানতে পারবেন বিশ্ব কাপ ২০১৯ এর ঘটন অঘটনের অনেক কিছু।
তার পোষ্টকৃত পর্বগুলো হলঃ
প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব
বাকীটা চলমান।

তথ্য ও ছবিঃ
মাগুরা এডুকেশন ডিরেক্টরি
(ডা: আবুল কাশেম শিক্ষা ফাউন্ডেশন-২০০৮)
www.bbcbangla.com
www.mtnews24.com
উইকিপিয়া এবং অন্যান্য অনলাইন মাধ্যম।

৩০৩জন ৫২জন
59 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য