দুধ কলা খাওয়াইয়া পুষলাম যে সাপ সেই সাপ এখন ছোঁবল মারে।আমার পূর্বে  প্রকাশিত সোনেলায় আশ্রীত রোহিঙ্গা দেশের জন্য অশনি সংকেত পড়লে জানতে পারবেন ওরা কতটা ভয়ংকর।

বিশ্বের বহু দেশে কমবেশ শরনার্থী আছে তবে তারা থাকেন সে সব দেশে নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মাঝে।প্রশাসনের অনুমতি বিহীন দেশের বাহিরে যাওয়াতো দূরে থাক দেশের ভিতরে আশে পাশের অঞ্চলগুলোতেও যাতায়াতে কড়াকড়ি আইন আরোপ করা হয়। সেই তুলায় আমাদের দেশের রোহিঙ্গারা মায়ের কোলে আছে।মানবতা ধার্মীকতা আর দেশদ্রোহী টু’পাই কামানো লোকদের কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গারা বিচরণ করছেন দেশের সর্বোত্র বিশেষ করে পুরো চট্রগ্রাম।তাদের অবাধ বিচরণে সংখ্যা গুরুরা এখন হয়ে পড়েছেন সংখ্যা লঘু।

বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের মানুষদের তাতেও কোন দুঃখ ছিলো যদি না তারা দ্বিতীয় বারের মত গত ২২ আগষ্ট মিয়ানমার প্রত্যাবাসনে মায়ানমায়ান ফেরত গিয়ে বা পাচ দফা না দিয়ে তারা সহজে চলে গিয়ে সরকারকে সহযোগীতা করত, তাহলে কোন প্রশ্ন উঠত না।এখন দেশ বিদেশে সর্বোত্র আওয়াজ উঠেছে, কে এই সব ভূখা অসহায় অশিক্ষিত বর্বর রোহিঙ্গাদের নেতা? কারন প্রত্যাবাসনে না গিয়ে ২৫ আগষ্ট তারা যে প্রায় পাচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা একত্রে করে জন সমাবেশ করেছে তার আয়োজনে কারা ছিলো? তাদের পিছনে যে বিশাল একটি কূচক্র মহল কাজ করেছে তা সহজে অনুমেয়।

সব ঠিক ঠাক তবে কেন? কি ভাবে হঠাৎ ভেস্তে গেল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া?

২২ আগষ্ট বাংলাদেশ সরকার ও মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসনে রাজী হয়।এ খবর পুরো চট্রগ্রাম রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কেউ কিছুই জানত না।কিন্তু বিদেশি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মিয়ানমার থেকে প্রকাশ করা হলে  বিদেশি এনজিওগুলো এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে হৈ চৈ  সৃষ্টি হয়।বার্তা সংস্থার এ খবর প্রকাশের পরপরই তৎপর হয়ে উঠেন এনজিও সংস্থাগুলো।তারা যোগাযোগ করতে  ব্যাস্ত হয়ে পড়েন  আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটসের নেতা মুহিবুল্লাহর সাথে।মুহিবুল্লাহ তখন হতেই দিনে রাত-ভোরে এনজিওগুলোর সাথে দফায় দফায় সভা করতে লাগলেন।এছাড়াও কাজে লাগান তার  দুই হাজার কর্মীর মোবাইল নেটওয়ার্ক বাহিনীকে।বলা বাহুল্য বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জীবন যাপনের যতগুলো সুবিদা দিয়েছেন তার মধ্যে মোবাইল নেটওয়াকিং অন্যতম।এই মোবাইলের মাধ্যমেই যোগাযোগ করে তার কর্মীরা দেশে অবস্থানরত বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সাথে যা জন্য ঐ জন সভায় চার থেকে পাচ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটায়ে তিঁনি সফল হন।

তার এ সব কর্মী প্রত্যাবাসনের জন্য সিলেক্ট হওয়া সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা ছাড়াও পুরো ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে মুহিবুল্লাহর তৈরী পাচ দফার দাবীগুলোর মুখস্ত পাঠ করার মহড়া।যে কারনে প্রত্যাবাসনে ফিরে না যাবার কারন জিজ্ঞাসা করায় তারা প্রত্যেকেই একই রকম ভাষায় একই রকম বলেছেন যা অনেকে বলতে গিয়ে ধরা খায় তখনি বুঝা যায় এ সব কারো শিখানো মুখস্ত কথা।তাদের যে কেউ একজন লিড দিচ্ছেন এতে দেশী বিদেশী কারো কারো ইন্ধন পরোক্ষ সহযোগীতা আছে তার আরো একটি প্রমান হল সভা সমাবেশে ব্যানার ফেষ্টুন ব্যাবহার করা।তারাতো অশিক্ষিত তারা এ সব চকচকে ইংরেজীতে লেখা ব্যানার পেল কি ভাবে? তাদের সেই জনসভা ইউটিউব সহ অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যে প্রচার হয়ে পুরো বিশ্বে ছেয়েঁ গেছে।

একটি নিউজ মারফত জানা যায় তাদের মাঝে মোবাইল ব্যাবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রায় ৮(আট) লক্ষ রোহিঙ্গা।এ কথা ভাবা যায়?এমন বাধাহীন নেটওয়ার্ক আর যোগাযোগের সুযোগ পেলে কে সুযোগটি কাজে না লাগায় বলেন। রোহিঙ্গারা সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে।ইন্টানেট ব্যাবহার করে বাংলাদেশের ন্যাশনাল আইডি সাইটে প্রবেশ করে নিশ্চিন্তে তারা জন্মগত বাংলাদেশী হয়ে যাচ্ছেন।পেয়ে যাচ্ছে সহজেই বাংলাদেশী পাসপোর্ট যা দিয়ে সহজেই তারা বাংলাদেশী হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেন।এর মধ্যে বহু রোহিঙ্গা বিদেশ পাড়ি দিয়েও ফেলেছেন। এখন প্রবাসে তারা যদি কোন অপরাধ করেন তবে নাম পড়বে এরা বাংলাদেশী।যদিও সরকার এখন একটু নড়েচড়ে বসেছেন এবং টেলিযোগাযোগ ব্যাবস্পনা মোবাইলে নেটওয়ার্ক অনেকটা নিয়মে বেধে দিয়েছেন।যদিও বাংলাদেশ সরকারে কড়াকড়ি নির্দেষ ছিলো রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাহিরে যাবে না কিন্তু গত দুবছরে প্রায় ৫৫০০১ জন রোহিঙ্গা পালিয়ে দেশের অন্যত্র চলে গিয়েছে।

তবুও কথা থেকে যা…

রোহিঙ্গারা যে ন্যাশনাল আইডি কার্ড সার্ভায়ার ইউজ করল তাতে তাদের সাথে আমাদের দেশের সেই সেক্টরের আইটি বা নির্বাচন কমিশনারে কারো না কারো সম্পৃক্ততা ছিলো।তারা কারা? তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।আর একটি কথা হল-কোন বেক্কেল কর্মকর্তা দেশের মোবাইল অপারেটর গুলোকে নির্দেষ দিয়েছিলো যে, রোহিঙ্গাদের এ ভাবে ঢালাও সিম সরবরাহ করার? তাকেও খুজেঁ বের করা জরুরী।বিআরটিসিকে সেখানে ইন্টারনেট সুবিদা দেবার কোন আহম্মক মন্ত্রী অর্ডার দিয়েছিলো?

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে অবাক হওয়ার মত কিছু ঘটনাও তার মধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে কথিত রোহিঙ্গা ডাকাত নূর মোহাম্মদ তারঁ মেয়ের নাক ফোড়াঁনোর অনুষ্ঠান।২২ আগষ্ট যেদিন রোহিঙ্গা প্রর্ত্যাবাসন এর তারিখ সেদিন তারঁ মেয়ের নাক ফোড়াঁনোর অনুষ্টান।অনুষ্টানে অসংখ্য মানুষের সম্পৃক্ততা ঘটে।রোহিঙ্গাবাসী সহ পুরো ডাকাত দল মাদক ব্যাবসায়ী চোরা কারবারীরা সেই অনুষ্টানে প্রাইজ হিসাবে গরু ছাগল সহ প্রায় এক কেজির উপরে বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ক্যাশ উপহার হিসাবে দেয় যা শরনার্থী হিসাবে রীতিমত বিষ্ময়কর।এই নূর মোহাম্মদের ডাকাত দলটিই কাউন্সিলর ওমর ফারুখকে ২৩ আগষ্ট হত্যা করে।

এখন কথা হল এ সব রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত মায়ানমার ফেরত পাঠানো যায় ততই দেশের জন্য মঙ্গল।তার পূর্বে রোহিঙ্গা নেতা রোহিঙ্গা মুহিবুল্লাকে তার মীরজাফর গিরী থামাতে হবে। ১৯৯২ সালে মুহিবুল্লাহ মায়ায়ানমার হতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা হিসাবে প্রথমে প্রবেশ করে উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে সে বসবাস করে।এরপর বিংশতাব্দীর শুরুতে সে মাত্র ১৫জন লোক নিয়ে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটস গঠন করে। ইউএনএইচসিআরের কক্সবাজার অঞ্চলে নিয়োজিত কিছু কর্মকর্তার সাথে তার মধুর সম্পর্ক থাকায় সে এখন উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে। ধীরে ধীরে মুহিবুল্লাহ পাচ জন রোহিঙ্গা নেতাদের সবার শীর্ষে উঠে আসে।

২০১৮ সালেও জুলাই মাসে তিনি একবার গ্রেফতার করে উখিয়া থানা।কোন কারন দর্শানো ছাড়াই কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।এ বছর প্রিয়া সাহার সাথে রোহিঙ্গাদের পক্ষ হতে মুহিবুল্লাহও যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প এর সাথে দেখা করে।এরপর হতে সে এ দেশে শরনার্থী রোহিঙ্গাদের চোখের মণি একমাত্র ভরসা পাওয়ার মত নেতা হয়ে উঠে। তখন হতে ক্যাম্পে জাতিসংর্ঘের মহাসচিব সহ বিদেশী যত পরিদর্শক যখনি রোহিঙ্গা ভিজিটে আসতেন তখনি মুহিবুল্লাহ এবং তার দলের সাথেও তারাঁ বৈঠকে বসতেন।সে এর মধ্যে সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতও সফর করে এসেছেন।গড়ে তুলেছেন গভীর সখ্যতা বাংলাদেশের মানবিধীকার কমিশন এর কর্মকর্তাদের সাথে।হিসাবে এই মহিবুল্লাহও বাংলাদেশের একজন আশ্রীত অন্যান্য রোহিঙ্গাদের মতোই একজন রোহিঙ্গা শরনার্থী  তবে কথা হল সে কি ভাবে বিভিন্ন দেশে আসা-যাওয়া করেন ? এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিকট তেমন কোন তথ্য আছে বলে আমার জানা নেই।


অন্য এক সূত্র হতে জানা যায়,মুহিবুল্লাহর সাথে যোগাযোগ আছে পূর্বে আশ্রীত বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের লিডারদের।তারা গোপনে রাত আটটার পর চলে আসে ক্যাম্পে।লেন-দেন হয় তথ্য উপাত্তের।এমন কি মায়ানমারের সাথেও তাদের তথ্যের আদানপ্রদান হয়।এছাড়া রয়েছে সকল অ-পকর্মের কর্মপ্লান সহ মাদক চোরাচালান এর নেপথ্যের যত আলাপ আলোচনার সভা মিটিং।সন্ধ্যার পর হতে অন্ধকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের গলিতে গলিতে চলে বনভোঁজনের ন্যায় নেশা-মাগীর উত্তাল নৃত্যের আনন্দ উৎসব আর সাধারন রোহিঙ্গাদের উপর জুলুম অত্যাচারের সীমাহীন উল্লাস।তাইতো সাধারন রোহিঙ্গারা সন্ধ্যা হলেই তাদের নিজ ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করে ভয়ার্তে কোন মতে রাত কাটায়।ক্যাম্পগুলোতে রাতগুলোর যা কিছু করার ক্ষমতা যেন ওদের হাতে।এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রশাসন যেন দৈব অর্ডার পেয়েছেন রাতে ক্যাম্পগুলোতে যাওয়া যাবে না।অথচ দিনের আলোয় সেখানে ভাল মানুষ সেজেঁ মুহিবুল্লাহর লোকজনকে ঘুরতে দেখা যায়।দেখে বুঝার কোন উপায় নেই যে ‘ রাত এবং দিনের মাঝে তাদের চেহারায় কত দ্রুত রং বদলায়।

তাই দেশকে বাচাতে হলে, দেশের সার্বোভৌমত্ত্ব রক্ষা করতে পর্যটন নগরী চট্রগ্রাম হতে দ্রুত তাদের সরিয়ে অন্যত্র নিতে হবে যে কোন উপায়।আর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুহিবুল্লাকেও কড়া নজরদারীতে রাখতে হবে।যাতে তার দল এ দেশে বসে দেশের ভাবমূর্তি আন্তজার্তিক ভাবে নষ্ট না করতে পারে কিংবা দেশীও সম্পদ যেন ওরা ওদের ইচ্ছে মত ব্যাবহার করতে না পারে।

রোহিঙ্গা হটাও
দেশ বাচাও

তথ্য ও ছবি:
অনলাইন বিভিন্ন পত্রিকা

১২৮জন ৩জন
29 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য