রুদ্রনীল অতঃপর কান্না।।

নীল রঙ ১১ এপ্রিল ২০১৪, শুক্রবার, ০৫:০৩:৩৩অপরাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

সারাদিন নীল আকাশ দেখে সময় কাটে রুদ্রর।মেঘ মুক্ত ঝকঝকে আকাশ দেখতে ভাল লাগে ওর।মেঘের আনাগোনা বেড়ে গেলে জানালা থেকে সটকে পরে।বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।কেন আকাশে মেঘ আসে।কেন এত সুন্দর আকাশ দেখতে দেয় না।মন খারাপ লাগে রুদ্রর।আজ বিকাল থেকেই মন খারাপ।নীল আকাশে মাঝে বিশাল করে এক একটা কালো মেঘ।রাস্তার ধারে রুস্তম মামার দোকানে চা খেয়ে ফেরার পথে একবার থমকে দাঁড়ায় সে।কিছুক্ষন চিন্তা করে যা দেখেছে তা ঠিক দেখেছে কিনা?যাকে দেখেছে সে আসলেই সে??এসব ভাবতে ভাবতে যখন ঘুরে দাঁড়ায় দেখে প্রিয়ন্তি সামনে দড়িয়ে।ভুল দেখেনি একদম।এই এত দিন পর দেখেও ঠিক ঠিক চিনতে পেরেছে রুদ্র।

:কেমন আছ??প্রিয়ন্তি জানতে চায়।
-ভাল আছি।।তুমি??
:হাম ভাল।এইখানে???
-আমি ঐ মোড়ের বাড়িটায় থাকি।তোমার বাসা এইখানে??
:হাম ঐ মোড়ের বাড়িটা আমার শশুরের।কত দিন ধরে এখানে থাকো??
-অনেক বছর।৪ বছর তো হবেই।
:আমি চলে যাওয়ার পর বাসা বদলেছো??নাম্বারটাও বদলে দিয়েছো।।
-হাম কোন কিছুতেই তোমাকে আর রাখতে চাইনি।যদি জানতাম এই বাড়িতে তুমি আছো।বা তোমার আসা যাওয়া আছে তবে এইটাও বদলে ফেলতাম।
:এত রাগ এখনও আমার উপড়??কই ছিলে এতদিন??
-রাগ নেই।সেই কবেই তো রাগ মাটি দিয়ে ফেলেছি।ছিলাম কোথাও না কোথাও খুজে দেখলেই পেতে।খোজোনি হয়ত।তুমি কবে এলে??
:আমি এখানে আজকেই এসেছি।ওর পোস্টিং ছিলো রাজশাহিতে।কিছুদিন আগেই ঢাকাতে বদলি হয়ে এসেছে।তাই এই বাড়িতে উঠা।
-ওহহ।সব নিয়ে বেশ ভালই আছো।বেবি নেই তোমার??
:আছে একটা।২ বছর হলো।ওর নাম কি জানো??
-কি??
:রুদ্রনীল
-হা হা হা।বাঁচিয়ে রাখতে চাইছো আমায়??নাকি প্রায়শ্চিত্ত করছো??
:জানি না।তবে তোমায় হারিয়ে ফেলতে চাই না।
-ভাল থাকো।আসি এখন।বাসায় যাবো।কাজ আছে।
:আমি আসি সাথে।আমি তো ঐখানেই যাবো।
-ঠিক যেদিন আমার সাথে যাওয়ার খুব বেশি দরকার ছিলো সেদিন যখন যাওনি আজকে শুধু এতটুকু না যাও।আমার ভাল লাগবে তাতে।

> রুদ্র আর পিছু ফিরে তাকায়নি।সোজা হেটে বাসায় চলে আসে।প্রিয়ন্তি রুদ্রর পিছু হেটে এসে বাসায় ঢুকে পড়ে।বাসায় ঢুকেই প্রথম ব্যাগ গুছিয়ে ফেলে রুদ্র।আজ রাতে অন্য কোন ঠিকানা খুজে নিতে হবে।সেই রাতেই মেসের সব বকেয়া পরিশোধ করে নেমে আসে রাস্তায়।সাথে প্রিয় ডিএসএলআর।প্রিয়ন্তি জানে না রুদ্র এখন বেশ ভাল ফটোগ্রাফার।কাল সকালটা নতুন করে শুরু করবে রুদ্র।নতুন ঠিকানা,নতুন আকাশ।ঝামেলাহীন জীবন যেখানে প্রিয়ন্তি নামের কেউ থাকবে না।রুদ্র রুস্তমের দোকানে শেষ চাটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।ক্যামেরাটা বের করে রুস্তম মামার একটা ছবি তুলে নেয়।এইটাই সারাজীবন মামার শেষ স্মৃতি হিসেবে না হয় থাকুক।রিক্সা ডেকে উঠে পড়ে রুদ্র।গন্তব্য অজানা।

> প্রিয়ন্তির মাথাটা ঝিম ঝিম করে।রুদ্রটা বড্ড বদলে গেছে।কথা কম বলে,হাসে না,একবার চোখখুলে দেখলোও না আমি কতটা বদলে গেছি।বললোও না তোমার চোখে চশমা কই??প্রিয়ন্তির খুব কান্না পায়।জানালার কাছ থেকে সরে এসে বিছানায় যেতে যেতে ভাবে কালকেই রুদ্রকে সব কিছুর জন্য স্যরি বলতে হবে।সব ভুলের জন্য হাত জোড় করে স্যরি বলতে হবে।অনেক স্যরি বলতে হবে।

২৪৫জন ২৪৮জন
0 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য