রিনিঝিনি চুড়ি

আরজু মুক্তা ২২ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৮:৫২:৪৩অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪০ মন্তব্য

“যদি চুড়ি পরিয়ে দাও দুই হাতে সত্যি বলছি, সারাজীবন থাকবো তোমার সাথে। ” চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ শুনলেই মনে হয় ; হাতে রংধনুর মেলা বসেছে। কানে ছোট দুল, কপালে ছোট টিপ, পাশাপাশি একগুচ্ছ চুড়ি,  অতুলনীয়।

সাজ পোশাকের অনুষঙ্গ হিসেবে চুড়ির আবেদন সবসময়ই। চুড়ি পরার কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই। পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে য়েমন পরা যায়, তেমনি কন্ট্রাস্ট করেও পরা যায়। চুড়ি থাকলে সাজটাই যেনো অন্যরকম সুন্দর হয়ে ওঠে। চুড়ি হাতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। সাজগোছে আনে নান্দনিকতা।

বাংলা নববর্ষ,  পূজা, পার্বণসহ জাতীয় দিবসগুলোতে নারীর হাতে রিনিঝিনি চুড়ি কখনোই বাদ পরে না। যে কোন উৎসবে কাচের চুড়ির জনপ্রিয়তা বেশি। এর পাশাপাশি প্লাস্টিক, কাঠ, মাটি, পুঁতি ও সূতার তৈরি চুড়িও বেশ জনপ্রিয়।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা থেকেই নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাচের চুড়ির প্রচলন ঘটে। তখনকার চুড়ির ফর্ম ও শৈলী ছিলো প্লেইন। কিন্তু মধ্যযুগে তা পরিবর্তিত হয়ে খাঁজকাটা হয়েছে। ওজনে ভারী হয়েছে, রং এ এসেছে ভিন্নতা। পাকিস্তানে ( যিশু খ্রীস্টের জন্মেরও ২৬ শ বছর আগে) পাওয়া এক মূর্তিতে দেখা যায় নৃত্যরত এক বালিকার বাম হাতে চুড়ি। তখনকার দিনে, বিয়েতে নারীদের দুই বাহুতে শোভা পেতো রঙ বেরঙের চুড়ি।

ছোটবেলায় জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম কখন চুড়িওয়ালা হাঁক দিবে। ” চুড়ি নেবে  গো — রঙ বেরঙের চুড়ি —-! ” যদিও সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পরেনা। ফেরিওয়ালার চুড়ি পরানোর কায়দা ছিলো চমৎকার। হাতে ব্যথাও লাগতো না। আবার চুড়িও ভাঙ্গতো না।

এই যে হরেক রকমের চুড়ি, তার পিছনেও আছে কিছু কারণ। প্রতিটা রঙই কিছু না কিছুর প্রতীক।  যেমন :

লাল —– ভালোবাসা

নীল ——-জ্ঞান

বেগুনি —–স্বাধীনতা

সবুজ ——বিবাহিত

হলুদ——-সুখি

কমলা ——সাফল্য

সাদা ——–নতুন করে শুরু করা

কালো —— শক্তি

রূপালি ——-তেজ

সোনালি ——সৌভাগ্যের প্রতীক।

বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ দেশে চুড়ির প্রচলন আছে। চেকে naramek, ডাচে enkelring, ফিনিশে rannerengas, জার্মানে armreif, হাঙ্গেরিয়ানে karperec, ইন্দোনেশিয়ায় gelang, ইতালিয়ানে braccialette, মালয়ে gelang, স্পেনিশে brazlete,  তুর্কিতে halhal, তামিলে ভালায়ন, নেপালিতে চুরা নামে পরিচিত।

এবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করি, তাঁতের শাড়ি, খোঁপায় ফুল, আর দুহাত ভর্তি রেশমি চুড়ি পরিহিতা এক বঙ্গ ললনাকে!  যার প্রতিটি পদক্ষেপের চঞ্চলতায় প্রকাশিত হবে রিনিঝিনি শব্দের মধ্য দিয়ে। সেই আওয়াজ ছন্দময় হয়ে উঠবে তার সারা বাড়ি। ফিরে ফিরে তাকে দেখার জন্য আকুলি বিকুলি করবে প্রাণ। বোঝাই যাচ্ছে, চুড়ি ভালোবাসায় মাতাল হওয়ার উপাদান।

” কিনে দে,  কিনে দে রে তুই রেশমি চুড়ি

নইলে করবো তোর সাথে আড়ি। ”

শিল্পী কণার গাওয়া গানটা একটা ভালো উদাহরণ চুড়ির কাব্যিকতা আর সৌন্দর্যতা বুঝাতে।

চুড়ি ছাড়া সাজ অসম্পুর্ণ। পোশাকে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে চুড়ির কোন বিকল্প নেই।

৫৪০জন ৪৫জন
0 Shares

৪০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য