রাজনীতির হালচাল (শেষ পর্ব)

আজিজুল ইসলাম ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪, বৃহস্পতিবার, ০৭:০৪:০৩অপরাহ্ন বিবিধ ৬ মন্তব্য

 

লন্ডনপ্রবাসী তারেক জিয়া বলেছেন, শেখ মুজিব রাজাকার। দৈনিক সমকালের ১৭/১২/২০১৪ ইং তারিখ সংখ্যার ১ম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত “তারেকের সীমাহীন ধৃষ্টতা” নামের প্রতিবেদন মারফৎ বিষয়টা জানা গেল। ইতিপূর্বেও মিডিয়ায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারেকের বিভিন্ন কটুক্তিপূর্ন মন্তব্য সম্পর্কে অবগত হওয়া গিয়েছিল। যেমন, ৭-ই নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুকে ”পাকবন্ধু” বলে আখ্যায়িত করা, অগাষ্টে অনুষ্ঠিত এক সভায় মুজিব-পরিবারকে “বাংলাদেশের অভিশাপ”, আওয়ামী লকে ”কুলাঙ্গার” আখ্যায়িত করা এবং এরও কয়েকমাস আগে তার বাবা জিয়াউর রহমানকে “বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি” বলে দাবী করা অন্যতম। আর ১৯৯৬ থেকেই জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষকের দাবী করে আসছে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত বিএনপি নামক দলটি, যদিও বেঁচে থাকাকালীন জিয়াউর রহমান কোনদিনই এদাবী করেননি।

এ কে খন্দকার যেকোনভাবেই হোক-না-কেন বিবেক বিজসর্ন দিয়ে সম্প্রতি একটি বই লিখেন এবং তাতে দাবী করেন, ১৯৭১-এর ৭-ই মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে “জয় পাকিস্তান” শব্দ দু’টি উচ্চারন করেছিলেন। আমাদের মতে এটা একটা ডাঁহা মিথ্যা কথা এবং আজ আমাদের কাছে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বিএনপির চক্রান্তেই তিনি এটা লিখেছেন। হতে পারে মোটা অংকের বান্ডিলও এটার প্রভাবক। নতুবা এতদিন এ কে খন্দকার যা কোনদিন বলেননি, হঠাৎ করে তা তিনি কেন এসময়ে বলবেন!আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম” “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” শতাব্দীর সেরা এসব মহাউক্তির সময় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির পিতা, আপোষহীন নেতা কখনোই ’জয় পাকিস্তান’ বলতে পারেননা। এটা বদরুদ্দিন উমর ”একাত্তরে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ‍ছিলনা” মর্মের একটা লিখা লিখেছিলেন, এগুলিকে ভিত্তি ধরে নিয়ে তারেক জিয়া নিবোর্ধের মত অথবা গোয়েবলসীয় (গোয়েবলস ছিলেন হিটলারের মিথ্যা কথার প্রচার সম্পাদক, যিনি মনে করতেন মিথ্যা কথা বারবার বললে তা শুনতে শুনতে মানুষ একসময় সেটাকেই সত্য বলে ধরে নেবে) ধারনায় বিশ্বাসী হয়ে বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার বলে ফেললেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সেই ১৯৪৮ হতে আমাদের পথ প্রদর্শক। ৪৭-এ দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পুর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান, দু’টি ভূখন্ড নিয়ে পাকিস্তান নামক দেশের জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তানের শাসক গোষ্টি (এ শাসক গোষ্টি জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানী এবং পাকিস্তানের হেডকোয়ার্টার্সও পশ্চিম পাকিস্তানেই অবস্থিত ছিল) কর্তৃক শুরু হয় এ-ভূখন্ডকে সবর্ক্ষেত্রে শোষন-লুন্ঠনের কাজ। এ-ভূখন্ডের সোনালী আঁশ পাট রপ্তানী করে রপ্তানীকৃত সেই অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা হতো পশ্চিম পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ করাচী, লাহোর আর অন্যান্য বড় বড় শহরগুলি। এ-ভূখন্ডেই বাঙ্গালী জণগোষ্টি মানুষ ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ট, অথচ অত্যন্ত দাম্ভিকতার সাথে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কায়েদে আযম এখানে এসে ঘোষণা দেন, উর্দু-ই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। শোষণ-বঞ্চনার এই চিত্রগুলি দীঘর্দিন ধরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ এদেশের সবর্স্তরের মানুষজনকে বলে এসেছেন, মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলেছেন তাঁরা এভাবে। এভাবেই ক্রমান্বয়ে ’৬৬-তে ছয় দফা দাবীর অন্যতম হিসেবে আসে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবী, ’৬৯-এ আসে অসহযোগ আন্দোলন। এ আন্দোলনে স্বতস্ফুতর্তা এতোটাই ছিল যে, উণসত্তরে স্কুল-কলেজে ছাত্রনেতারা ছাত্রদেরকে বের করে আনতে গেলে কোনরকম জোর-জবরদস্তি করতে হতোনা, শিক্ষকরাও কোন বাধা দিতেননা। স্বতস্ফুতর্তার সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা বেরিয়ে আসতো এবং মিছিলে যথারীতি যোগ দিত।

বঙ্গবন্ধু অখন্ড পাকিস্তানই চাইতেন, আলাদা হয়ে যেতে চাইতেননা। তিনি চাইতেন সমান মযার্দা, দু:খিনী বাংলা মায়ের উপর যে অন্যায়-অবিচার চলত, তিনি চাইতেন তার অবসান এবং পূর্ন মযার্দার সাথে সমানাধিকারের ভিত্তিতে তিনি ওদের সাথে বসবাস করতে চাইতেন। এজন্যই তিনি সত্তরের নিবার্চন আদায় করে নিতে পেরেছিলেন। সত্তরের নিবার্চনে সবার্ধিক আসন লাভকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরই প্রাপ্য ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রধানমন্ত্রীত্ব। কিন্তু এরপরই শুরু হলো ষড়যন্ত্র, আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা না দেয়ার ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানী সবোর্চ্চ কর্তৃপক্ষ অধিবেশন ডেকে পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতাধর ভুট্টোর ষড়যন্ত্রে তা স্থগিত ঘোষণা করলেন, আর এভাবেই শুরু হলো উত্তাল মার্চ। এরই এক পযার্য়ে আসে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, যেটা আসলে ছিল স্বাধীনতারই আহ্বান, যদিও পশ্চিম পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সাথে তখনো আলোচনা চলছিল আবার বাঙ্গালীদের উপর গুলিও চলছিল। পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আকাংক্ষাটা বাঙ্গালীর মধ্যে আসে এভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং যা চুড়ান্তভাবে উচ্চারিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের কন্ঠে একাত্তরের ৭ই মার্চ।

একদিনে কোন জাতির স্বাধীনতা লাভের ইচ্ছা জন্মায়না। বাঙ্গালীরও জন্মায়নি। এজন্য অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু কেন ৭ই মার্চ বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তাদেরকে অবাঙ্গালী সেনা কর্তাদের উপর হামলা করে ক্ষমতা গ্রহনের নির্দেশ দিলেননা, সেটার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, তাহলে একাত্তরে এত মানুষকে মৃত্যুবরন করতে হতোনা। এজন্য তিনি বঙ্গবন্ধুকে খুনী এবং পাকবন্ধু বলেছেন। অথচ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণকে স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়ার গ্রীন সিগন্যাল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। আজকের বিএনপি কতখানি দেউলিয়া হয়ে পড়েছে, তারেকের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো তারই প্রমান।

গত ছয় বছর অন্যায়-অবিচার-দু:শাসন সম্পর্কিত অনেক ঘটনা ঘটেছে এদেশে, যেমন শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী, পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারী, হলমার্ক-ডেসটিনি-বেসিক ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান হতে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যাওয়া, চাকুরীর নিয়োগে ঘুষবানিজ্য, জাতিয় সংসদ নিবার্চনের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তিকরন, সরকারী অফিস-আদালতে ঘুষবানিজ্যের বৃদ্ধিসাধন ইত্যাদিসহ আরো অনেক ঘটনা, এসবের বিরুদ্ধে বিএনপি কোনরকম বিক্ষোভ অথবা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। জামায়াত, আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সংশ্লিষ্টতা বজায় রেখে চলছে, এ-সংক্রান্ত বিচারকাজকে আন্তর্জাতিক মানের না হওয়ার অযৌক্তিক একটা বক্তব্য উপস্থাপন করে শুরু থেকেই এবিচার কাজকে বাধাগ্রস্থ করে চলেছে। এজন্য দেশের মানুষ মনে করে, বিএনপি গণমানুষের দল না, এটি একটি ক্ষমতালোভী দল, এটি ধর্মীয় জঙ্গীবাদের উস্কানীদাতা এবং তা লালনকারী একটা দল। ক্ষমতার জন্যই শুধু আন্দোলন করার চেষ্টা করে দলটি, সহিংসতা করে, বাসভর্তি মানুষকে জলন্ত পুড়িয়ে মারে, কিন্তু আন্দোলন দানা বাঁধিয়ে তুলতে পারেনা। মানুষ মনে করে ক্ষমতায় গেলে দলটি তাদের আগের শাসনামলগুলোর মতো আবার সমানে দুর্নীতি করবে, যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচারকাজকে চরমভাবে বাধাগ্রস্থ করবে, বন্দ্ব করে দেওয়ার সবার্ত্মক চেষ্টা চালাবে। লন্ডনে বসে তারেক রহমানের বক্তব্য অনূযায়ী নতুন প্রজন্মকে ‍সঠিক ইতিহাস জানানোর নামে বিকৃত ইতিহাস লেখারও চেষ্টা করবে দলটি ক্ষমতায় গেলে। এসমস্ত কারনে বিএনপি মানুষের হৃদয় থেকে অনেকটা দুরে সরে গেছে। আর উপরোক্ত কারনগুলির প্রেক্ষিতে আরো দুরে সরে যাবে দলটি মানুষের কাছ থেকে।

কলামলেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী সম্প্রতি বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেখ হাসিনার খারাপ কাজকেও আমি সমর্থন করব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যহত রাখার স্বার্থে। ব্লগেও অনেকে এরকম বলে থাকেন।

ইনাদের এসমস্ত চিন্তাভাবনাকে কীভাবে দোষ দেই! তবে দোষ না দিলেও এসমস্ত চিন্তাভাবনার সাথে একমত নই আমি। কারন যেকোন কারনেই হোক, খারাপ কাজকে সমর্থণ করা যায়না। আর খারাপ কাজ না করার জন্য চাপে রাখার উদ্দেশ্যে প্রচন্ড একটা শক্তি সৃ করার জন্য চেষ্টা না করে খারাপ কাজকে সমর্থণ করা সেটাও সঠিক নয় বলে মনে করি। সে কথায় পরে আসছি। আগে দেখা যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে কঠোর এবং একইসঙ্গে মাটির মানুষ হতে পারেন, সেই আলোচনায়।

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, যেখানেই যান না কেন শুনতে পাবেন দরিদ্র মানুষের কান্না। দেশের মহানগরগুলো অভাবী মানুষে ভরে গেছে। সাধারন রিক্সাচালক, গার্মেন্টস্ শ্রমিক, বাসের হেলপার, বস্তিবাসী, এঁদের বাসস্থানগুলো অতি অমানবিক, অতি কষ্টের। আরো আছেন অতি প্রত্যুষে কাজের খোঁজে যাঁরা বসে থাকেন কোন রাস্তার মোড়ে মাটি বহনের একটা ডালি আর সাধারন কিছু কাজের সরঞ্জাম নিয়ে। কিন্তু প্রায়ই তাঁরা পাননা কোন কাজ, আর সেদিন উপোষ করে থাকতে হয় তাদের। গ্রাম-গঞ্জে কোন বাঁধের উপর অথবা কোন স্কুলঘরে এই প্রচন্ড শীতেও বাস করতে দেখা যায় আজো অনেক স্বজনকে। না, হযরত ওমর (রা:)-এর মতো প্রধানমন্ত্রীকে আমি এই কান্না সরেজমিনে শুনতে বলিনা। যে কারনগুলোর জন্য এদের কান্না, সেটা নিরসনের পদক্ষেপ আমি উনাকে গ্রহন করতে বলি। অধিকাংশ-ই ইনারা গ্রামের নদী ভাঙ্গা মানুষ। নদী ভাঙ্গা রোধ করার পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান আমি জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। নদীগুলি ড্রেজিং করা প্রয়োজন এবং এই কাজে এলাকার মানুষ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন করবে, মানে তারাই খনন করবে এবং মজুরী পাবে। এই কাজে অবৈধতা, অসাধুতার আশ্রয় যে নেবে, তাকে কঠিন সাজা দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এদেশে যে বাঁধগুলি নির্মিত হয়, সেগুলিতে প্রচুর দুর্নীতি হয়। বাঁধগুলি এজন্য শীঘ্র ভেঙ্গে যায় এবং নদী প্লাবিত হয়ে পানি উপচিয়ে পড়ে বন্যা হয়। এবিষয়েও কঠোর হতে হবে। এ কথা সত্য যে, দুর্নীতিতে ভরে গেছে দেশ, এমন কোন সরকারী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নাই যেটা দুর্নীতিতে ভরে যায়নি। রাজনীতিবিদ এবং সরকারী কর্মকর্তাই এসমস্ত দুর্নীতির জন্য দায়ী। আর দরিদ্র মানুষগুলোর দুরবস্থা, কান্নার জন্য প্রধানত: দায়ী এই দুর্নীতি। যেভাবেই হোক, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে। যে-ই দুর্নীতি করুক কাউকে কোনরকম ছাড় দেয়া যাবেনা, শাস্তির আওতায় আনতেই হবে। এভাবেই দেশের দরিদ্র মানুষের কান্না থামতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এদেরকে হৃদয় দিয়ে ভালবাসতে হবে এবং সেই স্বার্থেই কঠোর হতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দলীয় নেতা-কর্মী, তাঁর ছাত্র এবং যুব, সকল অঙ্গ সংগঠনকে সামলাতে হবে। টেন্ডারবাজী, যেকোন রকমের চাঁদাবাজী, দলীয় লোক দ্বারা থানা এবং প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপ করা, ঘুষ নিয়ে সরকারী নিয়োগ দেয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া এগুলো কঠোর এবং কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসব তিনি আসলে হাসতে হাসতে করতে পারেন। প্রচন্ড ক্ষমতা তাঁর, সকল ক্ষমতার আধার তিনি। তিনি না পারলে আর কে পারবে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে হয়, উনার এক হুংকারে দুর্নীতি অর্ধ্বেকে নেমে আসবে কমপক্ষে কিছুদিনের জন্য হলেও।

দেশ থেকে অন্যায়-অবিচার দুর করার পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রধানমন্ত্রীকে আর ভোট চাইতে হবেনা, ক্যাডারদের উপরও নির্ভরশীল হতে হবেনা। এর প্রতিদান না চাইতেই দিয়ে দিবে মানুষ। ভোটের জন্য কোন কৌশল করতে হবেনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবেনা। ক্যাডার লাগবেনা, জনগণই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে ভোট দিয়ে দিবে, কারো দরকার হবেনা আসলে। মানুষ আসলে প্রতিদান না দেওয়া করেনা। আপনি মানুষের জন্য করবেন, মানুষ আপনাকে বুক দিয়ে আগলিয়ে রাখবে। মানুষের জন্য কিছু না করার কারনে মানুষ খালেদা জিয়ার জন্য কিছু করছেনা এখন যেমন। দুর্নীতি দমনের কঠোর পদক্ষেপ নিলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হয়ে যাবে, জামাত-শিবিরের তরফ থেকেও কেউ আর কোন হস্তক্ষেপ করার সাহস পাবেনা। জণসমর্থণ এমনই জিনিস। আওয়ামী লীগের নেতারা আজ জনগণ হাসিনার সাথে আছে বলে যতই চিৎকার করুন-না-কেন যে, এটা সত্য নয়। নেত্রীকে খুশী করার জন্য তাঁরা এটা বলেন এবং আরো একটা কারনে যে, জনগণ কিন্তু এখন খালেদার পক্ষে নাই। তবে কার পক্ষে আছে! নিশ্চয় শেখ হাসিনার পক্ষে। এজন্য বলেন তাঁরা। কিন্তু জনগণ এই পরিস্থিতিতে আসলে কারো দিকেই নাই, মানে কাউকেই ভালবাসেনা। এটাই বাস্তব।

প্রশ্ন হচ্ছে, শেখ হাসিনা পরিবর্তিত না হলে? না হলে কী হবে! এর প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আমাদের দেশের জন্য তা ধ্বংসের কারন হবে। অর্থাৎ আমরা ক্রমেই অধ:পতনের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের মধ্যকার এখনো সচল থাকা মানবিক গুনগুলি হারিয়ে যাবে। অন্য মানুষ আমাদের কাছে ক্রমেই অসহ্য হয়ে উঠবে। ঘুষ-দুর্নীতি-দু:শাসন বাড়তে বাড়তে আমরা ক্রমশ: অমানুষের পর্যায়ে যেতে থাকব। একজন সচেতন মানুষের পক্ষে এসমস্ত সহ্য করা সম্ভব নয়, উচিৎ-ও নয়। শেষমেষ এসমস্ত বেড়ে গিয়ে একটা পর্যায়ে আসবে এবং আবার এটা নিুমুখী হবে। কারন সহ্যেরও একটা সীমা থাকে, যেটা শেষ হয়ে গেলে কিন্তু উল্টোমুখী হতে থাকে। প্রকৃত ন্যায়ের রাজনীতি তখন শুরু হবে।

সেদিনের জন্য আমাদের অপেক্ষা করা কী উচিৎ হবে প্রিয় পাঠক? আমরা কী অন্যায়-অত্যাচার-ঘুষ-দুর্নীতি চলতে দিয়ে সেদিনের অপেক্ষায় থাকব, যেদিন এসমস্ত বিষয়াদি সর্বোচ্চসীমায় পৌঁছে আবার উল্টোপথ ধরবে? সে অনেকদিনের ব্যাপার। আর আমরা যেখানে জানি যে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ন্যায়সঙ্গত এবং প্রতিবাদ না করাটাই হচ্ছে অন্যায়। এইজন্য আমাদেরকে সমস্তরকমের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাব প্রতিবাদে নেমে পড়তে হবে। কেন? না, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। প্রধানমন্ত্রীকে মাটির মানুষ বানাতে, তঁকে সাদামনের মানুষ হতে আকৃষ্ট করতে। হাঁ, আমরা উনাকেই ক্ষমতার আধার দেখতে চাই, তবে সমস্তরকমের অন্যায়-অবিচার-দুর্নীতি-দু:শাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হয়ে দোষী ব্যক্তিদেরকে সাজাপ্রদান করতে এবং আর সব মানুষকে নিত্তির ভিত্তিতে মাপতে। নিজের দলের হলেও কাউকে তিনি কোনরকম ফেভার করবেননা, এটা উনাকেই প্রমান করতে হবে দেশবাসীর মনে তাঁর উপর আস্থা সৃষ্টির জন্য। আর রাজনীতিতে তিনি কোন কৌশল অবলম্বন করবেননা, সাদামন নিয়ে সবসময় চলবেন। দলীয় লোক তাঁকে সাহায্য না করলেও সমস্ত দেশবাসী তাঁকে সম্মান দিয়েই ক্ষমতায় রাখবেন সবসময়। এবিশ্বাস তাঁর থাকতে হবে। মানুষকে আপনি ভালবাসেন, মানুষের হৃদয়ে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে দলীয় লোক আপনার লাগবে কেন?

এভাবেই একটা সমোঝোতার জায়গা তৈরী কিন্তু হয়েই যায়। দেশে পৌণে তিনলাখ সরকারী পদ শুন্য। তারও কয়েকগুন উচ্চশিক্ষিত বেকার। পদগুলি অত্যন্ত সততা আর মেধার ভিত্তিতে পূরণ করতে হবে। দুর্নীতিবিহীনভাবে পদগুলি যদি পূরণ করা যায় মাননীয় শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি অনেক উর্ধ্বে উঠে যাবে। দেশের শিক্ষিত বেকাররা এই বিষয়টার উপর অতি ক্ষুব্ধ যে, ঘুষ ছাড়া কোন সরকারী চাকরী হয়না এবং চাকরীর ক্ষেত্রে ঘুষের বিষয়টা তাদেরকে অপমানিত করে।

কথা না বাড়িয়ে এটাই শুধু আমি বলতে চাই যে, শেখ হাসিনার পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া আজ সময়ের শেষ প্রান্তের দাবী। নইলে এজাতির জীবনে আরো অনেক ভোগান্তি অপেক্ষা করছে।

 

১৪১জন ১৪১জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

  • প্রহেলিকা

    শের দুটি প্রধান দলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন সাবলীল ভাবে। আমি রাজনীতি সম্পর্কে তেমন কিছু বুঝি না আসলে, রাজনীতি নিয়ে যদি কিছু লিখতে চাই তাহলেও লিখতে পারি না কারণ আমার কিবোর্ডে ি, ী খুঁজে পাই না। “রাজনীতি” শব্দটি থেকে যদি এই ি, ী বাদ দিয়ে ফেলি তাহলে থাকে “রাজনত”। আমিও এখন রাজনত! তাই এসব ব্যাপর এড়িয়ে যাই তবে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সাথে আমি একমত। ভিন্নমত আসতেই পারে। যাইহোক রাজনীতি বিষয়ক লেখাগুলো পড়ে পড়ে আর বাস্তবিক দর্শনে যদি কিছু শিখতে পারি তাহলে একদিন আপনার পোষ্টে এসেই বিশদ মন্তব্য করবো। ভালো থাকবেন সবসময়।

    • আজিজুল ইসলাম

      জনাব প্রহেলিকা, অনেক ধন্যবাদ প্রথম মন্তব্য করার জন্য। রাজনীতি সম্পর্কে তেমন কিছু বুঝিনা বলেই আপনি আসলে বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজনীতি সম্পর্কে আপনি খুব একটা কম জানেননা।
      জনাব আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আমাদের “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কী ভুলিতে পারি”- আজো রক্তে প্রচন্ড শিহরণ তুলে দেওয়া এই গানটির রচয়িতা এবং সুরকার। বোঝা যায় কত উচ্চমার্গের অনুভূতিশীল মানুষ ছিলেন তিনি।
      হাঁ, ভিন্নমত আসতেই পারে। সকল ভিন্নমতকে সহ্য করা উচিৎ। এটাই পরমতসহিষ্নুতা। এ সম্পর্কে পোষ্টটিতেই বলা আছে। বিশেষ আর কিছু মন্তব্যে বলিনা। আপনিও ভাল থাকবেন প্রহেলিকা, অনেক ভাল।

      • প্রহেলিকা

        ধন্যবাদ আজিজুল ইসলাম সাহেব। ***রাজনীতি সম্পর্কে তেমন কিছু বুঝিনা বলেই আপনি আসলে বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজনীতি সম্পর্কে আপনি খুব একটা কম জানেননা।***

        আপনার এই কথাটি একটু বক্রোক্তি মনে হলো তবে আমি যা বলেছি সেখানেই আমার অবস্থান। আমি টুকটাক লেখালেখি করি সাহিত্য আমার প্রাণ। রাজনীতি এবং ধর্ম এইসব ব্যাপারগুলো আমি একটু এড়িয়ে যাই কারণ হলো এই সব ব্যাপরে আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা।

        সাহিত্যই আমার প্রাণ, সাহিত্যের প্রাচীন তম শাখা কবিতাই আমার প্রাণ। পড়ি, পড়ি শুধু দেশী সাহিত্য নয় বিশ্বসাহিত্য, বুঝি না বুঝি তারপরও পড়ি কারণ এই দেশের রাজনীতি আর ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করার কারণে কোনদিন দৃষ্টি অথবা পড়ার অথবা এই রাজনীতি ও ধর্ম নিয়ে জানার কোন আগ্রহ হয় না। আমি একটু বেশিই উদাসীন এই দুটি বিষয়ে।

        যাইহোক জনাব, আলোচ্য বিষয় নিয়ে আপনার লেখা সহ বেশ কয়েকজনের লেখা আমি পড়ি, পড়ার উদ্দ্যেশ্য হলো বর্তমান পরিস্থিতি জানার জন্য, এখনো কি সেই আগের মতোই আছে না পাল্টে গেছে! তবে হ্যা যদি সত্যি কখনো রাজনীতি তার পায়ের শেকল খুলে সুস্থ রাজনীতিতে ফিরে আসে সেদিন কথা দিচ্ছি আমিও ভাববো কারণ আমি এসব এড়িয়ে গেলেও এই অসুস্থ রাজনীতির সাথে বংশগত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

        অনেক কথা বলে ফেললাম কিছু মনে করবেন না, আপনাদের লেখা পড়ি সুধু এজন্যেই যে বর্তমান পরিস্থিতি কি সেটি জানার জন্য। আপনিও অনেক ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয়। শুভকামনা আপনার জন্য সবসময়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যান সেই কামনা করি।

      • আজিজুল ইসলাম

        মিষ্টার প্রহেলিকা, আপনি আবদুল গাফ্ফারের সাখে একমত, এই কথাটা বলেছেন বলে আমার মনে হয়েছে আপনি রাজনীতি কম বোঝেননা। আমি এটা বলে আসলেই কোন বক্রোক্তি করিনি। আমি বক্রোক্তি করার মত মানুষ নই।ধন্যবাদ।
        ওটা লিখেছেন বলে রাগ করিনি। কারন একেকজনের মতামত একেক হবে সেটাই তো স্বাভাবিক।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য