রাজকন্যার স্বপ্নে রাজপুত্র (পর্ব-৮)

ফারিন যা রাগি আমি এসব কথা ওকে বলতে পারবো না বলে জান্নাত মাপ চায়।জামান ভেবে দেখে মাকে দিয়েই কথাটা ফারিনের কানে দিতে হবে। যেই কথা সেই কাজ দাদুমনি ফারিনকে সবটা বুঝিয়ে বললো, ওকে দাদুমনি আমাকে দুদিন সময় দেও আমি ভেবে তোমাকে জানাব। ফারিন বুদ্ধি করে বড় খালামনির কাছ থেকে ম্যাজিস্ট্রেড এর মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে জানায় “আমি একজনকে ভালোবাসি তাকেই বিয়ে করবো।ম্যাজিস্ট্রেডের মন খারাপ হয় তারপরও বলে ফারিন আমিও তোমাকে ভালোবাসি, যদি স্বপ্ন পুরুষকে না ফিরে পাও। তাহলে আমার কাছে ফিরে এসো আমি সারাজীবন তোমার জন্য অপেক্ষা করতে রাজী আছি। এবার ফারিনের চোখ থেকে কয়েক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে, আমি কারো জন্য অপেক্ষা করছি৷ আর কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করতে চায় জীবন কত বিচিত্রময় আল্লাহ্ তুমি আমাকে এ কোন পরীক্ষায় ফেললে।ফারিন তুমি কাঁদছো.? প্রশ্ন করে ম্যাজিস্ট্রেড। নাহ্ আমি কাঁদছি না বলুন আপনি।

ফারিন আমি তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকেই ভালোবেসেছি বলার সাহস হয়নি আজ ৩ বছর পূর্ণ হলো।আর আমি স্বপ্নে দেখে সিয়ামকে ভালোবেসেছি আজ ১১বছর ধরে কখনো বলতে পারি নাই, তার জন্য অপেক্ষা করতেছি। সিয়ামকে বাস্তবে ফিরে পাব আমাদের বিয়ে হবে স্বপ্ন দেখি,আমার ভালোবাসা স্বার্থক হবে।ফারিনের সব কথা শোনে ম্যাজিস্ট্রেড অবাক হয়, এটাও কি সম্ভব স্বপ্নে দেখে কাউকে ভালোবাসা যায়। সেই বিশ্বাস মনে নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করা যায়! ফারিন হেসে বলে আমার সব স্বপ্ন বাস্তব হয় সেটা গত ২৩বছর ধরে দেখেছি। স্বপ্ন দেখার পর তা হয়ত ১/২ দিন বা ২/৩ বছর ৫ বছর পরেও বাস্তবে দেখা দিয়েছে তাই আমি সিয়ামের স্বপ্নটা অবিশ্বাস করি না।ম্যাজিস্ট্রেড এবার ফারিনকে স্যালুট জানায় ওর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলে যদি সিয়াম না ফিরে আসে, তাদের বিয়ে না হয় তাহলে যেন তাকে বিয়ে করে।

ফারিন কথা দিতে পারে না কারন সে মনে মনে জানে সিয়ামকে না পেলে সে এক জনম কেন, হাজার জনম একা কাটিয়ে দিবে তবু সিয়াম ছাড়া অন্য কোন পুরুষকে বিয়ে করবে না। ফারিন প্রমিস করো প্লীজ আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো…আমার ফোন নাম্বারটা লিখে রাখো এটা সারাজীবন থাকবে ০৯৫৬…. ফারিন জবাব দিতে পারে না, শুধু বলে ভালো থাকবেন।ফারিন তোমাকে ছাড়া আমি ভালো থাকবো কি করে..

ফারিন জানায়

বাই

আল্লাহ্ হাফেজ

লাইটা কেটে যায় ফারিন বিষন্ন মনে ভাবে সিয়াম কেন স্বপ্নে আসে না, সে কি তাহলে শুধুই স্বপ্ন, কল্পনা,বাস্তব না!  ফারিন আর ভাবতে চায় রাতে ঘুমিয়ে পড়ে।মা ফারিন আপ্পিকে বলো না বাসায় আসতে কতদিন দেখি না নওরীন কথা গুলো একাই বলে চলল। মা মা শোনছো.? দূরে যাও কথা বলতে ভালো লাগছে না বলেই জান্নাত ধমক দেয়। দাদুমণি এদিকে আস মায়ের মন খারাপ পরে কথা বলতে এসো, পড়তে বস যাও। দাদুমণি আম্মুর কি হয়েছে.? ফারিন তার বিয়েটা ভেঙ্গে দিয়েছে তোমার বড় আন্টি কল দিয়ে বলছে তাই মায়ের মন খারাপ বলেন দাদুমণি। নওরীন ব্যাপারটা বুঝতে পারে তাই মাকে আর বিরক্ত করে না, নওরীনের মোবাইলটা রিং হয়। নওরীন হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে অনন্ত প্রশ্ন করে নওরীন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছো?অনন্ত আমি তোমাকে পরে ফাইনাল কথা জানাব আপ্পির সাথে এখনো কথা হয়নি।ওকে আমি অপেক্ষা করছি তুমি বড় আপ্পি সাথে কথা বলো যেভাবেই হোক সবাইকে ম্যানেস করো প্লীজ।আচ্ছা তুমি ফোনটা রাখ আমি আপুকে ফোন দিতাছি,বলেই নওরীন লাইন কেটে দিল।নওরীন ওই সময় ফারিনকে ফোন দেয় জরুরী কথা আছে বাসায় আস।এখনে বলো সমস্যা কি?আপ্পি আমি বড় ফুপির ছেলে অনন্তকে ভালোবাসি,ফুপি ওর জন্য মেয়ে দেখতেছে বিয়ে করাবে।ফারিন অবাক হয় এসব কি বলছো,আব্বু, আম্মু রাজী হবে না এটা সম্ভব নয়।নওরীনের কান্নায় ফারিন জানায় ঠিক আছে সামনে সপ্তাহে বাসায় আসবো।

ফারিন অনন্ত পরিবার এর সাথে কথা বলে ওরা রাজী। নওরীনের পরিবার রাজী থাকলে ওরা বিয়ে করাবে, ফারিন বিষয়টা বাবা, মাকে জানায়। কিন্তু জামান সাহেবের এক কথা নওরীন ছোট এখনি আমি ওর বিয়ে নিয়ে ভাবছি না। এর মধ্যে নওরীর এর এস.এস.সি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়। নওরীন গ্লোল্ডের + পায় জামানের ইচ্ছা নওরীনকে ঢাকা তার বড় খালামণির বাসায় রেখে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিবে।তাহলে জামানের কোন টেনশন থাকবে না জামানের এমন কথায় জান্নাত ও রাজী হয়।কয়েকদিনের মধ্যে ফারিন নওরীনের পছন্দ করা ছেলের সাথে আবার দেখা করে ফুপির ছেলে অনন্ত। বেশ কয়েক বার দেখেছে ছেলেটা ভালো শিক্ষিত,বর্তমানে ব্যাংকে চাকরি করে। পরিবার শিক্ষিত বিয়ে দিবার উপযুক্ত বাসায় সবটা জানায় কিন্তু জামান ক্ষেপে ওঠে নওরীনের বয়স ১৫ চলছে। এই বয়সে বিয়ে নয় তাছাড়া ফারিনও বড় হয়ে আগে ওর বিয়ে হবে তারপর নওরীনের বিয়ে নিয়ে ভাববো।

ফারিন আমরা বিষয়টা ১ বছর আগেই বাদ দিয়েছি সেটা এতদিন পর কেন টানছো বললেন জান্নাত।কিন্তু নওরীন তা মানতে রাজি নয় পৃথিবীর যেকোন কিছুর বিনিময়ে সে অনন্তকে চায়।অনন্তের পরিবার ফারিনের সাথে যোগাযোগ করে তাঁরা নওরীরকে পড়াশোনা করাবে সমস্যা নেই। একদিনে অনন্ত অন্যদিকে নওরীন দুজনেই ফারিনকে বুঝায় ওরা দুজন, দুজনকে ছাড়া বাঁচবে না। যেভাবেই হোক বিয়েটা ম্যানেস করতে, ফারিন আরেক বার বাবা,মায়ের সাথে কথা বলে। জামান জানায় ফারিনকে ১ মাসের মধ্যে বিয়ে দিবে তারপর নওরীনের বিয়ে হবে।কিন্তু ফারিন বলে এখনি সে বিয়ে করতে চায় বাবা,মায়ের কাছেই থাকতে চায় বলে কান্না করে।ফারিন কাউকে বলতে পারে না সে তার স্বপ্নের রাজপুত্রের জন্য অপেক্ষা করছে। তাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে চায় না, ফারিনের কান্না জান্নাত বুঝতে পারে।

ফারিনকে বুকে জড়িয়ে ধরে আমার রাজকন্য কাঁদবে না শুধু হাসবে তোকে ছেড়ে আমরাও থাকতে পারবো না।ফারিন জামানকে লক্ষ করে বলে আব্বু আমি তোমাদের ছেড়ে যাব না। প্লীজ আমাকে বিয়ে দিও না সারাজীবন তোমাদের বাসায় রেখো, জামানের চোখে পানি। রাজকন্যা এ বাড়িতে থাকবে না এটা যেন জামান কোনদিন ভাবতে পারে না। আমার রাজকন্যা আমার কাছেই থাকবে ওর বিয়ে দিব না কথা দিলাম বলেই ফারিনকে বুকে জড়িয়ে নেয়।বাবা মেয়ের ভালোবাসার প্রকাশ দেখে সবাই মুগ্ধ,ফারিন সুযোগটা কাজে লাগায়।

…….চলবে।

১৩২জন ৫০জন
0 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য