রাজকন্যার স্বপ্নে রাজপুত্র (পর্ব-৬)

পড়লো। পরদিন ফারিন স্কুলে গিয়ে স্বপ্নটা নিয়ে ভাবতে লাগলো নবম শেণিতে পড়ে ওর অনেক বান্ধবী হয়েছে, একা স্কুলে যায়। জান্নাত নওরীনকে নিয়ে স্কুলে যায়,নিয়ে আসে দাদুমনিও সংসারে কিছুটা সাহায্য করে হাতে কাজে। চরদিক থেকে ফারিনের বিয়ের প্রস্তাব আসে কিন্তু জান্নাত ফারিনকে রাজী করাতে পারে না, ফারিন বলে আমি বিয়ে করবো না জোর করে বিয়ে দিলে সুইসাইড করবো। ফারিন সবাইকে জানিয়ে দেয় সে কোনদিন বিয়ে করবে না বাবা মায়ের সাথেই থাকবে, ফারিনের রাগ,জেদের কাছে জামান বিয়েটা ভেঙ্গে দেয়। ফারিন স্বপ্নের রাজপুত্র সিয়ামকে খোঁজে সে স্বপ্নে আসে না তবে ফারিন এখন ভালোবাসার মানে বুঝে।সে মন থেকেই সিয়ামকে ভালোবাসে ফেলে একদিন সিয়ামের হাত ধরে সারা পৃথিবী পাড়ি দিবে।

সুখের সংসার করবে ভালোবাসায় ঘিরে থাকবে তার সারাজীবন, জীবনে অর্থের অভাব হলেও ভালোবাসার অভাব হবে না।ফারিন দশম শ্রেণিতে পড়ে স্কুল,কোচিং সিয়ামকে নিয়ে আর ভাবে না স্বপ্ন যদি সত্যি হয় তাহলে সিয়াম আসবে। এই বিশ্বাসে ফারিন আল্লাহর কাছে নামাজের মোনাজাতে সিয়াম চায়,ফারিনের বিশ্বাস সিয়াম একদিন আসবে।

ফারিনের এস.এস.সি পরীক্ষা সামনে তাই কোচিং করতে ঢাকায় তার বড় আন্টির বাসায় যায় ৩ মাসের জন্য।এই কয়দিন সস্তিতে থাকে জামান, নওরীর বোনের জন্য বেশ কানাকাটি করে। নওরীনের সকল আবদান তার বড় বোন ফারিনের কাছে,আর ফারিনের সকল আবদান বাবা জামানের কাছে। ফারিন চোখে যা দেখতো জামান,জান্নাত তাই কিনে দিত,ফারিন কখনো বলতো না। আব্বু,আম্মু আমার এটা চাই,ওটা চাই বলে বিরক্ত করতো না খুব শান্ত, ভদ্র ছোটবেলা থেকেই। তারপরও জামান মেয়ের চাওয়া গুলো চোখ দেখেই বুঝে নিত।সন্তানের আবদার পূরনের কতটা শান্তি সেটা একমাত্র তার বাবাই জানে, সন্তানের মুখের হাসিই বাবার স্বর্গের সুখ অনুভব করে।

ঢাকায় থাকাকালে ফারিনের পড়ায় মন বসত না সারাক্ষন বাবা,মাকে মিস করতো পড়াশোনায় অমনযোগ চলে আসে। ওই সময় ফারিন আবার সিয়ামকে স্বপ্ন দেখে সিয়াম জানায় সে একজন ইঞ্জিনিয়ার তার বউকে মাস্টার্স পাশ করতে হবে। ফারিন বলে তোমার জন্য হলেও আমি পড়াশোনা করবো ফারিবন পড়াশোনায় মন দেয়। কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাশ করে। বিয়ের চিন্তা বাদ দেয় সে বাবা মা ছাড়া কোনকিছু ভাবে না, সিয়ামকে ভুলে যায় পড়াশোনা শিখে বাবার মতো বড় অফিসার হবে।

২বছর পর..

ফারিন এইচ.এস.সি পাশ করে শহরের নামকরা ইউনিভার্সিটিতে অনার্সে ভর্তি হয়।এদিকে নওরীন পড়াশোনা করে ক্লাস অষ্টমে ওঠে, ফারিন পড়াশোনার জন্য ঢাকা চলে যায়।নওরীন একা হয়ে পড়ে তার নিজস্ব একটা জগৎ তৈরি হয় সারাদিন স্কুল আর আড্ডা চলে তার জীবন।ফাটরিন গত ৪ বছর আর সিয়ামকে স্বপ্ন দেখতো না সিয়ামকে খুব মিস করতো, কষ্ট পেত।ভেবে নেয় সিয়াম শুধুই স্বপ্ন তাকে বাস্তবে পাওয়া সম্ভব না। মাকে কল করে বলে বাবাকে নিয়ে ঢাকা আসতে তার এখানে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

জামান সাহেব সংবাদ পাওয়া মাত্রই বিকালেই জান্নাতকে নিয়ে বাসে চড়ে ফারিনকে দেখার জন্য যায় ঢাকা। জামান ঢাকা পৌঁচ্ছা মাত্রই ফারিন বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে বাসায় ফিরে যাবে পড়াশোনা করবে না।জান্নাত ফারিনকে বুঝায় পড়াশোনা করে চাকরি করবে কি করে.? পড়াশোনাটা করতে হবে বাধ্যতামূলক। এবার ফারিন সিদ্ধান্ত নেয় পড়াশোনা করে চাকরি করবে কিন্তু বিয়ে করবে না, নিজে উপার্জন করে খাবে কারো বোঝা হয়ে থাকবে না।একরাতে ফারিন সিয়ামকে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল রাতেই স্বপ্ন দেখল সিয়াম বলে খুব তাড়াতাড়ি তাদের দেখা হবে।ফারিন সকালেই মাকে স্বপ্নের কথা বলে জান্নাত খুশি হয় ফারিনের সব স্বপ্ন বাস্তব হয়,তার মানে সিয়ামও আসবে।জান্নাত বলে এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করো সিয়াম আসবে,তোমাকে মাস্টার্স পাশ করতে হবে।ফারিনের স্বপ্নের কথা মা ছাড়া এখন আর কেউ জানে না স্বপ্নের কথা গোপন রাখতে হয় তাহলে বাস্তব হবে।

ফারিন নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করে সিয়ামকে বিয়ে করে সারাজীবন কাটাতে চায়। আর কোন পুরুষকে স্বপ্নেও কল্পনা করে না বড় বোনের অনুরোধে জান্নাত, জামান বেশ কয়েকদিন ঢাকায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।ফারিন ইউনিভার্সিটিতে যায় চিন্তুা করে কবে সিয়ামের সাথে দেখা হবে, স্বপ্নের পুরুষটাকে সামনা সামনি দেখবে।ভাবতে ভাবতে ইউনিভার্সিটির বারান্দায় দাঁড়িয়ে কলেজ মাঠের দিকে তাকায় ফারিন, দুটো ছেলে মাঠে দাঁড়িয়ে গল্প করছে।ফারিনের চোখ আটকে যায় ফারিন এক দৌঁড়ে দু-তলার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে। হাঁপাতে হাঁপাতে সোজা মাঠে গিয়ে দাঁড়াল ছেলেটা…..।

……..চলবে।

১৩৮জন ৯৫জন
0 Shares

২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য